আমার প্রিয় খেলা ক্যারাম

আগের সংবাদ

গভীর রাতে মোবাইল ফোন

পরের সংবাদ

সমকালীন সাংবাদিকতায় সংকট ও উত্তরণ

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ২, ২০১৯ , ৫:২২ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুন ২, ২০১৯, ৫:২২ অপরাহ্ণ

Avatar

একটি প্রশ্ন আমার মাথায় বারবার ঘুরপাক খায়। তাহলো, আচ্ছা নবীন সাংবাদিকদের মধ্যে মোনাজাতউদ্দিনের নাম কয়জন জানেন বা তার সম্পর্কে কতটুকু জানেন? আমরা কি জানি কুষ্টিয়া জেলায় ঊনবিংশ শতকের অমিত সাহসী সাংবাদিক-সমাজ বিপ্লবী হরিনাথ মজুমদার তথা কাঙাল হরিনাথের কথা? মোনাজাত উদ্দিন তো মাত্র এই বিশ শতকের আর কাঙাল হরিনাথ কিন্তু সেই ঊনবিংশ শতকের। তার প্রতিষ্ঠিত ‘গ্রামবার্র্ত্তা প্রকাশিকা’ ছিল নিতান্তই নির্ভীক সাংবাদিকতার আদর্শ পত্রিকা। পাবনার তৎকালীন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মি. হামফ্রে কাঙাল হরিনাথ মজুমদারকে এক চিঠিতে লিখেছিলেন ‘এডিটর, আমি তোমাকে ভয় করি না বটে, কিন্তু তোমার লেখনীর জন্য অনেক কুকর্ম পরিত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছি।’ এর চেয়ে বড় আত্মসমর্পণ আর কি হতে পারে ভাবুন তো। তাও আবার এক মফস্বল সাংবাদিকের কাছে।
তাই বলতে চাই, বাংলাদেশের সাংবাদিকতা কিন্তু সেই মফস্বলেই, অজপাড়াগাঁয়েই। আধুনিক শহুরে চাকচিক্যময় সাংবাদিকতার ভিত্তি কিন্তু এই গ্রামবাংলায়। হতে পারে শহরে-রাজধানীতে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ন সংবাদ থাকে, রাষ্ট্র-প্রশাসন যেহেতু সেখান থেকেই পরিচালিত হয় সুতরাং শহুরে-রাজধানীর গুরুত্ব তো বেশি থাকবেই। এটিই স্বাভাবিক। তবে এই বাংলাদেশ শুধু রাজধানী কেন্দ্রিক নয়। অন্যান্য জেলা-উপজেলা-গ্রাম মিলিয়েই সমগ্র বাংলাদেশ। গ্রামের কৃষক ফসল না ফলালে রাজধানীবাসী ও শহুরে নাগরিকগণ অনাহারে থাকবেন, আবার এই ফসলের বাজারজাতকরণও যদি না হয় সঠিকভাবে তাহলে কৃষকও টিকতে পারবেন না। তাই একে অপরের পরিপূরক। এ নিয়ে বোধ হয় তর্ক বা নাক সিঁটকানো ঠিক হবে না আমাদের কারোই। এই যে ফসল নিয়ে গ্রাম মানে মফস্বল আর রাজধানী মানে শহরের পার্থক্য আবার পরস্পরের ওপর নির্ভরশীলতা রয়েছে তেমনই অবস্থা কিন্তু সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও। অন্তত আমি বিশ্বাস করতে চাই। কম করে হলেও তো সিকি শতাব্দীর বেশি সময় পার করেছি ‘নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর পেশাতে (একটি সময় তো তাই ছিল, এখনো যে বেশি পরিবর্তন হয়েছে তা বলা যাবে না)’। সে ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতা থেকেই বলা এসব।
এবার ঊনবিংশ শতকের নির্ভীক সাংবাদিক সমাজ-সংস্কারক কাঙাল হরিনাথকে একটু স্মরণ করতে চাই। কুষ্টিয়ার লেখক-গবেষক নুর আলম দুলাল এর একটি লেখা থেকেই কিছুটা ধার করে (তার অনুমতি ছাড়াই) তুলে ধরতে চাই। তিনি লিখেছেন, ঊনবিংশ শতাব্দীর কালজয়ী সাধক, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, সমাজসেবক ও নারী জাগরণের অন্যতম দিকপাল এই কাঙাল হরিনাথ মজুমদার। তৎকালীন সময়ে তিনি ইংরেজ নীলকর, জমিদার, পুলিশ ও শোষক শ্রেণির বিরুদ্ধে হাতে লেখা পত্রিকা ‘গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা’র মাধ্যমে লড়াই করেছেন। অত্যাচার ও জুলুমের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন আপসহীন কলমযোদ্ধা। ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার ও সামাজিক কুপ্রথার বিরুদ্ধে লিখে নির্ভীক সাংবাদিকতার পথিকৃৎ হিসেবে ১৮৫৭ সালে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর প্রাচীন জনপদের নিভৃত গ্রাম থেকে তিনি হাতে লিখে প্রথম প্রকাশ করেন মাসিক গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা। হাজারো বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে তিনি এ পত্রিকাটি প্রায় এক যুগ প্রকাশ করেছিলেন। মাসিক থেকে পত্রিকাটি পাক্ষিক এবং পরবর্তীতে ১৮৬৩ সালে সাপ্তাহিক আকারে কলকাতার ‘গিরিশচন্দ্র বিদ্যারত্ন’ প্রেস থেকে নিয়মিত প্রকাশ করেন। এতে চর্তুদিকে সাড়া পড়ে যায়। ১৮৭৩ সালে হরিনাথ মজুমদার সুহৃদ অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়’র বাবা মথুরানাথ মৈত্রেয়’র আর্থিক সহায়তায় কুমারখালীতে এমএন প্রেস স্থাপন করে ‘গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা’র প্রকাশনা অব্যাহত রাখেন। এই খ্যাতিমান সাধক পুরুষ কুষ্টিয়ার কুমারখালী শহরে ১২৪০ সালের ৫ শ্রাবণ (ইংরেজি ১৮৩৩) কুষ্টিয়া জেলার (তদানীন্তন পাবনা জেলার নদীয়া) কুমারখালী শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম হলধর মজুমদার এবং মা কমলিনী দেবী। তিনি ছিলেন মা-বাবার একমাত্র সন্তান। তার জন্মের পর শৈশবেই মাতৃ ও পিতৃবিয়োগ ঘটে। এরপর দারিদ্র্যের বাতাবরণে বেড়ে উঠতে থাকেন কাঙাল হরিনাথ। তার ৬৩ বছরের জীবনকালে তিনি সাংবাদিকতা, আধ্যাত্ম সাধনাসহ নানা সামাজিক আন্দোলন এবং কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। এই কালজয়ী সাধকপুরুষ ও সু-সাহিত্যিক বাংলা ১৩০৩ সালের ৫ বৈশাখ (১৮৯৬ সাল, ১৬ এপ্রিল) নিজ বাড়িতে দেহত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি রেখে যান তিন পুত্র, এক কন্যা এবং স্ত্রী স্বর্ণময়ীকে। গ্রামীণ সাংবাদিকতা এবং দরিদ্র কৃষক ও সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের একমাত্র অবলম্বন কাঙাল হরিনাথের স্মৃতি আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। অথচ তিনি ছিলেন সংগ্রামী এক ভিন্ন নেশা ও পেশার মানুষ।’
অপরদিকে বাংলাদেশে মেঠোপথের সাংবাদিকতার প্রাতঃস্মরণীয় সাংবাদিক মোনাজাত উদ্দিন। বিংশ শতকে বাংলাদেশে মোনাজাত উদ্দিনের মতো সেই কথিত মফস্বলের তো বটেই শহুরে এমন একজন অনুসন্ধানী সংবাদিক খুঁজে পাওয়া সত্যিই দুষ্কর। তাই বলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের কোনোভাবেই খাটো করার অবকাশ নেই। কিন্তু এটি তো সত্য যে, মোনাজাত উদ্দিন যে দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন তা আমাদের সাংবাদিকতার জন্য এক বিশাল অর্জন যদি আমরা তা ঠিকভাবে পালন করতে পারি। একটি সময় ছিল যখন দৈনিক সংবাদের পাতায় মোনাজাত উদ্দীনের রিপোর্ট উঠলেই খোদ রাজধানীর প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিরাও নড়েচড়ে বসতেন। সংবাদের পাতায় আশির দশকে ‘পথ থেকে পথে’ শিরোনামে ধারাবাহিক যেসব সচিত্র প্রতিবেদন লিখেছেন তিনি তা নিশ্চয় বাংলাদেশের মফস্বল সাংবাদিকতার ইতিহাসেই নয় সাংবাদিকতার ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে। যে অনুসন্ধিৎসু মন নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতেন অঅর শব্দের এমন চমৎকার গাঁথুনি দিয়ে রিপোর্ট তৈরি করতেন তা সত্যিই এক অনন্য বৈশিষ্ট্য।
১৯৭৬ সালে দৈনিক সংবাদে যোগ দেয়ার পর থেকে তিনি মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছিলেন পত্রিকাটির সাথে। বিশ বছর একটানা ‘সংবাদ’ এ কাজ করার পরে ১৯৯৫ সালের ২৪ এপ্রিল দৈনিক জনকণ্ঠে সিনিয়র রিপোর্টার হিসেবে যোগদান করেন। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত সংবাদ ও মোনাজাত উদ্দিন। তাঁর সম্পর্কে প্রখ্যাত সাংবাদিক ও কলামিস্ট সন্তোষ গুপ্ত মন্তব্য করেছিলেন এভাবে, “মোনাজাত উদ্দিনের সংবাদ সংগ্রহের স্টাইল ও নিষ্ঠা জড়িয়ে গিয়েছিল; কোথাও ভঙ্গি দিয়ে চোখ ভোলানোর আয়োজন ছিল না। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, ফলোআপ প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি অনন্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন। গ্রামবাংলার জনজীবনের একটা নিখুঁত তথ্যনির্ভর এবং একই সঙ্গে সংবেদনশীল দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা ও চিত্ররূপময় বর্ণনা এবং চিত্র তিনি দেশবাসীকে উপহার দিয়েছেন খবরের মাধ্যমে। তাঁকে ‘চারণ সাংবাদিক’ আখ্যা দান যথার্থ। এই একটি অভিধাতেই তাঁর সাংবাদিকতার বৈশিষ্ট্য ও অনন্যতা ধরা পড়েছে।”
মোনাজাত উদ্দিন তাঁর সাংবাদিক জীবনে নানা মাত্রিকতার রিপোর্ট করেছেন। রিপোর্টিং ছাড়াও গল্প, কবিতা, ছড়া ও নাটক রচনায় তাঁর দক্ষতা ছিল। তাঁর মৃত্যুর আগে ৯টি ও পরে ২টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি লিখেছেন জীবনের অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ নানা ঘটনা। তাঁর বইগুলোর মধ্যে রয়েছে, ‘পথ থেকে পথে’, ‘সংবাদ নেপথ্য’, ‘কানসোনার মুখ’, ‘পায়রাবন্দের শেকড় সংবাদ’, ‘নিজস্ব রিপোর্ট’, ‘ছোট ছোট গল্প’, ‘অনুসন্ধানী রিপোর্ট : গ্রামীণ পর্যায় ’, ‘চিলমারীর এক যুগ’, ‘শাহ আলম ও মজিবরের কাহিনী’, ‘লক্ষীটারী’, ‘কাগজের মানুষেরা’। এসব বইয়ের প্রতিটি ছত্রেই রয়েছে অনিসন্ধিৎসু ও সাধারণ মানুষের সমস্যা-সমাধানের কিছু উপায়। দুর্নীতি-অনিয়মের বিরুদ্ধে তাঁর ক্ষুরধার লেখনীর কারণে দুর্নীতিবাজদের কাছে ছিলেন প্রচণ্ড আতঙ্কের। মফস্বল সাংবাদিকের কলমও যে কত শক্তিশালী তা প্রমাণ করেছেন এই চারণ সাংবাদিক মোনাজাত উদ্দিন।

সাংবাদিকতার সংকট
শুধু মফস্বল কেন সাংবাদিকতা পেশাটিই নানা সংকটে-ঝুঁকিতে আবর্তিত বাংলাদেশ তো বটেই সারা বিশ্বেই। এ সংকট কখনো কম কখনো প্রকট হয়ে দেখা দেয়। মফস্বলও সে সংকটের বাইরে নয়। সাধারণত অনেকের কাছে রাজধানী ঢাকার বাইরে যেসব এলাকা রয়েছে তার সবই মফস্বল বা গেঁয়ো বা গ্রাম্য। তাই মফস্বল সাংবাদিকতা বা সাংবাদিকতার সংকট ও উত্তরণ নিয়ে আলোচনা করতে গেলে স্বাভাবিকভাবেই এই মফস্বল সাংবাদিকতা নিয়েই বেশি আলোচনা করতে হয়। তবে আমার জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার কারণে আমার উপস্থাপনায় পরিসংখ্যানের বিষয়টি উপস্থাপন করতে পারছি না বলে আন্তরিকভাবে দুঃখিত। জেলা-উপজেলা যাদের রাজধানীবাসী ‘মফস্বল’ বলে নাক সিঁটকান তাদের অবস্থানটি অনেক ক্ষেত্রেই থেকে যায় উপেক্ষিত-বঞ্চিত। তার হয়তো ভুলে যান মেঠোপথের সাংবাদিক মোনাজাত উদ্দিন, মানিক সাহা, হুমায়ুন কবির বালু, শামসুর রহমান, প্রবীর শিকদার, গৌতম দাশ, দীপঙ্কর চক্রবর্তীসহ আরো অনেক সাহসী-নিষ্ঠাবান সৎ সাংবাদিকের অবদানের কথা।
এ বিষয়টি অস্বীকার করার উপায় নেই যে, এক সময় স্বাধীন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে একমাত্র রাষ্ট্রযন্ত্রই মূল প্রতিপক্ষ ছিল। কিন্তু কালের আবর্তে রাষ্ট্রশক্তিই স্বাধীন সাংবাদিকতার একমাত্র প্রতিপক্ষ থাকেনি। সে অবস্থাটি বর্তমানে অনেকটা কমে এসেছে। তবে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বহুবিধ নতুন প্রতিপক্ষ যারা মুক্ত-স্বাধীন সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ করার ক্ষমতা রাখে। নিয়ন্ত্রণ বা বিধিনিষেধে আবদ্ধ রাখে। এসব প্রতিপক্ষ কখনো ১. গণতান্ত্রিক আবরণে অগণতান্ত্রিক মানসিকতার শাসক ২. কখনো ক্ষমতার অবৈধ দখলদার ৩. কখনো প্রভাবশালী কর্পোরেট পুঁজি বা বড় পুঁজি ৪. কখনো সুসংঘবদ্ধ চোরাচালানিচক্র ৫. কখনো উগ্রবাদী বা অসহিষ্ণু আদর্শবাদী ৬. কখনো আবার উগ্রবাণিজ্যবাদী ৮. সম্পাদকীয় প্রতিষ্ঠানের অবমূল্যায়ন বা মালিকের সম্পাদকরূপে আবির্ভাবও মুক্ত স্বাধীন সাংবাদিকতার চরম প্রতিপক্ষ হিসেবে আবিভর্‚ত হয়েছে ৯. পার্বত্য চট্টগ্রামে রয়েছে বেসামরিক প্রশাসনের বাইরে বিশেষ গোষ্ঠীর দাপট ১০. সাংবাদিকতার নামে অপসাংবাদিকতা, কায়েমি স্বার্থে সংবাদ পরিবেশন অথবা পরিবেশন না করা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়াটি এখন সবচেয়ে বড় সংকট। এসব নানামুখী বাধা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার টুঁটি চেপে ধরতে চায়।
এসব তো গেলো স্বাভাবিক কিছু বাধা বা সংকটের ব্যাপার। তবে প্রথমে আত্মসমালোচনা না করে শুধুমাত্র অপরের দোষ ধরাটি অনেক বেশি অপরাধ হবে বলেই মনে করি। ওই যে একটি প্রবাদ আছে ‘নিজ ভালো তো জগৎ ভালো’। প্রবাদবাক্যটি বোধহয় আত্মশুদ্ধির জন্য ব্যবহার করা হতো। যারা সাংবাদিকতা পেশায় জড়িত তারা নিজেরা বোধহয় নিজেদের ভুল বা অন্যায়টি বোধহয় দেখতে পারেন না বা সহ্য করতে পারেন না। এটি কি বড় সংকট নয়? কিছু অনৈতিক সুবিধায় প্রভাবিত হয়ে সেলফ সেন্সরশিপ, যেটি সংবাদ মাধ্যমের মালিকপক্ষ-কর্তাব্যক্তি এমনকি অনেক সময় সাংবাদিক নিজেই সেটি করে থাকেন। পাশাপাশি রয়েছে সাংবাদিকদের বেশকিছু সংগঠন। কিছু সংগঠনের যেমন প্রয়োজন রয়েছে সাংবাদিকদের অধিকার আদায়, চাকরিগত সমস্যা সমাধানের জন্য, পেশাগত উৎকর্ষ সাধনের জন্য ইত্যাদি। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে এসব সংগঠনের কার্যক্রমও অনেক ক্ষেত্রে বিতর্কিত হয়ে পড়ে কখনো কখনো নেতৃত্বের অদূরদর্শিতা ও সংগঠনের সদস্যদের কাছে নেতৃত্বের জনপ্রিয়তা ধরে রাখার প্রয়াস থেকে। আবার সাম্প্রতিককালে সাংবাদিকদেরই বেশকিছু সংগঠন প্রকাশ পেয়েছে এবং পাচ্ছে। বলা হচ্ছে এসব সংগঠন সেই সংগঠনের সাংবাদিক সদস্যদের অধিকার রক্ষা, পেশার মর্যাদা রক্ষাসহ নানা ধরনের সমস্যা সমাধান করবেন। কিন্তু বাস্তবতায় আমরা সারা বাংলাদেশে ঠিক এর বিপরীত চিত্র দেখি। ভুঁইফোড় কিছু সংগঠনেরও জন্ম হচ্ছে। আগে আমরা ‘ব্যাঙের ছাতা’র শব্দটি ব্যবহার করতাম এক্ষেত্রে। কিন্তু সেই ‘ব্যাঙের ছাতা’ও আজকাল অসংখ্য সাংবাদিক ও সাংবাদিক সংগঠনের কাছে যেন হার মেনেছে।
এবারে একটু অন্যদিকে দৃষ্টি ফেরাই। সারা বাংলাদেশের কথা বাদই দিলাম। শুধুমাত্র চট্টগ্রামেই দৈনিক পত্রিকার সংখ্যা রয়েছে অন্তত ২০ থেকে ২৫টি। তিন পার্বত্য জেলা এবং কক্সবাজারেও রয়েছে বেশ কয়েকটি স্থানীয় দৈনিক। এর মধ্যে কয়টি পত্রিকার সম্পাদক পেশাদার সাংবাদিক? কয়টি পত্রিকা পাঠকের হাতে পৌঁছায় সে সম্পর্কে একটু খোঁজখবর নিলেই জানা যাবে। তাহলে এসব পত্রিকা কেন প্রকাশ করা হচ্ছে তা ঠিক বোধগম্য নয় আমার। এ ধরনের শিল্পপতিগণ কিছু সাংবাদিকদের পোষেন তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য। অর্থাৎ সাংবাদিকগণ নিজেদের আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে পুঁজির কাছে বিক্রি হচ্ছেন। এটি কি সংকট নয়? শুধু তাই নয়। নানা সংবাদের জন্য রয়েছে ‘খাম সংস্কৃতি’, উপঢৌকন, বিদেশ ভ্রমণসহ নানা ধরনের প্রলোভন, যা সৎ সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে অন্যতম বাধা বলেই মনে করেন অনেকে। শুধু পত্রিকার কথাই বলি কেন? টেলিভিশন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে বোধহয় আরো বেশি সংকট রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে পত্রিকার রিপোর্টার ঘটনাস্থলে না গিয়েও নানা সংবাদ মাধ্যম থেকে সংবাদ সংগ্রহ করতে পারেন। কিন্তু টেলিভিশন সাংবাদিকতায় সে সুযোগটি অনেক কম। কার এক্ষেত্রে সচল চিত্র বা ভিডিও চিত্রের ওপর নির্ভর করতে হয়। অর্থাৎ রিপোর্টার ও আলোকচিত্র সাংবাদিকদের ঘটনাস্থলে যাওয়াটি একান্তভাবে জরুরি। এই যে ঘটনাস্থলে যাওয়ার জন্য যে যানবাহন প্রয়োজন চট্টগ্রামসহ সারাদেশে কর্মরত টিভি সাংবাদিদের কি নিজস্ব যানবাহন রয়েছে? অন্যরা নিজস্ব উদ্যেগে যানবাহনের ভাড়া মেটাতে বাধ্য হন। অর্থাৎ যেসব টেলিভিশনের প্রতিনিধিরা কাজ করছেন তাদের কেউ কেউ হয়তো পেয়ে থাকেন, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেটি ঠিকভাবে পান না। অথচ তাদের ওপর চাপ থাকে দ্রæত সচিত্র সংবাদ পাঠানোর জন্য। এ অবস্থায় এসব টিভি সাংবাদিকদের ভিন্নপথ অবলম্বন করতে হয় যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে নীতি-নৈতিকতা বজায় রেখে সৎ সাংবাদিকতা করার চরম পরিপন্থী। বাংলাদেশে সংবাদপত্রে ওয়েজ বোর্ড থাকলেও এখন পর্যন্ত টেলিভিশন সাংবাদিকতায় কোনো ওয়েজ বোর্ড নেই। তবে নবম ওয়েজ বোর্ডে সে বিষয়টি চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে বলে শুনছি।
আবার অনেক ক্ষেত্রে টেলিভিশনের সাইনবোর্ড ব্যবহারের জন্য সাংবাদিকদের মধ্যেই অসাধু প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়। কারণ প্রশাসন, রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের পক্ষে সংবাদ প্রচারের জন্য নানা ধরনের প্রলোভনের ফাঁদ বসান। আবার কোনো কোনো সাংবাদিক নিজেরাই কাঙালের মতো তাদের কাছ থেকে নানা অনৈতিক সুবিধা নেন। এ ধরনের সংকট তো রয়েছে, যা আমরা কমবেশি এ সমাজে যারা বাস করি, একটু সচেতন তারা অবগত নিশ্চয়। কারণ সমাজের বিভিন্ন স্তরে যেমন পচন লেগেছে সে পচনের বাইরে তো নন সাংবাদিকগণ, এ সমাজের অংশ হিসেবে। এই টেলিভিশন সাংবাদিকতায় নিরাপত্তা ঝুঁকিও অনেক বেশি। কারণ কারো বিরুদ্ধে কোনো চিত্র ধারণ ও সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলেই তারা হামলে পড়েন, ক্যামেরা ভাঙচুর, দৈহিকভাবে লাঞ্ছনা ও হুমকি দিতেও ছাড়েন না। অন্য সংকটও রয়েছে। যেসব সংবাদ জেলা-উপজেলা থেকে জাতীয় সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো হয়ে থাকে তা অনেক ক্ষেত্রে ততটা গুরুত্ব দিয়ে প্রচার হয় না। আবার কোনো কোনো টিভি প্রতিনিধিরা সংশ্লিষ্ট টেলিভিশন কর্তৃপক্ষের কাছে মোটা অংকের টাকা দিয়ে বা দেয়ার প্রতিশ্রæতি দিয়ে তার পদটি বাগানোর জন্য নানা ধরনের অনৈতিক চেষ্টাও যে করেন না তা কিন্তু নয়। এমন উদাহরণও রয়েছে।
এবারে একটু কর্পোরেট পুঁজির বিষয়টি নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় আসি। দেশের খ্যাতিমান সাংবাদিক বহুল প্রচারিত বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর একটি মন্তব্যের সাথে আমি একমত। তিনি ২০১৫ সালের ৫ মার্চ ঢাকায় সাংবাদিকতা বিষয়ক একটি আলোচনায় মন্তব্য করেছিলেন ‘কর্পোরেট পেশি এখানে বড় ক্রিমিনাল’। তিনি বলেছেন, ‘সেন্সরশিপ বা আমাদের স্বাধীনতার ওপর আঘাত যে সব সময় সরকার বা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে আসছে তা নয়। কর্পোরেট দুনিয়া এখানে বড় ক্রিমিনাল। যারা বিজ্ঞাপনে অনেক টাকা খরচ করেন, তাদের মাধ্যমে অনেক কিছুই হয়… কর্পোরেট পেশি যখনই গণমাধ্যমের শক্তির সঙ্গে লড়তে আসছে, প্রায়ই আমরা হেরে যাচ্ছি।’ তিনি বলেছেন, ‘স্বাধীনতা থাকা আর সেই স্বাধীনতার চর্চা করতে পারা ভিন্ন বিষয়। ব্যবসায়ী থেকে গণমাধ্যমের মালিক হয়ে যাওয়া অনেকেই নাগরিকদের প্রতি দায়িত্ব-সচেতন নন, যা থেকে সঙ্কটের সূচনা’। তৌফিক ইমরোজ খালিদী বলেছেন, ‘বাংলাদেশে যখন থেকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়টি আলোচিত হচ্ছে, তখন থেকেই সরকার কেবল নিজেদের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করে গেছে। এ কাজটি করার ক্ষেত্রে কখনোই দূরদৃষ্টির পরিচয় দেওয়া হয়নি’।
যেহেতু গণমাধ্যমের বিষয়টি এসেছে সে ব্যাপারে একটু আলোকপাত করে বলতে চাই বাংলাদেশে কি সত্যিকার অর্থে গণমাধ্যম কার্যকর হয়েছে? ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন সর্বোপরি মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে বাংলাদেশটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল অনেক রক্ত, ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে একটি গণতান্ত্রিক শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে সে সমাজ-রাষ্ট্র কি আমরা পেয়েছি? হ্যাঁ এক্ষেত্রে একদমই অর্জন হয়নি তা বলা যাবে না। সেই গণতান্ত্রিক-শোষণমুক্ত মানবিক সমাজ বিনির্মাণে গণমাধ্যমের ভ‚মিকা অনেক বেশি। অতীতে এবং বর্তমানেও আমরা দেখছি সমাজের নানা অনিয়ম-দুর্নীতি-অসামঞ্জস্য সংবাদমাধ্যমগুলো তুলে ধরছে। তবে দিন দিন কার্যকর গণমাধ্যমের সংখ্যা কমে আসছে। কারণ এ দেশের সাধারণ খেটেখাওয়া মানুষের সমস্যার বিষয়গুলো তুলে ধরার বিষয়গুলো অনেক বেশি কমে আসছে সংবাদ মাধ্যমে। তাই বলছি সত্যিকার অর্থে ‘গণমাধ্যম’ এর সংখ্যা কমছে।

উত্তরণের পথ কোথায়?
অনেকের মনে প্রশ্ন জাগাটি স্বাভাবিক, সংকটের অনেকগুলো বিষয় চিহ্নিত করা হলেও সেগুলোর আলোচনা কেন করা হয়নি? বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাংবাদিকদেরই সমালোচনা করা হয়েছে কেন? এ ব্যাপারে আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, ‘আপনি আচরি ধর্ম পরেরে শিখাও’। তাই সংকট নিরসনে নিজেদেরই ব্যক্তিগতভাবে, প্রতিষ্ঠানগতভাবে এবং সাংগঠনিকভাবেই সততা-নিষ্ঠা ও দৃঢ়তা নিয়ে সংগ্রাম করেই এগুতে হবে। নিজেই যদি সংকট সৃষ্টি করি বা সংকট তৈরিতে সাহায্য করি তাহলে সে সংকটের জন্য অন্যকে দোষারোপ করে সমস্যার সমাধান হবে না। সমস্যা বা সংকট নিরসনের জন্য নিজেদেরই প্রধান ভ‚মিকা রাখতে হবে।
সংবাদমাধ্যমে যারা সংবাদ পরিবেশন করবেন সেসব সংবাদকর্মী বা সাংবাদিকদের অন্ন-বস্ত্র-শিক্ষা-চিকিৎসা ও বাকস্বাধীনতার বিষয়টি সমাধান না করে সাংবাদিকতার সংকট থেকে উত্তরণের পথ খুঁজলে তা পাওয়া যাবে না। কারণ সাংবাদিক তো না খেয়ে, অসুস্থ থেকে কাজ করতে পারবেন না। তাকে সঠিক সংবাদটি পরিবেশন করার সুযোগ দিতে হবে। এজন্য সাংবাদিকদের ন্যায্য পাওনার বিষয়টিও মালিকপক্ষ এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে সঠিকভাবে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু ওয়েজ বোর্ড বা সাংবাদিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা দিলেই হবে না, তা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কিনা তারও সার্বক্ষণিক নজরদারি প্রয়োজন। তবে সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে এদেশের নাগরিকদের প্রতি দায়বদ্ধতা রাষ্ট্রের সার্বভৌত্বের প্রতি দায়বদ্ধতার বিষয়টি ভুলে গেলে চলবে না। কারণ ’৫২ আর ’৭১ এর আদর্শের মূল ভিত্তির ওপর কিন্তু এ বাংলাদেশটি টিকে আছে। তাই এ থেকে বিচ্যুত হলে সমাজে যেমন বিপর্যয় ঘটবে তেমনি সাংবাদিকতায়ও বিপর্যয় ঘটবে।

এক সময়ে সাংবাদিকতা পেশা যেমন নেশা ছিল, সমাজের মানুষের জন্য দেশের জন্য ভালো কিছু করার মিশন ছিল তা এখন কালে বিবর্তনে পেশায় পরিণত হয়েছে। তাই অবশ্যই সেই পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে গেলে শিক্ষা-প্রশিক্ষণ এবং তা প্রয়োগের কোনো বিকল্প নেই। তবে সংবাদ মাধ্যমকে সত্যিকার অর্থেই ‘গণমাধ্যম’ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর বেশি করে গুরুত্ব দেয়াটি অনেক বেশি জরুরি বলেই মনে করি। আমরা যদি আজ থেকে অনেক আগের ‘ইত্তেফাক’ এবং ‘সংবাদ’ পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ, সম্পাদকীয় এবং উপসম্পাদকীয়গুলোর দিকে তাকাই তাহলে কিছুটা হলেও হয়তো বুঝতে পারবো গণমাধ্যমের ভ‚মিকা। তবে এখনকার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমও যে শুধু বাণিজ্যিক বা মালিকপক্ষের বা রাজনৈতিক শক্তির ও কর্পোরেট পুঁজির তাঁবেদারি করছে তা নয়। যেহেতু এর প্রধান গ্রাহক এদেশের সাধারণ মানুষ তাই তার দিকেও কিছুটা খেয়াল রাখছে বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম। কিন্তু সে সংখ্যা দিন দিন কমে আসছে। তাই সোচ্চার হতে হবে সাংবাদিক সমাজকেই এদেশের সচেতন সাধারণ নাগরিকদের সাথে নিয়েই। রাষ্ট্র-রাজনৈতিক দল-কর্পোরেট পুঁজি-চোরাকারবারি-মাফিয়াগ্রুপ-সন্ত্রাসী-অবৈধ অর্থবিত্ত-বিভিন্ন এজেন্সির রক্তচক্ষুকে সরাসরি সম্ভব না হলেও কৌশলে পরিত্যাগ করে গণমানুষের কাতারে সাংবাদিকতাকে নিয়ে গিয়ে ‘গণমাধ্যম’ এর চরিত্র বাস্তবায়নে অগ্রণী ভ‚মিকা পালন করতে হবে সাংবাদিক সমাজকেই এবং এ পেশার শিক্ষার্থীদেরই। সেক্ষেত্রে সচেতন নাগরিক সমাজকে অবশ্যই সহায়ক ভ‚মিকা পালন করতে হবে।
সংকট অতীতেও ছিল, বর্তমানেও আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। তাই যে (সংবাদমাধ্যম বা গণমাধ্যমের মালিক, সম্পাদক, সংবাদকর্মী, প্রশাসন, রাষ্ট্রযন্ত্র) যার অবস্থান থেকে নিজ দায়িত্ব সততা-নিষ্ঠার সাথে পালন করাটি জরুরি। তবে তার প্রচেষ্টা নিজেদের থেকেই শুরু করতে হবে। সমন্বয়-আন্তরিকতা অত্যন্ত প্রয়োজন। কারণ একক প্রচেষ্টায় কোনো কিছুই সম্ভব হবে না। আমি এই স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণের কয়টি লাইন তুলে ধরতে চাই। তিনি বলেছিলেন.. একটি কথা ভুলে গেলে চলবে না ‘চরিত্রের পরিবর্তন না হলে এই অভাগা দেশের ভাগ্য ফেরানো যাবে না। স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি ও আত্মপ্রবঞ্চনার ঊর্ধ্বে উঠে আমাদের সকলকে আত্মসমালোচনা, আত্মসংযম ও আত্মশুদ্ধি হতে হবে’। অনেকেই বলে থাকেন সাংবাদিকের কোনো বন্ধু নেই। আমি এর প্রত্ত্যুতরে বলি পেশাটি কুসুমাস্তীর্ণ নয়। ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ উত্তাল সাগর পারি দিতে গেলে অনেক কঠিন সংগ্রামের প্রয়োজন। তাই কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের ভাষায় বলতে চাই—- ‘সত্য যে কঠিন, কঠিনেরে ভালোবাসিলাম সে কখনো বঞ্চনা ’। সেই সত্যের সন্ধানই হোক আজ ও আগামীর অঙ্গীকার।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা