বিমান আবার উড়বে ডানা মেলে

আগের সংবাদ

নারকেল গাছের পাতা কাটতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নিহত ১

পরের সংবাদ

বাজেট জনকল্যাণমুখী অর্থায়নের চ্যালেঞ্জ রয়েই যাচ্ছে

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ১৭, ২০১৯ , ৮:১৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুন ১৭, ২০১৯, ৮:১৬ অপরাহ্ণ

ড. আতিউর রহমান

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর এবং বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ।

এবারের বাজেটে আয় ও ব্যয়ের হিসাব অনেকটাই সঙ্গতিপূর্ণ। হাইটেক পার্ক ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে একদিকে শিল্প খাতের বিকাশ ত্বরান্বিত হবে, অন্যদিকে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রক্রিয়াও গতিশীল হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন এমন একটি পর্যায়ে রয়েছে (যাকে বলা হয় ‘ইগনিশন ফেজ’) যখন শিল্প খাতের দ্রুত বিকাশ এবং নবীন জনশক্তির কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা দুটোই খুব গুরুত্বপূর্ণ।

নিঃসন্দেহে এবারের বাজেটটি জনকল্যাণমুখী ও অগ্রসরমান অর্থনীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। বিনিয়োগবান্ধব, গরিবহিতৈষী এই বাজেটকে আরো গণমুখী করার সুযোগ রয়েছে। সংসদ ও সমাজে বিস্তারিত আলাপ-আলোচনার আলোকে নিশ্চয়ই কমবেশি সংশোধনেরও সুযোগ রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে মূলত বিপুল অঙ্কের এই বাজেটের অর্থায়নের চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলাপ করতে চাই।
আয় প্রস্তাব : বর্ধিষ্ণু অর্থনীতির সঙ্গে সঙ্গতি রাখার চেষ্টা দৃশ্যমান : এবারের বাজেটে আয় ও ব্যয়ের হিসাব অনেকটাই সঙ্গতিপূর্ণ। তবুও বলা যায় এবারো পরোক্ষ করের পাল্লাই ভারী। ভ্যাট আইন সংশোধন করে নতুনভাবে জারি করা হলেও নানা হারের এ আইনের ফলে ভোক্তার ওপর পরোক্ষ করের চাপ বাড়তে পারে। এই আইন বলবৎ হলে কার ওপর এর প্রভাব কীভাবে পড়বে তা অবলোকনের প্রয়োজন রয়েছে। কেননা কোন নীতির ভিত্তিতে বিভিন্ন হারের এই আইনটি চূড়ান্ত করা হয়েছে তা বাজেটে স্পষ্ট নয়। এমন বহু হারের আইন বাস্তবায়ন করার সময় করের ওপর কর, এক স্তর থেকে অন্য স্তরে স্থানান্তরের ঝুঁকি এবং কর ফাঁকি দেয়ার প্রবণতার দিকে বিশেষ নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে। মনে রাখা চাই, কর ফাঁকি রোধ করা, পণ্য আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধ করাও সৎ উদ্যোক্তাদের প্রণোদনার শামিল। সে জন্য, সৎ ব্যবসায়ীরা বিশেষ বিশেষ পণ্যে বা ক্ষেত্রে ভর্তুকি বা প্রণোদনার চেয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করার সার্বিক পরিবেশের উন্নতি প্রত্যাশা করে থাকেন। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা পরিহার করতে তারা বেশি উৎসাহী। তাই করনীতির নিরপেক্ষ বিশ্লেষণের কোনো বিকল্প নেই। ব্যবসায়ীবান্ধব ভ্যাট আইন করতে গিয়ে সাধারণ ভোক্তা, খুদে ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ওপর পরোক্ষ করের বোঝা যেন অসহনীয় হারে না বাড়ে সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। তা না হলে বাজেট তার জনবান্ধব চরিত্র হারাবে। এবারের বাজেটে মনে হয় বাজেটপ্রণেতারা ব্যবসায়ী পরিবেশের উন্নয়ন ও সহজীকরণের প্রশ্নে বেশ খানিকটা মনোযোগী ছিলেন।
করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানো হয়নি এবারো। অথচ ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবের সময়েই অনেকে আশা করেছিলেন করমুক্ত আয়ের সীমা ২.৫ লাখ থেকে ৩ লাখ টাকা করা হবে, কিন্তু তা করা হয়নি। এবারের (অর্থাৎ ২০১৯-২০ অর্থবছরের) বাজেটের ওই সীমা বাড়ানো হয়নি। নিঃসন্দেহে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা গেছে (এবারো মুদ্রাস্ফীতি ৫.৫ শতাংশ প্রাক্কলন করা হয়েছে)। অর্থাৎ দ্রব্যমূল্য সহনীয় মাত্রায় হলেও বাড়ছে। কাজেই জীবনযাত্রার ব্যয়ের স্বাভাবিক বৃদ্ধির বিবেচনাতেই করমুক্ত আয়ের সীমা মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে বাড়ানোর কথা ভেবে দেখা উচিত ছিল। এই প্রস্তাবটি এখনো পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে।
সঞ্চয়পত্রের আয়ের ওপর উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অনেকেই এর সমালোচনা/বিরোধিতা করবেন। কারণ অনেক নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারই সঞ্চয়পত্রের সুদ থেকে আসা আয়ের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু বাস্তবতা হলো সঞ্চয়পত্রের বিপরীতে গ্রাহককে উচ্চ সুদ দিতে হয় সরকারকে, যা সরকারের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। সে চাপ কমাতে এবং ব্যাংকিং খাতে সঞ্চয় করার জন্য গ্রাহককে আগ্রহী করতেই হয়তো এই উৎসে কর বাড়ানো হয়েছে। আগামী তিন বছরে এ খাতের ওপর নির্ভরতা ৪২% কমাতে আগ্রহী। সঞ্চয়পত্রের আয়ের ওপর উৎসে কর বৃদ্ধির ফলে অনেকে ব্যাংকে টাকা রাখতে উৎসাহিত হবেন এবং এর ফলে ব্যাংকের তারল্য সংকট কিছুটা হলেও কমবে। তাই সঞ্চয়পত্রের আয়ের ওপর উৎসে কর বৃদ্ধির এই উদ্যোগ সামষ্টিক অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ইতিবাচকই মনে হচ্ছে। এরপরও জনমতের বিবেচনায় ৫ শতাংশ থেকে হঠাৎ ১০ শতাংশ না করে এই দুটির মাঝামাঝি একটি কর হার নির্ধারণ করার কথা বিবেচনায় রাখা যায়। এ ক্ষেত্রে আরো একটি বিকল্পের কথা ভেবে দেখা যেতে পারে। নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য এবং পেনশনভোগীদের জন্য উচ্চ সুদের সঞ্চয়পত্র চালু রেখে সাধারণভাবে সঞ্চয়পত্রে সুদের হার কমানো যায় কিনা তাও ভেবে দেখা যেতে পারে। কেননা এই কর্মসূচি উচ্চবিত্তের জন্য নয়।
নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার সুযোগ রাখাটা গ্রহণযোগ্য নয়- এ কথা ঠিক। তবে এবারের বাজেটে অপ্রদর্শিত আয় ১০ শতাংশ কর দিয়ে শিল্প খাতে বিনিয়োগের যে সুযোগ রাখা তা বাস্তবতার নিরীখে অপ্রাসঙ্গিক নাও হতে পারে। কারণ এ সুবিধা পাওয়ার জন্য বিনিয়োগ করতে হবে হাইটেক পার্ক কিংবা অর্থনৈতিক অঞ্চলে। হাইটেক পার্ক ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে একদিকে শিল্প খাতের বিকাশ ত্বরান্বিত হবে, অন্যদিকে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রক্রিয়াও গতিশীল হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন এমন একটি পর্যায়ে রয়েছে (যাকে বলা হয় ‘ইগনিশন ফেজ’) যখন শিল্প খাতের দ্রুত বিকাশ এবং নবীন জনশক্তির কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা দুটোই খুব গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়াও মানি লন্ডারিং রোধেও এ উদ্যোগ যথেষ্ট ভূমিকা রাখবে বলে মনে হচ্ছে। কারণ অপ্রদর্শিত আয় সম্ভাবনাময় শিল্প খাতে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হলে অনেকেই অবৈধ পথে ওই টাকা বিদেশে না পাঠিয়ে দেশে বিনিয়োগ করবেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও তার বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেছেন। তবে এই সুযোগ সুনির্দিষ্ট একটি সময়ের জন্য (দুবছর) হতে পারে। আর খেয়াল রাখতে হবে এনবিআর ছাড়া অন্য এজেন্সি (যেমন দুদক) যেন অযথা হয়রানি না করে। করলে আস্থার সংকট সৃষ্টি হবে।
বিত্তবানরা সম্পদের ওপর যে সারচার্জ দিয়ে থাকেন তার নিম্ন সীমা আরো বাড়ানো হয়েছে। সবার করমুক্ত আয়ের সীমা বৃদ্ধি না করে বিত্তবানদের সম্পদের আরোপিত সারচার্জের নিম্ন সীমা বাড়ানোটি অনেকের কাছেই গ্রহণযোগ্য হবে না। ফলে বিদ্যমান তীব্র আয় বৈষম্যের প্রেক্ষাপটে এ প্রস্তাবটির কারণে সরকার সমালোচনার মুখে পড়তে পারে। বাজেট অধিবেশনেও এ বিষয়টি বেশ আলোচিত হবে বলে ধারণা করা যায়। তবে এসএমই উদ্যোক্তাদের অনেকে বলছেন সারচার্জের নিম্ন সীমা বাড়ানোর ফলে তারা কিছুটা সুবিধা পাবেন এবং এর ফলে এসএমই খাতের বিকাশে গতি বাড়তে পারে। ফলে দুপক্ষের যুক্তি শুনে সার্বিক লাভ-ক্ষতি বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করা দরকার।
আমদানিকৃত স্মার্টফোনের ওপর শুল্ক বাড়ানো হয়েছে আড়াই গুণ। আমদানি করা স্মার্টফোনের দাম এতে বাড়বে। জনপ্রিয় স্মার্টফোনের আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে যেগুলো দেশে কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে উৎপাদিত হচ্ছে সেগুলোর দাম বাড়ছে না। কাজেই আমদানিকৃত স্মার্টফোনের ওপর বাড়তি শুল্ক মোটেও তথ্যপ্রযুক্তির সহজলভ্যতার ক্ষেত্রে বাধা হবে বলে মনে হচ্ছে না। বরং বাংলাদেশে স্মার্টফোনের চাহিদার কথা বিবেচনা করে এখন অন্য আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোও এ দেশে কারখানা স্থাপনের কথা ভাববে। ফলে এই বাড়তি শুল্ক রাজস্ব আয় বাড়ানোর পাশাপাশি দেশে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রেও সহায়ক হয়ে উঠতে পারে। তবে মোবাইল ফোনের সিম ট্যাক্স ও টকিং টাইমের ওপর যে বাড়তি করারোপের প্রস্তাব এসেছে তা অধিকাংশের মতেই অযৌক্তিক। কারণ আমাদের দেশে এমনিতেই এ খাতে করের হার অনেক বেশি। নতুন করে কর বৃদ্ধি গ্রাহকের ওপর অযথা চাপ বাড়াবে। এ ছাড়া নিম্ন আয়ের মানুষেরাও মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন। এটি এখন তাদের কাছেও নিত্যপ্রয়োজনীয় একটি পণ্য হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে।
নতুন ভ্যাট বা মূসক : বাস্তবতার নিরিখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে : বাজেটের প্রস্তাবে ২০১২ সালের মূসক আইনটি ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটের মাধ্যমে বাস্তবায়নের ঘোষণা এসেছে। তবে এখানে আগে যে একক ১৫ শতাংশ হারের প্রস্তাব করা হয়েছিল তা বদলে দিয়ে একাধিক (৪টি) হার প্রস্তাব করা হয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য মনে হলেও এ ক্ষেত্রে অনেকেই এই আইন বাস্তবায়নে বিপদের আশঙ্কা করছেন। কারণ এ প্রস্তাবে কেবল একক হারের পরিবর্তে একাধিক হারের কথাই বলা হয়নি, পাশাপাশি মূসকের ভিত্তি মূল্য হিসেবে ট্যারিফ বা ট্রাঙ্কেটেড মূল্যের পরিবর্তে লেনদেন মূল্যকে বিবেচনা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এমনকি স্বদেশি শিল্পায়নের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানির ওপর ফেরতযোগ্য ৫% ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। খুদে ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তারা সহজে এই ভ্যাট ফেরত পাওয়ার আশা রাখেন না। তাদের জন্য শিল্প স্থাপনে অযথাই খরচ বেড়ে যাবে। এ ছাড়া এটি ভ্যাট হিসেবে গণ্যই হতে পারে না। এখানে মূল্যসংযোজন কোথায় এমন আরো অনেক অসঙ্গতি রয়ে গেছে এই আইনে। এর ফলে অনেক সেবা ও পণ্যের দাম বেড়ে যাবে, চাপে পড়বেন ভোক্তারা। যেমন- আগের পদ্ধতিতে ট্রাঙ্কেটেড মূল্যের বিচারে একজন ক্রেতা দেশি ব্র্যান্ডের পোশাকের দামের ওপর ৫ শতাংশ মূসক দিতেন। কিন্তু নতুন প্রস্তাব অনুসারে ক্রেতাকে এ জন্য ৭.৫ শতাংশ মূসক দিতে হবে। তাই এ বিষয়টি নিয়ে আরো ভাবা দরকার বলে মনে করি। বাজেট অধিবেশন চলাকালে জাতীয় সংসদে এবং সংসদের বাইরেও নাগরিক সমাজে এ বিষয়টি যে আলোচনা-পর্যালোচনা হবে তা বিবেচনায় নিয়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া সমীচীন হবে। বিশেষ করে এর বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজিটালাইজেশন এবং ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে ইসিআর স্থাপনের প্রক্রিয়া গভীরভাবে মনিটরিংয়ের প্রয়োজন রয়েছে। প্রয়োজনে এ জন্য সরকারি ভর্তুকি ও সহায়তা বেশি বেশি দেয়া যেতে পারে।
এ ছাড়াও নতুন ভ্যাট আইনে রাইড শেয়ারিং সেবার ওপর ভ্যাট ৫ শতাংশ থেকে ৭.৫ শতাংশে নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি মোটরযান মালিকদেরও অতিরিক্ত ৩ থেকে ৪ শতাংশ কর দিতে হবে। ফলে রাইড শেয়ারিং সেবার দাম বেড়ে যেতে পারে। বাংলাদেশে রাইড শেয়ারিং সেবা সবেমাত্র বিকশিত হতে শুরু করেছে। এই প্রাথমিক পর্যায়ে বছরান্তে ভ্যাট না বাড়ানোটাই ভালো হবে। দ্রুত বর্ধিষ্ণু এ খাতে একদিকে বিপুল পরিমাণ তরুণের কর্মসংস্থান হচ্ছে, অন্যদিকে আধুনিক সেবার কারণে জনজীবনও অনেকখানি স্বস্তিকর হয়ে উঠেছে। ফলে আরো দুই-এক বছর (অন্তত মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়িত হওয়ার আগ পর্যন্ত) রাইড শেয়ারিং সেবা যত সস্তায় গ্রাহকের কাছে পৌঁছানো যায় ততই মঙ্গল। একইভাবে অনলাইন কেনাকাটায় গ্রাহকের প্রদেয় ভ্যাট ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭.৫ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব এসেছে। এটিও একটি উদীয়মান খাত। তাই একই বিবেচনার জায়গা থেকে বাজেট চূড়ান্ত করার আগে এ খাতে ভ্যাট বাড়ানোর প্রস্তাবটি পুনর্বিবেচনা করা উচিত। বড় বড় শিল্প/উদ্যোগকে কর-অবকাশ দেয়া গেলে নবীন এই কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী ডিজিটাল উদ্যোগকে একই সুবিধা দেয়ার পক্ষে যথেষ্ট যুক্তি রয়েছে।
আশা করছি তরুণদের কর্মসংস্থান ও উদ্যোগী করার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বর্তমান সরকার উপরে উল্লিখিত অসঙ্গতিসমূহ দূর করে এবারের বাজেটকে আরো বেশি জনবান্ধব করতে এগিয়ে আসবে।

ড. আতিউর রহমান : বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর এবং বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা