ফিফটির আগেই তামিম আউট

আগের সংবাদ

পুলওয়ামায় ফের ভারতীয় বাহিনীর ওপর হামলা

পরের সংবাদ

কুড়িগ্রামে সন্ত্রাসী হামলার শিকার ইউপি চেয়ারম্যান

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ১৭, ২০১৯ , ৯:৩৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুন ১৭, ২০১৯, ৯:৩৮ অপরাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন ঘোগাদহ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শাহ আলম ও ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদ। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি। সোমবার (১৭ জুন) বিকেলে আইন-শৃঙ্খলা মিটিং শেষে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরের গাছবাড়ীতে কতিপয় অজ্ঞাত যুবক তাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়।

কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল ইসলাম মঞ্জু মণ্ডল এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাফর আলী আহতদের হাসপাতালে দেখতে যান। এসময় তাদের চিকিৎসার খোঁজ-খবর নিয়ে উপস্থিত দর্শনার্থীদের উদ্দেশে বলেন, পুলিশ নিরপেক্ষতার সঙ্গে প্রকৃত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। জনপ্রতিনিধিদের উপর সন্ত্রাসী হামলা বরদাশত করা হবে না।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিকেলে সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়ন পরিষদের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদ উপজেলা পরিষদ অফিস থেকে বের হয়ে আসার সময় কিছু অজ্ঞাত যুবক আতর্কিতভাবে তাকে জোরপূর্বক চত্বরের গাছবাড়ীতে নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি, লাথি মেরে আহত করেন। এসময় উপজেলা পরিষদে থাকা ঘোগাদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আলম তার ইউপি সদস্যকে মারধরের ঘটনা শুনে তাকে বাঁচাতে গেলে তাকেও এলোপাথাড়ি কিল-ঘুষি মেরে আহত করা হয়। পরে দু’জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আহত ইউপি চেয়ারম্যানের স্ত্রী এবং সাবেক উপজেলা পরিষদ মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মাসুদা বেগম ও আহত ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদ জানান, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগ দলীয় বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আমান উদ্দিন মঞ্জুর পক্ষে কাজ না করার অভিযোগে তার ইঙ্গিতে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

আহত ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলমের চাচাতো ভাই বাবলু জানান, ঘোগাদহ ইউনিয়নের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডে ঘোগাদহ নুরানী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও মাদ্রাসা সংলগ্ন মসজিদ সংস্কারে এডিবির বরাদ্দের এক লাখ ১০ হাজার টাকার কাজ করা হয়। পদাধিকার বলে এ সংস্কার কাজের কমিটির সভাপতি ওই ওয়ার্ডের সদস্য আবুল কালাম আজাদ। ওই কাজের বিল উত্তোলনের জন্য ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যান উপজেলা পরিষদে আসেন। বিলের কাগজে উপজেলা চেয়ারম্যান আমান উদ্দিন মঞ্জুকে স্বাক্ষর করতে বললে তিনি তাদের গালাগালি করেন। একপর্যায়ে অপেক্ষা করতে বলে বাইরে চলে যান। এসময় ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদ পরিষদ থেকে বের হয়ে আসার সময় এ ঘটনা ঘটে।

এ ব্যাপারে সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আমান উদ্দিন মঞ্জুর সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

বিষয়টি নিয়ে বেলগাছা ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মাহবুব জানান, উপজেলায় আইন-শৃঙ্খলা মিটিং শেষ করেই যখন জনপ্রতিনিধিরা সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন, তখন সাধারণ মানুষেরও নিরাপত্তা বলে কিছু থাকে না। প্রশাসন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এটি আমাদের প্রত্যাশা।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াছমিন বলেন, উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ রকম একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে বলে আমি জেনেছি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুড়িগ্রাম সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সফিক জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত থানায় কেউ কোনো অভিযোগ দায়ের করেননি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম মঞ্জু মণ্ডল বলেন, এ ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।