যে কোনো সময় গ্রেপ্তার হবে ওসি মোয়াজ্জেম : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আগের সংবাদ

লীলা নাগের পৈতৃক বাড়িতে জাদুঘর গড়ার দাবি

পরের সংবাদ

পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস

চট্টগ্রামে এক যুগে তিন শতাধিক প্রাণহানি

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ১২, ২০১৯ , ১:৪৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুন ১২, ২০১৯, ১:৪৮ অপরাহ্ণ

Avatar

প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হলেও পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস বন্ধ হচ্ছে না। ২০০৭ সালের ১১ জুন চট্টগ্রামে ভয়াবহ পাহাড় ধসে ১২৭ জনের প্রাণহানির ঘটনার পর পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি ২৮টি কারণ নির্ধারণ করে ৩৬টি সুপারিশ প্রণয়ন করলেও তা আজও বাস্তবায়ন হয়নি। গত এক যুগে চট্টগ্রাম ও আশপাশের এলাকায় পাহাড় ধসে সাড়ে ৩ শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়িত না হওয়ায় থামছে না পাহাড়ে মৃত্যুর মিছিল।
বর্ষা মৌসুম আসন্ন। প্রতি বর্ষা মৌসুমে পাহাড় ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এ সময়ে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তায় কাটে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের। বর্ষাকাল আসলে প্রতি বছর প্রশাসনের দৌড়ঝাঁপ দেখা যায়। মিটিং, মাইকিং ও ঝুঁকিপূর্ণ বসতির কিছু লোককে সরিয়ে নিয়ে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে রাখার উদ্যোগ নেয় প্রশাসন।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী চট্টগ্রামে সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন ১৭টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে ৮৩৫ পরিবার বসবাস করছে। গত ১৬ এপ্রিল পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির এক সভায় প্রাণহানি ঠেকাতে এক মাসের মধ্যে এসব পাহাড় অবৈধ বসতিমুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়। উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগরের পরিচালক আজাদুর রহমান মল্লিককে প্রধান করে বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধির সমন্বয়ে একটি কমিটিও করা হয়। কিন্তু প্রায় দুই মাস হতে চললেও তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। ঝুঁকিপূর্ণ বসতি উচ্ছেদে দ্রুত অভিযান শুরু করা না গেলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে পাহাড় ধসে প্রাণহানির ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা রয়েছে।
২০০৭ সালের ১১ জুন চট্টগ্রামে এবং ২০১৭ সালের ১৩ জুন রাঙামাটিতে পাহাড় ধসে নিহতদের স্মরণে গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নাগরিক স্মরণ সভা ও প্রদীপ প্রজ্বলন কর্মসূচি পালন করা হয়। পিপলস ভয়েস, কারিতাস-চট্টগ্রাম এবং বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ এই কর্মসূচির আয়োজন করে।
গত এক যুগে চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে মোট সাড়ে তিন শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটে। ২০০৭ সালের ১১ জুন টানা বর্ষণের ফলে চট্টগ্রাম অঞ্চলে পাহাড় ও দেয়াল ধসে এবং মাটিচাপায় ১২৭ জনের মৃত্যু হয়। ২০০৮ সালের ১৮ আগস্ট লালখান বাজার মতিঝর্ণা এলাকায় পাহাড় ধসে চার পরিবারের ১২ জন, ২০১১ সালের ১ জুলাই টাইগারপাস এলাকার বাটালি হিলের ঢালে পাহাড় ও প্রতিরক্ষা দেয়াল ধসে ১৭ জন, ২০১২ সালে ২৬-২৭ জুন ২৪ জন, ২০১৩ সালে মতিঝর্ণায় দেয়াল ধসে ২ জন, ২০১৫ আমিন কলোনি ও লালখান বাজারে পাহাড় ও দেয়াল ধসে ৬ জন, ২০১৭ সালে দুটি ঘটনায় মোট ১০ জন প্রাণ হারান। এ ছাড়া ২০১৭ সালের ১২-১৩ জুন রাঙামাটিতে ১১০ জন, চট্টগ্রামে ২৩ জন, বান্দরবানে ৬, খাগড়াছড়িতে ২ জন এবং কক্সবাজারে ১ জন মারা যায়। সর্বশেষ গত বছরের ১৪ অক্টোবর চট্টগ্রামের আকবর শাহের ফিরোজশাহ কলোনিতে মা মেয়েসহ
চারজন নিহত হন পাহাড় ধসের কারণে। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় চট্টগ্রাম ও আশপাশের এলাকায় পাহাড় ধসের বিভিন্ন ঘটনায় আরো অনেকের মৃত্যু হয়।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াছ হোসেন বলেন, শুধু প্রশাসনের পক্ষে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস বন্ধ করা সম্ভব নয়। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে যেন আর কোনো প্রাণহানি না ঘটে এ পরিকল্পনা নিয়েই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। দুর্যোগকালীন সময়কে বিবেচনায় রেখে আমরা নানা উদ্যোগ গ্রহণ করি। কিন্তু এ ক্ষেত্রে পাহাড়গুলোর মালিকদের এগিয়ে আসতে হবে। পাহাড় ধসের দায় পাহাড় মালিকরা এড়াতে পারেন না। পাহাড়ের মূল মালিকরা যথাযথভাবে উচ্ছেদ করতে আগ্রহী না হলে বা ব্যবস্থা না নিলে পাহাড় থেকে পুরোপুরিভাবে ঝুঁঁকিপূর্ণ বসতি উচ্ছেদ করা যাবে না। পাহাড় ধসে মৃত্যুর ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলে পাহাড় মালিকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।