যে কারণে ভাইরাল ক্যাটরিনা!

আগের সংবাদ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করতে হবে

পরের সংবাদ

শ্রেণি-বিভেদের নান্দনিক রূপ

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ২, ২০১৯ , ৯:০০ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুন ২, ২০১৯, ৯:০১ অপরাহ্ণ

Avatar

৭২তম কান চলচ্চিত্র উৎসবের সবচেয়ে বড় পুরস্কার পাম ডি’অর জিতে নিয়েছে ‘প্যারাসাইট’ ছবিটি। এর পরিচালক ও গল্পকার বং জুন-হো। ছবিটি দক্ষিণ কোরিয়ার। সাধারণভাবে দেখলে মনে হবে, বং জুন-হো এমন একটি ছবি বানিয়েছেন যা গরিব ও ধনীর গল্প বলে। কিন্তু তার গল্প বলার ঢং এবং দেখানোর কৌশল এতটাই নান্দনিক ও স্বকীয় যে বং নিজেই একজন ঘরানা হয়ে গেছেন। বিবিসির বিনোদন প্রতিবেদক এমা জোন্স, তিনি এবার ছিলেন কান চলচ্চিত্র উৎসবে। একটি রিভিউতে তিনি বলেছিলেন, তারান্তিনো বা আলমোদোভারের মতো বংও নিজের একটি স্টাইল তৈরি করে ফেলেছেন। ‘প্যারাসাইট’-এর বাংলা অর্থ পরজীবী। ছবিটিকে বলা হচ্ছে বø্যাক কমেডি ঘরানার। মূলত মানুষের শ্রেণি-বিভেদ নিয়ে যে ভাষ্য সমাজে বিরাজ করে, তার একটি নান্দনিক চলচ্চিত্র রূপ ‘প্যারাসাইট’। গল্পটি শুরু হয় এক পরিবারের চার সদস্যের বিভিন্ন কর্মকাÐ দেখানোর মধ্য দিয়ে। মা-বাবা-ভাই-বোনের এই পরিবারটি বাস করে দরিদ্রসীমার নিচে। তারা পিৎজার বাক্স বানায়। তবে এই কাজের মাধ্যমে তাদের উন্নতি হয় না। পরিবারে অভাব থাকলে নাকি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মিল থাকে না। কিন্তু দ্য গার্ডিয়ানের পিটার ব্র্যাডশো তার রিভিউতে বলেছেন, চরিত্রগুলোকে বং সাজিয়েছেন মানবিক গুণ, সহযোগিতাপূর্ণ ও বিশ্বস্ত করে। একদিন হঠাৎ করেই পরিবারটির ছেলে সন্তান আবিষ্কার করে, বেজমেন্টে তাদের বাসা থেকে কয়েকটি সিঁড়ি উপরে উঠলেই মোবাইলে পাওয়া যায় ওয়াইফাই কানেকশন। একটু উপরে উঠলেই সুবিধা পাওয়া যায়, সমাজের এই রীতি এখানে পুরোপুরি স্পষ্ট। গরিব হলেও পরিবারটির ছেলেমেয়ে দুটি মেধাবী। ভালো থাকার চেষ্টা করতে গিয়ে ছেলেটি পেয়ে যায় ছাত্র পড়াবার কাজ। যে ঘরে ছেলেটি পড়াতে যায়, তারা অনেক টাকাওয়ালা পরিবার। এক সময় দরিদ্র পরিবারের মেয়ে সন্তানটিও সেই বাড়িতে চিত্রাঙ্কনের শিক্ষক হিসেবে কাজ পায়। ভাই-বোন দুজনেই বুঝতে পারে তারা নিজেদের ঘরের চেয়ে টাকাওয়ালার বাড়িতে থাকতেই বেশি পছন্দ করছে। কারণ তারা ওই বাড়িতে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পায়। এতক্ষণ ঘটনা সাধারণ মনে হলেও বং-এর নির্মাণ ও গল্প সাধারণ নয়। একটা সাধারণ, এমনকি কমেডি গল্পকে ধীরে ধীরে ট্র্যাজেডিতে রূপ নেয়ানোর অসীম দক্ষতা রয়েছে পরিচালকের। ‘প্যারাসাইট’ ছবিতে তিনি তাই করেছেন। যেমনটি করেছিলেন তার আগের ছবি ‘ওকজা’, ‘স্নোপিয়েসার’ এবং ‘দ্য হোস্ট’ ছবিতে। ‘প্যারাসাইট’ ছবির পোস্টার লক্ষ করলে একটা দ্বিধায় পড়তে হয়। দেখা যায় যে, চারটি মানুষ কিন্তু তাদের মধ্যকার সম্পর্ক সেখানে অব্যক্ত এবং সবার চোখে ভিন্ন রংয়ের বারকোড। পোস্টারের বাইরে থেকে একাধিক পা ঢুকে গেছে পোস্টারের মধ্যে। এর অর্থ বুঝতে হলে দেখতে হবে ছবিটি।

 

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা