একা এবং অপারাজেয়

আগের সংবাদ

স্মৃতি থেকে সংগ্রহ

পরের সংবাদ

নিঝুম হরিণ

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ৩, ২০১৯ , ৩:৩০ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুন ৩, ২০১৯, ৩:৩০ অপরাহ্ণ

Avatar

নূরে আলম হাফিজের চারিত্রিক অভিনবত্বের জন্য সাধারণ ফরেস্টারের জীবনকে সে ছাপিয়ে ওঠে। বনজঙ্গলের ঊর্ধ্বে অস্তিত্বমান বিশাল আকাশের উদারতায় বন্ধুও জোটে বেশকিছু। এ দ্বীপের মানুষ এখন মৃগবান্ধব। কোথাও এখন নিরীহ প্রাণীটির মাংস লভ্য নয়। সারারাত চাঁদের আলোয় একটার পর একটা জমির শিমপাতা সাবাড় করে গেলেও কোনো দ্বীপবাসী এদের পশ্চাৎধাবন করে না। তবে বন্যা ও জোয়ারের জল কখনো এদের ভাসিয়ে নিয়ে যায় সূর্যমুখী সৈকত অবধি। যেগুলো বেঁচে থাকে সে সব আশপাশের জঙ্গলেই বসবাস করে বংশবৃদ্ধি ঘটায়। এখন যে সংস্কৃতি খুঁটি গেড়ে বসেছে নিঝুম দ্বীপে, সেটি হরিণ সংস্কৃতি।
আজ ভোরের কুয়াশা মাথায় নিয়ে মালেক মিয়ার চা স্টলে ঢোকে হাফিজরা। এরই মধ্যে কুয়াশা ভেদ করে এক চিলতে রোদের আলো ঢুকে যায় দোকানটার মাঝখানের জটলা বরাবর। এ সূর্যরশ্মিই গল্প তুঙ্গে ওঠার বিষয়টি ইরাশা করে জানায়। চা-কাপের ধোঁয়া আর বিড়ির ধূম্র এক তালে ঊর্ধ্বমুখী হয়। আজ টাকা ছাড়া কোনো গল্প নেই। আগে কতো টাকার হরিণের মাংস প্রতিদিন দোকানে দোকানে বিক্রি হতো, অতঃপর জমি নিয়ে ধান্ধালি করে এই দ্বীপে কে কতো টাকা কামায় কিংবা ইলেকশনে কে কতো টাকা খরচ করেছিল, সেই ফিরিস্তির ফাঁকে একজন পাওনা টাকার কথাও তোলে। লোকটি বলে, হ্যাতেরে আই জিগাইলাম তর বাহের টেয়া নি। হ্যাতে কইলো, না আঁর মায়ের টেয়া। সবাই হো হো করে হেসে উঠলে অন্যজন বলে, চাই একখান কতা ফরেস্টার সাব এই দ্বীপ ভালা লাগেনি? ফরেস্টার হাফিজ হ্যাঁ-সূচক জবাব দিলে লোকটা এ দ্বীপ তথা পুরো হাতিয়া উপজেলা সম্পর্কে একটি তথ্যকণিকা তুলে ধরে। জানায় যে, হাতিয়া দেশের এক বিশাল উপজেলা যা ফেনী জেলার প্রায় ৩টির সমান। পৃথিবীর একুশটি দেশ আছে হাতিয়ার চেয়ে ছোট। পাকা সড়ক আছে তিনশ’র ওপর, সরকার কয়টা মেরামত করবে? হাফিজ ‘কোথায় এলাম, কোথায় এলাম’ বলে যে অতৃপ্তির ঢেঁকুর ইতোপূর্বে তুলতো, সেটি যেন এমন ধারা বয়ানের পরপরই মিলিয়ে গেল। তারপরও একটা বিচ্ছিন্ন দ্বীপেই তাদের বাস, এটা হাফিজ ভোলে না।
বিকালটা পালিত হরিণের আদরে সোহাগে বর্ণময় হয়ে ওঠে। দূরের সূর্যমুখী সমুদ্র সৈকতের অস্তোন্মুখ সূর্যের মায়াবী অভায় যেন সব অলৌকিক লাগছে। মৃগশাবক দু’টোও মনে হচ্ছে কোন সুদূরের রহস্যলোক থেকে এসে এখানে বিচরণ করছে।
হাফিজের জ্ঞাতিভ্রাতা হাসমত নানা কথা শুনে তার কান ভারী হয়ে গেলে সরেজমিন দেখবার জন্য এখানে এসে দাখিল হয়। নিঝুমদ্বীপ আসতে তার কষ্ট কম হয়নি। কিন্তু তার কথার তোড়ে সকল দুঃখ-কষ্টই যেন ঢেউয়ে ঢেউয়ে ভেসে যায়। কিছুদিন পুরান ঢাকায় ফ্যাক্টরিতে কাজ করায় কুট্টিভাষা তার আয়ত্তে আসে। কালক্রমে সে ওখানকার স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে যায়। এখন কেউ বুঝবেই না যে, সে ঢাকাইয়া সন্তান নয়। হাফিজ দুটি হরিণ শাবককে এখন নিজ হাতে ফিডার খাওয়াচ্ছে, হাসমত বলে হাফিজ ভাই, নিঝুম দ্বীপ আইলাম ভি হালায় হরিণের মাংস খাওনের লাইগা, কুনুহানে ত পাইলামই না, আপনে দেহি হরিণ অখন পালা শুরু কইরা দিছেন।
সাধে তো আর পালছিনারে ভাই, শিয়ালের আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য এরা আমাদের ঘরের কোণে আশ্রয় নিয়েছিল। হিংস্র প্রাণীর থাবা থেকে বাঁচানোর জন্য আশ্রয় দিতে গিয়ে এরা আমাদের পরিবারের সদস্য হয়ে যায়।
ভালাই, আগে আছিল জঙ্গলের পশু, অখন অইছে মানুষ। ওগো ত দেহি রীতিমতো মাইনষের মতো খাইসলত।
মানুষের মতো আচরণ তুমি দেখছো কী ভাই হাসমত। আমাদের এখানে আগে এক ব্যবসায়ী ছিলেন, তিনি একটি হরিণকে নিয়মিত খাবার দিতেন। হরিণটি রোজার মাসেও নিয়মিত সেহরি ও ইফতারের সময় এসে খাবার চাইতো। সেহরির সময় এসে রেলিংয়ে আঘাত করে সে তার উপস্থিতি জানান দিতো। আরো কিছু শুনতে চাও?
না, আর শুনবার চাই নাইক্কা। তোমার গুলাও ত দেখবারই পাইতাছি, দুপুরে খাওনের লাইগ্যা কেমুন তোমার দরজায় আইসা টোকা দেয়।
হ্যাঁ, এইভাবেই খাবার খেয়ে খেয়ে রানী আর মুক্তা এতো বড় হয়েছে। এখন আমি চাই এরা স্থায়ীভাবে বনে চলে যাক। কিন্তু না, এরা বনজঙ্গলে রাত কাটিয়ে দিনের বেলায় যে কোনো এক সময় চলেই আসে। আবার যায়।
পালা হরিণও কেউ জবাই ভি করে না, ঈদে চান্দেও না?
সরি হাসমত, তুমি যে উদ্দেশে এসেছো, সে চর্চাটা এখন উঠে গেছে। তুমি অতো কষ্ট করে এলে।
কিয়ের আবার কষ্ট? লঞ্চের মধ্যে চাপাবাজি কইরা সময় আমাগো ভালাই কাটছিল। মাগার টেরই পাই নাইক্কা রাইত ক্যামনে পার অইয়া গেলো। একটু পরে চাইয়া ভি দেহি হাতিয়ার ঘাট।
কীসব চাপাবাজি দুই একটা শোনাও। কী আর কমু হাফিজ ভাই, পাইছিলাম কয়ডা ভ্যান্দামার্কা ভাদাইম্যা পোলা, আর কী চাপাবাজি, শেষে মাইরা দিলাম এক সুপার চাপা।
আচ্ছা, শোনাও সুপার-ডুপার চাপা।
“পুরা হাতিয়া ভি আমাগো দাদার আছিল। দেখশুন করতে পারি না অর মায়েরে বাপ দিলাম হালার বেইচা। অখন ঠাটারিবাজারে গুলগুইল্যা বেচি। দাদায় কইতো দেখশুনার কী ঝামেলা, আসা-যাওয়া লঞ্চে করতে অইতো, জোয়ার ভাটার লগে জীবন আছিল বান্দা। একদিন লঞ্চ ছাড়তে ভি কয়েক ঘণ্টার দেরি অইলো, এই দিগে লাগলো ক্ষিদা। অরা কয় লঞ্চ না ছাড়লে চুলা ভি জ্বলবো না। কী মুসকিলে পড়লাম, পুরা একদিন হালায় উপাস। দিলাম হালায় হাতিয়া দ্বীপ ছাইড়া। তাছাড়া দ্বীপ খালি বড় অয়। আর ক্যামনে দেখশুন করি। দিলাম ভি হালায় ছাইড়া।’’
হাসমতের কথা শেষ হতেই সবাই এমন জোরে হেসে উঠলো যে, দু’টি হরিণ শাবকই একযোগে লাফ দিয়ে উঠলো এবং অবশেষে সান্ধ্যসূর্যের অস্তরাগ গায়ে মেখে আজকের মতো বনে হারিয়ে গেল।
নিস্তব্ধ পরিবেশে হাফিজ বলে, সেদিন মালেকের চায়ের দোকানে হাতিয়ার যে বাস্তব গল্প শুনছিলাম খোদ ফেনী জেলার ৩টার সমান এই একটা উপজেলা, আর পৃথিবীর ২১টা দেশ আছে এর চেয়ে ছোট সে সময় বিস্ময়ের অন্ত ছিল না আমি কোথায় এলাম। আর আজ তোমার অবাস্তব গল্প শুনে একই বিস্ময় আমার মনের মধ্যে আলোড়ন তুলে গেল। দেখো, আবার ফেরত গিয়ে বলো না যে, রাজা বাদশাহ্ স্টাইলে অনেক হরিণ শিকার করে এলাম, এমন কি বনকে বন উজাড় করে দিলাম। আর মাংসের তারিফ করে জিহ্বায় কৃত্রিম পানি এনে লোকজনকে ভড়কে দিও না। দোহাই হাসমত, তোমাকে বিশ্বাস নেই।
না হাফিজ ভাই, আপনে গো এই পরিবর্তন দেইখ্যা মনডা ভি জুড়াইয়া গেল। এই গল্পই মানুষরে কইয়া কইয়া বেড়ামু। তবে সত্য কথা মানুষ বিশ্বাস করলেই অয়।
ফরেস্টার হিসেবে হাফিজের অনেক ভালোমন্দ অভিজ্ঞতা হচ্ছে এ দ্বীপে। ময়মনসিংহের ছেলে এখানে এসে এভাবে বনজঙ্গল আর প্রাণিকুলের মায়ায় জড়িয়ে যাবে নিজেও ভাবতে পারেনি। ফরেস্টারের নাম শুনলেই মানুষ যেভাবে আগে নাক সিটকাতো, হাফিজদের কারণে মানুষদের সে ধারণায় এখন চির ধরেছে। ইতোমধ্যে হাফিজের সহযোগী হিসেবে জুটে যায় ইয়াছিন দারোগা। তাই প্রতি সন্ধ্যায়ই ইয়াছিনের সাথে চা খেতে বসে হাফিজ পরামর্শ করে কীভাবে দ্বীপের বন আর প্রাণিকুলকে সুরক্ষা দেয়া যায়।
এ দ্বীপে আগত পর্যটক যারা বনের হরিণ দেখা থেকে বঞ্চিত হয় এবং তন্নতন্ন করে খুঁজেও হরিণের টিকিটিও পায় না, তারা হাফিজের পালিত হরিণ দেখে দুধের স্বাদ ঘোলে মিটিয়ে যায়। তারা এলে ‘রানী’ ও ‘মুক্তা’ নাম ধরে ডাক দিতেই হরিণ দু’টো এসে হাজির হয়। অতঃপর পর্যটকরা না বুঝেই এদের চিপ্স, পাউরুটি, বিস্কুট এসব খেতে দেয়। আর এসব খেয়ে খেয়েই ওরা বনের পশুর মৌলিকত্ব হারায়।
প্রতিটি দ্বীপেই এখন বেসরকারি সংস্থার আনাগোনা বেড়ে যায়, আর তাদের কাজের যেন কোনো শেষই নেই। কাজের ক্ষেত্রও বেড়ে যাচ্ছে দিন দিন। একদল এই দ্বীপে এসে ফরেস্টারকে জানায় তারা হরিণ শুমারি করবে। ফরেস্টার বলে দেখুন, আপনারাও আবার কস্তরি খুঁজবেন নাকি? তাহলে আপনাদের সাথে আমি নেই।
হাফিজের হরিণ রানী এখন পোয়াতি। একটু ভারিক্কি চালে সে হাঁটে। আগের মতো দৌড়ঝাঁপ করে না, এমন কি মুক্তার সাথে খেলার ছলে যেভাবে গা ঘেঁষাঘেঁষি করতো সেটা থেকেও সে বিরত থাকে। একদিন হঠাৎ করেই উধাও। দু’একদিন না আসায় হাফিজ রীতিমতো মুষড়ে পড়ে। কিন্তু সপ্তাহ পার না হতেই সে দু’টো বাচ্চা নিয়ে এসে হাজির হয়। এখন বাচ্চাদের একটু শক্ত হওয়ার সুযোগ দিয়েই আবার দিবাবাসের জায়গাটিতে ফিরে এসেছে।
মানুষের এই এক স্বভাব, পশুদেরও এখন মানুষ ভাবতে শুরু করেছে। তাই যথারীতি এ দুই কচি শাবকেরও নাম রেখে দেয়। অনেক ভেবে চিন্তে নাম দেয়া হয় ‘বিজয়’ আর ‘বিজলি’। বিজয়-বিজলি অন্যান্য মনুষ্য শিশুরও খেলার সাথী। অধিক দুষ্ট বাচ্চারা কচলে কচলে এদের ক্লান্ত করে দেয়। আর এটা সেটা খেতে দিয়ে স্বভাবে অনিবার্য পরিবর্তন নিয়ে আসে। কোনো কোনো দুষ্টু বাচ্চা একটা রঙিন চশমা বিজয় কি বিজলির চোখে বেঁধে দেয়, তাতে শাবকটি মাথা ঝাঁকিয়ে এটি অপসারণের চেষ্টা করে। ব্যর্থ হয়ে কখনো উল্টাপাল্টা লাফাতে থাকে।
মানুষের সাথে থেকে রানীর বুদ্ধি মানুষের মতোই খুলে যায়। নিজের অভ্যাসবশত সে প্রতিসন্ধ্যায় বনে ঢোকে, কিন্তু বাচ্চাদের সাথে নেয় না, হয়তো নিরাপত্তার কথা ভেবে। তার নিজের কি মনে আছে শিয়ালের কামড় খাওয়ার স্মৃতি, হয়তো নয়। তবে মাথায় কামড়ের গভীর দাগ দেখেই হাফিজ ওকে শনাক্ত করে। ইতোমধ্যেই মুক্তা নামের হরিণটি কম আসা-যাওয়া করছে। অধিকাংশ সময় বনেই কাটায়। এখন পর্যটকদের দেখানোর জন্য নাম ধরে ডাকলেও তেমন একটা আসে না। হাফিজরাও তা-ই চায়। বন্যেরা বনেই থাকুক। রানীকেও তারা এভাবে অভ্যস্ত করে তুলছে। লোকালয়ে আসার প্রয়োজন নেই। বাচ্চা দু’টোও কিছুটা বড় হলে, আত্মরক্ষার সামর্থ্য অর্জন করলে এভাবেই বনে ছেড়ে দিয়ে আসবে।
আজ সন্ধ্যা ঘনিয়ে রাত হয়ে এলেও রানী বনে ঢুকতে চাইছে না। অবশেষে অতিরিক্ত ঠেলাঠেলি করায় পরিচিত পথ ধরে সে বনের মধ্যে সেঁধিয়ে যায়। ঐদিকে বাতাস কেমন পাকিয়ে পাকিয়ে উঠছে, একটা শরীর কামড়ানো গরমে দ্বীপবাসী হাঁপিয়ে উঠছে। কিছু বুঝে উঠবার আগেই মধ্যরাতের এক ঝড়ে পুরো নিঝুম দ্বীপ তছনছ হয়ে যায়। শত কোলাহলের পর নিঝুম দ্বীপ এখন প্রকৃতই নিঝুম হয়ে ঘুমিয়ে আছে।
সকালে একজন দৌড়ে এসে বলে, শাসমূল বনের ভেতর কয়েকটা হরিণ মরে পড়ে আছে। এ কথা শুনেই হাফিজ দৌড়ে বনের দিকে যায়। অন্য ফরেস্টাররা তার পেছনে ছুটে। হাফিজ হয়তো একটু দূর থেকেই রানীর লাশ চিনে দ্রুত স্পর্শ করতে গিয়ে শাসমূলে হোঁচট খায়। অতঃপর উপুড় হয়ে পড়ে গিয়ে রক্তাক্ত হয়। অন্যরা তাকে তুলে ধরতেই হাফিজ বলে, এখন বুঝতে পারছি, গতরাতে সে কেন বনে ঢুকতে চায়নি। আমরা জোর করে ঠেলাধাক্কা দিয়ে রানীকে জঙ্গলে ঢুকতে বাধ্য করেছি। ও নিশ্চয় বুঝতে পেরেছিল ভয়ঙ্কর কিছু একটা ঘটবে।
হ্যাঁ হাফিজ ভাই, এখন কী করে বুঝবো এ নিরীহ প্রাণীগুলো কোথায় নিরাপদ।
কোথাও না।
এরই মধ্যে তারা মারত্মক জখম হাফিজের বুক, হাত, উরু থেকে রক্ত মুছতে শুরু করেছে।
সিনিয়র ফরেস্টার বলেন, হাফিজ শুনেছি তোমার ট্রান্সফার অর্ডার এসেছে। যাওয়ার সময় একটা বাচ্চা তুমি নিয়ে যেও, বিজয়-বিজলি যাকে তোমার পছন্দ হয়।
না না, তা হয় না। বন্যেরা বনে সুন্দর…। এভাবেই তারা প্রকৃতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে বেঁচে থাকবে। আমার মনে হয় বিজয়-বিজলিকে এখনই বনে ছেড়ে দেয়া উচিত। ওদের মা হয়তো মানুষের সংস্পর্শে এসে নিজকে রক্ষার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছিল। তা ঠিক, তবে তুমি একটা বাচ্চা নিয়েও যেতে পারো।
আমি সেটা পারবো না, জোড়া ভাঙার কাজ কোনো দিন করিনি। আমি কেন, কারোরই করা ঠিক নয়। আত্মরক্ষার ক্ষমতা তা হলে তো অর্ধেকে নেমে আসবে।