ক্রন্দন

আগের সংবাদ

সম্প্রতি

পরের সংবাদ

ভোরের কাগজ’র সাহিত্য সাময়িকী প্রসঙ্গ

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ৩, ২০১৯ , ১:২৫ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুন ৩, ২০১৯, ১:২৫ অপরাহ্ণ

Avatar

ভোরের কাগজ প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৯২ সালে। প্রকাশের সময় থেকেই সাহিত্যের পাতা হিসেবে প্রতি সপ্তাহে সাহিত্য সাময়িকীর প্রকাশনা শুরু হয়। তাতে গল্প ও কবিতার পাশাপাশি নিয়মিত প্রবন্ধ প্রকাশকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়। এসব প্রবন্ধের বিষয়-বৈচিত্র্য ও প্রাসঙ্গিতা চোখে পড়ার মতো। আর একটি লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, প্রথম দিকে প্রবীণ ও প্রতিষ্ঠিত লেখকরা প্রাধান্য পেলেও ক্রমে নবীন লেখকদের প্রাধান্য সূচিত হয়।
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস বিষয়ক প্রবন্ধ : সাহিত্য সাময়িকীতে কয়েকটি প্রবন্ধে বিচ্ছিন্নভাবে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের কিছু পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য হলো, শামসুল আলম সাঈদের ‘চর্যাপদ : বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন’ (২৯.১১.২০০৮), অনুপম হাসানের ‘বাংলা সাহিত্যের ‘অন্ধকার যুগ’ বিষয়ক বিভ্রান্তি’ (২৬.৬.২০০৯), আন্দালিব রাশদীর ‘বাংলা সাহিত্য ১৯১৫-১৯২০ সময়কালের ভাষ্য’ (১.১০.১৯৯৯), ফরিদ কবিরের ‘বাংলাদেশের তরুণ লেখকদের সাহিত্য চর্চা : সত্তর ও আশির দশক’ (২৯.১০.১৯৯৯) ইত্যাদি।

রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল বিষয়ক প্রবন্ধ
ভোরের কাগজের সাহিত্য সাময়িকী প্রথম থেকেই বাঙালির জাতীয় সংস্কৃতির পুরোধা ও বহুমাত্রিক সাহিত্যিক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে লেখালেখিকে গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। প্রকাশ করেছে কবির জীবন, মানসগঠন, সাহিত্যকর্ম, চিন্তাধারা ইত্যাদির পরিচায়ক প্রচুর প্রবন্ধ। বিশেষ করে রবীন্দ্রনাথের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিশেষ সংখ্যা প্রকাশে সাহিত্য সাময়িকী সবসময় তৎপর থেকেছে। প্রথমেই কয়েকটি বিশেষ সংখ্যা সম্পর্কে বলা যাক। ৬.৫.১৯৯৪ তারিখে প্রকাশিত বিশেষ সংখ্যায় রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে প্রবন্ধ লিখেছেন, শামসুর রাহমান, কায়সুল হক ও শামসুল আলম সাঈদ। ২.৮.১৯৯৬ তারিখে প্রকাশিত বিশেষ সংখ্যায় লিখেছেন, আহমদ রফিক, মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান ও রাজু আলাউদ্দিন। ৬.৫.২০০৫ তারিখে প্রকাশিত বিশেষ সংখ্যায় লিখেছেন, রফিকুল ইসলাম, ওয়াহিদুল হক, বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর, মফিদুল হক ও মাহবুব সাদিক। ৭.৫.২০১০ তারিখে প্রকাশিত বিশেষ সংখ্যায় লিখেছেন, জাহারাবী রিপন, অনুপম হাসান ও আবদুল্লাহ আল আমিন। ২৯.৪.২০১১ তারিখে প্রকাশিত বিশেষ সংখ্যায় লিখেছেন, ড. আতিউর রহমান, ফজল মোবারক, অনুপম হাসান, মোহাম্মদ নূরুল হক। ৭.৫.২০০৯ তারিখে প্রকাশিত বিশেষ সংখ্যায় লিখেছেন, বিশ্বজিৎ ঘোষ ও হাবিবুর রহমান স্বপন। ১৩.৫.২০১১ তারিখে প্রকাশিত বিশেষ সংখ্যায় লিখেছেন, এনায়েত হোসেন, মোমিন মেহেদী ও আবদুল্লাহ আল মোহন। ৪.৫.২০১২ তারিখে প্রকাশিত বিশেষ সংখ্যায় লিখেছেন, ড. হাসান রাজা ও ড. ফজলুল হক সৈকত। ১০.৫.২০১৩ তারিখে প্রকাশিত বিশেষ সংখ্যায় লিখেছেন, হোসেন আরা মনি, ধীরেন মুখার্জী ও দীপিকা ঘোষ।
সাহিত্য সাময়িকীতে প্রকাশিত রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ হচ্ছে, আহমদ রফিকের ‘কবির বিজ্ঞানচিন্তা’ (৫.৫.১৯৯৪), আনিসুজ্জামানের ‘রবীন্দ্রনাথের ইংরেজি রচনা’ (১৭.১১.১৯৯৫), জিল্লুর রহমান সিদ্দিকীর ‘রবীন্দ্রকাব্যে কতিপয় তরী’ (২৩.৮.১৯৯৬), মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের ‘কবি তুমি নহ গুরুদেব’ (৮.৮.১৯৯৭), দাউদ হায়দারের ‘নারীমুক্তি ও রবীন্দ্রনাথ’ (৯.৫.১৯৯৭), ওয়াহিদুল হকের ‘সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ রাষ্ট্রিক উত্থান ও রবীন্দ্রনাথ’ (৬.৮.২০০৪), মাওলা প্রিন্সের ‘কালান্তর : রবীন্দ্রনাথের রাজনৈতিক দর্শন’ (২.৯.২০০৫), ড. সফিউদ্দিন আহমদের ‘রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুভাবনা’ (১৯.৯.২০০৮) ইত্যাদি।

ভোরের কাগজের সাহিত্য সাময়িকীতে রবীন্দ্রনাধের মতোই বিদ্রোহী কবি ও বহুমাত্রিক লেখক কাজী নজরুল ইসলাম সম্পর্কে অনেক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত হয়েছে নজরুলের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে বিশেষ সংখ্যা। প্রথমে কয়েকটি বিশেষ সংখ্যা প্রসঙ্গে তথ্য দেয়া যাক। ২৪.৫.১৯৯৬ তারিখে প্রকাশিত বিশেষ সংখ্যায় প্রবন্ধ লিখেছেন, সনজীদা খাতুন, আহমদ কবির, অজয় দাশগুপ্ত। ২৯.১০.১৯৯৯ তারিখে প্রকাশিত বিশেষ সংখ্যায় প্রবন্ধ লিখেছেন, আহমদ রফিক, মমতাজউদ্দীন আহমদ, জাহান আরা খাতুন, মাহমুদুল বাসার ও রমা চৌধুরী। ২৬.৩.২০০০ তারিখে প্রকাশিত বিশেষ সংখ্যায় প্রবন্ধ লিখেছেন, আবদুল মান্নান সৈয়দ, তপন বাগচী, মারুফুল ইসলাম, আলী হোসেন চৌধুরী। ২১.৫.২০০৪ তারিখে প্রকাশিত বিশেষ সংখ্যায় প্রবন্ধ লিখেছেন, করুণাময় গোস্বামী, রফিক উল্লাহ খান, অনুপম হায়াৎ ও দিল আফরোজ বেগম। ২৬.৮.২০০৪ তারিখে প্রকাশিত বিশেষ সংখ্যায় প্রবন্ধ লিখেছেন, রফিকুল ইসলাম, মোমেন চৌধুরী ও কামরুল ইসলাম। ২৭.৮.২০০৪ তারিখে প্রকাশিত বিশেষ সংখ্যায় প্রবন্ধ লিখেছেন, মুস্তাফা নূরউল ইসলাম, রাজীব হুমায়ন, আফতাব চৌধুরী, তিতাশ চৌধুরী ও বিশ্বজিৎ ঘোষ। ২৭.৫.২০০৫ তারিখে প্রকাশিত বিশেষ সংখ্যায় প্রবন্ধ লিখেছেন, করুণাময় গোস্বামী, রফিকুল ইসলাম ও মুজিবুল হক কবীর। ২৮.১০.২০০৫ তারিখে প্রকাশিত বিশেষ সংখ্যায় প্রবন্ধ লিখেছেন, ওয়াহিদুল হক ও মো. আশরাফ উদ্দিন। ৩০.৩.২০০৮ তারিখে প্রকাশিত বিশেষ সংখ্যায় প্রবন্ধ লিখেছেন, রতন সিদ্দিকী, হামীম কামরুল হক, আজফার হোসেন ও খালেদ হোসেন।
সাহিত্য সাময়িকীতে প্রকাশিত নজরুল সম্পর্কিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ হচ্ছে, জিয়া হায়দারের ‘ভাগ হয় নিকো নজরুল’ (২৭.৩.১৯৯৪), আহমদ কবিরের ‘কবি নজরুল : বিদ্রোহী ও সমাজতান্ত্রিক’ (২৩.৮.১৯৯৬), মুহম্মদ নূরুল হুদার ‘নজরুলের নান্দনিকতা প্রসঙ্গে’ (৩০.৭.১৯৯৯), ড. মিহির চৌধুরী কামিল্যার ‘রূপবিহ্বল স্বপ্নাচ্ছন্ন কবি নজরুল’ (৯.১২.২০০৫), রফিকুল ইসলামের ‘একুশ শতকে নজরুল চর্চা’ (২৬.৫.২০০৬), ড. আবুল আজাদের ‘নজরুল ইসলামের বিপ্লবাত্মক গ্রন্থ : প্রকাশকদের ভূমিকা’ (২২.৮.২০০৮), অনুপম হাসানের ‘নজরুলের দ্রোহ ও শিল্প-সাধনা’ (২২.৫.২০০৯), তারেক রেজার ‘নজরুলের অগ্নিবীণা : ঐতিহ্যের রূপায়ণ’ (২৭.৮.২০১০), শামস্ আল দীনের ‘নজরুলের সাম্যবাদী চেতনা ও বোধের আগুন’ (২৯.৮.২০১৪) ইত্যাদি।

দুই.
কবিতা বিষয়ক প্রবন্ধ
ভোরের কাগজের সাহিত্য সাময়িকীতে অন্যান্য রূপশ্রেণির তুলনায় কবিতার আলোচনা বরাবরই গুরুত্ব পেয়েছে। যেমন, ১৯৯৯ সালে কবিতার রূপশ্রেণিগত বৈশিষ্ট্যের নানা দিক নিয়ে প্রবন্ধ লিখেছেন আবু হাসান শাহরিয়ার (‘বিষয় কবিতা : পাঠ, পাঠক, পাঠোদ্ধার’), মুনীর সিরাজ (‘ছোট কবিতার শক্তি’), মাহবুব হাসান (‘কবিতায় আন্তর্বয়ন : মিথের কারুকাজ’), সুরেশ রঞ্জন বসাক (‘কবিতার অভীষ্ট শব্দের যথা ভূমিকা’), ফরিদ কবির (‘কবিতার ছন্দ : ছন্দের কবিতা’) প্রমুখ। ২০১৯ সালে এ প্রসঙ্গে প্রবন্ধ লিখেছেন তারেক আহসান (‘নন্দনতত্ত¡ ও বাংলা কবিতায় নান্দনিকতা’), হাসান আল আব্দুল্লাহ (‘বাংলা ছন্দের ধারাবাহিক বিকাশ’), মোহাম্মদ নূরুল হক (‘বাঙলা কবিতায় নদীর অনুষঙ্গ’) ইত্যাদি।
বাংলা কবিতা বিষয়ক প্রবন্ধ: সাহিত্য সাময়িকীতে হাজার বছরের বাংলা কবিতার বিভিন্ন দিক বিচ্ছিন্নভাবে আলোচিত হয়েছে কিছু কিছু প্রবন্ধে। বেলাল চৌধুরীর ‘কবিতার সেকাল’ (২৫.৮.১৯৯৫), বেগম আকতার কামালের ‘আধুনিক কবিতায় প্রেমমনস্তত্ত¡’ (২৩.১.২০০৪), ড. ফজলুল হক তুহিনের ‘কল্লোলের কাল ও নতুন কবিতা’ (১.৭.২০১০), ড. আবুল আজাদের ‘বর্ণবাদ’, ফ্যাসিজম ও সন্ত্রাস বিরোধী আধুনিক বাংলা কবিতা’ (৯.৩.২০১২) ‘আধুনিক বাংলা কবিতা’ (১০.২.২০১৭) ইত্যাদি এ ক্ষেত্রে বিবেচ্য।
বাংলা কবিতার আলোচনায় রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল সম্পর্কে আলোচনার পাশাপাশি কবি জীবনানন্দ দাশের ওপর আলোচনা সম্যক গুরুত্ব পেয়েছে। ভোরের কাগজের সাহিত্য সাময়িকীতে ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিক থেকে জীবনানন্দ দাশকে নিয়ে লেখালেখি গুরুত্ব পায়। এ ক্ষেত্রে বিশেষ উল্লেখযোগ্য ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত জীবনানন্দ-গবেষক ক্লিন্টন বুথ শিলির ‘বরিশাল ও বনলতা সেন’।
জীবনানন্দ দাশের জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে ১৯৯৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে সাহিত্য সাময়িকী বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করে। ঐ সংখ্যায় আহমদ রফিকের ‘জীবনানন্দের নারী ভাবনায় মেয়ে মানুষ’, জ্যোর্তিময় দত্তের ‘শিল্পীর অবলম্বন ও জীবনানন্দ দাশ’, ময়ুখ চৌধুরীর ‘জীবনানন্দের মৃত্যুর আগে’ ও ফয়জুল লতিফ চৌধুরীর ‘জীবনানন্দের উত্তরাধুনিকতাবাদী দিকদর্শন’ শীর্ষক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। সে বছর সাহিত্য সাময়িকীতে জীবনানন্দের জীবন ও সাহিত্য বিষয়ে বেশ কিছু প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। উল্লেখযোগ্য লেখকদের মধ্যে রয়েছেন : শামসুর রাহমান (‘কবিদের প্রিয় কবিতা আমার বনলতা সেন’), আহমদ রফিক (‘জীবনানন্দের জীবন ভাবনায় নয়াযাত্রার ইঙ্গিত’), আবদুল মান্নান সৈয়দ (‘জীবনানন্দের কাব্যভাষা’), সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম (‘সমালোচক জীবনানন্দ’), বিপ্লব মাজী (‘স্টিফেন হকিং-এর সূত্র অনুযায়ী জীবনানন্দের সময়চেতনা’) ইত্যাদি। জীবনানন্দ দাশের ষাটতম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে সাহিত্য সাময়িকীতে দুটি লেখা প্রকাশিত হয়। সেগুলো হলো সাইফুজ্জামানের ‘জীবনানন্দ দাশের অর্ন্তালীন রহস্যময়তা’ ও গৌরাঙ্গ মোহান্তর ‘ক্যাম্পে : একটি অভিনব ট্রাজিক ট্যাবলো’। এ ছাড়া ২০০৪ থেকে ২০১৭ সালে এই সাময়িকীতে জীবনানন্দ নিয়ে আলোচনা করেছেন অনেক তরুণ লেখক। এঁদের মধ্যে রয়েছেন, মামুন খান, সৈকত হাবিব, রহমান হাবিব, কামরুল ইসলাম, রনি অধিকারী, মতিউর রহমান মতি, নাদিম শাহরিয়ার, অনুপম হাসান, শামীম রফিক, লিটন মহন্ত, হাবিবুর রহমান স্বপন, শাহরিয়ার সোহেল প্রমুখ।
সাহিত্য সাময়িকীতে বুদ্ধদেব বসুকে নিয়ে একাধিক আলোচনা প্রকাশিত হয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে, বিশ্বজিৎ ঘোষের ‘বুদ্ধদেব বসু : জীবনবোধ ও সাহিত্য ভাবনা’ (১০.১২.১৯৯৯), মোহাম্মদ নূরুল হকের ‘বুদ্ধদেব বসু : সম্ভ্রান্ত রোমান্টিক’, স্ববিরোধী আধুনিক’ (২৬.২.২০১০) ও ড. ফজলুল হক সৈকতের ‘বুদ্ধদেব বসু : সমকালে ও উত্তরকালে’ (১৬.৩.২০১২)।
বাংলার লোকচেতনার কবি জসীমউদ্দীনকে নিয়েও সাহিত্য সাময়িকীতে কিছু প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে, ইকবাল আজিজের ‘চেতনায় ম্রিয়মাণ জসীমউদ্দীন’ (৯.৪.২০০৪), মো. আশরাফ উদ্দিনের ‘পল্লীকবি জসীমউদ্দীন : আপন ভুবনের রূপকার’ (১৫.৭.২০০৫), মাসুদ হামীদের ‘জসীমউদ্দীন : আবেগ আর অনুভূতির কবি’ (১৫.৫.২০০৯), ধীরেন মুখার্জীর ‘জসীমউদ্দীনের শিল্পচেতনা’ (৪.১.২০১৩) ইত্যাদি।
অন্যান্য কবি সম্পর্কে আলোচনার ক্ষেত্রে উল্লেখ্য ‘কামিনী রায় সম্পর্কে সানাউল্লাহ সাগরের প্রবন্ধ (১৫.১.২০১৬), অরুণ মিত্র’ সম্পর্কে রাহেল রাজিবের প্রবন্ধ (২৯.১১.২০০৮)।
বাংলাদেশের কবিতা বিষয়ক প্রবন্ধ : সাহিত্য সাময়িকীর পাতা উল্টালে দেখা যাবে তাতে উজ্জ্বল হয়ে আছে বাংলাদেশের কবি ও কবিতা নিয়ে বিস্তর আলোচনা। তাতে সমকালীন কবিতার বৈশিষ্ট্য ও প্রবণতা নিয়ে আলোচনা করেছেন খোন্দকার আশরাফ হোসেন (২৫.৮.১৯৯৫), মোহাম্মদ নূরুল হক (২.৪.২০১০), মিজানুর রহমান বেলাল (১৮.৬.২০১০), ধীরেন মুখার্জী (৪.২.২০১১), হাসান আল আব্দুল্লাহ (১০.১.২০১৪), মাহবুবুল হক (২২.১.২০১৬) প্রমুখ।
সাহিত্য সাময়িকীতে বাংলাদেশের বিভিন্ন কবির কবিতার মূল্যায়ন করা হয়েছে অনেক প্রবন্ধে। প্রথমেই আসে কবি শামসুর রাহমানের নাম। বাংলাদেশের অগ্রগণ্য সমাজসচেতন এই কবির মৃত্যু হয় ২০০৬ সালে। পরের বছর থেকে সাহিত্য সাময়িকীতে এই কবি ও তাঁর কবিতা নিয়ে লেখা গুরুত্ব পেতে শুরু করে। সে বছর প্রকাশিত হয় হারিসুল হকের প্রবন্ধ ‘শামসুর রহমান ও এক ঝাঁক প্রশ্নের পাখি’ (২৬.১০.২০০৭)। শামসুর রাহমানের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে এরপর থেকেই যাঁরা তাঁর সম্পর্কে প্রবন্ধ লিখেছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সরকার আবদুল মান্নান (২৪.১০.২০০৮), রবিউল হুসাইন (২৩.১০.২০০৯), কুমার দীপ (২৩.৮.২০১০), শামসুজ্জামান খান (২২.১০.২০১০), দীপংকর গৌতম (২২.৮.২০১৪), অনুপম হাসান (২০.৮.২০১০), শোয়াইব জিবরান (২.৮.২০১৩), শিহাব শাহরিয়ার (২৩.১০.২০১৫), তারেক রেজা (১৮.৮.২০১৭) প্রমুখ।
সাহিত্য সাময়িকীতে কবি আল মাহমুদও গুরুত্ব পেয়েছেন। ১৯১৩ সালের জুলাইয়ে কবি আল মাহমুদের ওপর বিশেষ সাহিত্য সংখ্যা প্রকাশিত হয়। তাতে প্রবন্ধ লেখেন তুহিন ওয়াদুদ, শিহাব শাহরিয়ার ও ড. ফজলুল হক তুহিন।
এভাবে সাহিত্য সাময়িকীতে ‘সুফিয়া কামাল’-এর কবিতা সম্পর্কে প্রবন্ধ লিখেছেন বীরেন মুখার্জী (২৬.১১.২০১০) ও গোলাম কিবরিয়া পিনু (১৭.৬.২০১১)। কবি আহসান হাবীবের কবিতার বিশিষ্টতা তুলে ধরেছেন গাউসুর রহমান (২৯.১.১৯৯৯), শাহ ইলিয়াস কমল (৪.৭.২০০৮), শহীদ ইকবাল ৬.১.২০১৭ প্রমুখ। আবুল হোসেনের কবিকৃতি নিয়ে আলোচনা করেছেন জুনান নাশিত (১৩.৮.১৯৯৯)। সিকানদার আবু জাফরের কবিতার স্বাতন্ত্র্য বিচার করেছেন শামস আলদীন (৭.৯.২০১২)। আতাউর রহমানের কবিতা মূল্যায়ন করেছেন জুলফিকার মতিন (২৩.৭.১৯৯৯) ও ফজলুল হক সৈকত (২৮.১.২০০০)। আজীজুল হকের কবিতার বৈশিষ্ট্য নিরূপণ করেছেন ফখরে আলম (২৪.৩.২০০০)। আবুল হাসানের বিশিষ্টতা সম্পর্কে জানিয়েছেন জাকির তালুকদার (৯.৭.২০০৪), ফারুখ সিদ্ধার্থ (২৬.১১.২০০৪), ড. জাহারাবী রিপন (২৮.১১.২০০৮) প্রমুখ।
সাহিত্য সাময়িকীতে কবি মহাদেব সাহার কবিতার ভাববস্তু সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন সাইফুজ্জামান (২১.৩.২০০৮), সমীর আহমেদ (৫.৯.২০০৮), অনুপম হাসান (২৮.৮.২০০৯ ও ১৩.৮.২০১০), ধীরেন মুখার্জী (২.৮.২০১৩), বিভূতিভূষণ মণ্ডল (৩০.৫.২০১৪) প্রমুখ। রফিক আজাদের কবিতা সম্পর্কে লিখেছেন ইজাজ হোসেন (১১.২.২০০৫) ও রাকিবুল রকি (১২.২.২০১৬)। আবু হেনা মোস্তাফা কামালের কবিতা সম্পর্কে লিখেছেন খালেদ হোসাইন (২০.৭.২০০৭)। নির্মলেন্দু গুণের কবিতা সম্পর্কে লিখেছেন সমীর আহমেদ (১১.৭.২০০৮)। ত্রিদিব দস্তিদারের কবিতা সম্পর্কে লিখেছেন বেলাল চৌধুরী (৩.১২.২০০৪) ও রবীন্দ্র গোপ (২৫.১১.২০০৫)। কামাল চৌধুরীর কবিতা সম্পর্কে লিখেছেন কবির হুমায়ুন (১৭.৯.১৯৯৯), আমিনুল ইসলাম (৩০.১.২০১৫), বিশ্বজিৎ ঘোষ (২৯.১.২০১৬) প্রমুখ। সিকদার আমিনুল হকের কবিতা সম্পর্কে লিখেছেন আহমেদ বাসার (৪.৭.২০০৮), শামীম রফিক (২১.১১.২০১৪) ও শামস আরেফিন (২২.৫.২০১৫)।
এ ছাড়া সাহিত্য সাময়িকীতে মোহাম্মদ রফিকের কবিতা সম্পর্কে তারেক রেজা (২৪.১০.২০০৮), শহীদ কাদরীর কবিতা সম্পর্কে ফজলুল হক সৈকত (২.৯.২০১৬), আবদুল মান্নান সৈয়দের কবিতা সম্পর্কে মোহাম্মদ নূরুল হক (১৭.৯.২০১১), হুমায়ুন আজাদের কবিতা সম্পর্কে সাইফুজ্জামান (২.৭.২০১০), সৈয়দ শামসুল হকের কবিতা সম্পর্কে আরিফ চৌধুরী (২৯.৯.২০১৭), ওমর আলীর কবিতা সম্পর্কে ড. রকিবুল হাসান (৩০.১০.২০১৫), মুহম্মদ নূরুল হুদার কবিতা সম্পর্কে কবির হুমায়ুন (১.১০.১৯৯৯), মনির ইউসুফ (২৫.৭.২০১৪) ও আসাদুল্লাহ (২৬.৯.২০১৪),
হেলাল হাফিজের কবিতা সম্পর্কে রাকিবুল রকি (২৮.১০.২০১৬), কায়সার হকের কবিতা সম্পর্কে জুনাইদুল হক (১.১০.১৯৯৯), কায়েস আহমেদের কবিতা সম্পর্কে সৌভক রেজা (১৮.৬.২০০৪), আহমদ ছফার কবিতা সম্পর্কে রহমান হাবিব (৪.৩.২০০৫), সমুদ্র গুপ্তের কবিতা সম্পর্কে সরকার আবদুল মান্নান (২৮.৬.২০০৮) ও শামীম মাহবুব (১৮.৭.২০০৮), মোহন রায়হানের কবিতা সম্পর্কে ফারুক মাহমুদ (৭.১১.২০০৮), শিহাব শাহরিয়ারের কবিতা সম্পর্কে মামুন রশীদ (২২.৮.২০১৪), রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর কবিতা সম্পর্কে তপন বাগচী (২৮.৬.২০০৮), আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ ও শহীদুল জহিরের কবিতা সম্পর্কে অনুপম হাসান (২৯.১০.১৯৯৯ ও ২০.৩.২০০৯), অসীম সাহার কবিতা সম্পর্কে এমরান হাসান (৪.১২.২০০৯), আমিনুল ইসলামের কবিতা সম্পর্কে সরকার আবদুল মান্নান (২৫.১২.২০১৫) প্রমুখ প্রবন্ধ লিখেছেন।

তিন.
কথাসাহিত্য বিষয়ক প্রবন্ধ
ভোরের কাগজের সাহিত্য সাময়িকীতে কবিতার মতো কথাসাহিত্য নিয়েও অনেক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। সাধারণভাবে কথাসাহিত্য নিয়ে বিভিন্ন সময়ে লিখেছেন রফিকউল্লাহ খান (‘উপন্যাস ও উত্তরাধুনিতার তত্ত্ব’, ২.৭.১৯৯৯), রহমান হাবিব (‘আর্থ-সমাজবাস্তবতার কথাশিল্প’, ৯.৪.২০০৪), হরিপদ দত্ত (‘রেনেসাঁস ও কথাসাহিত্যে সাম্য’, ৯.৭.২০০৪, ২৩.৭.২০০৪)
মীর মশাররফ হোসেনের জন্মবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে ১৯৯৬ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত হয় দুটি প্রবন্ধ। সৈয়দ আজিজুল হকের ‘বিষাদ সিন্ধুর লেখক’ ও শামসুজ্জামান খানের ‘হিতকরী’ পত্রিকাসূত্রে মীর জীবনের নতুন তথ্য’
সাহিত্য সাময়িকীতে বাংলা কথাসাহিত্যের নানা বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে বিভিন্ন প্রবন্ধে। ‘বাংলা উপন্যাসে নতুন দিগন্ত’ নামে প্রবন্ধ লিখেছেন আহমদ রফিক (৩০.৮.১৯৯৬)। বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ ও শরৎচন্দ্র এই তিনজন ঔপন্যাসিক সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন হাবিবুর রহমান স্বপন (৩.৬.২০১৬)। প্রদীপ বিশ্বাস লিখেছেন মীর মশাররফ হোসেনের বিষাদ সিন্ধু উপন্যাসের নায়ক ও প্রতিনায়ক প্রসঙ্গে (২৪.৭.২০০৯) প্রমুখ।
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাসে গান্ধীবাদ ও মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন আবদুল্লা আল আমিন (১৮.৭.২০০৮)। তাঁর হাঁসুলী বাঁকের উপকথা উপন্যাসের শৈলীগত বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করেছেন হরিপদ দত্ত (১.৭.২০০৫)। ঔপন্যাসিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর উপন্যাস সম্পর্কে প্রকাশিত হয়েছে একাধিক আলোচনা। লিখেছেন তাহা ইয়াসিন (১৭.৬.২০০৫), জহুরুল আলম সিদ্দিকী (২.৯.২০০৫), প্রদীপ বিশ্বাস (২৪.৪.২০০৯)।
সাহিত্য সাময়িকীতে ঔপন্যাসিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর উপন্যাস নিয়ে কয়েকটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। প্রবন্ধের লেখকরা হলেন সন্তোষ আলী (‘জনজীবনের সুচারু কথক’, ২০.৫.২০০৫), কাজী মহম্মদ আশরাফ (‘বিভ‚তিভ‚ষণের প্রকৃতি’, ২২.৬.২০১২) , হোসেন মাহমুদ (‘বিভূতিভূষণের প্রকৃতিপ্রেম এবং জীবন নির্ভর ইছামতী’, ৪.৩.২০১৬), হারুণ পাশা (‘বিভ‚তিভ‚ষণ বন্দ্যোপাধ্যায় : নিম্নবর্গের কথাশিল্পী’, ৯.১১.২০১২) প্রমুখ।
সাহিত্য সাময়িকীতে বাংলা উপন্যাসের ধারায় সবচেয়ে বেশি অলোচিত হয়েছেন সমাজতন্ত্র-ভাবাপন্ন ঔপন্যাসিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে ও তাঁর উপন্যাস নিয়ে লিখেছেন, আবদুল মান্নান সৈয়দ (‘মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চতুষ্কোণ’, ১৬.৫.১৯৯৫), খালিদ সাইফ (‘মানিক সাহিত্যের অবিনশ্বরতা’, ৩০.৯.২০০৫), রতন সিদ্দিকী (‘মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় : ব্রাত্যজীবনের সার্থক রূপকার’, ১৬.৫.২০০৬), ইকবাল আজিজ (‘মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর লেভেল ক্রসিং’, ১০.১১.২০০৬), মোহাম্মদ আশরাফ (‘বাংলা উপন্যাসের স্বরূপ সন্ধানে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়’, ৭.১১.২০০৮), ধীরেন মুখার্জী (‘মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিল্পনিষ্ঠা : পুতুলনাচের ইতিকথা’, ২৮.৫.২০১২), শামস আল্দীন (‘মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় : জীবন অন্বেষণের শিল্পী’, ৩.৭.২০১৫)।
এ ছাড়াও সাহিত্য সাময়িকীতে শরৎচন্দ্রের অনন্য বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন হাবিবুর রহমান স্বপন (২৩.৯.২০১৬), সোমেন চন্দের সাহিত্য ভাবনা বিষয়ে লিখেছেন বিশ্বজিৎ ঘোষ (১৮.৬.১৯৯৯), কমলকুমারের গল্পের ভাব ও ভাষার জটিলতা বিশ্লেষণ করেছেন রাহেল রাজিব (১৩.৩.২০০৯)। বাংলা সাহিত্যে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের অবদান নিরূপণ করেছেন রনজু রাইম (১৬.১২.২০০৭), প্রেমেন্দ্রর গল্পের বিষয় ও বৈচিত্র্য সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন আশরাফ উদ্দীন আহমদ (২৪.২.২০১৭)।
বাংলাদেশের কথাসাহিত্য বিষয়ক প্রবন্ধ : ভোরের কাগজের সাহিত্য সাময়িকীতে বাংলা কথাসাহিত্যের তুলনায় বাংলাদেশের কথাসাহিত্য বিষয়ে আলোচনা প্রাধান্য পেয়েছে। বাংলাদেশের কথাসাহিত্যের কিুছু প্রবণতা উঠে এসেছে কয়েকটি প্রবন্ধে। যেমন : হেলাল আহমেদের ‘সাম্প্রতিক কথাসাহিত্য : কয়েকটি প্রসঙ্গ’ (১৫.১০.১৯৯৯), সমীর আহমেদের ‘স্বাধীনতা-উত্তরকালে বাংলাদেশের উপন্যাসের বিষয় ও গতিপ্রকৃতি’ (২৮.৫.২০১২), মোহাম্মদ জয়নুদ্দীনের ‘মরে বাঁচার স্বাধীনতা : মুক্তিযুদ্ধের কথাশিল্প’ (২৮.১০.২০০৫), ড. বিশ্বজিৎ ঘোষের ‘বাংলাদেশের উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধ’ (১৬.৪.২০১০), ড. রকিবুল হাসানের ‘আমাদের নদীকেন্দ্রিক উপন্যাস’ (১৯.২.২০১৬), ইলিয়াস বাবরের ‘মুক্তিয্দ্ধুকালীন গল্প : রক্তস্নাত সাহিত্যিক দলিল’ (২৪.৩.২০১৭) ইত্যাদি।
এই ধারার প্রবন্ধের বাইরে গুরুত্ব পেয়েছে বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিকদের কথাসাহিত্য নিয়ে আলোচনা। এ ক্ষেত্রে প্রথমেই আসে সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহর উপন্যাস নিয়ে প্রবন্ধের কথা। এ বিষয়ে প্রবন্ধ লিখেছেন বিশ্বজিৎ ঘোষ (‘সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর সাহিত্যপাঠের ভূমিকা’, ১৫.১০.১৯৯৯), রহমান হাবিব (‘লালসালু একটি সমাজভাষিক অবলোকন’, ১৫.৭.২০০৫), মোহাম্মদ শেখ সাদী (‘অস্তিত্ববাদ ও সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহর উপন্যাস’, ৭.৩.২০০৮) প্রমুখ।
সাহিত্য সাময়িকীতে ঔপন্যাসিক শওকত ওসমান সম্পর্কিত লেখা প্রকাশিত হয় একুশ শতকের প্রথম দশকে। এই লেখককে নিয়ে প্রবন্ধ লেখেন, ড. স্বপ্না রায় (‘ক্রীতদাসের হাসি : বন্দি সময়ের উচ্চারণ’, ১৩.৫.২০০৫; ‘শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস’, ৫.১.২০০৭), রনজু রাইম (‘শওকত ওসমানের ঔপন্যাসিক প্রতিভার অন্বেষণ’, ১৬.৫.২০০৬)। পরে তাঁকে নিয়ে লেখেন রাকিবুল রকি (‘শওকত ওসমান : অনন্য কথাশিল্পী’, ৬.১.২০১৭), ড. আবুল আজাদ (‘মহান কথাশিল্পী শওকত ওসমান’, ১৯.৫.২০১৭)।
১৯৯০-এর দশকেই সাহিত্য সাময়িকীতে ঔপন্যাসিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস গুরুত্ব সহকারে আলোচিত হন। সে সময়ে ইলিয়াস সম্পর্কে দুটি লেখা প্রকাশিত হয়। এগুলো হলো : হাসান আজিজুল হকের ‘আখতারুজ্জামান ইলিয়াস : স্বপ্নছায়াকল্পনার মূর্ত বাস্তব’ (১৭.১.১৯৯৭) ও সুশান্ত মজুমদারের ‘আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের অমোঘ নিয়তি’ (৮.১.১৯৯৯)।
ভোরের কাগজের সাহিত্য সাময়িকীতে কথাসাহিত্যিক রশীদ করীমের উপন্যাস প্রসন্ন পাষাণ নিয়ে প্রথম প্রবন্ধ লেখেন মনি হায়দার (১৯.১১.২০০৪)। এই কথাসাহিত্যিক ২০১১ সালের ২৬এ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। এর পরের সপ্তাহের (০২.১২.২০১১) সাহিত্য সাময়িকী এই লেখকের স্মরণ সংখ্যা হিসেবে প্রকাশিত হয়। এই সংখ্যায় ছিল রশীদ করীমকে নিয়ে চারটি প্রবন্ধ। সেগুলো হলো, সালাম সালেহ উদ্দীনের ‘রশীদ করীম : ভিন্ন ধারার আধুনিক গদ্যশিল্প’, সমীর আহমেদের ‘কথাশিল্পী রশীদ করীম’, ড. জাহারাবী রিপনের ‘কৃতী গল্পকার রশীদ করীম’ ও মোমিন মেহেদীর ‘রশীদ করীমের শব্দকথা’, জীবনকথা’।
সাহিত্য সাময়িকীতে হাসান আজিজুল হকের কথাসাহিত্যের আলোচনাও গুরুত্ব সহকারে প্রকাশিত হয়েছে। প্রবন্ধকারদের মধ্যে রয়েছেন অনুপম হাসান (হাসান আজিজুল হকের সাহিত্যে জীবনের কথা’,১৩.১১.২০০৯), আহমেদ ফজল (‘হাসান আজিজুল হকের গল্প : অন্দরে নির্বাণের বান’, ৫.২.২০১০), চন্দন আনোয়ার (‘হাসান আজিজুল হকের উপন্যাস’, ১০.১২.২০১০) প্রমুখ।
সাহিত্য সাময়িকীতে শামসুর রাহমানের উপন্যাস নিয়েও আলোচনা আছে। এ বিষয়ে লিখেছেন আহমেদ বাসার (১৭.৮.২০০৭)। এ ছাড়া ইমদাদুল হক মিলনের দুটি উপন্যাস নিয়ে লিখেছেন মোহীত উল আলম (৪.৯.২০১৫)।
সাহিত্য সাময়িকীতে জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদকে নিয়েও একাধিক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েরছ। প্রবন্ধের লেখকরা হলেন, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম (৪.৩.১৯৯৪), ড. সফিউদ্দিন আহমদ (২৭.৭.২০১২), ইলিয়াস বাবর (১০.১১.২০১৭) প্রমুখ।
কয়েকটি প্রবন্ধের বিষয় কোনো নির্দিষ্ট উপন্যাসের আলোচনায় সীমিত। যেমন, আহমদ ছফার গাভী বিত্তান্ত উপন্যাস নিয়ে লিখেছেন সলিমুল্লাহ খান (২.১.২০০৩), শামসুদদীন আবুল কালামের কাঞ্চনগ্রাম উপন্যাসের স্বাতন্ত্র্য নিরূপণ করেছেন শহীদ ইকবাল (১৮.৩.২০০৫), মাহমুদুল হকের কালো বরফ উপন্যাসের বিশিষ্টতা তুলে ধরেছেন সমীর আহমেদ (১৮.৭.২০০৮), কায়েস আহমেদের অগ্রন্থিত উপন্যাস কতিপয় মৃত স্বপ্নের চোখ উপন্যাস নিয়ে আলোকপাত করেছেন মাসুদ রহমান (১৩.৬.১৯৯৭)।
সাহিত্য সাময়িকীর কয়েকটি সংখ্যায় কয়েকজন লেখকের ছোটগল্প সম্পর্কে প্রবন্ধ চোখ পড়ে। সংখ্যাগুলোতে সরদার জয়েনউদদীনের ছোটগল্প সম্পর্কে লিখেছেন ফজলুল হক সৈকত (২৩.১২.২০০৫), বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীরের ছোটগল্প সম্পর্কে লিখেছেন সিরাজ সালেকীন (৭.১.২০০৫), হাসান আজিজুল হকের ছোটগল্প সম্পর্কে লিখেছেন সাদ কামালী (১৭.৬.২০০৫), আখতারুজ্জামানের ইলিয়াসের ছোটগল্প সম্পর্কে লিখেছেন রফিকুজ্জামান রনি (১৩.৫.২০১৬), শওকত আলীর ছোটগল্প সম্পর্কে লিখেছেন রাহেল রাজিব (২২.৬.২০১২) ও আশরাফ উদ্দীন আহমদ (১১.১১.২০১৬)।

চার.
নাটক বিষয়ক প্রবন্ধ
নাটক ও বাংলা নাটক বিষয়ক প্রবন্ধ : নাটক ও বাংলা নাটক নিয়ে আলোচনা প্রকাশিত হয়েছে কম। প্রকাশিত প্রবন্ধের মধ্যে রয়েছে, পবিত্র সরকারের ‘নতুন নাট্যভাষা : রবীন্দ্রনাথ, বাদল সরকার, সেলিম আল দীন’ (২৮.৮.২০০৯), মফিদুল হকের ‘নাট্যগ্রন্থ ও নাট্যসংস্কৃতি : জন্মের দাগ’ (১৩.২.২০০৯), ড. জাহারাবী রিপনের ‘নারীকেন্দ্রিক নাট্য : চিত্রাঙ্গদা ও সমকালীন’ (৩১.৭.২০০৯), চন্দন আনোয়ারের ‘বাংলা নাটক কোন পথে’ (৯.৩.২০১২)।
বাংলাদেশের নাটক বিষয়ক প্রবন্ধ : ‘বাংলাদেশের কাব্যনাটক বিষয়ে অনুপম হাসানের প্রবন্ধ (২৫.৯.২০০৯) ছাড়া সাহিত্য সাময়িকীতে বাংলাদেশের নাটক নিয়ে আলোচনা কয়েকজন বিশিষ্ট নাট্যকারের নাটক নিয়ে লেখালেখির মধ্যেই সীমিত। এ ক্ষেত্রে প্রথমেই আসে মুনীর চৌধুরীর নাম। তাঁর নাটক নিয়ে লিখেছেন, মোহাম্মদ জয়নুদ্দীন (‘বর্তমান প্রজন্মের কাছে মুনীব চৌধুরীর নাটক’, ২৬.৬.২০০৯), বিশ্বজিৎ ঘোষ (‘মুনীর চৌধুরীর দুটি নাটক : প্রাসঙ্গ গঠনশৈলী’, ৩.৯.২০১১), শামস আলদীন (‘মুনীর চৌধুরীর চিঠি’, ২১.১১.২০১৪)। অনুরূপভাবে সৈয়দ শামসুল হকের কাব্যনাটক নিয়ে আলোচনা করেছেন, শহীদ ইকবাল (১৪.১.২০০৫), অনুপম হাসান (৮.১.২০১০), মজিদ মাহমুদ (২১.১২.২০১২), মিল্টন বিশ্বাস (২৯.৯.২০১৭) প্রমুখ।
সাহিত্য সাময়িকীতে নাটকের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে নাট্যকার সেলিম আল দীনকে নিয়ে। তাঁর নাটক নিয়ে প্রবন্ধ লিখেছেন, ড. জাহারাবী রিপন (১৪.৯.২০০৭), ড. আহমেদ আমিনুল ইসলাম (১৬.১.২০০৯), শফিক আজিজ (১১.১১.২০১৬), দীপংকর গৌতম (২০.১.২০১৭), ড. হারুন রশীদ (১৮.৮.২০১৭) প্রমুখ।
এ ছাড়া অনুপম হাসান কবি আবদুল মান্নান সৈয়দের কাব্যনাট্য নিয়ে একাধিক প্রবন্ধ লিখেছেন ((১০.৭.২০০৯; ১৭.৯.২০১১)।

পাঁচ.
গদ্য ও প্রবন্ধ সাহিত্য বিষয়ক প্রবন্ধ
বাংলা গদ্য ও প্রবন্ধ সাহিত্য সম্পর্কে আলোচনা তুলনামূলকভাবে কম। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অলোচনা হয়েছে বাংলা গদ্যের জনক ও সমাজসংস্কারক বিদ্যাসাগর সম্পর্কে। ‘বিদ্যাসাগরের উত্তরাধিকার : সাধারণ বিবেচনা’ শিরোনামে যতীন সরকার বিদ্যাসাগরকে নিয়ে প্রথম প্রবন্ধটি লেখেন (১১.৬.১৯৯৯)। পরে প্রকাশিত হয় আরও তিনটি প্রবন্ধ : ‘বিদ্যাসাগরের উত্তরাধিকার : নিম্নবর্গে ও নিম্নবর্ণে’ (৯.৭.১৯৯৯), ‘বিদ্যাসাগরের উত্তরাধিকার : বাঙালি মুসলিম মননে’ (৩০.৭.১৯৯৯) ও ‘বিদ্যাসাগরের উত্তরাধিকার : দর্শনে ও ভাবাদর্শে’ (১০.৯.১৯৯৯)।
বাংলাদেশের প্রবন্ধ সাহিত্য বিষয়ক প্রবন্ধ : সাহিত্য সাময়িকীতে বাংলাদেশের প্রবন্ধ ও প্রাবন্ধিকদের নিয়ে খুব কম লেখা প্রকাশিত হয়েছে। উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ হচ্ছে, সৈয়দ আজিজুল হকের ‘আবদুল হক : নিভৃতপরায়ণতাই তার ভুবন’ (২৪.১.১৯৯৭), ফজলুল হক সৈকতের ‘আবদুল হকের প্রবন্ধ ভাবনা ও তার সাহিত্য ঐহিত্য মূল্যবোধ’ (২১.৯.২০০৭), লিখিলেশ ঘোষের ‘সংস্কৃতির স্বরূপ সন্ধানে মোতাহের হোসেন চৌধুরী’ (৭.৩.২০০৮), সুহিতা সুলতানার ‘শামসুজ্জামান খানের প্রবন্ধে সমাজ ও শিল্পশৈলী’ (২০.৩.২০১৫) ইত্যাদি। এ ছাড়া বিশ্বজিৎ ঘোষের ‘বাংলাদেশের প্রবন্ধসাহিত্য’ (৪.১২.২০১৫) সামগ্রিক পরিচিতিমূলক রচনা হিসেবে উল্লেখের দাবি রাখে।
সাহিত্য সমালোচনা ও সাহিত্য বিচার বিষয়ক প্রবন্ধ : সাহিত্য সাময়িকীর কয়েকটি সংখ্যায় সাহিত্য সমালোচনা বিষয়ক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। যেমন, সুরেশ রঞ্জন বসাকের ‘গোধূলি সন্ধির নৃত্য : সমালোচনার তিন দশক’ (১৯.১১.১৯৯৯), শাহরিয়ার সোহেলের ‘সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সমালোচনা সাহিত্য : হোরেস’ (২৭.৭.২০০৭), মোহাম্মদ নূরুল হকের ‘কবিতার সমালোচনা ও সমালোচকের দায়’ (২৫.৯.২০০৯)
তুলনামূলক সাহিত্য সমালোচনাও প্রাধান্য পেয়েছে কয়েকটি প্রবন্ধে। যেমন, হোসেনউদ্দীন হোসেনের ‘মিল্টনের মহাকাব্য মধুসূদনের খণ্ডকাব্য ও উত্তর কাল’ (২.৭.১৯৯৯) এবং ‘রবীন্দ্রনাথ এবং শরৎচন্দ্র : সাহিত্য বিচার’ (৬.৮.১৯৯৯), জাহারাবী রিপনের ‘মার্লো ও মধুসূদন’ (১১.২.২০১১), রহমান ম. মাহবুবের ‘কল্পনা, ইংরেজ রোমান্টিক কবিগণ এবং রবীন্দ্রনাথ’ (২৮.৯.২০১২), রেজাউদ্দিন স্টালিনের ‘নজরুল ও জীবনানন্দ’ (২০.৫.২০১৬), মাখন চন্দ্র রায়ের ‘ওমর খৈয়াম ও নজরুল : চিরন্তর দ্রোহের ঐকতান’ (৩০.৮.২০১৩), মাহমুদুল বাসারের ‘জীবনানন্দ দাশ ও শামসুর রাহমান’ (১৮.৬.২০১০) ইত্যাদি।
এ ছাড়া কয়েকটি প্রবন্ধে সুনির্দিষ্টভাবে সাহিত্য সমালোচকদের হাতে সাহিত্য বিচারের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। এ ধরনের প্রবন্ধের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, আহমাদ মাযহারের ‘কবি ও নজরুল সাহিত্যের বিশ্লেষক আতাউর রহমান’ (২৩.৭.১৯৯৯), হেলাল আহমেদের ‘বুদ্ধদেব বসুর নজরুল বিবেচনা’ (১৩.৮.১৯৯৯) ও ‘সুধীন্দ্রনাথ দত্তের রবীন্দ্রবিবেচনার স্বরূপ’ (৫.৩.২০০০), সরোজ মোহন মিত্রের ‘সত্যেন সেনের উপন্যাসের উল্লেখ্যযোগ্য মূল্যায়ন গ্রন্থ’ (২৭.৫.২০০৫), রহমান হাবিবের ‘আহমদ শরীফের আবুল হুসেন মূল্যায়ন’ (৩.২.২০০৬) ইত্যাদি।

ছয়.
বিশিষ্ট লেখকদের স্মরণে প্রবন্ধ
ভোরের কাগজের সাহিত্য সাময়িকীতে বাংলা সাহিত্যের বিশিষ্ট লেখকদের স্মরণ ও স্মৃতিমূলক বহু প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিশেষ উল্লেখ্য, আনিসুজ্জামানের স্মৃতিচারণমূলক রচনা ‘সমরেশ বসু স্মরণে’ (৬.১০.১৯৯৫), ‘আমার চোখে মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন’ (২৩.৫.১৯৯৭), ‘কাজী মোতাহের হোসেন’ (১.৮.১৯৯৭) ও ‘আহমদ শরীফ স্মরণে’ (৫.৩.১৯৯৯)। অন্যান্য প্রবন্ধের মধ্যে রয়েছে, শাকিল আশিকুর ইসলামের ‘নবজাগরণের ডিরোজিও’ (৩১.৩.২০১৭), ওয়াহিদুল হকের ‘বাঙালির জীবনসূত্র ও দক্ষিণারঞ্জন’ (৩০.৬.২০০৬), সৌভিক রেজার ‘দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং সামান্য কিছু কথা’ (২৪.৯.১৯৯৯), মুহাম্মদ ফরিদ হাসানের ‘জন্মশতবর্ষ পরে যতীন্দ্রমোহন বাগচী’ (৯.৬.২০১৭), হাবিবুর রহমান স্বপনের ‘রজনীকান্ত সেনের কথা’ (১৫.৯.২০১৭), আলাউদ্দিন আল আজাদের ‘আবুল ফজল : সময়ের সাহসিক যোদ্ধা’ (৪.৭.১৯৯৭), সরদার ফজলুল করিমের ‘আবু জাফর শামসুদ্দীন : জীবনের সড়কে অনন্য পরিব্রাজক’ (২৬.৯.৯৭), মাহবুব উল আলম চৌধুরীর ‘আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ : বাঙালি সংস্কৃতির ধ্রæবতারা’ (৩০.৯.২০০৫), ড. ফজলুল হক সৈকত ‘প্রতিবাদী চেতনার কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য’ (১৪.৯.২০১২), মোরশেদ শফিউল হাসানের ‘বুদ্ধির মুক্তি ও আবুল হুসেন’ (১০.১.১৯৯৭), ড. আবুল আজাদের ‘শওকত ওসমান : ঋষি মনীষা’ (১৫.৫.২০০৯), বিশ্বজিৎ ঘোষের ‘ঢাকায় প্রগতি লেখক আন্দোলন ও রণেশ দাশগুপ্ত’ (১২.১১.১৯৯৯), মাহমুদুল বাসারের ‘সংস্কৃতির নক্ষত্র শহীদুল্লাহ কায়সার’ (১৯.২.২০১৬), সৈয়দ আজিজুল হকের ‘সরদার ফজলুল করিম : কঠিন জীবন পথে এক সত্যসন্ধ’ (২৭.৬.১৯৯৭), শামস সাইদের ‘শক্তি চট্টোপাধ্যায় : দুই বাংলার শক্তিশালী কবি’ (২৫.৩.২০১৬), আহমদ রফিকের ‘অশোক মিত্র : সমাজ ও সাহিত্যের নানামাত্রিক ভাষ্যকার’ (৬.৮.১৯৯৯), নেছার আহমদের ‘ড. আহমদ শরীফ : দ্রোহী মনীষা’ (১১.৯.২০০৯), মফিদুল হকের ‘মানব সমগ্রের সাধক ওয়াহিদুল হক’ (২.২.২০০৭), লতিফা কোহিনূরের হুমায়ূন আজাদ : একটি আলেখ্য’ (১২.৮.২০০৫), ডা. উজ্জ্বল কুমার রায়ের ‘ভাষা সৈনিক কবি মাহবুব উল আলম চৌধুরী’ (২৪.১২.২০১০), মোবারক হোসেন খানের ‘কবি ও গীতিকার কে জি মোস্তাফা’ (৬.৬.২০০৭) ইত্যাদি।

সাত.
বিদেশি সাহিত্য নিয়ে প্রবন্ধ
ভোরের কাগজের সাহিত্য সাময়িকীতে প্রথম থেকেই নিয়মিতভাবে বিশ্বসাহিত্যের খ্যাতিমান সাহিত্যিকদের জীবন ও সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। ১৯৯৬ সালে কবি আন্দ্রেই ভজনেসেনস্কিকে নিয়ে লিখেছেন মনজুরুল হক। একই বছরে সাহিত্যিক নোরমা জাকস সম্পর্কে লিখেছেন দাউদ হায়দার। পরের বছর জানুয়ারিতে প্রকাশিত হয় সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর প্রবন্ধ ‘শেকসপিয়রের মেয়েরা’। এ বছরই নভেম্বরে ইকবালের দর্শন ও কাব্য নিয়ে আলোচনা করেছেন সৈয়দ আনোয়ার হোসেন।
এভাবে ফরাসি কবি জেরার্দদ্য নের্ভালকে নিয়ে লিখেছেন শামসুল ফয়েজ (২৯.১.১৯৯৯), মার্কিন লেখক আর্নেস্ট হেমিংওয়েকে নিয়ে লিখেছেন শামসুল ইসলাম (৩০.৭.১৯৯৯), লাতিন আমেরিকার উত্তর আধুনিক সাহিত্যের রূপকার হোর্হে লুইস বোর্হেসকে নিয়ে লিখেছেন আলী আহমদ (৩.৯.১৯৯৯), কথাসাহিত্যিক ডি এইচ লরেন্সের কবিসত্তার পরিচয় তুলে ধরেছেন সরকার মাসুদ (১২.১১.১৯৯৯)
কামরুল ইসলাম কয়েকটি প্রবন্ধে কয়েকজন বিদেশি লেখকের পরিচয় তুলে ধরেছেন। তাঁর প্রবন্ধের মাধ্যমে আমরা মানবতাবাদী লেখক মুলক রাজ আনন্দ (৪.২.২০০৫), সোমালিয়ার যাযাবর লেখক মুসা জালাল (১৮.৩.২০০৫), নোবেলজয়ী কবি অক্টাভিও পাজ (৩.৬.২০০৫), কবি সিলভিয়া প্লাথ (৭.১০.২০০৫), ইতালীয় আধুনিক কবি ইউজেনিও মনতেল (২.১২.২০০৫) প্রমুখের সাহিত্য প্রতিভা সম্পর্কে জানতে পারি।
বিশ্ব সাহিত্যের বিশিষ্ট লেখকদের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে আরও অনেক লেখায়। বিশেষ উল্লেখযোগ্য হচ্ছে
ফরাসি দার্শনিক ও সাহিত্যিক জাঁপল সার্ত্র সম্পর্কে বেলাল চৌধুরীর প্রবন্ধ (২০.১.২০০৬), জার্মান ভাষার কথাসাহিত্যিক ও অস্তিত্ববাদের প্রবক্তা ফ্রাঞ্জ কাফকার সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে মনসুর আহমদের প্রবন্ধ (১৬.২.২০০৭), রুশ সাহিত্যিক গোগল সম্পর্কে আবুল বাশার ফিরোজের প্রবন্ধ (১৪.৯.২০০৭), প্রগতিশীল ব্রিটিশ কবি স্টিফেন স্পেন্ডার সম্পর্কে সরকার মাসুদের প্রবন্ধ (৫.৯.২০০৮), নরওয়েজিয়ান নাট্যকার হেনরিক ইবসেন সম্পর্কে রহমান রাজুর প্রবন্ধ (২৯.৫.২০০৯), মার্কিন আধুনিক কবি টি এস এলিয়ট সম্পর্কে তানভীর আহমেদের প্রবন্ধ (১০.৭.২০০৯), রুশ ঔপন্যাসিক লিও টলস্টয় ও তুরস্কের প্রগতিবাদী কবি পাবলো নেরুদা সম্পর্কে নাজিব ওয়াদুদের প্রবন্ধ (৯.৭.২০১০ ও ১১.২.২০১১), লাতিন আমেরিকার কথাসাহিত্যিক গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ সম্পর্কে স্বপন নাথের প্রবন্ধ (২১.৪.২০১৭), জার্মান কথাসাহিত্যিক টমাস মান সম্পর্কে কবীর চৌধুরীর প্রবন্ধ (১৯.৮.২০০৫), স্পেনের কবি ও নাট্যকার ফেদেরেকো গার্সিয়া লোরকা সম্পর্কে পিয়াস মজিদের প্রবন্ধ (১৭.৫.২০০৭), ফরাসি আধুনিক কবি আর্তুর র‌্যাঁবো সম্পর্কে সফিউদ্দিন আহমদের প্রবন্ধ (১৭.৯.২০১১) ইত্যাদি।
ভোরের কাগজের সাহিত্যের পাতায় নোবেলজয়ী সাহিত্যিকদের নিয়েও লেখা হয়েছে কিছু প্রবন্ধ। লাতিন আমেরিকার নোবেলজয়ী (১৯৮২) সাহিত্যিক গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের উপন্যাস শিল্প সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন বিপ্রদাশ বড়–য়া (২৩.৪.১৯৯৯)। এর পাঁচ বছর পর সাহিত্য সাময়িকীর বিশেষ সংখ্যা করা হয়েছে তাঁকে নিয়ে। তাতে লিখেছেন হাসান আল আব্দুল্লাহ, ধীরেন মুখার্জী, স্বপন নাথ ও নূর কামরুন নাহার। জাপানের নোবেলজয়ী (১৯৯৪) লেখক কেনজাবুরো ওয়ে সম্পর্কে পরিচিতি ও বিশ্লেষণমূলক আলোচনা ছাপা হয়েছে ১৯৯৬ ও ১৯৯৭-এর জানুয়ারিতে। লেখকদ্বয় ছিলেন যথাক্রমে শাহীন হক ও মনজুরুল হক। ১৯৯৬ সালে পোল্যান্ডের নোবেলজয়ী (১৯৯৬) কবি ভিশ্লাভা শিম্বোর্সকার জীবন ও কবিতা নিয়ে আলোকপাত করেছেন আলম খোরশেদ (১১.১০.১৯৯৯)। নোবেলজয়ী (২০০১) লেখক ভি (বিদ্যাধর) এস (সূর্যপ্রসাদ) নাইপল পুরস্কার পাওয়ার আগেই তাঁর সম্পর্কে লেখা প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৯৬-এর মার্চে। লিখেছিলেন অমিত হোসেন। পরে তাঁর সম্পর্কে লেখেন মিনা ফারাহ (১৪.৫.২০০৪)। ব্রিটিশ নাট্যকার হ্যারল্ড পিন্টার নোবেল পুরস্কার পাওয়ার বছরেই (২০০৫) তাঁর সম্পর্কে দুটি লেখা প্রকাশিত হয় সাহিত্য সাময়িকীর পাতায়। লেখকদ্বয় হলেন, মফিদুল হক ও শাহনাম মৈশান।
২০১০ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান ফ্রান্সের জাঁ মারি গুস্তাভ ল্য ক্লেজিও। তাঁর সাহিত্যকৃতির পরিচয় তুলে ধরেছেন নাজিব ওয়াদুদ (১৮.৬.২০১০)। ২০০৯ সালে জার্মানি/রোমানিয়ার হের্টা মুলার ‘সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান। সে বছর ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত হয় সালেহা চৌধুরীর ‘সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী হার্টা মুলার’।

সাহিত্য সাময়িকীতে প্রকাশিত প্রবন্ধপঞ্জি
ভোরের কাগজের সাহিত্য সাময়িকীতে প্রকাশিত সাহিত্য বিষয়ক প্রবন্ধের একটি তালিকা এখানে সন্নিবেশিত হলো। এতে ১৯৯৪ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে প্রকাশিত প্রবন্ধ সংকলিত হয়েছে। তবে সংগ্রহে না থাকায় ১৯৯২, ১৯৯৩, ১৯৯৮, ২০০১, ২০০২ সালের প্রবন্ধের নাম লিপিবদ্ধ করা সম্ভব হয়নি। অন্যান্য বছরের কোনো কোনো সংখ্যা সংগ্রহে না থাকায় সেগুলোতে প্রকাশিত সাহিত্য বিষয়ক প্রবন্ধের নামও উল্লেখ করা সম্ভব হয়নি।