আমরা কেবল অপেক্ষা জমাই

আগের সংবাদ

ঢাবির কেন্দ্রীয় মসজিদে অধ্যাপক মমতাজউদদীনের নামাজে জানাজা সম্পন্ন

পরের সংবাদ

মর্ষকামীর মর্মকথা

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ৩, ২০১৯ , ১২:১৭ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুন ৩, ২০১৯, ১২:১৭ অপরাহ্ণ

Avatar

শেষ পর্যন্ত সে এ রকম চিন্তা করতে বাধ্য হলো যারা তাকে অকারণে বিনা দোষে শুধুমাত্র হীনমানসিতায় অপমান, অসম্মান ও হিংসা করেছে, করে এবং করবে তারা অবশ্যই খাঁটি শুয়োরের বাচ্চা, যদিও এতে শুয়োরদের যারপরনাই ছোট করা হয়নি। সে প্রথমে নিজের পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের কার্যাদি নিয়েই বেশ ব্যস্ত ছিল। পরে যখন আর এক প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এসে যৌথভাবে কাজ করার প্রস্তাব দিল, তখন কাজের ব্যাপ্তি, পরিধি ও প্রসার বিশেষ করে অর্থলাভের চিন্তা করে রাজি হলো। আর সেভাবেই খুব সফলতার সঙ্গে সুনাম নিয়েই অনেক প্রকল্প শেষ করে দেশে পরিচিতি লাভ করতে পেরেছিল।
পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য সব অংশীদার একে অন্যের প্রতি সহযোগিতা সহমর্মিতা ও বোঝাপড়া নিয়ে সুন্দর এক পরিবারের মতো চলছিল, যদিও অন্য পেশার কেউ কেউ তার প্রতি ঈর্ষাকাতর হয়ে বিশেষ রকমের অস্বাভাবিক নিচু প্রকৃতির কটূক্তি করতে ছাড়েনি। বিজাতীয় এসব শুনে সে কোনো উচ্চবাচ্য না করে একমনে নিজেকে সৃজনশীল কর্মে ব্যস্ত রেখেছিল এবং বুঝতে পেরেছিল, যখন কোনো প্রতিষ্ঠান আয়োজন ও আয়তনে বেশি ছড়িয়ে গিয়ে অর্থলাভ করা শুরু করে তখন সেটি অংশীদারদের মধ্যে পরস্পর পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস হারাতে হারাতে নিশ্চিত পতনের দিকে দ্রুত এগুতে থাকে।
সাধারণত সীমাবদ্ধ দায়মুক্ত পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান ব্যক্তি নির্বাচনের মাধ্যমে নিয়ম অনুযায়ী পাঁচ বছরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কিন্তু দেখা যায় দায়িত্ব পাওয়ার পরেই সে ধীরে ধীরে অস্বাভাবিক বিকৃত মনমানসিকতার পতিত হয়ে নিজেকে নিজের অধীনে একান্ত অপরিহার্য ভেবে সবাইকে এমনকি অংশীদারদের কর্মচারী মনে করা শুরু করে। নিজের পেশার বাইরেও সব কিছুতেই মাথা গলানো শুরু থেকে নিজের অতি আত্মম্মন্যতায় অতিকায় ক্ষমতাশীল এক বাতিকগ্রস্ত ব্যক্তিতে হাস্যকরভাবে চিন্তা ও কর্মে রূপ নিয়ে নিজের ধ্বংসের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানেরও বারোটা বাজাতে পিছপা হয় না।

এর কারণও বহুবিধ। পারিবারিক শিক্ষার অভাব, ক্ষমতা পেয়ে ক্ষমতা না ছাড়া ক্ষমতার অপব্যবহার যৌথ প্রযোজনা বা পরিচালনার জন্য দূরদৃষ্টিসম্পন্ন পরিষ্কার উদার মনোভাবের খামতি, নিজের প্রতি অতি বিশ্বাস অন্যের কথা শোনা, পরনিন্দা-পরচর্চা-সমালোচনায় নিজেকে হীনমন্য করে তোলা, আগে কোনে সামাজিক প্রতিষ্ঠানে সম্পৃক্ততাহীনতায় উন্নত চিন্তা ও অভিজ্ঞতা লাভের সুযোগ না পাওয়াতে সার্বিকভাবে নেতিবাচক অপ্রগতিশীল ও ক্ষতিকারক এক আত্মধিকৃত-বিকৃত অমানুষ হওয়া ইত্যাদি। এ ধরনের ভাবনার সূত্রপাত হঠাৎ বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো যখন প্রায় পঁয়ত্রিশ বছর এক সঙ্গে সফলতার সঙ্গে সুনাম নিয়ে কাজ করার কালে তাকে প্রধান প্রতিষ্ঠাতা অংশীদার ডেকে নিয়ে বলে শুনুন আপনার বিরুদ্ধে ওই সহকর্মীটি অভিযোগ করেছে এই বলে যে আপনি অফিসের কোনো কাজ করেন না, বরং আপনার ব্যক্তিগত কার্যাদি নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকেন। সে জন্য আমরা চাই আপনার অংশীদারের কিছু অংশ কমিয়ে দিতে। নিশ্চয়ই এতে আপনার কোনো আপত্তি থাকবে না এবং ওই কমিয়ে দেয়া অংশের সবটুকু অন্যান্য সব পরিচালকের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে দেয়া হবে। আর এমন করে এক মহৎ মানবিক দৃষ্টান্ত। সৃষ্টির পর্যায়ে আমরা আশা করি আপনি রাজি হবেন।
ও আশ্চর্য হয়ে বলে অবাক কাণ্ড! আপনার মতো এ রকম নেমকহারাম আর অকৃতজ্ঞ মানুষ আমি জীবনে দেখিনি। আরে আমি তো আপনার কাছে চাকরির জন্য যাইনি বরং আপনিই আমার কাছে এসে বললেন, চলুন আমরা একসঙ্গে কাজ শুরু করি, জানি আপনার নিজের আপিস আছে বললেন তারপরও আমরা যৌথভাবে কাজ করলে সবাই লাভবান হবো এবং কাজের পরিধিও বাড়বে। আর আপনি আপনার বিভাগে প্রধান হিসেবে যোগ দিয়ে যৌথ কাজে অংশ নেবেন যাবতীয় দায়-দায়িত্ব নিয়ে। তাই শিগগির আজকালের মধ্যেই এই দলিলে স্বাক্ষর করতে হবে যাতে এই প্রকল্পটি পেতে পারি এবং এর উপদেষ্টা পেশাগত পারিশ্রমিক প্রায় পঁচিশ কোটি টাকার হবে। আপনি এসব ইতিহাসের অতীত কাহিনী সব ভুলে গেছেন। আপনারা এত নিচু প্রকৃতিরা! আত্মকেন্দ্রিক! এত অমানুষ! পশুর চেয়েও অধম। ছিঃ। আমি না হলে এই সংস্থাই দাঁড়াই না, তারপর সবকিছু হয়ে গেলে সুখ আর উন্নতি এত দূর পৌঁছলে আপনি এতদিন পর এই নেমকহারামি কথা বলছেন। আপনি নাকি প্রগতিশীল বামপন্থী সাম্যবাদী চিন্তাধারার লোক, আপনি কি মানুষ না জানোয়ার। আর একজন হুট করে আমার বিরুদ্ধে বলল অমনি তা বিশ্বাস করে বলে ফেললেন, এতটুকুও বিবেকে বাঁধল না। যে অভিযোগ করেছে সে তো হিংসুটে অমানুষ তো বটেই, আপনি তার চেয়েও শত শত গুণে অতি অতি খারাপ, দুনিয়াতে আপনার মতো অস্বাভাবিক চরিত্রের খুব কম মানুষই আছে। আপনাদের জন্যই তো সাম্যবাদীদের এই দশা। শুনুন মানুষের মনে অকারণে আঘাত দিয়ে কোনো আদর্শ, দর্শন বা সংস্থা কিংবা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে পারে না। এ কথাটা মনে রাখবেন সব সময়। ও জানে এ রকম অপমানকর আত্মসম্মানবোধে আঘাত দেয়া ঘটনার পর তার ওই সংস্থা ছেড়ে সঙ্গে সঙ্গে চলে যাওয়া দরকার ছিল। কিন্তু নিজের কাপুরুষতা এবং সংসারের যাবতীয় দায়িত্বভার, ভাই-বোনদের লেখাপড়া, মাকে দেখাশোনা, চিকিৎসার খরচ সবকিছুর চিন্তা করে সে নিজের সম্মান খুইয়ে সেই অবমাননাকর অসম্মানজনক পরিবেশে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং এখন পর্যন্ত সেই সংস্থায় কাজ করে যাচ্ছে। এটা তার বিরাট পরাজয়। সে রকম ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ হলে সে এক মুহূর্তও থাকতে পারত না। মানুষ একজন কতটুকু অসহায় আর দুর্বল মানসিকতার হলে সে এই করুণ অবস্থায় পড়ে। সেই জন্য নিজেকে সে কখনো ক্ষমা করতে পারে না। সে জন্য ও লক্ষ করেছে খুব সহজেই বন্ধু বা সহকর্মী যে কেউ তাকে অপমান করতে এগিয়ে আসে, ভ্রুক্ষেপ করে না পাত্তা দেয় না এ রকম।
আসলে নিজের ব্যক্তিত্ব হারালে সবাই পেয়ে বসে এবং সহজেই অপমান করে তারা নিজেদের ব্যক্তিত্ব বাড়ায় যেহেতু এই সমাজ আজো খারাপ বা অভদ্র ব্যবহার কিংবা বেয়াদবী করাকে ব্যক্তিত্বের প্রকাশ বলে মনে করে। এ রকম কিছু ঘটনার কথা তার মনে পড়ে। হয়তো এইগুলো এক ধরনের হীনমন্যতাসুলভ তবুও ওর কাছে খুব আকর্ষণীয় বলে মনে হয়। হৃদয়গ্রাহীও। তার নিজের ব্যক্তিত্ব বিসর্জন দিয়ে সে আজ এক ক্লীবলিঙ্গের মানুষ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
সবচেয়ে বড় বিষয় যে সে কোনো জোরালো প্রতিবাদ করে না। করলেও যেহেতু তারা একই পেশা ও মনোগঠনের সেই জন্য অন্য পরিচালকদের কোনো সমর্থন পায় না। দেখা যায় তারা সেই খলনায়কের পক্ষেই কাজ করে চলেছে এবং এই প্রেক্ষিতে একটি মনগড়া যুক্তি দাঁড় করিয়েছে তার এই পরাজয়ী আপসকামী কাপুরুষী কর্মকাণ্ডের মানসিক অবস্থার। তা হলো বেশি বিরুদ্ধতা করলে ওই সংস্থাই ভেঙে যেতে পারে এমন। কিন্তু এটাও ঠিক কোনো কিছুর জন্য কোনো কিছুর কিছু আসে যায় না।
এই রকম অমূলক আশঙ্কার কারণে। নিজের দুর্বলতা প্রকাশ ছাড়া আর কিছুই প্রমাণিত হয় না। হয়তো এটা তার মর্ষকামী মানস গঠনের ফল ব্যথা, দুঃখ, পরাজয়, অসম্মান আর অপমানে যারা অপ্রকৃতস্থ আনন্দ ও সুখ পায় তেমনি যা ধর্ষকামী অর্থাৎ যারা অন্যদের অকারণে অপমান, হয়, অবমূল্যায়ন, কষ্ট, নিন্দা এসব করতে আনন্দ পায় বিনা মনস্তাপ ও বিবেকের দংশনে ঠিক তার বিপরীত মেরুতে। আলোচ্য দুজন দুর্জন নির্লজ্জ প্রধান এবং তার পরিচালনার মূলে অবস্থিত যে সহকর্মী এরা যদি ধর্ষকামী বিকৃত মানসিকতার হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই সে তাদের বিপরীতে মর্ষকামী গোত্রে অবস্থান করে।
ওর অংশীদারিত্বের অংশ তার মতোই করা হয়েছিল ওর অজান্তে এবং কোনো কিছুর প্রস্তাব না দিয়ে, সেই থেকেই ষড়যন্ত্রের শুরু।
একটা গাড়ি কিনল ও, প্রধান পরিচালকের ব্যক্তিগত ব্যবহারে সেটা চলছিল। গাড়িচালক একদিন বলল ওই গাড়ির দরকারি কাগজপত্র দলিল নেই। তার কাছে চাওয়া হলো, যা তার কাছেও নেই সেইসব ছাড়াই এতদিন চালাচ্ছিল। বেশ তা যদি না থাকে তাহলে তা ঠিক করতে খরচ দেয়া হোক। সে সরাসরি জোড় হাত করে বলল মাফ চাই, প্রধানটির উপর অনেক চাপ পড়ে যাবে।
সবাই আপিসের কাজে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের বিল পেল। ও চাইল, তার পরামর্শক বলল এবং তাতে প্রধানটি সায় দিল যে তাহলে আপিসের গাড়ি যে ও ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেছে, যদিও অংশীদার হিসেবে সবাই পায় এবং পেয়েছে, সেটা তাকে দিতে হবে। এই হীন কর্মকাণ্ডের জন্য ও বিল পায়নি যদিও অন্যসব অংশীদার চাওয়া মাত্র পেয়েছে।
একটা প্রকল্প ওর উদ্যোগেই পাওয়া এবং যথাসময়ে প্রধান ব্যক্তির সহকর্মী আত্মীয় দ্বারা নির্মিত হয়েছে সফলভাবে, সেই ভবনের উদ্বোধন হবে। ও নিচে অপেক্ষা করছে। ওর বা আপিসের গাড়ি নেই, কিভাবে যাবে। হঠাৎ সেই দুর্জন সহকর্মী তার আত্মীয় নির্মাতার গাড়িতে একই জায়গায় যাচ্ছে। তাদের বলল ওকে নিয়ে যেতে। সেই অমানুষটি বলল অন্য গাড়িতে যেতে। বলা হলো কোনো গাড়ি নেই। সে বলল, স্কুটারে যাওয়া যায়। তারা গাড়িতে গেল ওকে না নিয়ে।
ও অগত্যা কিছুই না বলে স্কুটারেই যাওয়া শুরু করল এবং ঠিক তাদের গাড়ির পিছনে স্কুটারটি থামল। তারা জুল জুল করে নিরাসক্ত ভঙ্গিতে ওকে স্কুটারশুদ্ধ দেখল, চোখাচোখি হলো, কোনো মনস্তাপ নেই। প্রকল্পটি ওর। একবার মনে হলো, তাদের ঘাড় ধরে বের করে দিলে মন্দ হতো না। ও তা না করে ওদের অতি সম্মানের সঙ্গে স্বাগত জানিয়ে বলল, আসুন আসুন এখানে আসতে পথে কোনো কষ্ট হয়নি তো।
হলের মধ্যে প্রথম সারিতে ও তাদের বসালো এবং সোজা এরপর মঞ্চের ওপর উঠে চেয়ারে অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথির সঙ্গে একটু বসে মাইকের সামনে দাঁড়িয়ে বলা শুরু করে মাননীয় সভাপতি বিজ্ঞ আলোচকবৃন্দ এবং উপস্থিত সুধীবৃন্দ। আজ একটি বিশেষভাবে উল্লেখ্য ঐতিহাসিক দিন বিশেষ করে আমার জন্য আমি যে জীবনের প্রতি ক্ষেত্রে এত অপমান, অবহেলা পেয়েছে, আজ সেটা পূর্ণতা পেল। এইজন্য আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা, জয়বাংলা।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা