‘নিহত’ এর ঘেরে শহীদ নারীরা

আগের সংবাদ

ঈদে মুক্তি পাচ্ছে সালমান-ক্যাটরিনার ‘ভারত’

পরের সংবাদ

কোনো লাভ নাই!

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ৩, ২০১৯ , ৭:৫০ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুন ৩, ২০১৯, ৭:৫০ অপরাহ্ণ

অনলাইন প্রতিবেদক

এই দুনিয়ায় কত পদের কত মতের আর কত পথের মানুষ যে আছে তা না গুনে বলা যাবে না! কিন্তু গোনাগুনতি কেমনে করবেন? মানুষের সংখ্যা বলা যাবে কিন্তু মতের কথা? মনে হয় না? একজন মানুষের দিনেরাতে মনের ভিতরে শত শত হাজার হাজার মতের বা ইচ্ছার পয়দা হতে পারে। তাহলে উপায়? উপায়ও আছে! তবে সেটা গোঁজামিল! ঐ যে বীরবলের থিউরি। দিল্লি শহরে কতটা কাক আছে? জবাবে চটজলদি বলে দিলেন, নয় হাজার নয়শ নিরানব্বইটি! যদি বেশি হয় তাহলে অন্য শহর হতে বেড়াতে এসেছে, আর যদি কম হয় তাহলে অন্য শহরে বেড়াতে গিয়েছে! সোজা পদ্ধতির সোজা হিসাব। পৃথিবীতে যদি সাতশ কোটি মানুষ থাকে তাহলে গড়ে যদি একজনে দৈনিক দশটি মতের বা ইচ্ছার কথাভাবে তাহলে গুণ করলে যা আসে তাই। আপনারা দয়া করে গুণ করে দেখতে পারেন। কারণ আমার এসব করে লাভ নাই!
আমার অবস্থা অনেকটা সেই ফাঁকিবাজ অলস গেদার মতো। ধনীর দুলাল এমএ পাস করে বাপের হোটেলে খায় আর ঘুমায়। তো পাড়াতুতু দাদা তাকে একদিন পাকড়াও করে তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে থাকে। সেও পিছলা পিছলা উদাস উদাস জবাব দিতে থাকে। যেমন-
দাদা : এই নাতি এম এস তাও ফাস কেলাস। রয়সও তিরিশ পেলাস। বিয়াশাদী করো না কেনে? আমার কাছে ভালা সুন্দরী পাত্রী আছে।
নাতি : দাদা, বিয়া কইরা কী হবে? লাভ নাই! কোনো লাভ নাই!
দাদা : আরে শালা বলে কী? লাভ নাই মানে? বিয়া করলে বাবা হবি!
নাতি : তারপরে?
দাদা : তারপরে ছেলেমেয়ে মানুষ করবি
নাতি : আরে দাদা তারপরে কী?
দাদা : আরে তারপরে কী মানে? বড় হলে তাদের বিয়াশাদী দিবি।
নাতি : বুঝলাম। তাহার পরে কী হইবে?
দাদা : আরে শাল তাহার পরে তুই আমার মতো দাদা হবি, তোর নানার মতো নানা হবি। কত মজা তাই না?
নাতি : তাহা তো বুঝিতে পারিতেছি। কিন্তু দাদা, তাহার পরে কী ঘটিবে?
দাদা : আবে হালায় তাহার পরে বয়স হবে বুড়া হবি। হজে যাবা দাড়ি রাখবি নামাজ কালাম পড়বি। নাতিন জামাই বাড়ি দাওয়াত খাবি। আর কী? দুনিয়ার তাবত মানুষ যা করে তুই তাই করবি!
নাতি : আচ্ছা দাদা তোমার কথা বুঝিতে পারিলাম। এইবার দয়া করিয়া বলিতে হইবে তাহার পরে কী লাভ হইবে?
দাদা : লাভ কী মানে? তুই যে সাওয়াল পাওয়াল নাতি নাতকুর রাইখা যাবি তারা তোর জন্য কাজ করবে। দোয়া করবে। তোর নাম রাখবে। তোকে স্মরণ করবে। তারপরে একসময় টুপ কইরা মরণ আসলে মইরা যাবি। এই সোজা জিনিসটা এমএ পাস ফাস কেলাস বুঝিতে পারিতেছ না?
নাতি : এইবার দাদা লাইনে আইছুন! এতসব করে এক সময় টুপ কইরা মাইরা যাইতে হবে তাই না? এই জন্যেই আমি আগেই কইছি কোনো লাভ নাই। আমার কথা হলো, এতসব করিবার পরে আসল কথা হইল আমাকে মরিয়া যাইতেই হইবে, কিছুতেই বাঁচিতে পারিব না তাই না? এই জন্যই প্রথমেই আমি কইছি কোনো লাভ নাই দাদা। মরিয়াই যাইতে হইবে জানিয়াও আমি কেন মাঝখানের ঝামেলায় জড়িত হইতে যাইব? আমি কী পাগিল না নাদান? আমার প্রথম এবং শেষ কথা কোনো লাভ নাই!
এতক্ষণ একজন যুবকের কথা বয়ান করা হলো। এখন একজন যুবতীর কথা বয়াণ করা যাক। তাহলে পাঠক একটুখানি আটক হতে পারে! এক মেয়ে ৩২ তালা বিল্ডিং হতে পইড়া গেছে! ২৫ তলায় এক ছেলে কোনোমতে তার হাত ধরে বলেছে, বাঁচতে হলে, আমাকে জড়িয়ে ধরুন।
মেয়েটি বলল : নাউজুবিল্লাহ! কোনো লাভ নাই ভেবে ছেলেটি মেয়েটির হাত ছেড়ে দিল! এরপরে ১৭ তলায় আসলে আরেকটি ছেলে তাকে ধরে বলল, আমাকে চুমু খাও। মেয়েটি বলল, মোটেই না! কোনো লাভ নাই তাই ছেলেটি মেয়েটির হাত ছেড়ে দিল। এরপর পড়তে পড়তে ৬ তলায় আসলে আরেকটি ছেলে তাকে ধরে ফেলল, এবার মেয়েটি বাঁচার জন্য আগেই বলতে থাকে তুমি আমাকে ধরো, আর আমি তোমাকে জড়িয়ে ধরে চুমু খাবো!
কিন্তু ছেলেটি মেয়েটির হাত ছেড়ে দিয়ে বলল, কোনো লাভ নাই! আস্তাগফিরুল্লাহ, আমি রোজা!! এই জন্যই বলছিলাম কী রে পাগলা কোনো লাভ নাই!
বিল্ডিংয়ের কথা যখন আসিল তখন আরো একটি কোনো লাভ নাই আসিল! তিনবন্ধু লাইফের ফার্স্ট জীবনের প্রথম আমেরিকায় গিয়ে একশত তলার হোটেলের একশত তলার একরুমে অবস্থান করছে। একদিন তারা বাইরের কাজ করে হোটেলের কাউন্টরে এসেছে। সোফায় বসা মাত্র বিদ্যুৎ চলে গেল! কোনোদিন যায় নাই! ঐদিন গেল! তো অনেকক্ষণ বসার পরে যখন উনি আসে না তখন তিনবন্ধু সিদ্ধান্ত নিল, সিঁড়ি বেয়ে বেয়ে ১০০ তলায় পৌঁছে যাবে। তো তারা উপরে উঠছে। শুরুতেই একজন বলল, আমার তিনজনে তিনটা গল্প বলব, ৩৩তলা করে। যার গল্প ভালো হবে তাকে পুরস্কার দেয়া হবে। তো প্রথমজন বলল, আচ্ছা আমি শুরু করি। সে ৩৩তলা পর্যন্ত বলল, তারপরের জন ৬৬ তলা পর্যন্ত বলল, খুব জমজমাট গল্প কষ্টবোধ হচ্ছে না। শেষের জন বলতে থাকে, আমি একটা খুব করুণ কঠিন বাস্তব গল্প বলিব। তো বল। বলিস না ক্যান? হা বলিব রে বলিব। এই বলিব বলিব করতে করতে ৯০ তলা পর্যন্ত পৌঁছে গেল। একসময় বলে, বুঝলি কোনো লাভ নাইরে কোনো লাভ নাই। কণ্ঠে খুব হতাশা! তো বেটা শালা বল না তোর কঠিন গল্প। সমস্যা কী? এইসব বলতে বলতে ৯৮তলায় পৌঁছে গেল। দুই বন্ধু তাকে ঘেরাও করে বলল, আগে বল বেটা তোর গপ্প তারপরে শেষ ধাপ পাড় হব! তো সে আমতা আমতা করে খুব করুণ সুরে বলতে থাকে। আমি আগেই কইছিলাম কোনো লাভ নাই! রুমের চাবি তো বেটা কাউন্টারে রাইখাই উপরে চইলা আইছি! এইকথা শুনে ওরা দুইজন ধপাস করে বইসা গেল! আর মনে মনে হতাশ হয়ে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল, ৯৯ তলায় হাঁইটা আইস্যা তো দেহি কোনো লাভ হইল না! শালা তো দেহি হাচা কথাই কইছে!
তাহলে দেখা যাচ্ছে কোনোকিছুতেই কোনো লাভ হচ্ছে না হে! কিন্তু মানুষ আছে লাভ থাকবে না তা হয় কীভাবে? আগেই বলে রাখি পুলিশও কিন্তু মানুষ! এটা জেলখানার পুলিশের জোকস। এক জেল পুলিশ এতটাই দুষ্ট এবং বকশিশ খোর যে কহতব্য নয়। জেলার তাকে কিছুতেই শাসনের আওতায় আনতে পারে না। তার কথা হলো একটা কাজ থাকলেই লাভ। কিছুদিন তাকে ওএসডি করে রাখা হলো। হঠাৎ এক দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মারা গেল। এখন লাশ কে আসামির গ্রামে আত্মীয়দের হাতে সমর্পণ করবে? শেষে জেলার ঐ বদটাকে হুকুম দিল, যাও আসামির লাশ নিয়ে গ্রামের বাড়ি যাও। তো সে খুব আনন্দের সাথে লাশ নিয়ে গন্তব্যে পৌঁছে গেল। তো গ্রামে গিয়ে সব লোক ডেকে জড়ো করে বলল, ‘এই অমুক আসামির ঐ মামলায় পাঁচ বছরের সাজা হয়েছিল। কী হয়েছিল না? তার আত্মীয়স্বজনরা তো সেটা জানেই। কাজেই সবাই হু বলল। তো আপনাদের এই আসামি আত্মীয় মাত্র তিনবছর সাজা ভোগ করেছে, তারপর সে মারা গেছে, এখন কথা হলো, বাকি দুই বছর সাজা আপনাদের মাঝ হতে কে ভোগ করবে? তাকে আমার সামনে হাজির করুন আর তাড়াতাড়ি লাশ বুঝে নিয়া আমাকে বিদায় করুন। তো পুলিশের কথা শুনে তো সবাই বেবাক! এখন তার হয়ে দুই বছর কে জেল খাটবে? ছেলে একটা আছে তাও নাবালক। আর আছে বউ। এখন উপায়? তো এক চালাক মাতাব্বর তো কেসটা ধইলা ফেলাইল। সে বউ পোলার সাথে ফিস ফিস করে কিছু বলল, তারপরে পুলিশের সাথে একটু দূর গিয়ে কিছু কানকথা ছেড়ে দিল! ব্যস! কে বলে কোনো লাভ নাই? লাভও আছে। যাদের লাভ করার অদম্য খায়েশ এবং সুযোগ আছে তাদের অবশ্য অবশ্য লাভ আছে! অনেকে করতে জানে, অনেকে জানে না, বা জানার পরেও করে না। তারাই বলে আসলে কোনো লাভ নাই!
একবার বল্টুকে অস্ত্র আইনে গ্রেপ্তার করে পুলিশ তাকে রিমান্ডে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধারের জন্য বেশ চাপাচাপি এবং শেষে ডিম থেরাপি দিয়ে জিগাস করে, এবার বল অস্ত্র কোথায় রেখেছিস?
বল্টু : আমার কাছে কোনো অস্ত্র নাই স্যার!
পু : শেষবারের মতো তোকে বাঁচার চান্স দিচ্ছি, বল অস্ত্র কোথায়? এই বলে মারল, এক প্যাদানী। বল্টু কেককুৎ করে পানি ছেড়ে দিল! বল হারামজাদা অস্ত্র কই রাকছস?
ভয়ে সে বলে; বলতেছি স্যার, থানা হতে বের হয়ে উত্তর দিকে সোজা যাবেন। আধা ঘণ্টা যাবার পর দেখবেন দুইটা নারিকেল গাছ।
পু : তো ঐ নারকেল গাছের নিচে রাখছস?
বল্টু : না স্যার, দুইটা নারিকেল গাছের মধ্যে ১ম গাছের নিচ দিয়া বামে যাবেন, কিছুক্ষণ যাবার পর আরো দুইটা গলি দেখবেন। ২য় গলি দিয়া কয়েক মিনিট হাঁটার পর দুইটা বাড়ি দেখবেন।
পু : ঐ বাড়ির মধ্যে রাকছস?
বল্টু : না, ১ম বাড়ির মাঝখান দিয়া দেখবেন একটা চিপা গলি আছে, সেই গলির মাথায় একটা আম গাছ আছে।
পু : ও ঐ আম গাছের নিচে রাখছস?
বল্টু : না স্যার। ঐ আম গাছের বাম দিকে একটা হাঁটার রাস্তা সোজা পশ্চিমে ধানক্ষেত।
পু : ঐ ধানক্ষেতে পুঁইতা রাখছস?
বল্টু : না স্যার ঐ ধানক্ষেত পাড়ি দিয়া দেখবেন একটা ছোট গ্রাম। ঐ গ্রামের শেষ মাথায় একটা কুঁড়ে ঘর।
পু : ঐ কুঁড়ে ঘরে রাখছস?
বল্টু : না স্যার। ঐ কুড়ে ঘরে ঢুকে দেখবেন একটা ভাঙা চকি।
পু : ঐ চকির নিচে গর্ত কইরা রাখছস?
বল্টু : না স্যার। ঐ ঘরে ঢুইকা দেখবেন ঐ ভাঙা চকিতে একজন অন্ধ বৃদ্ধ মহিলা বইসা আছে।
পু : তোর মায়ের কাছে জমা রাখছস?
বল্টু : না, স্যার!
পুলিশ এবার ধৈর্য হারাইয়া ফেরাইয়া রাম থাপ্পর মাইরা কয়, তাইলে কই রাখছস?
বল্টু : শেষ করবাইর দেন। আমার কথা হইল, ঐ অন্ধ মায়ের কসম আমার কাছে কোনো অস্ত্র নাই স্যার! আমারে মাইরা ফেলাইলেও কোনো লাভ নাই স্যার!

আরেকটা মনে আসিয়াছে। এক কয়েদির বউ বাড়ি হতে চিঠি দিয়াছে, তুমি তো জেলখানায়, এখন বাড়ির সামনে শাক সবজি আবাদ করতে হলে জমি চাষ করতে হবে। কে করবে কাকে দিয়া কীভাবে চাষ করাব। জেলখানায় সব চিঠি খোলা হয় কর্তৃপক্ষ পড়ে তারপরে বিলি করে। আসামি তো অস্ত্র মামলার! বউয়ের চিঠির জবাবে লিখল, পালানের জমির নিচে একটি ঐ জিনিস লুকাইয়া রাখছি। ঐটা অমুককে দিয়া তুলিয়া বাকি কাজ সমাধা করিবা। দশ দিন পর চিঠি আসল, তোমার চিঠি না পাইয়া আবার লিখিলাম। পাঁচ দিন আগে পুলিশ আসিয়া পালানের জমি খুদিয়া খুব সুন্দরভাবে চাষের কাজ করিয়া গিয়াছে। জেল হতে কয়েদি তার বউকে চিঠি দিল, এবার তুমি আবাদ শুরু করো! বুদ্ধি থাকলে লাভ হয়। সবসময় এটা ঠিক নয় যে লাভ নাই!
তো আরেক অস্ত্র দিয়া শেষ করা যাক। একবার এক লোককে গ্রেপ্তার করা হলো। সেতো অবাক! পুলিশকে জিগায় ভাই আমার দোষ কী?
পুলিশ : আপনার দোষ আপনি জাল টাকা বানানোর অবৈধ যন্ত্র মজুত রাখিয়াছেন। লোকটি কাকুতিমিনতি করে বলল, আমি তো কোনো টাকা ছাপি নাই বা বাজারে কিছু ছাড়ি নাই! আমার অপরাধ হয় কিমতে?
পুলিশ বলে, এই আইনটাই এমন জালটাকা বানানোর অস্ত্র থাকিলেই অপরাধী বলিয়া গণ্য হইবে। আপনি টাকা বানান আর না বানান! এই বলে পুলিশ লোকটার হাতে কল লাগায়। তো লোকটার মুখ মেঘে ঢেকে গেল! একটু সাহস করে লোকটি পুলিশকে বলে, আচ্ছা যন্ত্র রাখাই যদি আমার অপরাধ হবে তাহলে তো এর চেয়ে মারাত্মক অস্ত্র আমার কাছে আরো একটা আছে’! কী বলিস বেটা? বাইর কর তর সেই অস্ত্র তোকে আবার গ্রেপ্তার করা হবে! তা অস্ত্রটা কী? বল আর দেখা। বলতে পারি কিন্তু দেখাতে পারবো না! লজ্জার বিষয়। তো বল না বেটা। এত ভূমিকার কী দরকার? ‘আমার কাছে তো ধর্ষণ করার যন্ত্রও আছে’! পুলিশ খুব মজা পেয়ে মুচকি হেসে বলল, ‘বেটা কোনো লাভ নাই’। ঐ অস্ত্র আর এই অস্ত্র বস্ত্র দিয়া যায় না।! ঐটা অপব্যবহার হলে ধরা হবে, আর এইটা রাখলেই ধরা হবে।
আমরা আমাদের জীবনে প্রায় সময়ে বিরক্ত হয়ে বা আনন্দ প্রকাশের জন্য মাঝে মাঝে একটা আপাতত একটি অশ্লীল শব্দ উচ্চারণ করে থাকি। পুরুষরাই বেশি করে থাকে। তবে ইদানীং মহিলারাও উচ্চারণ করে থাকে। তাতে স্মার্টনেস প্রকাশিত হয়ে থাকে! সম্পাদক পাঠক একটু রসেবশে চিন্তা করিবেন। এক বিটলা রসিকজন উর্দু চুল মানে ‘বাল’ দিয়ে একটি নাতিদীর্ঘ রচনা লিখে আমার মেসেঞ্জারে পাঠিয়ে দিয়েছে। সাবালক পাঠক-পাঠিকার জন্য তুলে দিলাম। জানি কোনো লাভ নাই। শেষে আমার এই রম্য পড়ে মন্তব্য করবেন, ‘বাল লেখছে’। আমি তাতেই বালমুগ্ধ! তার লেখাটাই হুবহু তুলে দিলাম।
‘বাল শুধু একটি শব্দ না। কোটি কোটি মানুষের প্রতিবাদের অস্ত্র। (তুমি আমার বাল করতে পারবা) বাল হচ্ছে কোটি কোটি মানুষের হতাশার প্রতিচ্ছবি।(বালের এক জীবন পেয়েছি) বাল হচ্ছে তাচ্ছিল্যের বহিঃপ্রকাশ। (অহা, আসছে আমার বাল!) বাল হচ্ছে ধন্যবাদের মাধুর্যতা। (সিগারেট এনেছ যাক বাল, জীবনটা বাঁচালে) বাল হচ্ছে ভালো থাকার বিকৃত প্রকাশ। (ভাই কেমন আছেন? বাল আছি ভাই!) বাল হচ্ছে প্রেরণার মন্ত্র।(কিচ্ছু হবে না বাল!) বাল প্রপোজ করে দে। বাল হচ্ছে জেলাসি, বাল এত নাম্বার পায় কী করে? বাল হচ্ছে নস্টালজিয়ার মশলা! বাল কি দিন ছিল স্কুল লাইফে! বাল হচ্ছে টান টান উত্তেজনা। ‘ছেলেটাকে দেখ। পুরো মাতা নষ্ট বাল’। বাল হচ্ছে বন্ধুর ভালোবাসা, ‘বাল টেলিফোন ধরো না ক্যান’? তাছাড়া আমরা হরহামেশা বলেই যাচ্ছি, বালের ফোন, বালের ফ্যান, বালের লাইট, বালের বন্ধু, বালের নাস্তা, বালের রাস্তা, বালের ট্রাফিক জেম! বালের চাকরি, বালের সংসার, বালের কলম, বালের গরম, বালের গান, বালের পান, বালের ভালোবাসা, ইত্যাদি ইত্যাদি বাল আমাদের নিত্যদিনের অক্সিজেন। আসলে প্রতিটা মানুষই কোনো না কোনোভাবে এই বালের মায়াজালে আবদ্ধ! কোনো বালে বলে যে বাল শব্দটা খারাপ? বাল হচ্ছে একটা শিল্প, বাল হচ্ছে উন্নয়ন, বাল হচ্ছে সমৃদ্ধি। সর্বোপরি বাল হচ্ছে একটি নান্দনিক শুদ্ধ অনুভূতি! এইটুকুন পড়ে বলতে পারেন, বাল, কোনো লাভ নাই!
চিন্তা করে দেখো মানুষ কেন গরিব হয়? একটা গানের লাইন। তো চিন্তা করে দেখেন মানুষ কেন খালি বালের লাভ চায়? আবার বলে ‘কোনো লাভ নাই’। এই লাভ লোকসানের চিপায় চিপায় মানুষের দিন যায়। কিছু থেমে থাকে না। শেষ কথা, ‘অভিজ্ঞতায় বলে, চালালেই চলে’।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা