আমরা অমৃতসর এসে গেছি

আগের সংবাদ

ভাবেন রবীন্দ্রনাথ ভাবান অন্যে ভাব টানে

পরের সংবাদ

রাজস্ব ঘাটতি ছাড়াল ৫০ হাজার কোটি টাকা

প্রকাশিত: জুন ৩, ২০১৯ , ১:৫৪ অপরাহ্ণ আপডেট: জুন ৩, ২০১৯ , ১:৫৪ অপরাহ্ণ

অর্থবছর প্রায় শেষ হতে চলেছে, সঙ্গে রাজস্ব ঘাটতিও। চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে রাজস্ব ঘাটতি প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। ৯ মাসে রাজস্ব আহরণ প্রবৃদ্ধি সাত দশমিক ২৭ শতাংশ, যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে সর্বশেষ ১৯৯৯-২০০০ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল এক দশমিক ৭৩ শতাংশ। অর্থবছরের বাকি সময়ে রাজস্ব আদায়ে আকস্মিক কোনো উত্থান না হলে ১৯ বছরে এবারই সবচেয়ে কম রাজস্ব প্রবৃদ্ধি হতে যাচ্ছে।
এনবিআরের হিসেবে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) রাজস্ব আহরণ লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ৩ হাজার ৮৪৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আহরণ করা হয়েছে এক লাখ ৫৩ হাজার ৪৭৭ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ ৯ মাস শেষে রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজার ৩৬৭ কোটি ১৪ লাখ টাকা। তবে অর্থবছরের অবশিষ্ট তিন মাসে রাজস্ব আদায় হলে ঘাটতি কমে যাবে বলে আশা করছেন এনবিআর সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের শুরুতেই ঘাটতির মুখে পড়ে রাষ্ট্রীয় সংস্থাটি। আমদানি-রপ্তানি অন্য বছরের তুলনায় বাড়লেও সবচেয়ে বেশি ঘাটতির মুখে শুল্ক খাত। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলেও কোনো কারণ ছাড়াই এ খাতে রাজস্ব আহরণ তুলনামূলকভাবে কমেছে। জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত শুল্ক খাতে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬২ হাজার ৮২ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আহরণ করা হয়েছে ৪৬ হাজার ৯৩০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ ৯ মাসে শুল্ক খাতে ঘাটতি ১৫ হাজার ১৫১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।
মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট খাতে ৯ মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৮ হাজার ৬৯৮ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। আদায় হয়েছে ৬০ হাজার ১১৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ ভ্যাট খাতে ১৮ হাজার ৫৮০ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। আর আয়কর খাতে ৯ মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৩ হাজার ৬৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। আদায় হয়েছে ৪৬ হাজার ৪২৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। এতে আয়কর খাতে ৯ মাসে ঘাটতি ১৬ হাজার ৬৩৪ কোটি ৯৮ লাখ টাকা।
সূত্র আরও জানায়, চলতি অর্থবছর মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২৩ শতাংশ, যা গতবছর একই সময় ছিল ১৩ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। বিগত পাঁচ বছরের আহরণের প্রবৃদ্ধির গড় ছিল ১৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ।
অপরদিকে, চলতি অর্থবছর রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি টাকা। এর মধ্যে রয়েছে ভ্যাট খাতে সর্বোচ্চ ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা, আয়কর খাতে এক লাখ ২ হাজার ২০১ কোটি টাকা ও শুল্ক খাতে ৮৪ হাজার কোটি টাকা। প্রতি বছরের মতো এবারও রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা সংশোধন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ১৬ হাজার ২০০ কোটি টাকা কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে ভ্যাটে সর্বোচ্চ কাটছাঁট হয়েছে সাত হাজার কোটি টাকা। ফলে ভ্যাট খাতে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা এক লাখ তিন হাজার কোটি টাকা। ভ্যাটে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। আয়কর খাতে সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা কাটছাঁট হয়ে লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়িয়েছে ৯৬ হাজার ৬৩২ কোটি টাকা। আর শুল্ক খাতে লক্ষ্যমাত্রা ৮৪ হাজার কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ৭৯ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে এনবিআরের এখন মোট রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা হবে ২ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা।
এ ছাড়া আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছর এনবিআরকে এবারের চেয়ে প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকার রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হচ্ছে, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত লক্ষ্যের চেয়ে ১৭ শতাংশ বা প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা বেশি। এর মধ্যে ভ্যাট খাতে ১ লাখ ১৭ হাজার ৬৭২ কোটি টাকা আদায় করতে হবে, যা চলতি অর্থবছরের চেয়ে সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা বেশি। আয়কর খাতে ১ লাখ ১৫ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা আদায় করতে হবে এনবিআরকে, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত লক্ষ্য থেকে ১৯ হাজার কোটি টাকা বেশি। এবার আয়করের সংশোধিত লক্ষ্য হলো ৯৬ হাজার ৬৩২ কোটি টাকা। আর শুল্ক খাতে লক্ষ্যমাত্রা বাড়ছে ১৩ হাজার কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে শুল্ক খাতে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য হচ্ছে ৯২ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে শুল্ক খাতে সংশোধিত লক্ষ্য হলো ৭৯ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়