ইউনিভার্সেল থিয়েটারের মঞ্চনাটক ‘রেনুলতা’

আগের সংবাদ

বাজেটে রাজস্ব আহরণ ও শিক্ষা ভাবনা

পরের সংবাদ

পাহাড়ধস

গৃহীত উদ্যোগ ও সুপারিশমালার বাস্তবায়ন করুন

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ১৫, ২০১৯ , ৮:৪৬ অপরাহ্ণ

প্রতি বছরই বর্ষায় চট্টগ্রাম ও আশপাশের জেলাগুলোতে পাহাড়ধসে মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। বর্ষা এলে পাহাড়ধসে, প্রাণহানি রোধে পাহাড় ঢালের ঝুঁকিপূর্ণ বসতি থেকে লোকজনকে সরিয়ে আনতে স্থানীয় প্রশাসনের নানা উদ্যোগ গ্রহণের কথা জানা যায়। তারপরও একের পর এক মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে থাকে। গত এক যুগে চট্টগ্রাম ও আশপাশের এলাকায় পাহাড়ধসে সাড়ে ৩ শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।

এভাবে নিরীহ মানুষের মৃত্যু কোনোভাবেই কাম্য নয়। বর্ষার মৌসুম শুরু হয়েছে। এই সময়ে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তায় কাটে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন ১৭টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে ৮৩৫ পরিবার বসবাস করছে। গত ১৬ এপ্রিল পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির এক সভায় প্রাণহানি ঠেকাতে এক মাসের মধ্যে এসব পাহাড় অবৈধ বসতিমুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়।

এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়েছে কিনা আমাদের জানা নেই। বর্ষা মৌসুমে চট্টগ্রাম নগরী ও আশপাশে প্রশাসনের জোরালো তৎপরতা দেখা গেলেও কক্সবাজার, বান্দরবান এসব এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ বসতি উচ্ছেদে তেমন তৎপরতা নেই। ফলে একের পর এক মর্মান্তিক প্রাণনাশের ঘটনা দেখতে হচ্ছে আমাদের। পাহাড়ধস ও প্রাণহানির প্রতিটি ঘটনার পর তদন্ত কমিটি হয়, তারা বিভিন্ন সুপারিশ করে কিন্তু সেগুলো বাস্তবায়নে কর্তৃপক্ষের তেমন গরজ থাকে না।

বর্ষায় পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের সরিয়ে নিতে নানা তোড়জোড় শুরু হয় কিন্তু বর্ষা মৌসুম শেষ হলেই সংশ্লিষ্টদের আর কোনো খবর থাকে না। অর্থাৎ পাহাড়ের ঢাল থেকে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি উচ্ছেদে টেকসই কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। পাহাড়ের মালিক ও দখলদারদের ঠেকানো যাচ্ছে না ঢালে অপরিকল্পিত ঘরবাড়ি নির্মাণ ও ভাড়া দেয়া থেকে, অন্যদিকে অল্প আয়ের মানুষদেরও ঠেকানো যাচ্ছে না ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস থেকে।

উচ্ছেদকৃতদের স্থায়ী পুনর্বাসন এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সুলভ বিকল্প আবাসন ব্যবস্থাও করা হচ্ছে না। ২০০৭ সালের ১১ জুন চট্টগ্রামে ভয়াবহ পাহাড়ধসে ১২৭ জনের প্রাণহানির ঘটনার পর পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি ২৮টি কারণ নির্ধারণ করে ৩৬টি সুপারিশ প্রণয়ন করলেও তা আজো বাস্তবায়ন হয়নি।

আরেকটি লক্ষণীয় ব্যাপার হলো, পাহাড়ধসে প্রাণহানি-ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে প্রশাসনের কিছু তৎপরতা দেখা গেলেও পাহাড়ধস ঠেকানোর ব্যাপারে কারো কোনো মাথাব্যথা নেই। শুধু প্রাকৃতিক কারণেই পাহাড়ধসে পড়ছে তা কিন্তু নয়। নিয়ন্ত্রণহীন পাহাড় কাটা, পাহাড়ে স্থাপনা নির্মাণসহ আরো কিছু অপরিণামদর্শী মনুষ্য তৎপরতার পরিণামে ধসে পড়ছে পাহাড়।

বর্ষায় প্রাণহানি ছাড়াও পরিবেশ-প্রকৃতিতে এর ভয়ঙ্কর বিরূপ প্রভাব নিয়ে কারো কোনো চিন্তা আছে বলে মনে হচ্ছে না। পাহাড় কেটে চলছে প্লট ও ফ্ল্যাট বিক্রির রমরমা বাণিজ্য। শুধু বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ের ঢালের বসতি উচ্ছেদের ব্যবস্থা করলেই সমস্যার সমাধান হবে না, পাহাড়ধস ঠেকানোরও উদ্যোগ নিতে হবে। পাহাড় কাটা, পাহাড়ের বৃক্ষ উজাড়, উন্নয়নের নামে অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ করতে হবে।