প্রেমে সাড়া না দেয়ায় ছাত্রীকে হাতুড়িপেটা

আগের সংবাদ

জুয়াড়িদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় আকসু

পরের সংবাদ

অতিদারিদ্র্য শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার টার্গেট

প্রকাশিত হয়েছে: মে ২৬, ২০১৯ , ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: মে ২৬, ২০১৯, ২:৫১ অপরাহ্ণ

Avatar

রূপকল্প-২০২১ এর আলোকে অতিদারিদ্র্যের হার শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার টার্গেট নির্ধারণ করেছে সরকার। সেই সঙ্গে দারিদ্র্যের হার ১৩ শতাংশের নিচে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে আগামী বাজেটে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে সামাজিক নিরাপত্তা খাত। বর্তমানে এই সেবার আওতায় রয়েছেন ১ কোটি জনগণ। আগামী বাজেটে দেশের প্রায় সব হতদরিদ্র জনগণকে সামাজিক সুরক্ষা বলয়ের আচ্ছাদনে নিয়ে আসা যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইতোমধ্যে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বয়স্ক, বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত নারী, প্রতিবন্ধী, দুস্থ নারী, দরিদ্র অন্তঃসত্ত্বা মা, চা শ্রমিক, হিজড়া, দলিত সম্প্রদায় এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের আর্থিক সহায়তা দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া সারা দেশে ওপেন মার্কেট সেল (ওএমএস), ভালনারেবল গ্রুপ ডেভেলপমেন্ট (ভিজিডি), ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং (ভিজিএফ), টেস্ট রিলিফ (টিআর), কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) এবং প্রোগ্রাম ফর ফ্রেন্ডলি ফুডসহ বেশ কিছু কর্মসূচিও রয়েছে। গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৩৫ লাখ দরিদ্র মানুষের মধ্যে বয়স্ক ভাতা বাবদ ২ হাজার ১শ’ কোটি টাকা বিতরণ করেছে সরকার। প্রতি মাসে একজন বয়স্ক নাগরিক পান ৫শ’ টাকা। ৭’শ ৫৯ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে ১২ লাখ ৬৫ হাজার বিধবা এবং স্বামী পরিত্যক্ত নারীর মধ্যে। ৫ লাখ মাকে মাতৃত্বকালীন ভাতা দেয়া হয়েছে ৩৬০ কোটি টাকা। আড়াই লাখ কর্মজীবী ল্যাকটেটিং (গর্ভবতী ও দুগ্ধদায়ী) মাকে সহায়তা হিসেবে দেয়া হয়েছে ২৪৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ৪০ হাজার চা শ্রমিকের জীবন মান উন্নয়নে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ২০ কোটি টাকা। ৬৯৩ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে ৮ লাখ ২৫ হাজার প্রতিবন্ধী মানুষের মধ্যে। অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে ২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা, শহীদ পরিবার ও যুদ্ধাহত মক্তিযোদ্ধাদের জন্য রেশন দেয়া হয়েছে ৩৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা। চর, হাওর ও পশ্চাৎপদ এলাকার উন্নয়নে বিশেষ সহায়তায় বরাদ্দ ছিল ২০০ কোটি টাকা।
জানা গেছে, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে আরো গতিশীল করার জন্য ১৪৫টি খাতকে চিহ্নিত করেছে সরকার। এরমধ্যে আগামী বাজেটে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা ভাতা, ভিজিডি কার্যক্রম, মাতৃত্বকালীন ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তিতে বরাদ্দ বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এ ব্যাপারে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান ভোরের কাগজকে বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নই সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ। একদিকে দারিদ্র্যের হার কমিয়ে আনা যেমন জরুরি, তেমনি অতিদরিদ্র মানুষকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনা প্রয়োজন। আসন্ন বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে সরকারের বিশেষ দৃষ্টি রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, আগামী পাঁচ বছরে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নকেই সবচেয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এ কারণে দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সরকারকে সফল হতে হলে সামাজিক নিরাপত্তার বেষ্টনী আওতায় বাড়ানোর বিকল্প নেই। দেশের অতিদরিদ্র মানুষকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনতে সরকারের ২৮টি মন্ত্রণালয় ১৪২টি কর্মসূচির মাধ্যমে অবহেলিত, অক্ষম এবং নিঃস্ব জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তার জন্য কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সারা দেশে প্রায় ১৭ হাজার কমিউনিটি হেলথ ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন এবং বিনামূল্যে ৩০ ধরনের ওষুধ বিতরণ, ১০ বছরে প্রায় ৩ কোটি দরিদ্র শিক্ষার্থীদের (উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত) মধ্যে ৫ হাজার ৩১৩ কোটি ৩০ লাখ ৯০ হাজার টাকা উপবৃত্তি দেয়া, দারিদ্র্যপীড়িত এলাকায় ১ কোটি শিক্ষার্থীর মধ্যে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি অব্যাহত রাখা এবং ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের ছোঁয়ায় বদলে গেছে সুবিধাবঞ্চিত দেড় কোটি মানুষের জীবন। আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে ঘর পেয়েছেন ২ লাখ ৬৪ হাজার গৃহহীন পরিবার। সেইসঙ্গে তাদের প্রশিক্ষণ, পুনর্বাসন এবং জীবিকার ব্যবস্থা করেছে সরকার। এ ছাড়া ১২ হাজার ৯৫৬টি পল্লী মাতৃস্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত নারীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, মা ও শিশুর যত্নের পাশাপাশি সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণও দেয়া হচ্ছে।
এদিকে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সম্প্রতি (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে ‘জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ বিল, ২০১৯’। দারিদ্র্যবিমোচন ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ ও অনুমোদন করাই এই পরিষদের কাজ। এই পরিষদের মাধ্যমে নারী, শিশু, অনগ্রসর, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃগোষ্ঠী, বৃদ্ধিপ্রতিবন্ধী, দুর্যোগ-নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত বস্তিবাসী, চা-বাগান শ্রমিকসহ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে আর্থিক অনুদান দেয়া হবে। এ ব্যাপারে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ বলেন, বর্তমান দেশের অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর হার শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে সরকার বদ্ধপরিকর। আগামী এক বছরের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি মানুষকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।