মেগা প্রকল্পে মেগা বরাদ্দ

আগের সংবাদ

ফিরতি পথেও বাসে বেশি ভাড়া আদায়

পরের সংবাদ

মিজানকাণ্ডে ফাঁসলেন দুদক কর্মকর্তা বাছির

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ১১, ২০১৯ , ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: জুন ১১, ২০১৯, ১:১০ অপরাহ্ণ

Avatar

শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও তথ্য পাচারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত চলাকালে তদন্তাধীন তথ্য অভিযুক্ত ব্যক্তির (পুলিশের ডিআইজি মিজানুর রহমান) কাছে প্রকাশ করার অপরাধে তার বিরুদ্ধে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে দুদক। গতকাল সোমবার তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দুদক সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখতের নেতৃত্বে রবিবার গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গতকাল সোমবার তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন- দুদক মহাপরিচালক (প্রশাসন) সাঈদ মাহবুব খান ও মহাপরিচালক (লিগ্যাল) মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া। দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ সাময়িক বরখাস্ত করার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ডিআইজি মিজানের দাবি, দুদকে তার বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিতে তদন্তকারী কর্মকর্তা এনামুল বাছির ঢাকার রমনা পার্কে গিয়ে দর কষাকষির পর দুই দফায় বাজারের ব্যাগ ভর্তি ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন। তিনি বলেন, গত ১০ জানুয়ারি রমনা পার্কে বাছির দেখা করে আমার সঙ্গে সব অভিযোগ বাদ দেয়ার শর্তে ৫০ লাখ টাকা দাবি করে। দর কষাকষির পর ১৫ জানুয়ারি ২৫ লাখ এবং ২৫ ফেব্রুয়ারি ১৫ লাখ টাকা দেয়া হয়। তবে গত ৩০ মে পুলিশ প্লাজায় মিজানের স্ত্রীর দোকানে গিয়ে বাছির জানান, দুদকের চাপের কারণে তিনি মিজানকে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন দিতে যাচ্ছেন। সে সময় বাছিরের সঙ্গে মিজানের উত্তপ্ত বাক্যালাপ হয়।
এদিকে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত রবিবার গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী গতকাল দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একই সঙ্গে ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে তদন্ত কাজ থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়।
দুদক চেয়ারমান ইকবাল মাহমুদ জানান, ডিআইজি মিজানের দুর্নীতি তদন্তে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছে। কিন্তু পুলিশের বিতর্কিত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানের কাছ থেকে ঘুষ নেয়ার অভিযোগে এনামুল বাছিরকে বরখাস্ত করা হয়নি জানিয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, কমিশনের শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও তথ্য পাচারের অভিযোগে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত হবে। এ ঘটনায় দুদক সম্পর্কে মানুষের আস্থা সংকট দেখা দেবে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, কমিশনে ৮৭৪ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। সবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের সম্পর্কে খোঁজ নেয়া সম্ভব নয়। দুদক পরিচালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। জনগণের আস্থা সংকটের কিছু নেই।
পুলিশের বিতর্কিত ডিআইজি মিজানুর রহমান সম্পর্কে ইকবাল মাহমুদ বলেন, ঘুষ দেয়া ও নেয়া সমান অপরাধ। এখানে ঘুষের প্রকৃত লেনদেন হয়েছে কিনা সেটিরও তদন্ত করবে দুদক। অন্যায় করলে কেউ ছাড় পাবে না।
প্রসঙ্গত, গত বছর নারী নির্যাতনের অভিযোগে পুলিশের (ডিআইজি) মিজানুর রহমানকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়। এরপর তার বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের তথ্য প্রকাশ হলে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে দুদক। এই তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন দুদকের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির। তদন্ত চলাকালেই প্রাপ্ত তথ্য অভিযুক্তের কাছে চালান করে দিয়ে তাকে ভয়-ভীতি দেখানোর মাধ্যমে তিনি দুই দফায় ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেন। চুক্তি ছিল টাকার বিনিময়ে মিজানুর রহমানকে অব্যাহতি দেবেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন জমা দেয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে অবৈধ লেনদেনের এই ঘটনা ফাঁস করে দুদকের কাছে এনামুল বাছিরের বিরুদ্ধে সম্প্রতি নালিশ করেন ডিআইজি মিজানুর রহমান। তার অভিযোগকে আমলে নিয়ে এনামুল বাছিরের বিরুদ্ধে বিষয়টি তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করে দুর্নীতি দমনকারী সংস্থাটি। যদিও দুদক পরিচালক এনামুল বাছির অভিযোগ অস্বীকার করেন।
এদিকে পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমান গতকাল দাবি করেছেন, দুদক কর্মকর্তা খন্দকার এনামুল বাছিরের ‘চাপের পর’ তাকে ‘ফাঁদে ফেলতে’ অপরাধ জেনেও ?ঘুষ লেনদেনের কাজটি করেছেন। ‘বাধ্য হয়ে’ করেছেন। যে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ হিসেবে দেয়ার দাবি তিনি করেছেন, তার হিসাবও দুদককে দেয়ার জন্য তৈরি আছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

বিষয়: