সবাই তো ভিআইপি, যত ‘ভি’-ই থাকুক ছাড়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী

আগের সংবাদ

ধর্মের ব্যবহার কি ক্ষমতার জন্য

পরের সংবাদ

যুদ্ধাপরাধ মামলার আপিল শুনানি কবে?

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ৯, ২০১৯ , ১০:৫৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুন ৯, ২০১৯, ১০:৫৩ অপরাহ্ণ

অনলাইন প্রতিবেদক

আপিল বিভাগে আটকে আছে যুদ্ধাপরাধের মামলা। মানবতাবিরোধী অপরাধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডপ্রাপ্ত বেশ কয়েকজন যুদ্ধাপরাধীর মামলা চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে। এর মধ্যে রয়েছে জামায়াতের হেভিওয়েট নেতা দলের নায়েবে আমির আবদুস সুবহান, কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি এ টি এম আজহারুল ইসলামের মামলাও।

এই মামলাগুলো চূড়ান্ত শুনানি বিলম্বিত হওয়ার জন্য রাষ্ট্রপক্ষের উদ্যোগের অভাবকেই দায়ী করা হচ্ছে, যা অনাকাক্সিক্ষত। মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনে আপিল বিভাগে বিশেষ বেঞ্চ গঠন দরকার হলে তাও করা উচিত। আপিল বিভাগের বিচারক সংকটের কারণে দীর্ঘদিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি বলে মনে করেন আইন সংশ্লিষ্টরা।

গতকাল ভোরের কাগজের একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত বছরের ৮ অক্টোবর আপিল বিভাগে তিনজন বিচারক নিয়োগ দেয়া হলেও যুদ্ধাপরাধের মামলার আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। তবে গত ১০ এপ্রিল জামায়াতের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি এ টি এম আজহারুল ইসলাম এবং সাবেক কৃষি প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের আপিলের শুনানির জন্য আগামী ১৮ জুন ধার্য করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

সর্বশেষ ২০১৬ সালের ৮ মার্চ মীর কাসেম আলীর মামলার আপিল নিষ্পত্তি হওয়ার পর যুদ্ধাপরাধের আর কোনো মামলার শুনানি হয়নি। বর্তমানে আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত মোবারক হোসেন, পাবনার আবদুস সুবহান এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের আফসার হোসেন চুটু ও মাহিদুর রহমান, পটুয়াখালীর রাজাকার ফোরকান মল্লিক, বাগেরহাটের সিরাজুল হক ও খান আকরাম হোসেন, নেত্রকোনার আতাউর রহমান ননী ও ওবায়দুল হক খান তাহের, কিশোরগঞ্জের এডভোকেট শামসুদ্দিন আহমেদ, হবিগঞ্জের মহিবুর রহমান বড় মিয়া, মুজিবুর রহমান আঙ্গুর মিয়া ও আবদুর রাজ্জাক, জামালপুরের দুই রাজাকার এবং যশোরের সাবেক এমপি সাবেক জামায়াত নেতা সাখাওয়াত হোসেনের মামলা। তারা সবাই ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত।

অন্যদিকে ট্রাইব্যুনালের দেয়া আমৃত্যু দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত পিরোজপুরের সাবেক এমপি পলাতক জব্বার ইঞ্জিনিয়ারের মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। আপিল বিভাগে অন্য সব মামলার সঙ্গে যুদ্ধাপরাধের মামলাগুলোও যোগ হয়ে দীর্ঘসূত্রতায় পড়ছে। অনেক দেশে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিশেষ মামলার আপিল নিষ্পত্তি করতে বিশেষ বেঞ্চ গঠন করা হয়।

এসব মামলার আপিলের ক্ষেত্রেও আপিল বিভাগে একটি বিশেষ বেঞ্চ করলে দ্রুত আপিল নিষ্পত্তির মাধ্যমে অপরাধীদের বিরুদ্ধে রায় কার্যকর সম্ভব। যুদ্ধাপরাধের মামলাগুলো বিশেষ প্রকৃতির ও বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলেই পৃথক ট্রাইব্যুনাল করে এসবের বিচারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং এর ফলেই যুদ্ধাপরাধের মামলাগুলো সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ে তদন্ত ও বিচার সম্ভব হচ্ছে।

কিন্তু আপিল বিভাগে গিয়ে স্বাভাবিক প্রক্রিয়াতেই এগুলো দীর্ঘসূত্রতায় পড়ছে। আমরা মনে করি, গুরুত্ব বিবেচনায়ই আপিল বিভাগে যুদ্ধাপরাধের মামলাগুলোর জন্য বিশেষ বেঞ্চ গঠন প্রয়োজন। এ ব্যাপারে সরকার ও সংশ্লিষ্টরা উদ্যোগী হবেন বলেই আমরা বিশ্বাস করি।