বরাদ্দ কমেছে সংস্কৃতি খাতে : ক্ষুব্ধ সংস্কৃতিকর্মীরা

আগের সংবাদ

‘স্তালিন’ নিয়ে নাট্যাঙ্গনে আলোচনা তুঙ্গে

পরের সংবাদ

সাড়া ফেলে ঈদে সেরা

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ১৬, ২০১৯ , ১:৪১ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুন ১৬, ২০১৯, ১:৪১ অপরাহ্ণ

Avatar

এবারের ঈদে প্রতি বছরের মতো প্রচার হয়েছে শত শত নাটক ও টেলিফিল্ম। স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোতে ছিল ভালো নাটক প্রচারের প্রতিযোগিতা। রেকর্ডসংখ্যক নাটক প্রচার হলেও গুণে, মানে, আকর্ষণে নজর কেড়েছে গুটিকতক। নির্মাণ বিবেচনায় দর্শকদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে এমন কয়েকটি নাটকের কথা জায়গা করে নিল এই ফিচারে

 

মিস শিউলী
বাড়িতে আগন্তুক এসে সমস্যা সমাধান করার ব্যাপারটি আমরা হুমায়ূন আহমেদের নাটক/সিনেমায় দেখেছি। আশফাক নিপুণের নির্দেশনায় ‘মিস শিউলি’তেও এমনই গল্প ফুটে উঠেছে তবে সেটা ভিন্ন আঙ্গিকে। আশফাক নিপুণের এই ঈদে একটিই কাজ করেছেন। কাজটি তাকে ঈদের সেরা নির্মাতাদের তালিকায় রেখেছে। ‘মিস শিউলি’ চরিত্রে অপি করিম প্রাণবন্ত অভিনয় করে দর্শকদের মন জিতে নিয়েছেন। বাড়ির ছেলের চরিত্রে আছেন আফরান নিশো। তোতলার চরিত্রে তিনিও দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন। আবুল হায়াত, সাফা কবির, ইয়াশ রোহান, শিল্পী সরকার অপু এবং সুমন পাটওয়ারী; প্রত্যেকেই ভালো অভিনয় করেছেন। আমাদের টিভি নাটক দেখা মানেই সপরিবারে উপভোগ করা। আগে এমন পারিবারিক গল্পের নাটক প্রচুর হলেও দিন দিন পরিবারকেন্দ্রিক নাটক একেবারেই কমে যাচ্ছে। সেই জায়গায় ‘মিস শিউলী’ টেলিফিল্মটি অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।
ব্লেড
‘ব্লেড’ এর এর কাহিনী একেবারেই আমাদের আশপাশে ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রতিরূপ। বাসে চড়ার সময় মাঝে মাঝেই কি মনে হয় না আপত্তিকর কিছু একটা ঘটছে? হঠাৎ ধাক্কা লাগা, দেহের আপত্তিকর জায়গায় ছোঁয়া ইত্যাদি। এসব তিক্ত অভিজ্ঞতার মখোমুখি প্রতিদিনই হতে হয় নারীদের। একদিন দেখা যায় মেয়েটার গায়ের কাপড়ের একটা অংশ ব্লেড দিয়ে কাটা। পাবলিক প্লেসে এরকম ঘটনা ঘটছে আজকাল। যারা এসব ঘটনা ঘটায় তাদের কি শাস্তি পাওয়া উচিত? তারা কি আদৌ পায় শাস্তি? হ্যাঁ, খারাপ মানুষেরা শাস্তি অবশ্যই পায়। কেউ আইনের সাহায্যে পায় আর কেউ আপন মানুষের কাছ থেকে। নাটকের কাহিনী এই রকম অপরাধ এবং এর শাস্তি নিয়েই গড়ে ওঠা। মুশফিক আর ফারহান ও পরশা ইভানার অভিনয়ে দর্শকরা তৃপ্তি পেয়েছেন। মাবরুর রশিদ বান্নাহর প্রযোজনায়, তৌহিদ আশরাফের পরিচালনায় ঈদের অন্যতম প্রিয় নাটক বলে বিবেচিত হয়েছে ‘ব্লেড’।
আঙুলে আঙুল
‘আমি ধর্ষক আর এটাই আমার পরিণতি’। কিছুদিন আগে ধর্ষক খুন হওয়ার পর এভাবেই তার গায়ে লিফলেট টাঙানো ছিল। কেউ জানত না কে তাদের খুন করেছে। ধর্ষণ ও তার শাস্তি নিয়ে সমসাময়িক সামাজিক সমস্যার নাটক ‘আঙুলে আঙুল’। তিশা রক্ষণশীল পরিবারের মেয়ে। রবীন্দ্রনাথের ‘কৃষ্ণকলি’ পড়ে লুকিয়ে লুকিয়ে। বাড়ির লজিং মাস্টার তাহসান তাকে উৎসাহ দেয়। তিশার বিয়ে ঠিক হলে তাকে স্বপ্ন দেখানো তাহসানের সঙ্গে রাতের আঁধারে পালিয়ে যায়। তাদের নতুন জীবন শুরু হয়। সবকিছু ভালোই চলছিল। কিন্তু একটি রাত এক পলকে সব ওলট-পালট করে দেয়। আবির্ভাব ঘটে এক অজ্ঞাতনামার। কে এই অজ্ঞাতনামা? তিশা বরাবরের মতোই অসাধারণ অভিনয় করেছেন বলে দর্শকদের মত। তাহসান তার চেনা গণ্ডি থেকে থেকে বেরিয়ে এসেছেন। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার কিছু অভিব্যক্তি দর্শকদের নজরে পড়েছে। ‘আঙুলে আঙুল’ এ সময়ের সমাজবাস্তবতার চিত্র বলে মনে হয়েছে দর্শকদের।
শিশির বিন্দু
মোস্তফা কামাল রাজের গল্প ও পরিচালনায় অবয়ব সিদ্দিকী মিডির রচনায় এবারের ঈদের অন্যতম নাটক ‘শিশির বিন্দু’। অপূর্ব ও তানজিন নাটকটি দর্শকদের কাছে ভালো লেগেছে। নাটকের সংলাপগুলো বেশ জোরালো যেন সেটা নিজের সঙ্গেই ঘটছে, এমন মন্তব্য দর্শকদের। নাটকের সিনেমাটোগ্রাফি প্রশংসা করেছেন দর্শকরা। অপূর্ব ও তানজিন তিশা ছাড়াও নাটকের অন্য অভিনেতারাও দর্শকদের চোখে লেগেছেন। শতাব্দী ওয়াদুদ ও সুষমা সরকারের এর অভিনয় দর্শকরা উপভোগ করেছেন। নাটকের ব্যাকগ্রাউন্ড প্রশংসিত হয়েছে। সব মিলিয়ে ঘোর তৈরি করে রাখা নাটকটি এবারের ঈদের প্রথম দিকের নাটকগুলোর মধ্যে একটি। এমন একটা জায়গায় এসে নাটকটা শেষ হয় যেখানে বেরিয়ে আসে দর্শকদের দীর্ঘশ্বাস আর এটাই নাটকটির ইউএসপি।
২২ শে এপ্রিল
চোখে আঙুল দিয়ে বাস্তব দেখিয়ে দিল ‘২২ শে এপ্রিল’। আমাদের দেশে বড় বড় যে দুর্ঘটনাগুলো ঘটেছে সেই তারিখগুলোকে মানুষ মনে রাখে। বিশেষ করে যারা সে সব দুর্ঘটনায় স্বজন হারিয়েছে তাদের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকে। গুলশানের হলি আর্টিজান, চকবাজারের আগুন, বনানীর এফ টাওয়ারের আগুন এ ঘটনাগুলো কেউ কি ভুলতে পারবে! এ বাস্তব ঘটনাগুলোকে মাথায় রেখে মিজানুর রহমান আরিয়ান নির্মিত সময়ের সাহসী নাটক ‘২২ শে এপ্রিল’। অপূর্ব তার ছোট্ট মেয়েকে বুঝিয়ে খালার কাছে রেখে শহরে এসেছে কাজে। মেয়ের জন্য এটা-ওটা কিনেছে। ইরেশ যাকের মাকে হাসপাতালে নিয়ে যাবে বলে কথা দিয়ে অফিসে গেছে। ভালোবাসার জুটি মনোজ কুমার-তানজিন তিশা আর মেহজাবিন-তামিম মৃধা আলাদা দুটি গল্পে আছে। আফরান নিশোর গল্পটিও আলাদা। শহীদুজ্জামান সেলিম অফিসের বস যার মাথা গরম। তাকে সামাল দিতে ইরেশ, নাবিলা ব্যস্ত। গল্পগুলো একটা জায়গায় এসে মেশে। অর্থৎ দুর্ঘটনাস্থলে। এ ধরনের নাটকের নির্মাণের জন্য পরিচালক মিজানুর রহমান আরিয়ানের ধন্যবাদ প্রাপ্য।