চট্টগ্রামে এক যুগে তিন শতাধিক প্রাণহানি

আগের সংবাদ

ছকে বাঁধা জীবনে কোনো ‘স্বপ্ন’ নেই ওদের

পরের সংবাদ

লীলা নাগের পৈতৃক বাড়িতে জাদুঘর গড়ার দাবি

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ১২, ২০১৯ , ১:৫৫ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুন ১২, ২০১৯, ১:৫৫ অপরাহ্ণ

Avatar

উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের অগ্নিকন্যা ও নারী জাগরণের পথিকৃত লীলা নাগের পৈতৃক বাড়িটি জাদুঘর হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। গতকাল মঙ্গলবার তার ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকীতে এ দাবি জানানো হয়। বাড়িটি জবরদখল করে রেখেছে এলাকার চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী আলাউদ্দিনের পরিবার। এলাকার মানুষের দাবি, বাড়িটি উদ্ধার করে সেখানে লীলা নাগের স্মৃতি রক্ষার উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের বিপ্লবী নারী এবং বাংলা ভাষায় মহিলা সম্পাদিত প্রথম পত্রিকা মাসিক জয়শ্রী পত্রিকার সম্পাদক লীলা নাগের বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার পাঁচগাঁও গ্রামে। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর লীলা নাগ ও অনিল রায় দম্পতি পূর্ববঙ্গে বসবাস করার সিদ্ধান্ত নেন।
কিন্তু তৎকালীন মুসলিম লীগ শাসকরা তাদের দেশত্যাগে বাধ্য করে। মূলত সেই সময়েই লীলা নাগের পৈতৃক বাড়িটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে।
স্থানীয় আলাউদ্দিন চৌধুরী ১৯৭১ সালে পাঁচগাঁও গ্রামে ৬৯ জনকে গণহত্যার পর এলাকায় ভীতি সৃষ্টি করে কৌশলে আশপাশ এলাকার ১৭ একর ফসলি জমি ও বাড়িটি দখলে নেয়। লীলা নাগের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে বাড়ির বৈঠকখানাটি ঝরাজীর্ণ অবস্থায় এখনো টিকে আছে। তাও ময়লা-আবর্জনায় পরিপূর্ণ। যে কোনো সময় শেষ এই স্মৃতিচিহ্নটুকুও ভেঙে যেতে পারে।
লীলা নাগ স্মৃতি পরিষদের সম্পাদক মো. তোফায়েল আহমদ বলেন, বাড়িটি উদ্ধারে বিভিন্ন সময় অসংখ্য আবেদন করেও কোনো ফল পাওয়া যায়নি।
প্রয়াত যুদ্ধাপরাধী আলাউদ্দিনের পরিবারের হাত থেকে বাড়িটি উদ্ধার ও সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের তত্ত্ববধানে লীলা নাগের স্মৃতি রক্ষার্থে সেখানে একটি জাদুঘর গড়ে তোলার দাবি জানান তিনি।
লীলা নাগের মায়ের নামে প্রতিষ্ঠিত কুঞ্জলতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আলাউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে আবদুল মুনিম চৌধুরী জানান, বাড়িটি তারা দখল করেননি। বাড়িটি নিয়ে আদালতে মামলা হলে হাইকোর্ট খাজনা প্রদানের আদেশ দিয়েছেন।
জানা গেছে, আলাউদ্দিন চৌধুরীর পরিবার বাড়িটি রক্ষায় মৌলভীবাজার জেলা জজ আদালতে মামলা দায়ের করে। মামলায় তারা পরাজিত হলে উচ্চ আদালতে আপিল করে তারা। মামলাটি এখনো চলছে।
নায়িকা সুচিত্রা সেনের পাবনার বাড়ি দখলমুক্ত হওয়ার পর লীলা নাগের বাড়িটি দখলমুক্ত করার দাবি তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে নীরব রয়েছে প্রশাসন। এতে জনমনে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এলাকার মানুষের দাবি বাড়িটি উদ্ধার করে লীলা নাগের স্মৃতি রক্ষার মাধ্যমে নারী জাগরণ ও মুক্তিকামি আন্দোলনে লীলা নাগের ভূমিকা মানুষের কাছে তুলে ধরার উদ্যোগ নেবে সরকার।