বিশ্বকাপের আগে জুয়াড়িদের আইসিসির হুঁশিয়ারি

আগের সংবাদ

এবার মমতার পদত্যাগের সিদ্ধান্তে তৃণমূলের না

পরের সংবাদ

ঠাকুরগাঁওয়ে রাস্তায় ধান ছিটিয়ে কৃষকের বিক্ষোভ

প্রকাশিত হয়েছে: মে ২৫, ২০১৯ , ৭:২৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: মে ২৫, ২০১৯, ৭:২৩ অপরাহ্ণ

অনলাইন প্রতিবেদক

ঠাকুরগাঁওয়ে ধানের মণ ৩০০ টাকা হওয়ার প্রতিবাদ ও কৃষি ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবিতে ঠাকুরগাঁওয়ে সড়ক অবরোধ করে ধান ছিটিয়ে বিক্ষোভ করেছে কৃষক ক্ষেতমজুর সংগ্রাম পরিষদ ঠাকুরগাঁও জেলা শাখা। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ঠাকুরগাঁও-ঢাকা মহাসড়কের খোঁচাবাড়ি এলাকায় ধান ছিটিয়ে এ বিক্ষোভ করেন কৃষকেরা। এ সময় ঠাকুরগাঁও-ঢাকা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ-সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- ঠাকুরগাঁও সদর থানা সিপিবির সভাপতি আহসানুল হাবিব বাবু, জেলা উদীচীর সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ানুল হক রিজু, কৃষক সমিতির নেতা এরশাদুল ও সাইফুল প্রমুখ।

সমাবেশে কৃষকেরা বলেন, বর্তমানে ঠাকুরগাঁওয়ের হাট-বাজারগুলোতে প্রতি মণ ধান ৩০০-৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ প্রতি মণ ধান উৎপাদনে খরচ পড়েছে ৬০০-৬৫০ টাকা। এভাবে ধানের দাম প্রতিবার কম পাওয়ায় আমরা লোকসানে পড়ি। বর্তমানে ৮ টাকা কেজি দরে ৩২০০ টাকা ধানের মণ বিক্রি করতে হয় আমাদের। এভাবে চলতে থাকলে আমরা আর ধান চাষ করব না।

এ সময় বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ধানের বিক্রয় মূল্য উৎপাদন খরচের থেকে কম হওয়ায় কৃষকরা মারাত্মক সঙ্কট ও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। বিভিন্ন জায়গায় কৃষক নিজের ধানক্ষেতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছেন। আজ কৃষক পথে নেমেছেন। তাই সরকারকে ন্যায্যমূল্যে ধান ক্রয় করে কৃষককে বাঁচাতে হবে।

জানা যায়, ঠাকুরগাঁওয়ের চলতি বোরো মৌসুমে ধানের ন্যাযমূল্য না পাওয়ায় হতাশায় দিন পার করছেন চাষিরা। ধান বিক্রি করে লাভ তো দূরের কথা আসল টাকাও তুলতে পারছেন না এমন অভিযোগ চাষিদের। এমনকি বাজারে ধানের চাহিদা না থাকায় কাঁচা ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। ধান চাষ করে খরচ না ওঠায় নীরবে কাঁদছেন কোনো কোনো কৃষক। কেউ কেউ বলছেন এমন জানলে ধান চাষ করতাম না। কারণ ৮ টাকা কেজি দরে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে কৃষকদের।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আফতাব হোসেন বলেন, ধান উৎপাদনের জন্য সব উপাদন সময় মতো পাওয়ায় ও কৃষি বিভাগের পরামর্শে চাষিদের ধান উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বর্তমান বাজারে ধানের যে দাম তাতে চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব ধান শুকিয়ে সংরক্ষণ করলে পরে লাভবান হতে পারে কৃষকরা।