হঠাৎ বিয়ের ধুম

আগের সংবাদ

সাকিবের লক্ষ্য শিরোপা

পরের সংবাদ

চট্টগ্রামের গানের ভুবনে আলোচনায় মুন্নী

প্রকাশিত হয়েছে: মে ২৫, ২০১৯ , ৪:১২ অপরাহ্ণ | আপডেট: মে ২৫, ২০১৯, ৪:১২ অপরাহ্ণ

Avatar

চট্টগ্রামের এ সময়ের জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পীদের তালিকায় সোনিয়া হায়দার মুন্নী নামটি বেশ আলোচিত। ইতোমধ্যে ‘তোমাকে চায় মন’ শিরোনামে তার একটি একক অ্যালবাম বের হয়েছে। দুটি মিক্সড অ্যালবামে ঠাঁই পেয়েছে একাধিক গান। সেই সঙ্গে মিউজিক ভিডিও হয়েছে তিনটি গানের। এর মধ্যে এফ এ সুমনের সঙ্গে গাওয়া ডুয়েট গান ‘সুখ পাখি তোর প্রেমে’ গানটি শ্রোতামহলে বেশ সমাদৃত হয়েছে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত একক সঙ্গীত সন্ধ্যায় তার পরিবেশনা মুগ্ধ করেছে সব বয়সী দর্শক-শ্রোতাকে। আগামী কিছু দিনের মধ্যেই বাজারে আসবে তার নতুন কিছু গান।
চট্টগ্রামের হালিশহরের বি ব্লকে পৈতৃক বাড়িতেই জন্ম ও বেড়ে ওঠা মুন্নীর। পাঁচ বছর বয়সে সঙ্গীতে হাতেখড়ি মা কানিজ ফাতেমার কাছে। খুব ছোটবেলা থেকেই যে কোনো ধরনের গান শুনে শুনে শিখে ফেলতেন তিনি। এই ঝোঁক দেখে বাবা-মা তাকে গান শেখানোর সিদ্ধান্ত নেন। প্রথমে রণজিত রায় চৌধুরীর কাছে গান শেখেন মুন্নী। এরপর দীর্ঘদিন ওস্তাদ মিহির লালার কাছে ক্লাসিক্যাল এবং ওস্তাদ জয়ন্তী লালার কাছে নজরুল সঙ্গীতের তালিম নেন। এরপরও থামেনি তার গান শেখা। সৈয়দ আনোয়ার মুফতির কাছে আধুনিক গানের তালিম নেয়ার পর ওস্তাদ আব্দুর রহিমের কাছে ফোক গান শেখেন তিনি। এরই মধ্যে আঞ্চলিক গানের প্রতি টান তৈরি হয় তার। সেই টান থেকেই আঞ্চলিক গানের রানী শেফালী ঘোষের হাজারো জনপ্রিয় গানের গীতিকার সুরকার নুরুল আলমের কাছে দীর্ঘদিন আঞ্চলিক গানের তালিম নেন এই শিল্পী।
শেখার পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই রেডিও-টেলিভিশন ও মঞ্চে গান পরিবেশনের সুযোগ হয় তার। ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ বেতারের চট্টগ্রাম কেন্দ্রের শিশু-কিশোর মেলায় প্রথম তার গান প্রচারিত হয়। নজরুল সঙ্গীত শিল্পী হিসেবে ১৯৯৩ সালে বেতারের চট্টগ্রাম কেন্দ্রে তালিকাভুক্ত হন মুন্নী। ১৯৯৮ সালে নজরুল সঙ্গীত ও ফোক গানে তালিকাভুক্ত হন বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রে। সেই থেকে প্রায় প্রতি মাসেই বেতার ও টিভিতে গান পরিবেশন করেন তিনি।
এ ছাড়া বিভিন্ন সময় সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে বেশ কিছু পুরস্কার অর্জন করেছেন মুন্নী। ১৯৯০ সালে খেলাঘর আসর আয়োজিত সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় দেশের গান ও পল্লীগীতিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। ১৯৯৪ সালে শিঞ্জিনী শিল্পী গোষ্ঠী আয়োজিত সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় লালনগীতিতে প্রথম হন। ১৯৯৬ সালে শিশু থিয়েটার আয়োজিত সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় দেশের গান ও পল্লীগীতিতে প্রথম এবং নজরুল সঙ্গীতে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন মুন্নী। ১৯৯৭ সালে সুর ও স্বরলিপি সঙ্গীত নিকেতন আয়োজিত সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় আধুনিক গানে প্রথম হন। ১৯৯৮ সালে ঘাসফুল আয়োজিত সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় নজরুল সঙ্গীতে প্রথম স্থান এবং লালন গীতিতে দ্বিতীয় পুরস্কার লাভ করেন। বর্তমানে গানের পাশাপাশি শাহ আমানত শিশু নিকেতনে শিক্ষকতা এবং সুরবীনা সঙ্গীত নিকেতন পরিচালনা করেন তিনি।
প্রতিশ্রুতিশীল এই শিল্পী মনে করেন, যে কোনো ধরনের গানই হোক না কেন গান গাওয়ার আগে তাকে অবশ্যই ভালোভাবে শিখতে হবে। একজন স্কুলছাত্র বা ছাত্রী যখন স্কুলে ভর্তি হয় তার শুরুটা হয় স্বরবর্ণ, ব্যঞ্জন বর্ণ দিয়ে। অক্ষর চেনার পরই সে শব্দ গঠন করতে পারে। তারপরই সে বলতে, পড়তে ও লিখতে পারে। তেমনি সা রে গা মা পা না শিখে গান গাওয়াটাকে ঠিক গাওয়া বলে মনে হয় না। ক্লাসিক্যাল হচ্ছে একজন শিল্পীর মূল ভিত্তি।
চার ভাই বোনের মধ্যে তৃতীয় এই শিল্পী সংসার জীবনে এক কন্যা সন্তানের জননী।

বিষয়: