তেলের ট্যাংকারে হামলার দায় অস্বীকার ইরানের

আগের সংবাদ

তামাকের ওপর করারোপ বাড়িয়ে রোধ কি সম্ভব হচ্ছে?

পরের সংবাদ

২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট

চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ জরুরি

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ১৪, ২০১৯ , ৮:২৯ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুন ১৪, ২০১৯, ৮:২৯ অপরাহ্ণ

Avatar

জাতীয় সংসদে বৃহস্পতিবার নিজের প্রথম বাজেট দিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার এ বাজেট চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ১৮ দশমিক ২২ ও মূল বাজেটের চেয়ে ১২ দশমিক ৬৮ শতাংশ বড়। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অঙ্কের বাজেট। এরই মধ্যে বাজেট নিয়ে নানা মহল থেকে প্রতিক্রিয়া দেখছি।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বলছে, বাজেটে প্রান্তিক মানুষের জন্য রয়েছে প্রান্তিক সুবিধা। তবে বাজেটে মধ্যবিত্তের খুব বেশি সুবিধা হবে না। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে সিপিডির পর্যালোচনায় এভাবে জানায় সংস্থাটি।

আমরা মনে করি, বৃহৎ বাজেট আমাদের অর্থনীতির কলেবর বৃদ্ধি, জাতীয় ব্যয় বৃদ্ধিরই প্রতিফলন। বাজেটে নির্ধারিত ব্যয়ের অঙ্ক যত বড় হয়, তার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংস্থানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং উন্নয়ন প্রকল্প যথাযথভাবে বাস্তবায়নের সক্ষমতা অর্জন ততই বড় চ্যালেঞ্জ। ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেটে উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত উন্নয়ন বাজেটের চেয়ে প্রায় ২২ শতাংশ বেশি। পরিচালন ব্যয়ও বাড়ছে।

এ খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ১০ হাজার ২৬২ কোটি টাকা। বাজেটে রাজস্ব বাবদ ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা আয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে। বাজেটে কর ও করবহির্ভূত খাত থেকে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। অর্থবছরের জন্য রাজস্বের বড় লক্ষ্যমাত্রা প্রাক্কলন করা হলেও জিনিসপত্রের দাম বাড়বে না বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী। তবে বিভিন্ন খাতে কর অব্যাহতি যতটা সম্ভব পরিহারের কথা বলেছেন তিনি। অর্থবছরটি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য ও বর্তমান সরকারের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এর কারণ বর্তমান মহাজোট সরকার তাদের ঘোষিত উন্নয়ন রূপকল্প বাস্তবায়নের একটা বিশেষ পর্যায়ে রয়েছে। সরকারের বেশকিছু মেগা প্রকল্পের কাজ শেষ করতে হবে বা শুরু করতে হবে বা শুরু করা কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। যেমন পদ্মা সেতুর কাজকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

এ ছাড়া রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্প, পায়রা বন্দরের কাজ চলমান। এসব ক্ষেত্রে বড় রকম অর্থ জোগানের ব্যাপার আছে। বাজেটে আইসক্রিমের ওপর ৫ শতাংশ হারে শুল্কারোপের প্রস্তাব রয়েছে। এতে বেড়ে যেতে পারে পণ্যটির দাম। এ ছাড়া বেশকিছু পণ্যে আমদানি শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রতি কেজি ১৫০ টাকা পর্যন্ত মূল্যমানের পাউরুটি, বিস্কুট ও কেক বিক্রিতে ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব রয়েছে। ফলে দাম কমতে পারে এসব খাদ্যপণ্যের।

এ ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদিত কৃষি যন্ত্রপাতিতে ভ্যাট অব্যাহতি দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব সামগ্রীর দাম কমার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে তা সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেবে। বিশালাকার এই বাজেটকে বলা হচ্ছে উচ্চাভিলাষী বাজেট। তবে বাজেট উচ্চাভিলাষী কিনা সেটা নির্ভর করে বাস্তবায়ন সক্ষমতার ওপর। বাজেট উচ্চাভিলাষী হবে না যদি এই বাজেট বাস্তবায়নের জন্য উপযুক্ত কর্মসূচি, পরিকল্পনা ও প্রচেষ্টা থাকে।

আমরা আশা করব সরকার তার প্রতিশ্রুতি পূরণের বাজেট বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।