জয়া এবার সিরিয়াল কিলার

আগের সংবাদ

নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে দেশের ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা

পরের সংবাদ

ক্রমবর্ধমান সড়ক দুর্ঘটনা

কারণ ও সম্ভাব্য সমাধান

প্রকাশিত হয়েছে: June 13, 2019 , 8:15 pm | আপডেট: June 13, 2019, 8:15 pm

বলা যায়, এবার ঈদে ঘরে ফেরা কিংবা কর্মস্থলে ফেরা স্বস্তিদায়ক ছিল। ঈদ উৎসবকে কেন্দ্র করে বাড়তি মানুষের চাপ অনেকটাই পরিকল্পিতভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরপরও দুর্ঘটনা রোধ করা যায়নি। ঈদুল ফিতরের আগে-পরে ১২ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় ২২১ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে নৌদুর্ঘটনায় চার ও ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত হয়েছেন আরো ২২ জন। বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর বিশ্লেষণ করে দুর্ঘটনায় হতাহতের এ চিত্র তুলে ধরেছে যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। এই চিত্র ভয়াবহ।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বুধবার সংসদে বলেছেন, গত ১০ বছরে (২০০৯-এর জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের এপ্রিল) সড়ক দুর্ঘটনায় ২৫ হাজার ৫২৬ জন মানুষ নিহত হয়েছেন। এ সময়ে আহত হয়েছেন ১৯ হাজার ৭৬৩ জন। প্রতিবেদনে বলা হয়, ঈদযাত্রায় সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনায় পড়েছে মোটরসাইকেল। একইভাবে বাস, ট্রাক-কাভার্ডভ্যান, কার-মাইক্রোবাস, নছিমন-করিমনসহ দুর্ঘটনা ঘটেছে অন্যান্য যানবাহনে। সড়ক দুর্ঘটনা চালকের অসতর্কতার কারণেই প্রধানত ঘটে থাকে।

ঈদের সময় অধিক যাত্রী পরিবহন এবং চালকের তাড়াহুড়োর কারণে প্রতিবারই এমন দুর্ঘটনা ঘটে। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ, চালকদের প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব, অতিরিক্ত গতি, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহনসহ দুর্ঘটনার আরো বেশকিছু কারণ চিহ্নিত করেছে সংগঠনটি। দুর্ঘটনা মোকাবেলায় যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, সড়কের বাঁক সোজা করা, ফিটনেস পদ্ধতি ডিজিটাল করা, রেশনিং পদ্ধতিতে ছুটির ব্যবস্থা করাসহ বিভিন্ন সুপারিশও এসেছে তাদের প্রতিবেদনে। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নানা পরিকল্পনা হাতে রয়েছে। এসবের বস্তবায়ন কতদূর? একেকটি দুর্ঘটনার পর অনেক পরিবারই তলিয়ে যাচ্ছে অন্ধকারে।

দেশে এসব পরিবারের সংখ্যাও কম নয়। এসব সড়ক দুর্ঘটনায় চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র। প্রতি বছরই ঈদযাত্রাকে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো নানা পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা দেন, আশ্বাস-প্রতিশ্রুতি দেন। এবারো দিয়েছেন। কিন্তু দুর্ভোগ কমাতে পারলেও দুর্ঘটনা পিছু ছাড়েনি। ঈদের পরদিন ফাঁকা সড়কে বেপরোয়া গতিতে যান চালানোর পরিণামে দেশের নানা স্থানে অনাকাক্সিক্ষত সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।

এসব দুর্ঘটনা ঈদের আনন্দে সংশ্লিষ্টদের জন্য কেবল অমোচনীয় বিষাদই শুধু বয়ে আনেনি, হতাহতদের স্বজনের আহাজারি অন্যদের আনন্দও ম্লান করে দিয়েছে। এ কথা ঠিক যে, মৃত্যু মানুষের স্বাভাবিক নিয়তি। কিন্তু দুর্ঘটনায় মৃত্যু কারো কাম্য নয়। দুর্ঘটনায় মৃত্যু থেকে মানুষকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হওয়ার দায় সংশ্লিষ্টদের এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

আমরা মনে করি, দেশের বিস্তৃত সড়কপথকে নিরাপদ করে মৃত্যুর মিছিল থামাতে হলে সার্বিক সতর্কতা ও নজরদারি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। সড়ক দুর্ঘটনার কারণগুলোও যেহেতু চিহ্নিত, সেহেতু সংশ্লিষ্টদের কর্তব্য হওয়া দরকার এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা