মোদিকে অভিনন্দন জানালেন রাহুল

আগের সংবাদ

মোদিকে অভিনন্দন জানালেন ইমরান খান

পরের সংবাদ

ঈদের ট্রেনের টিকেট বিক্রিতে অব্যবস্থাপনা

ঘুরমুখো মানুষের দুর্ভোগ আর নয়

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: মে ২৩, ২০১৯ , ৭:২৩ অপরাহ্ণ

দক্ষ জনবল সংকটের কারণে যাত্রীদের কাক্সিক্ষত সেবা দিতে পারছে না রেলওয়ে। গত কয়েক বছরে নানা উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হলেও লোকবল সংকটে যাত্রীরা সেভাবে সেবা পাচ্ছেন না। আসছে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে যাত্রীসেবা বাড়াতে এবারই প্রথম কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের বাইরে চারটি জায়গা থেকে টিকেট বিক্রির ব্যবস্থা রাখার পাশাপাশি ই-টিকেটিংয়ের জন্য ৫০ শতাংশ টিকেট বরাদ্দ রাখা হয়েছিল।

সে অনুযায়ী বুধবার সকাল থেকে টিকেট বিক্রির মাধ্যমে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কিন্তু সকাল থেকেই রেলওয়ের ওয়েবসাইট বা অ্যাপ ব্যবহার করে টিকেট কাটতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেন অনেকে। ই-টিকেট সংগ্রহ করতে না পেরে সকালে অনেকেই ছুটছেন স্টেশনের দিকে। কমলাপুর স্টেশনে কাউন্টারে আগের রাত থেকে অপেক্ষমাণ টিকেট প্রত্যাশীদের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন তারা। এমন অবস্থা যদি থাকে ঈদে ঘুরমুখো মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে।

ঈদের আগে এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই কাম্য নয়। জানা গেছে, ঈদকে সামনে রেখে সৈয়দপুর ওয়ার্কশপে জোর কদমে চলছে জোড়াতালির কাজ। কিন্তু কর্মী সংকট, অপ্রতুল বাজেট ও পর্যাপ্ত যন্ত্রাংশ না থাকায় এ টার্গেট পূরণে হিমশিম খাচ্ছে ওয়ার্কশপগুলো। প্রতি মাসে সৈয়দপুরে ২৬টি যাত্রীবাহী কোচ ও ২৫টি ওয়াগন মেরামতের লক্ষ্যমাত্রা থাকে। প্রতি ঈদে যাত্রীসেবার বিষয়টি মাথায় রেখে কোচ মেরামতের লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয়।

তবে এখানে জনবল সংকট ও অর্থের অপ্রতুলতা রয়েছে। ৩ হাজার ১৭১ জন কর্মীর মধ্যে এখানে রয়েছে মাত্র ১ হাজার ১৮০ জন। এত অল্প কর্মী নিয়ে কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে। সে কারণে টার্গেট কতটা পূরণ হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। অভিযোগ আছে, রেলে যথাসময়ে নতুন লোক নিয়োগ না দিয়ে একটি কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে। অবসরপ্রাপ্তদের যাতে চুক্তিতে নিয়োগ দেয়া হয় সেটাই এ সংকট সৃষ্টির উদ্দেশ্য।

রেলে এ সংস্কৃতি চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। এর পেছনে রয়েছে অবৈধ অর্থবাণিজ্য। এতে একদিকে রেলে নতুন দক্ষ লোক সৃষ্টি হচ্ছে না, অন্যদিকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের কারণে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রেলওয়ে। কারণ চুক্তিতে নিয়োগপ্রাপ্তদের নিয়মিতদের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ ভাতা দিতে হয়। এভাবে রেলওয়ের লোকসানের বোঝা ক্রমেই বাড়ছে।

সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক, এর ফলে উপেক্ষিত হচ্ছে জনস্বার্থ। সারাদেশে মহাসড়কে বেহাল দশায় সড়কপথের যাত্রীরা রেলের দিকে ঝুঁকছে। আসন্ন ঈদ উপলক্ষে এই চাপ আরো বাড়বে। রেলকে আধুনিক করা হচ্ছে। কিন্তু দক্ষ লোকবল না থাকলে তা সচল রাখা কঠিন হবে।

বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে রেল যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করতে পারে। এই ক্ষেত্র থেকে দুর্নীতি ও অব্যবস্থার অবসানের লক্ষ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার।