তথ্য যাচাই ছাড়া ভ্যাট নিবন্ধন নয়

আগের সংবাদ

অপ্রাতিষ্ঠানিক শিল্প নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে

পরের সংবাদ

প্রাণের টানে বারবার বাংলাদেশে আসি : মাধবী মজুমদার

প্রকাশিত হয়েছে: মে ২৮, ২০১৯ , ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: মে ২৮, ২০১৯, ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ

Avatar

‘মুজিব একবার দেইখা যাও, কেমন কইরা শেখ হাসিনা বাইছে তোমার নাও।’ বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে রামকৃষ্ণ মজুমদারের লেখা অসাধারণ এই গানে সুর দিয়েছি আমি। বঙ্গবন্ধু দেবদূতের মতোই পৃথিবীতে এসেছিলেন আর কর্মের মাধ্যমে তা প্রমাণ করে গেছেন। বাঙালির জন্য তার লড়াই ইতিহাসের পাতায় পাতায় লেখা আছে। দেশ কিংবা দেশের বাইরের অনুষ্ঠানে আমার প্রিয় এই গানটি আমি গাই। এই মহামানবের প্রতি এটিই আমার শ্রদ্ধাঞ্জলি বললেন পশ্চিমবঙ্গের শিল্পী মাধবী মজুমদার।
সম্প্রতি বাংলাদেশে এসেছিলেন আন্তর্জাতিক নজরুল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পশ্চিমবঙ্গ শাখার প্রধান মাধবী মজুমদার। জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে ভোরের কাগজের সঙ্গে কথা হয় এই শিল্পীর। এপার বাংলা, ওপার বাংলা মানতে রাজি নন তিনি। বললেন, বাংলা তো বাংলাই। ভাষা-সংস্কৃতি এক। রবি-নজরুল সবার। বঙ্গবন্ধুকে আমরাও অত্যন্ত শ্রদ্ধা করি। ছোটবেলায় শেখ মুজিবের কথা বাবা-মায়ের কাছে শুনেছি। বাবা বলতেন, বাঙালিদের এমন আপন বন্ধু আর কেউ হবে না। সেদিন বঙ্গবন্ধু জাদুঘরে গিয়ে আমি অশ্রু সংবরণ করতে পারিনি। বারবার রোমাঞ্চিত হচ্ছিলাম। অন্তর থেকে তাকে অনুভব করেছি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, নীতি শুধু বাংলাদেশের একক সম্পদ বলে আমি মনে করি না, বাঙালি জাতির সম্পদ।
মাধবী মজুমদার বলেন, কাঁটাতার, ভিসা, পাসপোর্ট, ইমিগ্রেশন কি অনুভূতিতে প্রাচীর তুলতে পারে? আর তাই প্রাণের টানে বারবার ফিরে আসি বাংলায়। ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাজশাহী, নাটোর, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, মৌলভীবাজারে গান করেছি। একবার ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠান করেছি। সঙ্গীত মানুষকে এত কাছে টেনে নেয়, গান না গাইলে অনুভব করতাম না।
গানই তাকে লন্ডন, প্যারিস, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া নিয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত পয়লা বৈশাখে ছিলাম লন্ডনে। আর এবারের বৈশাখ কাটিয়েছি বাংলাদেশে। নতুন বছরের প্রথম দিনে বাংলাদেশে মানুষের অদ্ভুত জাগরণ মুগ্ধ করে। এ যেন মহাসম্মেলন। এত রঙ, এত বর্ণ, প্রাণের আবেগ, এত উচ্ছলতা আর কোথাও নেই।
মাধবীর গানে হাতেখড়ি ৪ বছর বয়সে বাবা বিমল চন্দ্র সেনের কাছে। মাধবীর ভাষায়, সঙ্গীতসাধক বাবার সঙ্গীতসাধনা আজও আমার কানে বাজে। বাবা বলতেন, গানই হোক তোমার সঙ্গী। গানের হাত ধরে তোমাকে হাঁটতে হবে বহুদূর। বাবাই প্রথম হাত ধরে কলকাতার এক প্রান্ত ঠাকুরপুকুর থেকে আরেকপ্রান্ত আকাশবাণীতে গান গাইতে নিয়ে যান। বিয়ের পর বন্ধুর মতো অনুপ্রেরণা জুগিয়ে যাচ্ছেন স্বামী।
সঙ্গীতকে হৃদয়ে ধারণ করে কলকাতা তথ্য সাংস্কৃতিক বিভাগ, নজরুল একাডেমি, চুরুলিয়া নজরুল একাডেমি, কলকাতা অগ্নিবীণা একাডেমির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন মাধবী মজুমদার। দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন চ্যানেল এবং মঞ্চ দুটোতেই। পাশাপাশি গান লিখেছেন ৩৫-৪০টির মতো। কিছু গানে সুর করেছেন। ভবাপাগলার কথায় জনপ্রিয় শিল্পী হৈমন্তী শুক্লার গাওয়া ‘জীবনের শেষ দিনটির কথা মনে পড়ে যায়’ গানেরও সুর করেছেন মাধবী। আধ্যাত্মিক এই গানের কথার রেশ ধরে বললেন, সত্যিই আমরা কোথায় ছিলাম, কোথায় যাব? যখন আমি হাসছি, একই সময়ে হয়তো অন্য কেউ কাঁদছে, প্রতিনিয়ত আমাদের জীবনের ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো আমাকে অবাক করে।
বাংলাদেশের প্রিয় শিল্পী প্রসঙ্গে তিনি জানান, এখানের শিল্পীরা অনেক ভালো গান করেন। তাই আমি বাংলাদেশ থেকে প্রতিবারই নিতে আসি। ফাতেমা-তু-জোহরা আমার প্রিয় শিল্পী। এ ছাড়া ফিরোজা বেগম, বুলবুল মহলানবীশ, ফেরদৌসী রহমান আমার অনেক পছন্দের শিল্পী। আর পশ্চিমবঙ্গের প্রিয় শিল্পীদের তালিকায় রয়েছেন শ্রীকান্ত আচার্য্য, কৃষ্ণা মজুমদার, হৈমন্তী শুক্লা, শ্রাবণী সেন প্রমুখ।
যারা গানকে ভালোবেসে, হৃদয়ে ধারণ করে পথ চলতে চান তাদের উদ্দেশ্যে মাধবী মজুমদার বলেন, মনের পিপাসা গানের সঙ্গে শেয়ার কর। গানকে ভালোবেসে গান গেয়ে যাও। গান হোক অন্তর্মুখী বন্ধু। গানই হোক সর্বশ্রেষ্ঠ সাধনা।