কুলিয়ারচরে ট্রাকচাপায় নিহত ১

আগের সংবাদ

আমরা কী খাচ্ছি?

পরের সংবাদ

ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা

জেলেদের সহায়তা না দিলে কার্যকর করা কঠিন

প্রকাশিত হয়েছে: মে ২২, ২০১৯ , ৮:৫১ অপরাহ্ণ | আপডেট: মে ২২, ২০১৯, ৮:৫১ অপরাহ্ণ

অনলাইন প্রতিবেদক

২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিন বঙ্গোপসাগরে সামুদ্রিক মাছ আহরণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। সাধারণভাবে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম হিসেবে ধরা হয় এই সময়কে। ঝাঁকে ঝাঁকে ডিমওয়ালা মা ইলিশ সাগর থেকে উপকূলীয় লোনা পানিতে এসে ডিম ছাড়ে। ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধি ও সংরক্ষণের জন্যই এ সময় ইলিশ মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। জেলেদের এ বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

এ ছাড়া মাইকিং, পোস্টার, ব্যানার, লিফলেট ও প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে জনসাধারণকেও সচেতন করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের শাস্তির কথা বলা হয়েছে। তারপরও মাছ ধরা চলছে, কারণ জেলেদের অভিযোগ, এই সময়টিতে জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা সরকারের কাছ থেকে পাচ্ছেন না। ফলে বেঁচে থাকার তাগিদে বাধ্য হয়ে তারা মাছ ধরছেন।

সরকারের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কঠোর আন্দোলন ও হাইকোর্টে রিট করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন জেলেরা। মৎস্যজীবীরা বলছেন, ৬৫ দিন বঙ্গোপসাগরে মাছ আহরণ বন্ধ থাকলে তাদের না খেয়ে থাকতে হবে। ওই সময় তাদের ভিক্ষা করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। এ ছাড়া সামনে ঈদ, এ সময় মাছ ধরতে না পারলে বোট মালিকরা ক্ষতির মুখে পড়বে। জেলেরা এ নিষেধাজ্ঞা কমিয়ে ৩০ দিন করার দাবি জানিয়েছেন।

গত ১৬ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এক মতবিনিময় সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু বলেন, মাছের মজুদ সংরক্ষণ সুষ্ঠু ও সহনশীল আহরণ নিশ্চিত করার স্বার্থেই এটা করা হচ্ছে। প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ মাছ রক্ষা অবশ্যই জরুরি একটি পদক্ষেপ। এ ক্ষেত্রে কঠোরতা আরোপের প্রয়োজন রয়েছে।

কোনো কোনো বছর প্রজনন মৌসুম যথাযথভাবে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে গলদ থাকার ফলে সংরক্ষণের সময় পার হওয়ার পরও ঝাঁকে ঝাঁকে ডিমওয়ালা মাছ ধরা পড়তে দেখা গেছে। এবার তাই সময় বাড়ানো হয়েছে, যা ইতিবাচক। আবার প্রজনন সময়ে জেলেদের ইলিশ আহরণ থেকে পুরোপুরি বিরত রাখাও অতীতে কখনোই সম্ভব হয়নি।

এ সময়ে জেলেদের জন্য বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা না করা হলে তাদের মাছ ধরা থেকে বিরত রাখা সম্ভব হবে কি না তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাবে। আমরা মনে করি এই ৬৫ দিন মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল দেশের উপকূলীয় এলাকার কয়েক লাখ জেলের জন্য বিকল্প আয়ের বা আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা খুবই দরকার।

এ ছাড়া দরকার এ ব্যাপারে গণসচেতনতা তৈরি করা; আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার পাশাপাশি স্থানীয় সচেতন মানুষের নজরদারি নিশ্চিত করা। এখন প্রস্তুতিমূলক এ কাজগুলোতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিশেষ নজর দেয়া উচিত। এর জন্য ইলিশ আহরণকারী, ব্যবসায়ী, ভোক্তা সবার সচেতন ও সংযমী ভূমিকা প্রত্যাশিত।