অবসরের ঘোষণা দিলেন যুবরাজ

আগের সংবাদ

বই বিতর্ক : জবাব দেবে কে?

পরের সংবাদ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

চুক্তির প্রতিফলন চাই

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ১০, ২০১৯ , ৮:৫০ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুন ১০, ২০১৯, ৮:৫০ অপরাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক

মিয়ানমারের আপত্তি ও অসহযোগিতায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, সবাই চায় রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফেরত যাক। তবে মিয়ানমারের সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এ বিষয়ে তারা আগ্রহী নয়। রবিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ সত্য এবং স্পষ্ট।

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন ঝুলে যাওয়ার পিছনে দায়ী মূলত পশ্চিমা দেশগুলোর কৌশলগত চাপ, নিজ দেশে রোহিঙ্গাদের জন্য সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টিতে মিয়ানমারের আন্তরিকতার অভাব, একশ্রেণির আন্তর্জাতিক সংস্থার মদদ ও কিছু উচ্ছৃঙ্খল রোহিঙ্গাদের পরিকল্পিত হুমকি-ধামকি ইত্যাদি। তবে এই উদ্ভূত পরিস্থিতির পরও বাংলাদেশ সরকার যে ধৈর্য, সহনশীলতা, উদারতা ও দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়ছে তা প্রশংসনীয়।

জাতিগতভাবে নিধনের উদ্দেশ্যে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছে গত কয়েক দশক ধরে। কিন্তু গত ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে এবং সর্বশেষ ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর থেকে অভিযানের নামে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যে বসবাসকারী রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর অত্যাচার-নির্যাতন শুরু করে নির্মমভাবে।

সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা, ধর্ষণের শিকার হয়েছে অসংখ্য রোহিঙ্গা নারী। সহিংসতার ঘটনায় প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এর আগে থেকেই আরো অন্তত চার লাখ রোহিঙ্গা বিভিন্ন সময়ে পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। রোহিঙ্গাদের প্রতি সমবেদনা এবং মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রতি সংহতি এবং রোহিঙ্গাদের স্বদেশে প্রত্যাবাসনের তাগিদ জানিয়ে আসছে বিশ্ব সম্প্রদায়।

আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোতে দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তিও স্বাক্ষর হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী পরের বছর জানুয়ারি থেকে রোহিঙ্গাদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও আজ পর্যন্ত তা শুরু হয়নি। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে আমাদের অভিজ্ঞতা সুখকর নয়, অতীতে আসা রোহিঙ্গাদের বড় অংশ এখনো মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারেনি।

আশার কথা হলো, এখনো আন্তর্জাতিক মহল রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে তৎপর রয়েছে। আমরা চাই, দ্রুত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হোক। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ফেরত যাওয়ার পাশাপাশি সে দেশে তাদের নিরাপদ বসবাসের পরিবেশ ও নাগরিক মর্যাদা নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টিও জরুরি। কাজেই চুক্তি অনুযায়ী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ সুসম্পন্ন করার লক্ষ্যে আমাদের পক্ষ থেকে দ্বিপাক্ষিক কূটনীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখা হবে।