মুক্তিযুদ্ধে সাংস্কৃতিক প্রণোদনা: গান

আগের সংবাদ

স্বাস্থ্যকে ভালোবাসি, তামাককে নয়

পরের সংবাদ

বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক

দ্বিপক্ষীয় অংশীদারিত্ব আরো জোরদার হোক

প্রকাশিত হয়েছে: মে ৩০, ২০১৯ , ৮:২৭ অপরাহ্ণ | আপডেট: মে ৩০, ২০১৯, ৮:২৭ অপরাহ্ণ

Avatar

বাংলাদেশের উন্নয়নে জাপানের ভূমিকাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সহযোগিতার এ ধারা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে। বুধবার টোকিওতে জাপান ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শিনজো আবে ও শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে পাঁচটি উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য জাপানের সঙ্গে আড়াইশ কোটি ডলারের উন্নয়ন সহায়তা চুক্তি সই হয়।

দেশে বিভিন্ন প্রকল্পের যথাযথ ও সুষ্ঠু বাস্তবায়নের জন্য দেয়া হবে এ অর্থ। এটি বাংলাদেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আমাদের বিশ্বাস। সন্দেহ নেই, নতুন শিল্পোদ্যোগ ও কর্মনৈতিকতাসহ বাংলাদেশে জাপানি সহায়তা উভয় দেশই অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে।

১৯৭২ সাল থেকে দেশটির কাছ থেকে বাংলাদেশ এক হাজার ১৩০ কোটি ডলারের সহায়তা পেয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্পগুলোর দুটি ৩৬ হাজার কোটি টাকার মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও বন্দর এবং ২২ হাজার কোটি টাকার মেট্রোরেল প্রকল্পের বেশিরভাগ অর্থই দিচ্ছে জাপান। জাপানের সঙ্গে করা আড়াইশ কোটি ডলারের উন্নয়ন সহায়তা চুক্তির অর্থে মাতারবাড়ি সমুদ্র বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প, ঢাকা মাস ট্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-১), বিদেশি বিনিয়োগ সহায়ক প্রকল্প (২), জ্বালানি দক্ষতা ও সুরক্ষা সহায়ক প্রকল্প (পর্যায়-২) ও মাতারবাড়ি আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পে (৫) অর্থায়ন করা হবে। বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টিও উঠে এসেছে।

মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আসা ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে মানবিক ও রাজনৈতিক সংকটের বিষয়ে টেকসই ও দ্রুত সমাধানের উপায় খোঁজার বিষয়ে তারা একমত হয়েছেন। জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় দেশটি নিরবচ্ছিন্নভাবে অংশগ্রহণ করে আসছে। বাংলাদেশে জাপানের উন্নয়ন সহায়তা অন্যান্য দাতা রাষ্ট্রের তুলনায় কম শর্তযুক্ত। বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় বাংলাদেশ-জাপান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আমরা আশা করব, ভবিষ্যতেও জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের এই উন্নয়ন সম্পর্ক বজায় থাকবে। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় অংশীদারিত্ব জোরদার প্রয়াসও অব্যাহত রাখতে হবে।