বগুড়ায় নির্বাচনী প্রচারণায় দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১২

আগের সংবাদ

বিমান আবার উড়বে ডানা মেলে

পরের সংবাদ

ব্যাংক ঋণের সুদের হার কেন কমছে না?

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ১৭, ২০১৯ , ৮:০৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুন ১৭, ২০১৯, ৮:০৪ অপরাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক

সরকারি তাগিদ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নানা ছাড়ের পরও ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমছে না। পরিচালনা পর্ষদের স্বেচ্ছাচারিতা, অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা, অনিয়ম-দুর্নীতি তার ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারের প্রয়োজনীয় নজরদারির অভাবেই ব্যাংকিং খাতে এমন নৈরাজ্য চলছে বলে অভিযোগ। ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ও সুশাসন ফিরিয়ে আনার বড় চ্যালেঞ্জ কেন্দ্রীয় ব্যাংক তথা সরকারের সামনে।

ব্যাংক ঋণের সুদ হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার সরকারি উদ্যোগ কার্যকর না হওয়ায় উদ্যোক্তারা বিপাকে পড়েছেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই। চড়া সুদের কারণে ঋণ নিয়ে শিল্প স্থাপন অনেকটা দুরূহ বিধায় অনেক উদ্যোক্তা পুঁজি বিনিয়োগ না করে হাত গুটিয়ে বসে আছেন। ফলে দেশে শিল্পের বিকাশ ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধির স্বার্থে গত বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটেও ব্যাংকের ঋণ ও আমানতের গড় সুদহারের ব্যবধান ৪ শতাংশের মধ্যে রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গত বছরের ১ জুলাই থেকে ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিট ও আমানতের সুদহার ৬ শতাংশে নামিয়ে আনার ঘোষণা দেয় সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলো।

একই বছর আগস্ট মাসের শুরুতে তৎকালীন অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে সব ধরনের ঋণের সুদহার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেন ব্যাংকের মালিক ও প্রধান নির্বাহীরা। সুদহার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বেসরকারি ব্যাংকের উদ্যোক্তারা কয়েকটি সুবিধা নিয়েছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের ৫৭টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মধ্যে অধিকাংশই এখনো দুই অঙ্কের সুদ নিচ্ছে।

এর মধ্যে ১৯ শতাংশেরও বেশি সুদারোপ করছে চারটি ব্যাংক। ১৬ শতাংশেরও বেশি সুদ নিচ্ছে ১৭টি ব্যাংক। এ ক্ষেত্রে শুভঙ্করের ফাঁকি হিসেবে কৃষি, মসলা, রপ্তানি ও নারী উদ্যোক্তা খাতের ৪ থেকে ৯ শতাংশ আগের ঋণকে গড় হিসাবে দেখানো হচ্ছে। বিষয়টি উদ্বেগজনক। এদিকে ৬ শতাংশ সুদে আমানত সংগ্রহের কথা থাকলেও কেউ প্রকাশ্যে আবার কেউ গোপনে উচ্চ সুদে আমানত সংগ্রহ করছে।

আমানত সংগ্রহ নিয়ে ব্যাংকগুলোর মধ্যে এক ধরনের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। এ জন্য পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করছে সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলো। এমন অবস্থা চলতে থাকলে ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এখনই সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। শক্ত হাতে পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে। ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ও সুশাসন ফিরিয়ে আনা সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ। শক্ত হাতে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। এ জন্য ব্যাংকগুলোর ওপর তদারকি ও নজরদারি বাড়াতে হবে। দেশের উন্নয়ন, প্রবৃদ্ধির স্বার্থে এই সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনা জরুরি।