টসে হেরে ব্যাটিংয়ে ভারত

আগের সংবাদ

প্রস্তাবিত বাজেট ব্যবসা ও জনমুখী : এফবিসিসিআই

পরের সংবাদ

বোনাস শেয়ারে করারোপের ঘোষণায় নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ১৬, ২০১৯ , ৪:৩৫ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুন ১৬, ২০১৯, ৪:৩৫ অপরাহ্ণ

Avatar

আগামী অর্থবছরের বাজেটে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির লভ্যাংশ হিসেবে শেয়ার দেয়ার বিষয়টিকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। কোনো তালিকাভুক্ত কোম্পানি যাতে বোনাস শেয়ার দিলে তার জন্য ওই কোম্পানিকে ১৫ শতাংশ করারোপের কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া কোনো কোম্পানির রিজার্ভ পরিশোধিত মূলধনের ৫০ শতাংশের বেশি হলেও ১৫ শতাংশ করারোপের কথা বলা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নতুন কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত হতে নিরুৎসাহিত করবে। একই সঙ্গে তালিকাভুক্ত কোম্পানির ব্যবসা সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত পুঁজিবাজারের বিপরীতে যাবে। কোম্পানিগুলো ব্যবসা সম্প্রসারণে নিরুৎসাহিত হবে। নগদ লভ্যাংশ বেশি দেবে। বোনাস শেয়ার বেশি বৃদ্ধি পুঁজিবাজারে দরপতনের বড় কারণ নয়। ভালো কোম্পানির অভাব ও পণ্যে বৈচিত্র্য না থাকাই বড় কারণ। বোনাস শেয়ার ইস্যুতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা একটু সক্রিয় থাকলেই হয়। এ ক্ষেত্রে কোম্পানি বোনাস শেয়ার কেন ইস্যু করছে তার যৌক্তিক ব্যাখ্যা চাইতে পারে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ব্রোকার হাউজের মালিক বলেন, নতুন এই সিদ্ধান্তের কারণে কোম্পানিগুলোর আর্থিক প্রতিবেদনে লুকোচুরি বাড়বে। বোনাস ডিভিডেন্ডের ওপর ১৫% কর দেয়া মানে তাদের জরিমানা করা। দুর্বল কোম্পানি কোনো লভ্যাংশই দেবে না। এখন তো অনেক দুর্বল কোম্পানি বোনাস শেয়ার দেয়। তারা তাও দেবে না। এতে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি হবে। বহুজাতিক কোম্পানি আর বোনাস শেয়ার ইস্যু করে মূলধন বৃদ্ধি করবে না। এ ছাড়া ব্যাংকগুলো ব্যাসেল-৩ বাস্তবায়নে বোনাস শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে মূলধন বৃদ্ধি করছে। তাদের জন্য সমস্যা হবে। এতে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা উচিত।
তবে ভিন্ন মতও রয়েছে অনেকের। আবুল কালাম নামের এক বিনিয়োগকারী বলেন, কোম্পানিগুলো বোনাস শেয়ার ইস্যু করে রিজার্ভ বাড়াচ্ছে। পরিশোধিত মূলধনের চেয়ে রিজার্ভ অনেক বেশি রয়েছে বেশকিছু কোম্পানির। তারা এসব অর্থ ব্যয় করছে না। বোনাস শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে কোম্পানিগুলো। বোনাস শেয়ার বেশি ইস্যু করায় বাজারে শেয়ারের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। শেয়ার দর কমে যাওয়ার এটিও একটি কারণ। এ জন্য বোনাস শেয়ার ইস্যুতে ১৫ শতাংশ করারোপ ভালো সিদ্ধান্ত বলে মনে করি। এটিসহ সব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে পারলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে, যা স্থিতিশীলতার জন্য সহায়ক।
অন্য আরেক জন বিনিয়োগকারী বলেন, বোনাস শেয়ার ইস্যুতে ঝুঁকছে কোম্পানিগুলো। এতে শেয়ার সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় দরপতন হয়েছে।
কোম্পানিগুলো কোনো কারণ ছাড়াই শেয়ার ইস্যু করছে। বিনিয়োগকারীরা বছর শেষে নগদ লভ্যাংশ প্রত্যাশা করে। এ জন্য এ বিষয়ে যৌক্তিকতা আনা প্রয়োজন। কোম্পানিগুলো কেন বোনাস শেয়ার ইস্যু করবে তার জবাবদিহিতা থাকা দরকার। আবার অনেক কোম্পানির বোনাস শেয়ার ইস্যুর জন্য বিনিয়োগকারী তাকিয়ে থাকে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা এ বিষয়ে গবেষণা করে করণীয় ঠিক করতে পারে। যে পদক্ষেপই নেয়া হোক তাতে যেন বিনিয়োগকারীর স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়া হয়।