২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদন

আগের সংবাদ

সংসদে বাজেট উপস্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী

পরের সংবাদ

নাটোরে সাক্ষ্য দিতে যাওয়ার পথে সাক্ষীকে কুপিয়ে হত্যা

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ১৩, ২০১৯ , ৩:৫৯ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুন ১৩, ২০১৯, ৩:৫৯ অপরাহ্ণ

Avatar

নাটোরের গুরুদাসপুরে সফুরা খাতুন হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী জালাল উদ্দিনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে মামলার আসামিরা।

বৃহস্পতিবার সকালে আদালতে সাক্ষ্য দিতে যাওয়ার পথে তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

নিহতের স্বজনরা জানান, এসময় একই গ্রামের মোমিন মন্ডলের ছেলে আশরাফুল ইসলাম, আক্কাছ মন্ডলের ছেলে শরিফুল ইসলাম ও সাইদুর রহমান, সাইদুরের সহযোগী খামার নাচকৈড়ের আব্দুর রব্বেল প্রামানিকের ছেলে শামসুল হক ও তার আরো তিন-চারজন সহযোগী পথ রোধ করে প্রকাশ্যে রাস্তায় ফেলে তার বাম হাত কেটে নেয় বলে অভিযোগ।

এ সময় তার পায়ের রগ ও বাম হাতটিও কুপিয়ে জখম করে হামলাকারীরা।

আহত অবস্থায় জালালকে প্রথমে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে মারা যান তিনি।
নিহতের স্বজনরা তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহত জালাল উদ্দিন উপজেলার যোগেন্দ্র নগর গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, নিহত জালাল উদ্দিন ও মৃত মমিন মন্ডলের পরিবারের মধ্যে পূর্ব থেকেই বিরোধ ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় মমিন মন্ডল হত্রার পর নিহত জালালকে আসামী করা হয়ে ছিল। পরে জালালের আত্মীয় পাগল সফুরাকে হত্যা করা হলে মমিন মন্ডলের ছেলে সাইদুলসহ তার একাধিক সহযোগীর নামে মামলা হয়।

গুরুদাসপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাহারুল ইসলাম ও স্থানীয়রা জানান, ২০১৩ সালের ১৩ মে উপজেলার যোগেন্দ্র নগর গ্রামের ওই নারীকে শারীরিক নির্যাতনের পর হত্যা করে নদীতে ফেলে দেয় সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে সাইফুল ইসলাম, শরিফুল ইসলাম, রফিকুল ইসলামসহ আরো কয়েকজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে মামলা করেন। মামলায় জালাল উদ্দিনকে প্রধান সাক্ষী করা হয়।

সেই হত্যা মামলায় আজ আদালতে সাক্ষীর হাজিরার দিন নির্ধারিত ছিল। সকালে জালাল উদ্দিন সাক্ষ্য দিতে আদালতে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হলে পথে যোগেন্দ্র নগর বাজারের কাছে ওই মামলার আসামিরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা করে। এ সময় তারা জালাল উদ্দিনের ডান হাত কেটে নেয় এবং বাম হাতসহ পা কুপিয়ে জখম করে।

পরে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে প্রথমে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। জালালের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে তিনি মারা যান বলে পুলিশ জানিয়েছে।