অনিশ্চয়তা জেনেও বৃষ্টিতে ভিজেছেন সমর্থকরা

আগের সংবাদ

নওগাঁর আত্রাইয়ে ব্রিজ থেকে পড়ে নিহত ১

পরের সংবাদ

এখনো সেমিতে যাওয়ার সুযোগ আছে

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ১২, ২০১৯ , ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: জুন ১২, ২০১৯, ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ

Avatar

যে বিষয়টা নিয়ে সবচেয়ে বেশি ভয় পাচ্ছিলাম শেষ পর্যন্ত সেটাই হলো। বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হলো বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার ম্যাচটি। আগেই বলেছি, যেসব দলকে হারানোর লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ এবারের বিশ্বকাপে অংশ নিতে গিয়েছে সেগুলোর মধ্যে শ্রীলঙ্কা একটি। সাম্প্রতিক পারফরমেন্স ও শক্তিমত্তার বিচারে এই ম্যাচে বাংলাদেশই ফেভারিট ছিল। টাইগার ভক্তদের প্রত্যাশা ছিল লঙ্কানদের হারিয়ে ২ পয়েন্ট নিয়ে সেমির পথে কিছুটা এগিয়ে যাবে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। বৃষ্টির কারণে সবকিছুই ভেস্তে গেল। সত্যি বলতে অন্য সবার মতো আমিও হতাশ। কেননা আমিও প্রত্যাশা করেছিলাম ম্যাচটি ঠিকঠাকভাবে হোক এবং বাংলাদেশ জিতুক।
তবে এখনই আশাহত হওয়ার কোনো কারণ নেই। আমাদের সামনে এখনো শেষ চারে যাওয়ার সুযোগ আছে। ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় আমরা ১ পয়েন্ট পেয়েছি। কী হচ্ছে কিংবা কী হবে এসব নিয়ে না ভেবে খেলায় মনোযোগ দেয়াটা জরুরি। বাংলাদেশের পরের ম্যাচ উইন্ডিজের বিপক্ষে। শ্রীলঙ্কার মতো এই ম্যাচটাও আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই ম্যাচে হারলে সেমির দৌড় থেকে অনেকটাই ছিটকে পড়বে বাংলাদেশ। বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। পাশাপাশি চাপ নেয়া যাবে না। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে।
এবারের বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে কেউই ফেভারিটের তালিকায় রাখেনি। অবশ্য না রাখাটাই স্বাভাবিক। বিশ্ব্কাপের আগে তাদের পারফরমেন্স ছিল চরম হতাশাজনক। তবে আমি বলব, সরফরাজ আহমেদের নেতৃত্বাধীন দলটিকে দুর্বল ভাবারও কোনো সুযোগ নেই।

২০১৭ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগেও খুব একটা ছন্দে ছিল না তারা। কিন্তু ইংল্যান্ডের মাটিতে সেবার ঠিকই ঝলক দেখিয়েছে পাকিস্তান। এবারো এমন কিছু হলে আমি অবাক হবো না।
দ্বাদশ বিশ্বকাপে নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে আজ অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হচ্ছে ১৯৯২ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচটিতে নিশ্চিতভাবেই অ্যারন ফিঞ্চের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়া ফেভারিট। অ্যারন ফিঞ্চের অধিনায়াকত্বে গত এক বছরে দারুণ ক্রিকেট খেলছে অজিরা। আর নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার স্টিভ স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নার দলে ফেরায় তাদের শক্তিমত্তা আরো বেড়েছে। ওয়ার্নার ফর্মের তুঙ্গে রয়েছেন। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই রান পেয়েছেন এই ওপেনার। আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন বিশ্বকাপেও। আর স্মিথকে নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। আমার দৃষ্টিতে অজি ব্যাটিংয়ের মূল স্তম্ভ হলেন তিনি। উইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচটির কথাই ভাবুন, ৭৯ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারিয়ে দল যখন চরম বিপদে তখন হাল ধরেন স্মিথ। ভারতের বিপক্ষেও রান পেয়েছেন তিনি। ওয়ার্নার-স্মিথের ছন্দে থাকাটা ফিঞ্চের জন্য স্বস্তির কারণ হতে পারে। ওয়ার্নার ফেরায় সাধারণত ওপেন করতে অভ্যস্ত ওসমান খাঁজাকে একাদশে রাখা হবে কিনা বিশ্বকাপ শুরুর আগে তা নিয়ে একটা তর্ক তৈরি হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত খাঁজাকে একাদশে রেখেছে অজি টিম ম্যানেজমেন্ট। প্রথম ৩ ম্যাচে ফার্স্ট ডাউনে ব্যাট করেছেন তিনি। আমি মনে করি, এটা সঠিক সিদ্ধান্ত।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে পাকিস্তানের প্রথমদিকের সব ব্যাটসম্যানই রান পেয়েছেন। এটা দরকার ছিল। এই ছন্দটা নিশ্চয় আজকেও ধরে রাখতে চাইবেন তারা। তবে আমার মনে হয় অস্ট্রেলিয়া-পাকিস্তান ম্যাচে আসল লড়াইটা হবে দুদলের পেসারদের মধ্যে। দুদলেরই পেস অ্যাটাক অত্যন্ত শক্তিশালী। পাকিস্তানে মোহাম্মদ আমির, ওয়াহাব রিয়াজ ও হাসান আলী রয়েছেন। অন্যদিকে মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স ও নাথান কাল্টার নাইলকে নিয়ে গড়া অস্ট্রেলিয়ার পেস অ্যাটাক।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা