তৈরি করা সত্য

আগের সংবাদ

ঈদ সংস্কৃতির রূপান্তর

পরের সংবাদ

এবার লেনদেনে নগদ টাকার টান নেই ব্যাংকগুলোতে

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: May 31, 2019 , 6:14 pm

আসন্ন মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। সাধারণত ঈদের আগে ব্যাংক থেকে গ্রাহকদের টাকা উত্তোলন বেড়ে যায়। এ সময় অধিকাংশ ব্যাংকের নগদ টাকার সংকটের কারণে কলমানি মার্কেটে সুদের হারও বাড়ে। তবে এবার দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। ঈদের আগে ব্যাংকগুলোতে নগদ টাকার লেনদেন বাড়লেও স্বাভাবিক ছিল আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে কলমানির সুদহার।

ব্যাংকগুলোর টাকার লেনদেনে সংকট দেখা দিলে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজার অর্থাৎ কলমানি মার্কেট থেকে তারা স্বল্পসময়ের জন্য ধার করে থাকে। টাকার চাহিদা বেশি থাকলে ধার করতে হয় বেশি সুদে। আর চাহিদার চেয়ে সরবরাহ বেশি থাকলে সুদ কম গুনতে হয়।

ঈদের আগে শেষ লেনদেন হবে আগামী ৩ জুন (সোমবার)। লেনদেনের বড় অংশ হয়েছে গেল সপ্তাহে। এ কারণে গত সপ্তাহজুড়ে ব্যস্ত সময় পার করতে হয়েছে ব্যাংকারদের।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ থেকে ২৯ মে সাত কর্মদিবসে কলমানির গড় সুদহার ছিল ৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ। যার সর্বোচ্চ সুদহার ছিল ৫ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এ সময়ে মোট লেনদেন হয়েছে ৪০ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে ২৮ মে (মঙ্গলবার)। ওইদিন ৭ হাজার ১৭৪ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। যার গড় ৪ দশমিক ৫৩ শতাংশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে ২৯ মে (বুধবার), ৬ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা।

রেপো (পুনঃক্রয়চুক্তি) ও রিভার্স রেপো (বিপরীত পুনঃক্রয়চুক্তি) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি বাস্তবায়নের অন্যতম হাতিয়ার। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো রিজার্ভ ব্যাংক থেকে যে সুদে স্বল্পমেয়াদি ঋণ নেয় তাকে বলে রেপো রেট। তেমনি ব্যাংকগুলো তাদের উদ্বৃত্ত অর্থ রিজার্ভ ব্যাংকে রেখে যে হারে সুদ পায় তাকে বলে রিভার্স রেপো রেট।

বিভিন্ন ব্যাংককে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবার ঈদবাজারে নগদ টাকার লেনদেনের তেমন কোনো প্রভাব ব্যাংকের ওপরে পড়েনি। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংক রেপোর (পুনঃক্রয়চুক্তি) বিপরীতে প্রায় প্রতিদিনই ধার দিয়েছে। ২৯ মে বাংলাদেশ ব্যাংক তিনটি ব্যাংককে রেপো ও তারল্য সহায়তা হিসেবে ৬ শতাংশ সুদে ২৮৭ কোটি ২১ লাখ টাকা ধার দেয়। আগের দিন বাংলাদেশ ব্যাংক দিয়েছিল ১৯৯ কোটি টাকা। গত ২২ মে ধার দিয়েছিল ১ হাজার ৫৬৩ কোটি টাকা। গত ২০ মে কেন্দ্রীয় ব্যাংক দিয়েছিল ১ হাজার ৭৩৩ কোটি টাকা।

মতিঝিল সোনালী ব্যাংকের লোকাল ব্রাঞ্চের জেনারেল ম্যানেজার নিজাম উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘ঈদের আগে লেনদেন বেশি হয়, এটা স্বাভাবিক। গত এক সপ্তাহে লেনদেন বেশি হয়েছে। প্রতিদিনই ক্যাশ কাউন্টারে গ্রাহকের ভিড় ছিল। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ব্যস্তসময় পার করেছেন।’

ঈদে নগদ টাকার সমস্যা আছে কিনা জানতে চাইলে ব্যাংকটির এ কর্মকর্তা বলেন, আমাদের নগদ টাকার কোনো সমস্যা নেই। গ্রাহকের চাহিদা মতো পরিশোধ করছি। এবার কলমানি রেট কম। তার মানে নগদ টাকার সংকট কম বলে তিনি জানান।