তুমি মহাকাব্য

আগের সংবাদ

চিরঘুমে অভিনেত্রী রুমা গুহঠাকুরতা

পরের সংবাদ

ব্যাটে-বলে দাপট দেখিয়ে জয়ে ফিরল পাকিস্তান

প্রকাশিত: জুন ৪, ২০১৯ , ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুন ৪, ২০১৯ , ১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ

বিশ্বকাপের ইতিহাসে ৩৪৯ রান করে ম্যাচ জেতার রেকর্ড নেই। পাকিস্তানের বিশাল রানের পেছনে ছুটতে গিয়ে তীরে এসে তরী ডুবিয়েছে ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা। গতকাল নটিংহ্যামের ট্রেন্ট ব্রিজে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ১৪ রানে হারিয়ে স্বস্তির জয় পেয়েছে পাকিস্তান। জো রুট এবং জস বাটলারের সেঞ্চুরি স্বাগতিকদের জয়ের স্বপ্ন দেখালেও অন্য ব্যাটসম্যানরা নামের প্রতি সুবিচার করতে না পারায় হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় ইয়ন মরগান বাহিনীকে। পাকিস্তান পরবর্তী ম্যাচে ৭ জুন ব্রিস্টলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এবং ৮ জুন কার্ডিফে বাংলাদেশের মোকাবেলা করবে ইংল্যান্ড। এ ম্যাচের আগে আগামীকাল টাইগাররা নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে।
আগের ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শোচনীয় হারা পাকিস্তানের সামনে জয়ের বিকল্প ছিল না। অন্যদিকে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১০৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসে বলিয়ান ছিল ইংলিশরা। অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসই তাদের জন্য কাল হয়েছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে টস জিতে প্রোটিয়া অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিস টাইগারদের আগে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন। ওই ম্যাচে রানের পাহাড় গড়েছিল মাশরাফি বাহিনী। ইয়ন মরগানও টস জিতে পাকিস্তানকে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানায়। সরফরাজ বাহিনী সুযোগের সদ্ব্যবহার করে ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ৩৪৮ রানের পাহাড় গড়ে তুলে। ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা চেষ্টা করেও সেই পাহাড় অতিক্রম করতে পারেনি। এ ম্যাচে পাকিস্তানি বোলারদের প্রশংসা না করলে অন্যায় হবে। শাহদাব খান, মোহাম্মদ আমির এবং ওহাব রিয়াজ বেশ বুদ্ধিদীপ্ত বোলিং করেছেন। বিশেষ করে শেষের দিকে রিয়াজ এবং আমির ইংলিশ ব্যাটসম্যানদের বাউন্ডারি হাঁকাতে প্রলুব্ধ করে উইকেট তুলে নিয়েছেন। জিততে হলে ১৮ বলে ৩৮ রান দরকার ইংল্যান্ডের। এমন সময় ওহাব রিয়াজের হাতে বল তুলে দেন সরফরাজ আহমেদ। ওভারে দ্বিতীয় বলে ছক্কা হাঁকান উকস। চতুর্থ বলে মঈন আলীকে আউট করার পর ওভারের শেষ বলে উকসকে সাজঘরে ফেরত পাঠালে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় পাকিস্তানের কাছে। শেষ ওভারে ইংল্যান্ডের টার্গেট দাঁড়ায় ২৫ রানের। আদিল রশিদ এবং উড ১১ রান নিলে জয়ের দেখা পায় ১৯৯২ সালের চ্যাম্পিয়নরা। ৬২ বলে ৮৪ রান এবং বল হাতে ৭ ওভারে ৪৩ রান দিয়ে এক উইকেট লাভ করায় ম্যাচ সেরা হন মোহাম্মদ হাফিজ।
টানা ১০ ম্যাচে হারের স্বাদ নিয়ে গত শুক্রবার দ্বাদশ বিশ^কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে উইন্ডিজের মুখোমুখি হয় পাকিস্তান। সরফরাজ আহমেদের দল হারে ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে। ওই ম্যাচে কিউই পেসারদের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানরা। মিকি আর্থারের দলের ইনিংস গুটিয়ে গিয়েছিল মাত্র ১০৫ রানে। একদিকে টানা ১১ ম্যাচে হারা পাকিস্তান, অন্যদিকে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১০৪ রানের বিশাল ব্যবধানের জয় পাওয়া উজ্জীবিত ইংল্যান্ড সব মিলিয়ে সরফরাজদের বিপক্ষে গতকাল বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নামার আগে স্বাভাবিকভাবেই ফেভারিট ছিল ইংলিশরা। সবার ধারণা ছিল উইন্ডিজের মতো স্বাগতিক ইংল্যান্ডের পেস অ্যাটাক সামলাতেও হিমশিম খাবেন পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানরা। কিন্তু সবার ভবিষ্যদ্বাণীকে মিথ্যা প্রমাণ করে দেয় আর্থারের শিষ্যরা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এ দিন টস হেরে আগে ব্যাটিং করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ৩৪৮ সংগ্রহ করেছে তারা। এটি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ সংগ্রহ। আগের সর্বোচ্চ ৩৩৯ রানের স্কোরটি ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে, ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে। বিশ্বকাপে এর আগে কোনো দল এত বড় স্কোর তাড়া করে ম্যাচ জিততে পারেনি। সে হিসেবে ম্যাচ জিততে রেকর্ড গড়তে হতো ইংলিশদের।
নটিংহ্যামের ট্রেন্ট ব্রিজে এ দিন যেন ভিন্ন এক পাকিস্তানকে দেখতে পায় ক্রিকেটপ্রেমীরা। উইকেটে সুইং এবং গতিময়তা কম ছিল। এর সুবিধা বেশ ভালোভাবেই কাজে লাগান পাকিস্তানের দুই ওপেনার ইমাম উল হক ও ফখর জামান। উদ্বোধনী জুটিতে দলের স্কোরে ৮২ রান যোগ করেন তারা। জুটিটা আরো ভয়ানক হয়ে উঠার আগে ফখরকে সাজঘরে ফেরান স্পিনার মঈন আলি। মঈনের বলটা স্বাভাবিকের চেয়ে একটু কম গতির ছিল। কিন্তু সেটা বুঝতে ভুল করেন ফখর। তিনি বিগ শট খেলার উদ্দেশ্যে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। কিন্তু বলের লাইন মিস হয়ে যায়। এই সুযোগ কাজে লাগান ইংল্যান্ডের উইকেটরক্ষক জস বাটলার। স্পাম্পিং করে ফখরকে সাজঘরে পাঠান তিনি। সাজঘরে ফেরার আগে ৪০ বলে ৩৬ রান করেন ফখর জামান। ফখরের বিদায়ের পর ইমামের সঙ্গে জুটি গড়েন বাবর আজম। কিন্তু সেটা বেশি লম্বা হয়নি। হাফসেঞ্চুরি থেকে ৬ রান দূরে থাকতে ওপেনার ইমাম উল হককে ক্রিস উকসের ক্যাচ বানান মঈন। উকস যেভাবে ক্যাচটি নিয়েছেন তাতে প্রশংসা না দিলেই নয়। আসলেই দুর্দান্ত এক ক্যাচ ছিল তা। বিশ্বকাপের আগে ফর্মহীনতায় ভুগছিলেন মোহাম্মদ হাফিজ। ৩৮ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারকে স্কোয়াডে রাখা নিয়েও সমালোচনা কম হয়নি। তবে দলের দুঃসময়ে ঠিকই হেসেছে তার ব্যাট। তৃতীয় উইকেটে ৮৮ রানের জুটি গড়েন মোহাম্মদ হাফিজ ও বাবর আজম। বাবর ৬৩ ও হাফিজ ৮৪ রান করেন। হাফিজের ক্যারিয়ারের ৩৮তম অর্ধশতক এটি। এদিন অর্ধশতক হাঁকান সরফরাজ আহমেদও। তার ব্যাট থেকে আসে ৫৫ রান। ইংল্যান্ডের পক্ষে ৩টি করে উইকেট নেন ক্রিস উকস ও মঈন আলি। এ ছাড়া মার্ক উড নেন ২ উইকেট।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়