ফের কলকাতার ছবিতে অপু

আগের সংবাদ

দক্ষিণ আফ্রিকা ও আফগানিস্তানের ম্যাচ শুরু

পরের সংবাদ

পাঁচ বছরের খতিয়ান

ঈদের ছবির ব্যবসা-মন্দা

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ১৫, ২০১৯ , ৬:৩৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুন ১৫, ২০১৯, ৬:৩৪ অপরাহ্ণ

Avatar

২০১৫ সালের ঈদে দেশজুড়ে মুক্তি পেয়েছিল তিনটি ছবি। এগুলো হচ্ছে- শাহিন সুমন পরিচালিত ‘লাভ ম্যারেজ’, ‘ইফতেখার চৌধুরী পরিচালিত ‘অগ্নি টু’ এবং তন্ময় তানসেন পরিচালিত ‘পদ্ম পাতার জল’। ছবিগুলোর মধ্যে প্রচার-প্রচারণায় সবচেয়ে এগিয়ে ছিল ‘অগ্নি টু’। মাহিয়া মাহি অভিনীত ‘অগ্নি’ সিরিজের এই সিক্যুয়েল দর্শকদের মধ্যে যথেষ্ট উত্তেজনার তৈরি করে। কিন্তু যৌথ প্রযোজনার ছবিটি ছিল বড় বাজেটের। দর্শক উপস্থিতিতে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি সন্তুষ্ট হলেও দুই পাড়ের দুই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান লাভের মুখ দেখতে পারেনি। মাহি ভালো দর্শক টেনেছিলেন। কিন্তু ব্যবসায়িক সফলতায় পিছিয়ে যান শাকিব খানের কাছে। সচরাচর তার অভিনীত ঈদের ছবিগুলো হয় বড় বাজেটের। ‘লাভ ম্যারেজ’ ছিল অপেক্ষাকৃত কম বাজেটের। আর এরই সুবিধা নিয়ে হিট ছবির মর্যাদা পায় শাকিব-অপু জুটি অভিনীত ছবিটি। এটি এই জুটিরও শেষ হিট ছবি। সেই ঈদের আরেকটি উল্লেখযোগ্য ছবি ছিল ‘পদ্ম পাতার জল’। ইমন-মিম জুটি অভিনীত ছবিটি রুচিশীল দর্শকদের পছন্দের তালিকায় ছিল মুক্তির আগে। কিন্তু দর্শকের অভাবে ‘পদ্ম পাতার জল’কে ব্যর্থ ছবিরই তকমা নিতে হয়। অথচ ছবির বাজেট ছিল যে কোনো বাণিজ্যিক ছবির জন্য ঈর্ষণীয়। তিনটি ছবিতে প্রায় দশ কোটি টাকার বিনিয়োগ ছিল প্রযোজকদের। কিন্তু কেউ-ই লাভের গুড় খেতে পারেননি। শেষ বিচারে ঈদটি হতাশাই ছড়িয়েছে প্রযোজকদের মধ্যে।
২০১৬ সালের ঈদুল ফিতর ছিল গত দশ বছরের মধ্যে ব্যতিক্রম। কয়েক বছর ধরে ব্যবসায়িক মন্দার পাগলা ঘোড়া গিয়েছিল থেমে। চাঙ্গা হয়ে গিয়েছিল বাজার। ঈদে মুক্তি পেয়েছিল চারটি ছবি। এগুলো হচ্ছে- জয়দীপ মুখার্জি পরিচালিত ‘শিকারী’, বাবা যাদব পরিচালিত ‘বাদশা দ্য ডন’, মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত ‘সম্রাট’ এবং শামীম আহমেদ রনি পরিচালিত ‘মেন্টাল’। ছবিগুলোর মধ্যে শাকিব খান অভিনীত ‘শিকারী’ এবং জিৎ অভিনীত ‘বাদশা দ্য ডন’ ব্লাকবাস্টার ব্যবসা করে। এই দুই যৌথ প্রযোজনার ছবি দেখার জন্য দর্শকদের ঢল নামে। ছবি দুটির প্রযোজক জাজ মাল্টিমিডিয়া টাকার মুখ দেখে ছবি দুটির বদৌলতে। কিন্তু বাকি দুটি ছবি ‘সম্রাট’ এবং ‘মেন্টাল’ মুখ থুবড়ে পড়ে। দুজন প্রযোজক আর কোমর সোজা করে দাঁড়াতে পারেননি। তাদের আর প্রযোজনায় ফিরতে দেখা যায়নি। অর্থাৎ সার্বিক বিচারে ২০১৫ সালের ঈদুল ফিতরকে পঞ্চাশ শতাংশ সফল বলা যায়। প্রায় পনেরো কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছিল সেই ঈদে। যার মধ্যে প্রায় ৫ কোটি টাকা লোকসান হয় দুই প্রযোজকের। আর দুটি ছবির প্রযোজক পুঁজি উঠিয়েও লাভের মুখ দেখেন।
২০১৭ সালের ঈদুল ফিতরকেও ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে খুব ভালো বলা যায় না। ঈদে মুক্তি পেয়েছিল তিনটি ছবি। এগুলো হচ্ছে জয়দীপ মুখার্জি পরিচালিত ‘নবাব’, বাবা যাদব পরিচালিত ‘বস টু’ এবং বুলবুল বিশ্বাস পরিচালিত ‘রাজনীতি’। আগের বছরের দুই ছবির প্রযোজক জাজ মাল্টিমিডিয়া এবারো দুটি ছবি নিয়ে আসে ঈদে। কিন্তু ছবিগুলো সেই মাপের ব্যবসা করতে পারেনি। আগের বছর শত শতাংশ সফলতা এবার অর্ধেকে নেমে আসে। ‘নবাব’ সুপর-ডুপার হলেও ব্যর্থ হয় ‘বস টু’। তবে ‘নবাব’র সাফল্যে মন্দা ব্যবসা চাঙ্গা হয়। কিন্তু ‘রাজনীতি’র ব্যর্থতা হতাশা তৈরি করে শাকিব খানের প্রযোজকদের মধ্যে। প্রায় দশ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছিল এই ঈদে। যার মধ্যে বক্স অফিসে হারিয়ে যায় তিন থেকে চার কোটি টাকা। আর ‘নবাব’ পুঁজি তুলেও এককভাবে দুই কোটি টাকার বেশি ব্যবসা করে।
২০১৮ সালের ঈদে ফিরে আসে মন্দ ব্যবসার ধারাবাহিকতা। পর পর দুই ঈদুল ফিতরে যৌথ প্রযোজনার সূত্রে প্রাপ্ত সফলতার হার নেমে আসে শূন্যে। সেই ঈদে মুক্তি পেয়েছিল চারটি ছবি। এগুলো হচ্ছে- উত্তম আকাশ পরিচালিত ‘চিটাগাইঙ্গা পোয়া নোয়াখাইল্যা মাইয়া’, আব্দুল মান্নান পরিচালিত ‘পাঙ্কু জামাই’, আশিকুর রহমান পরিচালিত ‘সুপারহিরো’ এবং রায়হান রাফি পরিচালিত ‘পোড়ামন টু’। বক্স অফিসে ব্যাপক বিপর্যয় ঘটে ছবিগুলোর। ‘পোড়ামন টু’ ছাড়া কোনো ছবিই দর্শকরা গ্রহণ করেননি। এই ছবিটি পুঁজি তুলতে পারে কোনো মতে। বাকিগুলোর প্রচণ্ড ভরাডুবি হয়। শাকিব খানের ছবির এমন ভরাডুবিতে স্তব্ধ হয়ে যায় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি। পুরনো জুটি শাকিব-অপু এবং নতুন জুটি শাকিব-বুবলী কেউই নিজেদের মান রাখতে পারেননি। বরং নতুন জুটি সিয়াম-পূজা বড় রকমের চমক দেখান। ‘পোড়ামন টু’ বড় হিট না হলেও দর্শকদের তৃপ্ত করে। এই ঈদে প্রায় দশ কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়। যার মধ্যে চার কোটি টাকারই কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি ঈদের ব্যবসা শেষে।
২০১৯ সালের ঈদুল ফিতরের ছবির ব্যবসা চলমান। এবারের ঈদে মুক্তি পেয়েছে তিনটি ছবি। এগুলো হচ্ছে- মালেক আফসারী পরিচালিত ‘পাসওয়ার্ড’, সাকিব সনেট পরিচালিত ‘নোলক’ এবং অনন্য মামুন পরিচালিত ‘আবার বসন্ত’। সিনেমা হলের সংখ্যার দিক থেকে শাকিব খান প্রযোজিত ‘পাসওয়ার্ড’ নিঃসন্দেহে রেকর্ড গড়েছে। প্রায় ১৮০টি সিনেমা হলে মুক্তি পেয়ে টেবিল কালেকশনেই পুঁজির অনেকটা তুলে নিয়েছে ছবিটি। কিন্তু সিনেমা হলে আরো ব্যবসার প্রত্যাশা করা হয়েছিল। আর শাকিব-ববি অভিনীত ‘নোলক’ বড় বাজেটের ছবি হিসেবে একেবারেই চলছে না। ছবিটিকে বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। আর ‘আবার বসন্ত’ কম বাজেটের ছবি। তবুও ছবিটির ব্যবসা খুবই খারাপ। ব্যবসায়িক কৌশলে ‘পাসওয়ার্ড’ পুঁজি ফিরিয়ে আনতে হয়তো সক্ষম হবে। কিন্তু ‘নোলকে’র পুঁজি তুলে আনা অনেকটাই অসম্ভব। আর ‘আবার বসন্ত’ প্রযোজকের বিলাপের কারণ হতে পারে। এই ঈদে প্রায় ৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে ঈদে সর্বনিম্ন বিনিয়োগ। মন্দা বাজারের কারণেই প্রযোজকদের ছবি নির্মাণে অনাগ্রহ। এবারের মন্দা ব্যবসার পর আগামী ঈদে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা করা হচ্ছে।