অ্যাপসের মাধ্যমে টিকিটসেবা দিতে না পারায় রেলপথমন্ত্রীর দুঃখপ্রকাশ

আগের সংবাদ

যেখান থেকে খালি হাতে ফেরে না কোনো রোজাদার

পরের সংবাদ

চশমা শিল্পে পিছিয়ে দেশীয় উৎপাদকরা

প্রকাশিত হয়েছে: মে ২২, ২০১৯ , ১:১৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: মে ২২, ২০১৯, ১:১৪ অপরাহ্ণ

Avatar

অত্যন্ত জরুরি একটি পণ্যের নাম চশমা। চোখের সমস্যার সমাধানে ওষুধ হিসেবে চশমা ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকেন ডাক্তাররা। এটাকে চিকিৎসার একটি অন্যতম জরুরি ওষুধ হিসেবে গণ্য করা হয়। আবার রোদের হাত থেকে চোখ নিরাপদ রাখতে ও ফ্যাশন অনুষঙ্গের অন্যতম উপকরণ হচ্ছে সানগ্লাস। অথচ প্রয়োজনীয় এ পণ্যটির দেশীয় চাহিদার প্রায় পুরোটাই আসে বাইরে থেকে। তবে আমদানিনির্ভর না থেকে দেশের চশমা শিল্পকে বিস্তৃত করতে উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশী।
বর্তমান সরকার ‘ব্যবসাবান্ধব’ মন্তব্য করে টিপু মুনশী বলেন, এমন জায়গায় আসতে হবে যেন আমাদের দেশের তৈরি চশমাটা ব্যবহার করা যায়। এতে আমাদের এত কষ্টের বৈদেশিক মুদ্রা অন্য দেশে যাবে না। এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আমদানিকৃত চশমার ৯০ শতাংশই মিথ্যা ঘোষণায় ও অবৈধ পথে আসে। রাজধানীর চকবাজার, জিঞ্জিরা, পাটুয়াটুলী এলাকার প্রায় ৪০ জন ব্যবসায়ী অবৈধভাবে এসব চশমা আনছেন। এতে প্রতি বছর প্রায় অর্ধকোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। বাংলাদেশ চশমা শিল্প ও বণিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, দেশে উৎপাদিত চশমার পরিমাণ এক থেকে দুই শতাংশ, বাকি ৯৮ শতাংশই আমদানিকৃত। তথ্য মতে, দেশে মেটাল চশমার কারখানা মাত্র একটি। যার উপকরণও বিদেশ থেকে আমদানি হয়ে আসে। দেশিয় উৎপাদন দ্বারা মাত্র দুই শতাংশ চাহিদা পূরণ হয়। দেশীয় প্লাস্টিক চশমা কারখানা রয়েছে হাতেগোনা কয়েকটি, যা থেকে মাত্র এক শতাংশ চাহিদা পূরণ হয়। সানগ্লাস ও রিডিং ফ্রেমের কোনো কারখানা নেই। চাহিদার শতভাগ আমদানির ওপর নির্ভরশীল।
বাংলাদেশ চশমা শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি সানাউল্লাহ খান ভোরের কাগজকে বলেন, সমিতির নিবন্ধিত সদস্য রয়েছে আড়াইশ। অথচ সারা দেশে প্রায় দুই হাজার চশমা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান আছে। আর চশমার কাঠামো আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা পঞ্চাশের বেশি। এ খাতটির সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত আছেন প্রায় এক লাখ মানুষ। প্রায় ২০০ কোটি টাকার বাজার আছে বলেও জানান তিনি। বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিদিনই নিত্যনতুন ডিজাইনের চশমা উৎপাদন করছে জানিয়ে সানাউল্লাহ খান বলেন, আমাদের সে ধরনের উন্নত প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষিত জনবল না থাকায় পারছি না। এ কারণে নিম্নমানসম্পন্ন চশমাই উৎপাদন করতে হচ্ছে। সরকারের সহযোগিতা, কম সুদে ব্যাংকঋণ প্রাপ্তি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতামুক্ত ব্যবসা করার সুযোগ দিলে এ খাতটি দেশের অর্থনীতিতে আরো বেশি অবদান রাখতে পারবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অন্যদিকে অভিযোগ আছে, আমদানি করা চশমার ক্ষেত্রে অনেক সময়ই অবিশ্বাস্য কম মূল্যে শুল্কায়ন করা হয়। যেমন: ২০০৯ সালে একবার মাত্র ১০ থেকে ১৫ সেন্টে (দেশীয় মুদ্রায় সাত থেকে ১০ টাকায়) আমদানি করা চশমার শুল্কায়নের ঘটনা চিহ্নিত করে কাস্টমস। চশমাশিল্পের ব্যবসায়ীরা জানান, চশমার প্লাস্টিক ফ্রেম, রিডিং ফ্রেম, গ্লাস, স্ক্রু সবই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। কিন্তু কাঁচামালের ওপর বাড়তি শুল্ক থাকায় দেশে চশমা তৈরির খরচ বেশি পড়ে যায়।
দেশে উৎপাদিত চশমা প্রতিযোগিতায় পেরে উঠতে পারছে না বলে শিল্পেরও বিকাশ হচ্ছে না। দেশের চশমার বাজারের ৯৬ শতাংশই আসছে বিদেশ থেকে। দেশে আমদানি করা চশমার ৯০ শতাংশই চীন থেকে আসে। এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি, ভারত, থাইল্যান্ড থেকেও চশমা আমদানি করা হয়।
শহরের আনাচে কানাচে গড়ে উঠেছে বাহারি চশমার দোকান। রাস্তায় অত্যন্ত কম দামে বিক্রি হচ্ছে চশমা। এ চশমার ৯০ শতাংশ মিথ্যা ঘোষণায় ও অবৈধ পথে আসে। রাজধানীর চকবাজার, জিঞ্জিরা, পাটুয়াটুলী এলাকার প্রায় ৪০ জন ব্যবসায়ী অবৈধভাবে এসব চশমা আনছেন। এতে প্রতি বছর প্রায় অর্ধকোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। এক শ্রেণির কাস্টমস কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে শতভাগ পরীক্ষা ছাড়াই এসব চশমা চলে আসছে। এতে বৈধ পথে চশমা আমদানিকারকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সানাউল্লাহ খান। তিনি বলেন, বহু বছর থেকে চীন থেকে অবৈধ পথে এসব চশমা দেশে চলে আসছে। এতে প্রতি বছর সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। আমদানি ছাড়াও স্থানীয় পর্যায়ে যেসব চশমা বিক্রি হয় তাতে কোনো ভ্যাট পায় না সরকার।