শাহীন ১১ নামের ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে পাকিস্থান

আগের সংবাদ

ঈদের ছুটিতে এটিএম বুথে পর্যাপ্ত টাকা রাখার নির্দেশ

পরের সংবাদ

রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা কমলেও, পূরণ কঠিন হবে

প্রকাশিত হয়েছে: মে ২৩, ২০১৯ , ৪:১৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: মে ২৩, ২০১৯, ৪:১৮ অপরাহ্ণ

Avatar

চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা কমানো হয়েছে। তবে মাত্র ১৬ হাজার ১৩৮ কোটি টাকা কমিয়ে যে নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে সেটি অর্জনও কঠিন হবে বলে মনে করছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তারা। অর্থ মন্ত্রণালয় চলতি অর্থবছরের জন্য মাত্র ১৬ হাজার ১৩৮ কোটি টাকা বা মূল লক্ষ্যমাত্রার ৫.৪৫ শতাংশ কমিয়ে রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে দুই লাখ ৮০ হাজার ৬৩ কোটি টাকা। যদিও এনবিআর অনুরোধ করেছিল ৫০ হাজার কোটি টাকা কমাতে। এর আগের লক্ষ্যমাত্রা ছিল দুই লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি টাকা। তবে লক্ষ্যমাত্রা কমলেও এনবিআরের কর্মকর্তারা বলছেন, অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) রাজস্ব সংগ্রহের পরিমাণ লক্ষ্যমাত্রার থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকারও কম ছিল। যার কারণে নতুন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ কঠিন হবে। সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা গত অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৩৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এনবিআরের পরিসংখ্যান বিভাগ ইতোমধ্যে শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং আয়কর শাখার মধ্যে নতুন লক্ষ্যমাত্রা ভাগ করে দিয়েছে। কর কর্মকর্তারা চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে ৭.১১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় সংশোধিত লক্ষ্যটিকে একটি উচ্চাভিলাষী বলে অভিহিত করেছেন।
তারা বলেন, আয়কর, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও কাস্টমস উইংসগুলো জুলাই-মার্চ মাসে মাসে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪১৯ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে মাত্র ১ লাখ ৩ হাজার ৮৪৪ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করেছে। যার ফলে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজার ৪৫৫ কোটি টাকা। সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, কর কর্মকর্তাদের অর্থবছরের অবশিষ্ট তিন মাসে ১ লাখ ২৬ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে হবে যার অর্থ তাদের প্রতি মাসে ৪২ হাজার ২১৪ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে হবে। যদিও গত দুই মাসে রাজস্ব সংগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে এ হারে রাজস্ব সংগ্রহের পূর্ববর্তী কোনো উদাহরণ নেই।
এনবিআর জানায়, গত অর্থবছরের মে এবং জুনে মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছিল যথাক্রমে ১৮ হাজার ২৩৮ কোটি টাকা এবং ২৬ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকা। ২০১৯ সালের মার্চ মাসে রাজস্ব সংগ্রহের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৯ হাজার ৯৫৮ কোটি টাকা। সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, ভ্যাট উইংস সর্বোচ্চ ১ লাখ ৪ হাজার ৬ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। আয়কর বিভাগ সংগ্রহ করবে ৯৬ হাজার ৬৩২ কোটি টাকা। গত বছরের সংগ্রহের তুলনায় শুল্ক বিভাগকে প্রায় ২৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭৯ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে হবে। গত বছর ভ্যাট, আয়কর ও কাস্টমস ডিউটি ??সংগ্রহের পরিমাণ ছিল ৭৮ হাজার ৮৯৪ কোটি, ৬৫ হাজার ৬৯৫ কোটি এবং ৬১ হাজার ৮১৮ কোটি টাকা।
তবে এনবিআরের সিনিয়র কর্মকর্তারা বলেন, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে তারা সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে। গত ১৩ মে এনবিআর আয়কর, কাস্টমস এবং ভ্যাট উইংসের পাঁচজন সিনিয়র সদস্যকে নিয়ে রাজস্ব সংগ্রহ এবং মাঠ পর্যায়ের অফিসের নজরদারি কার্যক্রম দ্রæততর করার জন্য একটি কমিটি গঠন করে। কমিটি বিরোধ নিষ্পত্তি এবং বকেয়া আদায়সহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এনবিআর এ ছাড়াও কমিটিকে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জমা বন্ধ করার ক্ষমতা দিয়েছে। কমিটির সদস্যরা স্থানীয় অফিসগুলো পরিদর্শন করবে। এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূইয়া গত সপ্তাহে এনবিআর এবং অর্থমন্ত্রীর মধ্যে একটি বৈঠকে বলেন, রাজস্ব সংগ্রহের গতি মে এবং জুনে মাসে বাড়বে। কারণ এই সময় করদাতারা আগাম আয়কর পরিশোধ করবে, সরকার তার উন্নয়ন কাজের ঠিকাদারের বিল পরিশোধ করবে এবং ব্যবসায়ীরা আমদানি বিল পরিশোধ করবে।