শ্রেণি-বিভেদের নান্দনিক রূপ

আগের সংবাদ

বাজেট ও কৃষির টেকসই উন্নয়ন

পরের সংবাদ

ওআইসি সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করতে হবে

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ২, ২০১৯ , ৯:০৯ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুন ২, ২০১৯, ৯:২১ অপরাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক

মিয়ানমারের রাখাইন থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা যেন সেই দেশে অধিকার নিয়ে বসবাস করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে ওআইসিভুক্ত দেশগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও বাস্তুসংস্থান নিয়ে বর্তমান বিশ্ব যে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন তা মোকাবেলায় ওআইসিকে একটি কৌশল গড়ে তোলারও আহ্বান জানান তিনি, যাতে জোটের সদস্য দেশগুলো একে অন্যের জন্য কাজ করতে পারে।

গত শনিবার সৌদি আরবের মক্কার সাফা প্যালেসে ইসলামি দেশগুলোর জোট ওআইসির চতুর্দশ সম্মেলনে ভাষণ দেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বান ওআইসিভুক্ত দেশগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখবে বলে প্রত্যাশা রাখছি। উল্লেখ্য, জাতিগতভাবে নিধনের উদ্দেশ্যে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছে গত কয়েক দশক ধরে।

কিন্তু গত ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে এবং সর্বশেষ ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর থেকে অভিযানের নামে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যে বসবাসকারী রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর অত্যাচার-নির্যাতন শুরু করে নির্মমভাবে। সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা, ধর্ষণের শিকার হয়েছে অসংখ্য রোহিঙ্গা নারী। সহিংসতার ঘটনায় প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

এর আগে থেকেই আরো অন্তত চার লাখ রোহিঙ্গা বিভিন্ন সময়ে পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। রোহিঙ্গাদের প্রতি সমবেদনা, মানবিক কারণে তাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রতি সংহতি এবং রোহিঙ্গাদের স্বদেশে প্রত্যাবাসনের তাগিদ জানিয়েছে বিশ্ব সম্প্রদায়। এরপর আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছিল মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোতে দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তিও স্বাক্ষর হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী ২০১৮ সালের ২২ জানুয়ারি থেকে রোহিঙ্গাদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও আজ পর্যন্ত তা শুরু হয়নি। এমনকি কবে থেকে শুরু হবে তাও নির্দিষ্ট করে জানা যাচ্ছে না। কাজেই প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু বা সম্পন্ন হওয়া নিয়ে একটা বড় আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

আশার কথা হলো, এখনো আন্তর্জাতিক মহল রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে তৎপর রয়েছে। ওআইসির সম্মেলনে নতুন করে প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি উপস্থাপন করেছেন। ওআইসিভুক্ত দেশগুলোকে এই বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। আমরা চাই, শুধু বৈঠক আর আলোচনাতেই যেন তৎপরতা সীমাবদ্ধ থেকে না যায়।

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ফেরত যাওয়ার পাশাপাশি সে দেশে তাদের নিরাপদ বসবাসের পরিবেশ ও নাগরিক মর্যাদা নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টিও জরুরি। এ ব্যাপারে মিয়ানমারের ওপর জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ অব্যাহত রাখতে হবে।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা