মহাকাশে নজরদারি বাড়াতে ভারতের রিস্যাট-২বি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ

আগের সংবাদ

রূপকার ফিরছেন আগামীকাল

পরের সংবাদ

কার্বন নিঃসরণ

বাংলাদেশের বড় অংশ তলিয়ে যাবে

প্রকাশিত হয়েছে: মে ২২, ২০১৯ , ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: মে ২২, ২০১৯, ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ

Avatar

বিশ্বে কার্বন নির্গমন যেভাবে চলছে তা কমানো না গেলে এখন থেকে আর ৮০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের বড় একটি অংশ সাগরের পানির নিচে চলে যেতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক এক নতুন প্রতিবেদনে জানা গেছে এ তথ্য।
গ্রিনল্যান্ড ও অ্যান্টার্কটিকায় জমে থাকা বরফ গলার হার বেড়ে যাওয়ার কারণে জলবায়ু পরিবর্তনে সাগরে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি যতটা হবে বলে আগে ধারণা করা হয়েছিল, বাস্তবে তার চেয়ে পানির স্তর অনেক বেশি বাড়বে বলে সতর্ক করছেন বিজ্ঞানীরা। এর ফলে ৮০ লাখ বর্গ কিলোমিটার পরিমাণ ভূমি সাগরের পানিতে তলিয়ে যাবে। এর মধ্যে থাকবে বাংলাদেশ এবং মিসরের নীলনদ উপত্যকার বড় একটি অংশ। বাংলাদেশের অনেক এলাকায় তখন লোকজনের বসবাস দুরূহ হয়ে পড়বে। এতদিন বিজ্ঞানীরা বলছিলেন, ২১০০ সাল নাগাদ বিশ্বে সাগরপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়বে এক মিটারের কাছাকাছি। কিন্তু এখন বলা হচ্ছে ওই হিসেব ছিল অনেক ‘রক্ষণশীল’। নতুন জরিপে বলা হচ্ছে, সমুদ্রের পানির উচ্চতা বাড়তে পারে এর প্রায় দ্বিগুণ। এতে বিপন্ন হবে লন্ডন, নিউইয়র্ক এবং সাংহাইয়ের মতো অনেক শহরের অস্তিত্ব। যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রসিডিংস অব দি ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস’ নামে শীর্ষস্থানীয় এক জার্নালে জরিপের এ ফল প্রকাশ হয়। এর লেখকরা বলছেন, এখনো সময় আছে যদি আগামী কয়েক দশকে কার্বন নির্গমন কার্যকরভাবে কমানো যায়। বর্তমান হারে কার্বন নির্গমন চলতে থাকলে ভবিষ্যতের পৃথিবী হতে এখনকার চেয়ে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণতর হবে। তাহলে ২১০০ সাল নাগাদ সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বাড়বে ৬২ সেন্টিমিটার থেকে ২৩৮ সেন্টিমিটার পর্যন্ত। এর আগে ২০১৩ সালের রিপোর্টে বলা হয়েছিল, সমুদ্রস্তরের উচ্চতা ৫২ থেকে ৯৮ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে।
গবেষণা দলের নেতা ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জোনাথন বামবার বলেন, ২১০০ সাল পর্যন্ত সাগরপৃষ্ঠের উচ্চতা ৭ থেকে ১৭৮ সেন্টিমিটারের মতো বাড়তে পারে বলে আগে ধারণা করা হতো। কিন্তু সাগরের উষ্ণতা বাড়ায় হিমবাহ ও বরফের স্তরের বাইরের চ‚ড়া গলে যেতে থাকায় এটা দুই মিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে।
তিনি বলেন, এর ফলে বিশ্বের ১৭ লাখ বর্গকিলোমিটার ভ‚মি হারিয়ে যেতে পারে, যা আকারে প্রায় লিবিয়ার সমান। এ অবস্থায় ১০ লাখ শরণার্থী ইউরোপে চলে আসতে পারেন। সামনের বছরগুলোয় তাপমাত্রা নিঃসরণ রোধে বড় ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হলে এ পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব।