নিঝুম হরিণ

আগের সংবাদ

আদিবাসী উৎসবে আনন্দে কৃতজ্ঞতায়

পরের সংবাদ

স্মৃতি থেকে সংগ্রহ

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ৩, ২০১৯ , ৩:৩৭ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুন ৩, ২০১৯, ৩:৩৭ অপরাহ্ণ

Avatar

আষাঢ়-শ্রাবণে পিতাকে প্রায়শই দেখতাম তিনি পাবনা বড় বাজার থেকে একবারে গোটা চারেক বড় বড় সাইজের ইলিশ কিনে আনতেন, কখনো-সখনো আমাদের জিলাপাড়ার বাড়ির সামনে দিয়ে ঝাঁকা ভর্তি ইলিশ নিয়ে যেত মাখন নিকেরা অথবা রমেশ হালদার। উভয়েই হাঁক দিয়ে যেত মাত্র ২ টাকা ৪টি ইলিশের দাম। মাঝেমধ্যে প্রায় জোর করেই দিয়ে যেত বাকিতে। সেই আষাঢ় থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত নিয়মিতভাবেই শহরময় কখনো এক টাকা জোড়ায় বিক্রি হতো ইলিশ।
মধ্য পঞ্চাশে, একবার প্রচণ্ড ওলাওঠায়/কলেরায় শহরের এবং আশপাশের গ্রামগুলোতে অনেক লোক মারা গিয়েছিলেন উভয় সম্প্রদায়েরই, অধিক পরিমাণে ইলিশ পান্তা খেয়ে, একদিকে পাবনা শহরের উত্তরদিকের বিশাল শ্মশান ‘শিঙ্গে’ অপরদিকে পুবের আরিফপুর গোরস্তান, প্রায় দিনই শুনতাম হরিবোল, আল্লাহু আকবর। জিলাপাড়া, গোপালপুরের কেউ না কেউ কলেরায় মারা গিয়েছেন। সে বছর গোপালপুরের নিত্যনন্দ বিভ‚তি ভ‚ষণ সাহার বাড়িতে কলেরায় মারা গিয়েছিলেন ৩ জন, নিত্যনন্দ বাবুর শহরের বড় বাজারের ভিতরে ছিল সবচেয়ে বড় তেল নুনের দোকান এবং তিনি ছিলেন ‘বার্মা শেল’ কোম্পানির কেরোসিনের ডিলার বা সরবরাহকারী। তার ছিল নন্দভবনের পুব দিকে চাল ধানের আড়ৎ। এবং ধান ভাঙানোর মিল, পাথরতলার জয় মা কালী প্রাইমারি স্কুলের সামনেই এখনো দাঁড়িয়ে আছে যে পাকুড় গাছটি তার গোড়ায় সিঁদুর, ফুল এবং ৮ আনা সেরের দুধ ঢেলে দিয়ে মা মনসার কাছে প্রার্থনা করত হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষরা, এমনকি পাবনা সদর গোরস্তানের দক্ষিণ দিকের ঠিক দেয়ালের পাশেই ছিল পঞ্চনন্দ ঠাকুরের বিশাল বট এবং পাকুড় গাছের চারপাশ ঘিরে শান বাঁধানো বেদিতে প্রতি শনিবারে এবং মঙ্গলবারে হিন্দু সম্প্রদায়ের পুরুত ঠাকুর শহর থেকে আসতেন, ঢোল ডগর বাজিয়ে, সঙ্গে থাকতো পিতা-মাতারা এবং বেশ অনেকগুলো পরিবার একত্র হয়ে তাদের শিশুদের উদ্দেশ্যে দেয়া ‘মানত’ সম্পন্ন করতেন কয়েক মণ দুধ ঢেলে, ওই বট আর পাকুড় গাছের গোড়ায়। কথিত ছিল স্বয়ং শিব একদা পা রেখেছিলেন গাছগুলোর শীতল ছায়ায়। পুরুতের পূজা শেষে যথেষ্ট খই, মুড়ি, বাতাসা এবং এক আনা, দুই আনা এবং ছিদ্রওয়ালা এক পয়সা ছিটিয়ে দিতেন, আমরা যারা পারতাম কুড়িয়ে নিতাম, দুই চার আনা এবং বাতাসাও।
পঞ্চনন্দ ঠাকুরের পূজা শুরু হতো বেলা দশটা থেকে এগারোটার ভেতরে, কেননা পঞ্চনন্দ ঠাকুরের পঞ্চবটি গাছটির উত্তরেই পাবনার বড় গোরস্তানের মসজিদ। মসজিদের আজান বেলা ১টা থেকে সোয়া ১টার ভেতরে শুরু হতো। আজান শুরুর আগেই পূজা পার্বণ শেষে শিশুদের মাথার চুল নেড়ে করে দিত শহর থেকে সঙ্গে আনা হারান নাপিত। উনারা চলে যাওয়ার পরে আমরা যারা বাঁশঝাড়ের আশপাশে লুকিয়ে থাকতাম তারা দৌড়াদৌড়ি করে চলে যেতাম পঞ্চনন্দ গাছের নিচে, গিয়ে দেখতাম শিশুদের কাটা চুল, তার মাঝে দুই একটি বাতাসা, দুই এক আনা পয়সা, একবার গিয়ে দেখি বিশাল দুটি গোখরা সাপ শুয়ে আছে শিশুদের চুলের উপরে।
গোপালপুরের নাকি পাথরতলার ফণিদা ঢোল ডগর বাজিয়ে শহরের দিকে যেতে যেতে আবার ফিরে এসেছিলেন সেই পঞ্চনন্দ তলায়। আমরা তাকে দেখে চিৎকার করেই বললাম, ফণিদা ওদিকে যাবেন না গোখরা সাপ আছে। আমাদের চিৎকারে হয়তো সাপ দুটি ফিরে গিয়েছিল গাছ দুটির যে কোনো একটির গর্তের ভেতরে। সাহসী ফণিদা আমাদের কোনো কথা না শুনেই, বাঁধানো সেই বেদির নিচে পড়ে থাকা তার প্রিয় পাখি মারার ‘গুলতি’ হাতে ফিরে এসে জানালেন, মা মনসা আমাকে কামড়াত না, বলেই তিনি শহরের দিকে ফিরে গেলেন।
পাবনা বড় গোরস্তানের দেয়াল সংলগ্ন একটি খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের গোরস্তান আছে, যেটি দক্ষিণ দিকের ঈদগা মাঠের উত্তরে। পূর্ববঙ্গের অন্য কোনো জেলা শহরে এই রকম হিন্দু, মুসলমান এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সহাবস্থান আছে কিনা আমার জানা ছিল না মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে না-পাক, পাকিস্তানের সৈনিকরা গণহারে হত্যা শেষে, মে মাসের কোনো একদিন শহরময় মাইকে জানিয়ে দিল, যে সব হিন্দু, মুসলমান গ্রামে পালিয়ে গেছেন, তারা শহরে ফিরে আসুন নির্ভয়ে।
না-পাকদের কথায় বিশ্বস করে শহরের কালাচাঁদ পাড়ার বিশিষ্ট গেঞ্জি ব্যবসায়ী মনি দত্ত, তার পরিবার তাতীবন্দ থেকে আরো অনেকে হিন্দু মুসলমানদের সঙ্গে ফিরে এসেছিলেন, নিজ মহল্লায়। মনি দত্তের দুই ছেলে, দীপক দত্ত ও ফণি দত্ত, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্ট অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের শ্বশুর বাড়ি ওই কালাচাঁদ পাড়ায়। কে পি ইউনিয়নের পশ্চিম দিকের যত হিন্দু ভদ্রলোকের না-পাকদের আশ্বাসে ফিরে এসেছিলেন, এমনকি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী বীণা দিদির বাড়ির আশপাশের যারা হিন্দু ছিলেন, প্রায় সবাইকে জোর করে গরুর রান্না মাংস খাইয়ে মুসলমান বানিয়ে ছিলেন মৌলানা আবদুস সোবহান এবং নেজামে ইসলামীর মৌলানা ইসহাক। যাকে ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর আবদুল মালেক শিক্ষামন্ত্রী বানিয়েছিলেন। জনাব সোবহান এবং ইসহাকের নির্দেশেই না-পাক আর্মি দিয়ে বড় গোরস্তান সংলগ্ন সেই শান বাঁধানো বেদি এবং বিশাল বট ও পাকুড়ের গাছ দুটি কেটে দিয়ে বানিয়েছিল বিরান ভূমি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর শহর থেকে অধিকাংশ হিন্দু সম্প্রদায় পাড়ি দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায়। অল্প সংখ্যক হিন্দু এখনো শহরে আছেন। প্রতি বছর পাবনা জেলার ৮টি উপজেলায় প্রায় ৪০০টি শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। [তথ্যদাতা রাজশাহী বেতারকেন্দ্রের পাবনাস্থ সাংবাদিক ভুপেন তরফদার] ১৯৭১ সালে যেসব হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের ধর্মান্তরিত করা হয়েছিল তার ভেতরে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি ছিলেন শ্রী শিবাজী মোহন চৌধুরী [বিএ ক্যাল]। তিনি ছিলেন পাবনা গোপাল চন্দ্র ইনস্টিটিউশনের ইংরেজির শিক্ষক। যাকে শহরের অভিভাবকরা জানতেন ইংরেজির জাহাজ হিসেবে, ধর্মান্তরিত করার পরে তার নাম দিয়েছিল ইসলাম প্রেমীরা মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম। অপরদিকে জনপ্রিয় বিলু চৌবেকের নাম দিয়েছিল মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। দুঃখের বিষয়, সেই শিবাজী মোহন চৌধুরী মুসলমান হওয়ার পর তাকেও একদিন শহরের রাজাকার প্রধান শালগাড়িয়ার কুলাঙ্গার ঘেটু মিয়া শিবাজী স্যারের প্রিয় হিজমাস্টার্স কলের গান এবং তার বাড়িটি দখলের নিমিত্তে প্রকাশ্যে হত্যা করেছিল পাবনা শহরের পশ্চিম দিকের নূরপুরের না-পাকদের আর্মি ক্যাম্পে। শিবাজী মোহন চৌধুরী ইংরেজির জাহাজ স্বদেশি আন্দোলনের একজন কর্মী থাকতে থাকতেই দেশ ভাগ হয়ে গিয়েছিল ১৯৪৭ সালে। এবং তার সব আত্মীয়স্বজনরা তাকে ফেলে পাড়ি দিয়েছিলেন ভারতের দিকে। সেই অভিমানে তিনি আর সংসার ধর্ম পালন না করে আমৃত্যু ব্যাচেলর ছিলেন। সিরাজুল ইসলাম নাম ধারণ করার পরে তাকে পবিত্র কুরআনের অনেকগুলো আয়াত শিখিয়েছিলেন পাবনা আলিয়া মাদ্রাসার এক শিক্ষক, কিন্তু তাকে লোভী রাজাকার প্রধান ঘেটু মিয়া হত্যা করে না-পাকদের থেকে পুরস্কৃত হয়েছিলেন।
সেই ১৯৭১ সালেই পাবনা শহরের দক্ষিণ দিকের একদার রাক্ষুসি বা খরস্রোতা পদ্মা নদীতে প্রচুর ইলিশ মাছ ধরা পড়লেও মুসলমান জেলেরা শহরের টেকনিক্যাল স্কুলের পূবদিকের সরু রাস্তার পাশে রূপালী ইলিশ সাজিয়ে রাখলেও কোনো ক্রেতা ছিল না বললেই চলে। অবিক্রীত মাছগুলোকে যততত্র মাটিতে পুঁতে ফেলা হতো, কেননা ছিল কলেরার ভয়।
সেই মধ্য পঞ্চাশেই যে কলেরায় হাজার হাজার মানুষ মারা যেত তাই নয়, মারা যেত বসন্ত রোগে। তখনই শহরের জয়কালী মন্দিরে দেয়া হতো মসূরিকা রোগের (Small Pox) মুক্তির জন্য কামদেবের নামে পূজা। সেই সব অনুষ্ঠানের রাতেই সমগ্র শহরে শোনা যেত হরিবোল এবং আল্লাহু আকবর। মধ্য পঞ্চাশ থেকে মধ্যষাট পর্যন্ত কিংবা তারও পরে সমগ্র দেশে কলেরা, বসন্তে প্রচুর লোকের মৃত্যু হতো, তবে ওই সময়েও একজোড়া ইলিশের দাম ছিল বড় সাইজের ৩ টাকা থেকে সাড়ে ৩ টাকা। এমনকি আমার কৈশোরে পাবনার বড় বাজার থেকে কুরবানির ঈদ উপলক্ষে দুটি খাসি কিনেছিলেন পিতা মাত্র ৭২ টাকায় এবং পাবনা বাজারে তখন কোনো গরু, ছাগল, ভেড়া কিনলে ‘হাসিল’ বা ট্যাক্স দিতে হতো না।
আমার ধারণায় তখন সমগ্র বাংলাদেশ বা পূর্ববঙ্গ বা পূর্বপাকিস্তানে লোকসংখ্যা ছিল ৫ থেকে ৬ কোটি, ১৯৪৭ সালের দেশ ভাগের সময় এবং পরবর্তীতে এক আদমশুমারিতে পূর্ববঙ্গে মানুষ ছিল প্রায় সাত কোটি কিন্তু এই ৪ থেকে ৬ কোটি লোকের জন্য না ছিল ডাক্তার, না ছিল ওষুধ বা পথ্য।

ছোটকালে দেখেছি পাবনা শহরে একমাত্র একজন ডাক্তার ছিলেন এমবি পাস করা ডাক্তার আবু ইসহাক। অন্যেরা এলএমএফ-এর অধিকাংশ ছিলেন হিন্দু সম্প্রদায়ের। ডা. পরিতোষ সাহা, ডা. সীতাকণ্ঠ সাহাসহ জনাকয়েক। তবে মুসলমানদের ভেতরে প্রথম এলএমএফ ডাক্তারি পাস করেছিলেন শিবরামপুর-শয়তান পাড়ার ডা. হারুন রশীদ। এই তিনজনেরই প্রসার ভালোই ছিল। তবে ডা. সীতাকণ্ঠ ছিলেন জনহৈতিষী। তিনি সাইকেল চালিয়ে, হাফপ্যান্ট পরে মাথায় শোলার টুপি মাথায় দিয়ে গ্রামগঞ্জে গিয়ে বিশেষত শহরের পুবের দিকের রাজাপুর, একদন্ত, গয়েশপুর ডাক্তার গ্রামে গিয়ে বিনামূল্যেই অনেক সময় রোগী দেখে পথ্য কেনার টাকা এবং নিজের ব্যাগে রাখা ওষুধ দিয়ে আসতেন। পরবর্তীতে ভালো হয়ে যাওয়া গ্রাম্য লোকজন রোগী কৃতজ্ঞতার সঙ্গে ডা. সীতাকণ্ঠ সাহার পাবনা শহরের বড় বাজারের পূবদিকের দোতলা বাড়িটিতে দিয়ে যেতেন। গাছের আম-কাঁঠাল, মোরগ-মুরগি, শাক-সবজি, হাঁস-মুরগির ডিম, আরো একজন ডাক্তার তিনিও এলএমএফ পাস করেছিলেন কলকাতা থেকে, শহরের মহিষের ডিপো পাড়া থেকে, ডা. আবুল হোসেন। ওই সব শ্রদ্ধেয় ডাক্তার শহরের বাইরে গেলে ফি নিতেন মাত্র ২ টাকা। আর রিকশা ভাড়া নিতেন ১ টাকা তবে সব এলএমএফ ডাক্তাররা অসুখ-বিসুখে দিতেন মিকচার লাল টকটকে মিকচারে কি যে ওষুধ দিতেন তারাই জানেন, ওমন তিতে ওষুধ যে রোগী একবার খেয়েছে তার টাইফয়েড সারতে বাধ্য। বাধ্য সাধারণ জ¦র সারতেও, ওষুধগুলো দিতেন কাচের শিশিতে। শিশির গায়ে সেঁটে দিতেন খাঁজকাটা সাদা কাগজ। ৬ থেকে ৮ দাগ খেয়েই আমার নিজেরই টাইফয়েড পালিয়েছিল দুই সপ্তাহের ভেতরে।
শহরের গোপালপুরের বিখ্যাত হোমিওপ্যাথিক ছিলেন ডা. শিশির ভৌমিক। মি. ভৌমিক একদা কম্পাউন্ডার ছিলেন কলকাতায়, ডাক্তার বিধান চন্দ্র রায়ের। শুনেছিলেম পিতা শেখ মোহাম্মদ হাকিম উদ্দিনের কাছ থেকে। হোমিওপ্যাথিক শিশির ডাক্তারের ফি ছিল মাত্র ১ টাকা তবে তিনি যেসব ওষুধ দিতেন সেই ওষুধেই কাজ হয়ে যেত। আমাদের অনুজ খোকনের (দাউদ হায়দার) বয়স যখন তিন থেকে চার বছর সেই সময়ে খোকনের ‘পারনিসার্স ম্যালেরিয়া’ হয়েছিল, যে ম্যালেরিয়াতে মৃত্যুর আশঙ্কাই বেশি। ডাক্তার শিশিরকে বাসায় পিতা নিয়ে এলেন, তিনি খোকনকে দেখলেন এবং বললেন যে হোমিওপ্যাথ ওষুধ দিলাম, আশা করি ভগবান আপনার ছেলেকে ফিরিয়ে দেবেন। তবে সময় মাত্র ৪৮ ঘণ্টা। আমার মা রহিমা খাতুন কাঁদতে শুরু করলেন, ডা. শিশির ভৌমিক মাকে এবং পিতাকে বলেছিলেন ভগবানকে মনে প্রাণে ডাকুন, ভগবান নিশ্চয়ই শুনবেন আপনাদের কথা। সেই মধ্য পঞ্চাশের স্বল্প মূল্যের ইলিশ খেয়ে অনেকেই ভৌমিক বাবুর ওষুধে বেঁচেছিলেন। অনেকেই ওষুধ খাওয়ার আগেই পাড়ি দিয়েছিলেন না ফেরার দেশে।
আজকাল কি ওই রকম ডা. সীতাকণ্ঠ সাহার মতো (এলএমএফ) মানবসেবী কোনো ডাক্তার আছেন? কিংবা হোমিওপ্যাথির সেই বিখ্যাত, প্রখ্যাত শিশির ভৌমিকের মতো? নিশ্চয়ই নেই। আছে এমবিবিএস এবং এফআরসিএস উপাধি যুক্ত হাজার হাজার ডাক্তার। যারা রোগী দেখেন ১০০ থেকে ১২০টি বিকেল ৪টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত। রোগীর কাছ থেকে রোগ না শুনেই দিয়ে দেন ওষুধ। শেষ পরামর্শ দেন অমুক ডায়াগোনস্টিকে যাবেন। তাই যেতে হয়। আমাকেও যেতে হয়েছিল গত মাসের মাঝ সপ্তাহে।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা