মুজিব বর্ষ উদযাপনে মাভাবিপ্রবির বিভিন্ন কর্মসুচি গ্রহণ

আগের সংবাদ

আগামীকাল বসছে পদ্মা সেতুর ১৩তম স্প্যান

পরের সংবাদ

জামদানি যেন তাঁতে লেখা কবিতা!

প্রকাশিত হয়েছে: মে ২৩, ২০১৯ , ৩:৩২ অপরাহ্ণ | আপডেট: মে ২৩, ২০১৯, ৩:৩২ অপরাহ্ণ

Avatar

জামদানি শাড়ি। বাঙালির গৌরবের যে মসলিন সারা বিশ্বের বিস্ময়, জামদানি তার উত্তরাধিকার। বাংলার এ এক অনবদ্য সাংস্কৃতিক নিদর্শন। জামদানি পৃথিবীর বয়নশিল্পের ধারাবাহিকতায় আধুনিক যুগের কিংবদন্তি হয়ে উঠেছে। ইউনেস্কো জামদানিকে ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ অফ হিউম্যানিটি’ ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের গর্ব জামদানি প্রথম ভৌগোলিক পণ্য হিসেবেও স্বীকৃতি পেয়েছে। এ শাড়ির নকশার ছন্দে, রংয়ের বিন্যাসে যেন ফুটে ওঠে তাঁতে লেখা কবিতা। আর তাই জামদানি শাড়ির প্রতি নারীর টানও দুর্নিবার।
ঈদের সময় জামদানির নতুন নতুন নকশা নিয়ে হাজির হন তাঁতিরা। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে শুরু হয় প্রদর্শনী। এ ছাড়া সব শাড়ির দোকানেই জামদানি শাড়ি পাওয়া যায়। তবে ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট, বেইলি রোডে জামদানির কালেকশন বেশি।
এবারো ঈদকে সামনে রেখে বাঙালির আদরের জামদানি নিয়ে শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা প্রাঙ্গণে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) আয়োজনে শুরু হয়েছে জামদানি প্রদর্শনী। ২৫ মে পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দর্শনার্থী ও ক্রেতাসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
গতকাল উত্তরা থেকে এই প্রদর্শনী ঘুরে দেখতে এসেছিলেন ইয়াসমীন মুন্নি নামের এক গৃহিণী। একাই ৪টি শাড়ি কেনেন তিনি। কেন? জানতে চাইলে বলেন, প্রিয়জনদের উপহার দেব। তা ছাড়া জামদানি তো আমাদের ঐতিহ্য। এর চেয়ে আভিজাত্য কোথায় পাবেন আপনি? এ কারণেই যানজট উপেক্ষা করে চলে এসেছি। সামনে ঈদ। ঈদে জামদানির চেয়ে বড় গিফট তো হয় না।
কথা হলো রূপগঞ্জের নোয়াপাড়া থেকে আসা জামদানি ব্যবসায়ী শাহ আলমের সঙ্গে। ভোরের কাগজকে তিনি বলেন, ঈদকে সামনে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন। সুতা, রেশম, রংসহ প্রয়োজনীয় উপকরণের দাম দিন দিন বাড়ছে। আগে ৫০০-১০০০ টাকার উপকরণ কিনে কারিগর খরচ দিয়ে শাড়ি তৈরি করে ৫০০০ টাকায় বিক্রি করলে দেড় থেকে ২ হাজার টাকা লাভ হতো। কিন্তু এখন উপকরণের দাম বৃদ্ধি এবং কারিগর খরচ বাড়ায় তেমন মুনাফা হচ্ছে না। আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে আগামীতে আর ভালোমানের জামদানি তৈরি করা সম্ভব হবে না।
মৌসুমী জামদানির মালিক সবুজ মিয়া খুব গর্ব করেই বললেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও আমার কাজ পছন্দ করেছিলেন এবং আমাদের তৈরি কলিজা কালারের একটা জামদানি কিনেছিলেন। তিনি বলেন, নানা প্রতিক‚লতার মাঝেও জামদানি উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছি। জামদানির জন্য ব্যাংক লোনসহ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে জামদানি শিল্পের প্রসার ঘটানো যাবে না। ক্রেতারা বুঝতেই চান না এর দাম কেন এত বেশি। আগে একটি শাড়ি বুনিয়ে যে টাকা পেতাম, তাতে ভালোভাবেই সংসার চলে যেত। বর্তমানে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
অবশ্য মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া থানার বাউশিয়া গ্রামের প্রণীতা সরকার বলেন ভিন্ন কথা। ১৫ বছর ধরে তিনি এ পেশায়। বিসিকসহ বিভিন্ন ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ফেয়ারে অংশ নিয়ে তিনি শ্রেষ্ঠ নারী উদ্যোক্তা হিসেবে পুরস্কারও জিতেছেন। তার এই সফলতার পেছনে রয়েছে পরিশ্রম, একাগ্রতা আর এসএমই ঋণ সহায়তা। একটা শো-রুম দিয়ে শুরু করেছিলেন, বর্তমানে তার ৪টি শো-রুম, ২২ জন কর্মচারী এবং ১৪ জন তাঁতি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে তার স্বপ্নের গাড়ি। প্রণীতা সরকার জানান, এই মেলায় এসে বেশ সাড়া পাচ্ছেন। বিক্রিও হচ্ছে বেশ।