৩ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা তৈরি পোশাক শিল্পে

আগের সংবাদ

মানবাধিকার কর্মী পরিচয়ে ইয়াবা ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

পরের সংবাদ

ঘাটতি মেটাতে ৪৭ হাজার কোটি টাকার ব্যাংক ঋণ

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ১২, ২০১৯ , ২:৫৯ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুন ১২, ২০১৯, ২:৫৯ অপরাহ্ণ

Avatar

টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ সরকারের প্রথম বাজেট ঘোষণা করা হবে আগামীকাল। সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের আকাক্সক্ষা পূরণের লক্ষ্যে ওই দিন ৫ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
আকারে অতীতের চেয়ে সবচেয়ে বড় বাজেটের ঘাটতি ধরা হচ্ছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। বিশাল ঘাটতি মেটাতে এবারো তারল্য সংকটে চলা ব্যাংকিং সেক্টর থেকে উচ্চ সুদে ৪৭ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা ঋণ নিচ্ছে। গত বছর বাজেটে ৪৫ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি ছিল। কিন্তু সংশোধিত বাজেটে সেখান থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ৩০ হাজার কোটি টাকা করা হয়। এ ক্ষেত্রে সরকার ঘাটতির ৭১ হাজার ৮০৩ কোটি টাকা ঋণ নিচ্ছে বৈদেশিক সহায়তা থেকে। তবে তা বাস্তবে সম্ভব হবে না। কারণ এখনো ১০ বিলিয়ন ডলার সমান বৈদেশিক ঋণ আটকে আছে।
নাম না প্রকাশের শর্তে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি ১৬ দশমিক চার শতাংশের বেশি হবে। তবে জিডিপির তুলনায় ৫ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে। আর তাতে সরকার বাজেট ঘাটতি পূরণে জাতীয় সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে সঞ্চয়পত্রে অতিরিক্ত সুদ দিতে হবে সরকারকে। পাশাপাশি জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে নতুন নিয়ম-নীতি পরিবর্তন আরোপ করেছে। সেগুলো হলো- সঞ্চয়পত্র কিনতে হলে জাতীয় পরিচয়পত্র লাগবে। একলাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্র কিনতে হলে ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর সার্টিফিকেট (টিআইএন) লাগবে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সরকার অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং সেক্টর থেকে বেশি সুদে ঋণ না নিয়ে কম সুদে বৈদেশিক ঋণ সুবিধা গ্রহণ করতে পারত। তাতে উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ বেশি রাখা সম্ভব হতো। তারা বলছেন, সরকার যে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। বরং বেসরকারি খাতে ক্রেডিট সুবিধায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা রয়েছে। ফলে গত বছরের মতোই আবারো সঞ্চয়পত্র থেকেই বেশি ঋণ নিতে হবে। অর্থনীতিবিদদের মতে, বড় ঋণগ্রহীতারাই সরকার থেকেও ঋণ পাচ্ছে। ফলে ক্রেডিট সুদের হারে বেসরকারি খাতের ছোট ঋণগ্রহীতারা বাদ পড়ছে। সম্প্রতি গত ১২ বছরের সংশোধিত ঋণ পুনর্নির্ধারণ নীতির পাশাপাশি সরকার ব্যাংক খাত থেকে আরো ঋণ নিলে ব্যাংকিং সেক্টরে চরম তারল্য সংকট তৈরি হবে। তাতে নতুন করে ব্যাংখগুলোর ঋণ প্রদানের সক্ষমতা থাকবে না। নাম না প্রকাশের শর্তে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন ঋণ পুনঃতফসিলীকরণের ফলে ব্যাংকি খাত সুবিধা পাবে সরকার থেকে। কারণ সংশোধিত বাজেটের তুলনায় সরকার ৪০ শতাংশ ঋণ কম নেবে জাতীয় সঞ্চয়পত্র থেকে। অর্থ বিভাগ এখন সঞ্চয়পত্র বিক্রির আইন ঠিকঠাক করছে। সরকার আগামী বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে ২৬ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ঋণ নেবে।
জাতীয় সঞ্চয়পত্র অধিদপ্তরের মতে, চলতি অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৬ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা। আর সংশোধিত বাজেটে এটি দাঁড়িয়েছে ৪৫ হাজার কোটি টাকা। তবে জুলাই থেকে মার্চ মাসে সার্টিফিকেট বিক্রি হয়েছে ৬৮ হাজার ৯৭২ কোটি ৭২ লাখ টাকা। সঞ্চয়পত্রের সুদ হার সর্বোচ্চ ১১ দশমকি ৫২ শতাংশ হারে বাড়ায় বছরের শেষ দিকে ব্যাপক হারে সঞ্চয়পত্র বিক্রি বেড়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক মুস্তাফা কে মুজেরী বলেন, সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের চেয়ে সরকার চেয়েছিল সাধারণ মানুষ ব্যাংকে বেশি আমানত রাখবে। কিন্তু সঞ্চয়পত্রে সুদের হার না কমায় এটা হয়নি। তিনি বলেন, রাজস্ব আহরণে ঘাটতির কারণে সরকার ব্যাংকিং সেক্টর ও জাতীয় সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নিচ্ছে। দেশের উৎপাদিত খাতে ব্যাংক ঋণের পরিমাণ সরকারকে ব্যবহার করতে হবে।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, সরকার বিদেশি উৎস থেকে আরো ঋণ সংগ্রহের জন্য নীতিমালা গ্রহণ করেছে। তা সত্তে¡ও বাণিজ্যিক ঋণের ক্ষেত্রে আলাদা সুদ হার গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ব্যাংকিং সেক্টরের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা কম থাকার পাশাপাশি সঞ্চয়পত্রে সুদ হার বেশি থাকায় মানুষ ব্যাংকে ডিপোজিট রাখছে না। ব্যাংকের পরিবর্তে সঞ্চয়পত্রে যাচ্ছে বেশির ভাগ লোক।