ঠাকুরগাঁওয়ে বিএসএফের হাতে এক বাংলাদেশি আটক

আগের সংবাদ

'আমরাই ডিজিটাল বাংলাদেশ'র ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

পরের সংবাদ

ঈদের আনন্দে সবাই নিরাপদ থাকুন

প্রকাশিত হয়েছে: মে ৩০, ২০১৯ , ৫:৫১ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুন ২, ২০১৯, ৫:১০ অপরাহ্ণ

Avatar

ঈদ অর্থ আনন্দ। কিন্তু জীবনধারণের বাস্তবতায় আমরা কি সব সময় সবাই সে আনন্দ উপভোগ করতে পারি? না পারি না। দেশে যখন বিরাজ করে নানা প্রকট সংকট তখন জীবনযাত্রার চলমান গতি মুখ থুবড়ে পড়ে। এইতো ধরুন না, শহরের যানজট কিংবা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আমরা কি আজো এগুলোকে আমাদের নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছি? শুধু যানজট আর দ্রব্যমূল্যের কথাই বলি কেন, বায়ুদূষণ, শব্দদূষণ এমনকি ময়লা আবর্জনার স্তূপ ও তা থেকে ছড়িয়ে পড়া বিষাক্ত দুর্গন্ধ, আমাদের জীবনকে কি প্রত্যহ সংকটাপন্ন করে তুলছে না?… সব ব্যবসায়ীর মুনাফার লোভ, ছোট কি বড় সবার মধ্যেই এই সময় প্রবল হয়ে ওঠে। কিন্তু কেন? আমরা যদি মানুষ হই এবং সমাজে বাস করি তবে আমাদের মধ্যে ভালো মন্দের বোধশক্তি কেন থাকবে না।

কিংবা দেশের প্রচলিত নিয়ম অথবা সরকারের নির্দেশ সর্বোপরি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার কথা কেন আদৌ বিবেচনায় আনতে পারি না। এসব সময়ে অর্থাৎ ঈদে-বকরি ঈদে এই বিভিন্ন পেশায় সংযুক্ত মানুষগুলো কেন এই অতিলোভের প্রবণতা থেকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। ব্যবসায়ী মাত্রেই মনে করে, এইতো সুযোগ, এখন যে কোনো পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিলে ক্রেতা তো কিনতে বাধ্য থাকবেই। এইযে ক্রুর মানসিকতা কি যে হিংস্র এবং মানুষকে বিপদে ফেলে নি¤œ থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত শ্রেণির সবাই সেটা উপলব্ধি করতে পারেন। রাষ্ট্রের যে দায়িত্ব থাকার কথা, তা কেবল মুখের বুলিতেই সীমাবদ্ধ থাকে, কঠোর বাস্তবায়ন হতে দেখি না। ফলে সাধারণ অর্থাৎ অধিকাংশ জনগণকেই বিপাকে আর দুশ্চিন্তায় কাল কাটাতে হয়। শেষ পর্যন্ত এমনও হয় এই আনন্দ উৎসবে মানুষ তাদের নিজেদের বা সন্তান-সন্ততিদের যে আনন্দ-ভাবনা ‘নির্মাণ’ হতে দেখেছিলেন, তাকে কোনোভাবেই শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত করতে পারেন না। তাহলে ঈদের ‘মাজেজা’ রইলো কোথায়? তাইতো ঈদ কেবল বিত্তশালীদের বৈভব প্রকাশের ‘প্রদর্শনী’তে পরিণত হয়। ধর্মের বিধান তো এমন বলে না। অভিজাত শ্রেণি এবং রাষ্ট্র বা সরকার যদি খানিকটা মানবিক হতে পারতো, তাহলে আমাদের হয়তো ভেদাভেদের এই চালচিত্র প্রত্যক্ষ করতে হতো না। কিন্তু দুঃখ কি জানেন, আমাদের দেশটাতে সামাজিক ন্যায়বিচার কিংবা সমতার কথা ‘কাজীর গরু কেতাবে আছে গোয়ালে নেই’ এমনই এক পরিণতিতে গিয়ে পৌঁছোয়। আর সে কারণেই আমরা দেখি এমন আনন্দ উদ্যোগের দিনগুলোতে মাঠে ময়দানে আয়োজিত জামাতের পাশে কি বিশাল সারি দরিদ্র জনগণের। ওরা হাত পেতে থাকেন ‘জামাতে’ আশা ওইসব ‘ধর্মপ্রাণ’ মানুষগুলোর কাছে, যদি ওদের ছিন্নবস্ত্র পরিহিত এই মানুষদের প্রতি করুণা হয়! হ্যাঁ, করুণার একটি বিধান ইসলাম ধর্মেতে আছে। একমাস রোজার পর যে ঈদ সব মানুষের জন্য আনন্দ বয়ে আনে, তার ‘ফিতরা’ দেয়ার একটা বিধান রয়েছে। নির্দিষ্ট পরিমাণে এই ফিতরা দেবেন, যাদের সাধ্য আছে তারাই।

সুতরাং জামাতে আসা এই মানুষগুলোর করুণা খানিকটা এই বিধান থেকেই উৎসারিত হয় এবং পকেট থেকে কড়কড়ে টাকা ‘মিস্কিন’দের হাতে দেন। এদিনে, যাদের গাড়ি আছে তারা কেউ কেউ ড্রাইভারকে ছুটি দিয়ে নিজেই চালিয়ে মাঠে আসেন। কিন্তু অনেকেই আছেন গাড়ির চালককে এমন উৎসবের দিনেও তার সন্তান-সন্ততি বা পরিবার পরিজনের সাথে আনন্দে কাটাতে দিতে চান না। এখানেও স্বার্থপরতার ইঙ্গিত মেলে। যে গাড়ি চালকরা বাধ্য হন পেটের তাগিদে নেয়া চাকরি রক্ষা করতে, তিনি উচ্চমধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে অভিজাত শ্রেণির মানুষদের এই দিন উপলক্ষে আত্মীয় কিংবা বন্ধুর বাড়ি নিয়ে গিয়ে উৎসবকে আরো আনন্দময় করে তোলেন। গাড়ি চালক তাদের নির্দিষ্ট স্থানে নামিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যে অপেক্ষা করতে থাকেন, গৃহ অভ্যন্তরে আনন্দ উল্লাসের জৌলুশে সে কথা হয়তো ভুলে যান গাড়ির মালিক। তবে যখন ভূরিভোজের টেবিল সাজানো হয়, তখন হয়তো কেউ কেউ গাড়ির মালিক কিংবা যে বাড়িতে গেছেন তারাও জিজ্ঞেস করেন ড্রাইভারের কথা। হায়রে ভাগ্য! এমন সব উৎসবের দিনে পরিবহন সমস্যা থাকে বৈকি। আর এই সংকটের সুযোগ নিয়ে নি¤œবিত্তের কিছু মানুষ যারা রিকশা চালান বা অন্যকিছু, তাদের সংখ্যা খুবই কম থাকার কারণে এই গরিব চালকরাও ভাড়া ইচ্ছেমতো বাড়িয়ে দেন। যারা চাপেন এইসব পরিবহনে তারা প্রচ- বিরক্ত হন ভাড়া বৃদ্ধিতে। কিন্তু চালকের যুক্তি থাকে, ‘এতো ঈদ স্যার একটু বেশি পয়সা দেবেন না?’ আর এই স্যারেরা অনেকেই হয়তো তখন মহৎপ্রাণ হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করার জন্য কিছুটা দরকষাকষি করে নিয়মিত ভাড়ার চাইতে খানিকটা বেশিই দেন। তাতে উভয়েরই তৃপ্তি।

ঈদে যেকোনো মানুষের নিজ পরিবার পরিজনের সাথে নামাজ আদায় এবং আনন্দ উৎসবের আয়োজনে একত্রিত হওয়ার প্রত্যাশা প্রবল থাকে। তাই চাকরির সুবাদে যারা বিভিন্ন শহরে থাকেন, তারা এই দিনগুলোতে পরিবার পরিজনের সাথে আনন্দে কাটাবার জন্য সন্তান-সন্ততিদের নিয়ে নিজ গ্রামে চলে যেতে চান। আর সে জন্যই দেখি দেশের রেল, বাস আর লঞ্চ-স্টিমারে কী উপচে পড়া ভিড়! যত ভিড়ই হোক না কেন তাকে যে মা-বাবার কাছে পৌঁছতেই হবে আর ছেলেমেয়েদের বায়না ‘দাদা-দাদির সাথে ঈদ করবো’ এ দুয়ের কারণে যে পথে যতই বাধা আসুক না কেন, মনের বাসনা পূরণ করার জন্য অতিরিক্ত পয়সা দিয়ে হলেও টিকেট কেনা, জানমালের ঝুঁকি হলেও যাত্রা নিশ্চিত করা এটা যেন তাদের পবিত্র কর্তব্য হয়ে দাঁড়ায়। প্রিয় পাঠক আমরা তো দেখি প্রতি বছরই নানা সতর্কতা সত্ত্বেও ট্রেনের ছাদে অগণিত মানুষের ভিড়। ওরা টিকেট করেছেন কিনা সেটি আমার প্রশ্ন নয়। আমার প্রশ্ন এই যে বিপদকে মাথায় নিয়ে মৃত্যু ঝুঁকিতে শেকড়ের টানে ছুটে যাওয়া, এর কি বিকল্প কোনো পরিবহন ব্যবস্থা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নেয়া সম্ভব নয়? রেল ছেড়ে দিলাম, বাসের কথা যদি ভাবি, তাহলে দেখবো বাস চালকেরা, মালিকের হুকুমে হোক বা না হোক, তারা ভাড়া বৃদ্ধির যে ফাঁদ পাতে নানা কৌশলে, তা কেন আজো আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না। আবার নদীপথে লঞ্চ-স্টিমারে চলতে গিয়েও এই দিনগুলোতে যাত্রীরা যেমন বারণ মানেন না তেমনি লঞ্চ মালিকরাও ফায়দা লুটতে ছাড়েন না। আর কি দুর্ভাগ্য বছর বছর এ ধরনের যাত্রাপথে লঞ্চডুবিতে অগণিত মানুষের মৃত্যুর খবর দেখে আমরা চমকে উঠি কিন্তু মালিকদের শিহরণ জাগে না। অবশ্য গত দু-এক বছর এমন উৎসবের আগে কোনো লঞ্চডুবির খবর আমাদের শুনতে হয়নি। ধন্যবাদ জানাই নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষকে যে তারা এই মৃত্যু ঝুঁকি এড়িয়ে লঞ্চগুলোকে চলতে শিখিয়েছেন।… ট্রেনের টিকেট কেনাবেচার ব্যাপারে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট করে সময় ক্ষণ বেঁধে দিলেও যাত্রা শুরুর বড় স্টেশনগুলোতে যে প্রচ- ভিড়ের মহড়া দেখি, তাতেই আমরা ঘরে বসে ভাবি, এত কষ্ট করে যাওয়ার আদৌ কি প্রয়োজন আছে? কিন্তু তারপরও বিনিদ্র রজনী কমলাপুর স্টেশনে কাটিয়ে চারটে টিকেট হাতে পেলে কী যে আনন্দ হয় প্রাপকের তা তার উচ্ছলতাই বলে দেয়। কিন্তু ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার মধ্যেও সুদক্ষ বাজিকরদের তৎপরতায় অনেক সময় টিকেট উধাও হয়ে যায়। তখন অসহায়ত্বের কান্না গ্রামের বাড়ি যাবার ইচ্ছাকে অনেক সময় সমাধিস্থ করতে বাধ্য হন। বিশেষ ট্রেন বিভিন্ন মেল ট্রেনের সাথে বাড়তি বগি, এগুলোর খবরে যেমন যাত্রা প্রত্যাশীদের মনে আনন্দ দেয় সেইসাথে টিকেট প্রাপ্তির নিশ্চয়তা যদি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ করতে পারতো তাহলে হয়তো ওই আনন্দ উপভোগ করতে সত্যিই কৃতজ্ঞ থাকতেন। অনেক সময় ঠুনকো যুক্তি দেখিয়ে ট্রেনের ছাদে ওঠা উৎসুক জনতাকে জায়েজ করার চেষ্টা করেন কর্তৃপক্ষ কিন্তু সেটা কি ঠিক? শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে মহিলা পর্যন্ত ট্রেনের ছাদে উঠতে বাধ্য হন এমন দৃশ্য আমাদের চমকে দেয়। আমরা শিউরে উঠি। কিন্তু যারা ওখানে বসে থাকেন শেকড়ের টানে মা-বাবার সাথে ঈদ করতে পারার আনন্দে সাময়িক হলেও তারা তা ভুলে যান। এখানে রেল কর্তৃপক্ষের কর্তব্যপরায়ণতা দায়ী। তাই বলে পুলিশ দিয়ে পিটিয়ে তাদের ছাদে ওঠা নিয়ন্ত্রণ করার আবার চেষ্টা করবেন না।

আমাদের সরকার এবং তার মন্ত্রী-প্রবরেরা কথায় কথায় মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়ে যাওয়ার কথা শোনান, খুব ভালো লাগে। আমাদের অর্থনীতি চাঙ্গা হচ্ছে বিদেশি মুদ্রার মজুত বেড়েছে এসব শুনে আমরা তৃপ্তি পাই কিন্তু হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে গেলেও তা যখন খুব একটা ফেরত আসে না তখন আঁতকে উঠি। আমরা চলেছি কোথায়? কিন্তু পাঠক রোজার সময় ইফতারির যে হরেকরকম আয়োজন এই ঢাকা শহরেরই নানান এলাকায় তাতো অনেকটা সরকারের দাবিকেই সমর্থন করে। ইফতারি সন্ধ্যেবেলায় হলেও বেগুনি, পেঁয়াজু, আলুর চপ, ছোলাভাজা, ঘুগনি ইত্যাকার নানা ভাজাপোড়া আর জিলিপি, হালিম ইত্যাদির আয়োজনতো বেলা ১২টা থেকেই শুরু হয়ে যায় বিক্রির জন্য। রাস্তার ধারে লাল শালু টানিয়ে টেবিলে থরে-বিথরে ইফতারির পসরা সাজিয়ে বিক্রেতারা দোকান খুলে বসেন। ওগুলোর দামের কথা নাইবা বললাম কারণ জানিতো বাজার কিরকম গরম! সরকার বহু নির্দেশ জারি করেছেন, অতীতেও কিন্তু কি তার ফল আমরা পেয়েছি? বেগুন, আলু, পেঁয়াজ যেগুলো ইফতারিতে লাগে, তা ছাড়াও এই সময়ে বাজারে তরিতরকারির দাম যেভাবে আকাশের দিকে ধেয়ে চলে, তাকে রুখে দেয়ার কোনো কর্তৃপক্ষ চোখে পড়ে না। শুধু বুলি দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়, আবার পুলিশ দিয়ে পিটিয়েও বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। তাহলে উপায় কি? মানুষকে ‘মানুষ’ হতে হবে। মানবিক গুণাবলি থাকলে কোনো দেশে চলমান বাজারের দ্রব্যমূল্য এইসব উৎসবে হঠাৎ কেন বেড়ে যাবে? একে নিয়ন্ত্রণে রাখার দায়িত্ব প্রশাসনের। একদিন দুদিন পর ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবরা দলবল নিয়ে দোকানে দোকানে জিজ্ঞাসাবাদ করে বা খবর নিয়ে যা জানতে পারেন তার ওপরই তারা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা জরিমানা তাৎক্ষণিকভাবে করেন। কিন্তু এই কাজটিই ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবদের প্রত্যেক সময় করতে হয় কেন? এরকি কোনো বিহিত নেই? যাক তবুও ধর্মপ্রাণ সরল মানুষ থেকে আরম্ভ করে সবাই ইফতারির আয়োজনে কমতি রাখতে চান না।… আবার দোকানপাট, শপিংমল ইত্যাদি ছোট বড় বিপণি কেন্দ্রগুলোতে দেখা যাবে রমজানের মাঝামাঝি সময় থেকেই কেনাকাটার ধুম লেগে গেছে। তবে অনেকেই রমজান আসার আগেই ঈদের বায়না মিটিয়ে নেয়। কিন্তু যারা পেছনে পড়েছেন তারা এই রমজানের ভেতরে ছেলে মেয়ে মা-বাবা সবার জন্যে কেনাকাটার প্রয়োজনে দোকানে দোকানে ঘুরে বেড়ান। যার যেটা পছন্দ হয় সেটাই কিনে ফেলেন। একটার কাছে দুটো তিনটে হলেও আপত্তি থাকে না। বিক্রেতারাও আনন্দিত। হরহামেশাই বলতে শুনি ‘এবারে ঈদের বাজার বেশ জমজমাট।’ এই জমে ওঠা বাজার ক্রমশ সাধারণ ক্রেতাদের ভিড়ে সরগরম হয়ে ওঠে। কিন্তু তাও যেন কেনা শেষ হয় না। এ দোকানে এটা কিনলে আরেক দোকানে গেলে যদি অন্যটা পছন্দ হয়, তখন সেটাও কিনে ফেলেন। বোনাস পেয়েছেন তো। এমনিভাবে দোকানগুলোরও বেচার সময় ক্রমশ বেড়ে যেতে থাকে। ঈদ যত এগিয়ে আসে ততই রাত গভীর হয়, পুলিশ প্রহরা থাকে ক্রেতাদের নিরাপত্তার জন্য। ক্রেতারাও মনের আনন্দে বছরের একটা দিন এই ঈদে ইচ্ছেমতন কেনাকাটা সেরে নেন। অদ্ভুত ব্যাপার ঈদের চাঁদ দেখা হলে যখন নামাজের জায়গা ও সময় ঘোষণা করা হয় তখন তো শুরু হয় সারারাত ধরে বেচাকেনা এবং কি অদ্ভুত, গরিব কোনো মানুষ এই ক’দিনে যদি সামর্থ্যরে জোগান হয়ে থাকে ঈদের দিন সকালবেলা একটা লুঙ্গি আর একটি পাঞ্জাবি অথবা শার্ট কেনার জন্য ছুটে আসে। আর যারা এই বাজারে আসতে পারেননি বাড়ি বাড়ি গিয়ে গৃহকর্তা-কর্ত্রীদের কাছ থেকে একটা কাপড় চেয়ে নিয়ে এসেছেন তারা পুরনো হলেও ওই কাপড় পরেই ঈদ জামাতের বাইরে লাইন বেঁধে বসেছেন ওই বিত্তবানদের করুণার জন্য।

ঈদতো সব ধর্মপ্রাণ মানুষেরই আনন্দের। তাই যে যার সাধ্যমতো নিজেকে সাজাতে চান নানা ধরনের আতর সুগন্ধি গায়ে মাখেন মাঠে ছুটে যান নামাজ আদায়ের জন্য কিন্তু অগণিত মানুষের সঙ্গে কোলাকুলি করা, হাত মেলানো এসবের মাধ্যমে সৌভ্রাতৃত্ব ও মৈত্রীর মানসিকতা গড়ে তোলার যে প্রয়াস তাতো মানুষের জনজীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্যই। কিন্তু এত হানাহানি, মৃত্যু, হত্যা, ধর্ষণ আমাদের মনে আনন্দের কতটা লেশ এনে দিতে পারছে। সন্ত্রাস আর জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির পরও মাঝে মাঝে র‌্যাবের হাতে যে জঙ্গি মৃত্যুবরণ করছে, তা কি আমাদের নিরাপত্তাহীনতাকেই প্রকাশ করছে না? ঈদের জামাতেও তো ইসলামি জঙ্গিরা হামলা চালিয়েছে অতীতে, তাহলে কি বলতে পারি ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা হবে না। ঈদ যদি আনন্দেরই হয় তবে কেন এমন ঝুঁকি এবং অপমৃত্যুর শঙ্কাকে তোয়াক্কা করতে হবে? ধর্মপ্রাণ মুসলমান যারা তারা ঈদের দিনে নামাজে এই জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে দোয়া করবেন জানি সবাই কিন্তু গোপন আস্তানায় ঘোঁট পাকাচ্ছে যে জঙ্গীদল তারাতো যে কোনো সময় যে কোনো জায়গায় আঘাত হানতে পারে, এ আশঙ্কা থেকেই যায়। তবু ঈদ মানে আনন্দ এবং আত্মীয় পরিজন বন্ধু বান্ধবদের নিয়ে দিন কাটাতে চায় প্রত্যেকটি মানুষ। আর সেই প্রত্যাশায় মানুষের প্রতি রইলো ভালোবাসা। শান্তিতে কাটুক দিন।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা