৮ ডিসিকে দুদকের চিঠি

আগের সংবাদ

প্রস্তাবিত বাজেটে গবেষণা বরাদ্দ

পরের সংবাদ

বিজিবি-বিএসএফ বৈঠক

সীমান্তে হত্যা বন্ধে প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন দেখতে চাই

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ১৬, ২০১৯ , ৮:২৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুন ১৬, ২০১৯, ৮:২৪ অপরাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক

পিলখানা সদর দপ্তরে গত শনিবার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সেস (বিএসএফ) মহাপরিচালক পর্যায়ে তিন দিনব্যাপী বৈঠক শেষ হয়। এরপর ছিল একটি সংক্ষিপ্ত ব্রিফিং ও প্রশ্নোত্তর পর্ব। আলোচনায় সীমান্ত হত্যার বিষয়টি বারবার উঠে আসছে। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে সীমান্তে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছে।

গত বছরের প্রথম পাঁচ মাসের তুলনায় এ বছর প্রথম পাঁচ মাসে সীমান্ত হত্যাকাণ্ড বেশি হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসএফের মহাপরিচালক রজনীকান্ত মিশ্র সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘হত্যাকাণ্ড’ শব্দের সঙ্গে তিনি একমত নন। সীমান্তে অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যু হচ্ছে। তবে বিএসএফ মহাপরিচালক স্বীকার করেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ‘অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে।

সীমান্তে হত্যা প্রায় প্রতিনিয়ত ঘটছে। আমরা মনে করি, বন্ধুভাবাপন্ন দুই দেশের সীমান্তে এরকম প্রাণহানি অস্বাভাবিক, অমানবিক। এমন হত্যা শূন্যের কোঠায় নিয়ে আসার ব্যাপারে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে বারবার বৈঠক হয়েছে। বিএসএফের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। কিন্তু সেসব প্রতিশ্রুতি রক্ষিত হচ্ছে কোথায়? ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পক্ষ থেকে আত্মপক্ষ সমর্থনে যুক্তি দেখানো হয় যে, বিএসএফ সদস্যরা সাধারণ নাগরিকের ওপর গুলি ছোড়ে না, অস্ত্রধারী চোরাকারবারিরা দল বেঁধে জোয়ানদের ওপর আক্রমণ করে, তখন তারা আত্মরক্ষার্থে গুলিবর্ষণে বাধ্য হয়।

কিন্তু এ যুক্তি ধোপে টেকে না। যারা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন, তাদের অনেকে চোরাচালানকারী তা ঠিক কিন্তু তারা সশস্ত্র আক্রমণকারী তার প্রমাণ কিন্তু নেই। আর সীমান্ত এলাকায় চোরাকারবার নিয়ে সীমান্তের উভয় পাড়েই রয়েছে অসাধু বাণিজ্যের বিস্তার। কিন্তু প্রতিটি ঘটনাতেই নিরস্ত্র বাংলাদেশিরা শুধু নিহত হচ্ছেন। কয়েক দশক ধরে গুলি করে হত্যা করে চোরাকারবার ঠেকানো গেছে কি?

দুদেশের মধ্যে সমঝোতা এবং এ সম্পর্কিত চুক্তি অনুযায়ী যদি কোনো দেশের নাগরিক অননুমোদিতভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে, তবে তা অনুপ্রবেশ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার কথা এবং সেই মোতাবেক ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে বেসামরিক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের নিয়ম। গুলি করে নিরস্ত্র মানুষ হত্যা করা কেন? যেখানে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, মানুষ পাচার এবং চোরাচালান বন্ধে যৌথ উদ্যোগ ও দুই দেশের সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর মধ্যে সহযোগিতা ও আস্থা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে দুই দেশ কাজ করছে, সেখানে সীমান্তে গুলি-হত্যা কোনোভাবেই কাক্সিক্ষত নয়।

সীমান্তে যে কোনো অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে অপরাধীদের বিদ্যমান আইনে বিচার হবে এবং এটাই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হওয়া উচিত। বাংলাদেশ সরকারের উচিত হবে সীমান্তে হত্যা বন্ধের ব্যাপারে ভারতের কাছে কঠোর ও দৃঢ় মনোভাব ব্যক্ত করা। শনিবার প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরুর আগে লিখিত বক্তব্য দেন বিজিবি প্রধান। বিজিবি প্রধান বলেন, দুই বাহিনীর মধ্যে যাতে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ থাকে, সেজন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। আমরা বিজিবি প্রধানের বক্তব্যের প্রতিফলন দেখতে চাই। আমরা আর সীমান্তে হত্যার বর্বরতা দেখতে চাই না।