বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাখান ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতদের

আগের সংবাদ

দুবছরে সহস্রাধিক রোহিঙ্গা পাচার করে ইব্রাহিম চক্র

পরের সংবাদ

তৎপর বিজেপি, আশা ছাড়েনি বিরোধীরাও

সরকার গঠনে দৌড়ঝাঁপ

প্রকাশিত হয়েছে: মে ২১, ২০১৯ , ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: মে ২১, ২০১৯, ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ

Avatar

দেড় মাসের ভোটাভুটি পর্ব শেষ হলেও এখনই শেষ হয়নি দিল্লি দখলের লড়াই। ফল প্রকাশে এখনো দুদিনের অপেক্ষা। তার আগে বুথ ফেরত জরিপ নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। জরিপে মোদির দলের নিরঙ্কুশ জয়ের পূর্বাভাস দেয়া হলেও সে জরিপ প্রত্যাখ্যান করেছেন বিরোধীরা। যদিও বুথ ফেরত জরিপে জয়ের আভাস পেয়েই নতুন সরকার গঠনের লক্ষ্যে সঙ্গীদের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তুতি শুরু করেছে বিজেপি। আজ মঙ্গলবার বিকেলে জোটসঙ্গীদের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে তাদের। বিজেপির শীর্ষস্থানীয় সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানায় রয়টার্স। অন্যদিকে বুথ ফেরত জরিপের রায়ে কিছুটা হোঁচট খেলেও চ‚ড়ান্ত ফলাফলের ওপর ভরসা রেখেই সম্ভাব্য সরকার গঠনের আশা এখনো ছাড়েনি বিরোধীরা। নিজেদের মধ্যে মহাজোট গঠনের পাশাপাশি অন্যান্য দলের সঙ্গেও যোগাযোগ ও তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন তারা।
২৩ মের চ‚ড়ান্ত ঘোষণার ফল যদি সমীক্ষার সঙ্গে না মেলে, তখন কোন পথে হাঁটতে হবে তা নির্ধারণে পরিকল্পনায় ব্যস্ত রয়েছেন তারা। গতকালও কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী এবং ইউপিএ জোটের চেয়ারম্যান সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দবাবু নাইডু। এর আগে গত রবিবার বুথ ফেরত জরিপের ফল প্রকাশের পরপরই নয়াদিল্লিতে কংগ্রেসের এ দুই শীর্ষ নেতার সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত বৈঠক বাতিল করে দেন বহুজন সমাজ পার্টি নেত্রী মায়াবতী। তবে লখনৌতে অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডুর সঙ্গে গতকালের বৈঠকের পর কিছুটা নমনীয় হয়েছে পরিস্থিতি। আগামী বৃহস্পতিবার ফল ঘোষণার আগেই কংগ্রেসের সঙ্গে মায়াবতী বৈঠক করবেন বলে খবর দিয়েছে বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম। অন্যদিকে গতকাল সোমবার বিকেলে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন নাইডু। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, আনন্দবাজার।
এবার অবশ্য নির্বাচনের অনেক আগে থেকেই কেন্দ্রে অ-বিজেপি সরকার গঠনের লক্ষ্যে মাঠে নামে বিরোধীরা। এর আগে তৃণমূল নেত্রী মমতার ব্রিগেড সভায় একমঞ্চেই দেখা গেছে চন্দ্রবাবু নাইডু, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী এইচ ডি কুমারস্বামী থেকে শুরু করে কংগ্রেস নেতা মল্লিকার্জুন খড়গে, সমাজবাদী পার্টি নেতা তথা উত্তরপ্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবের মতো হেভিওয়েট নেতাদের। নির্বাচনী পর্ব চলাকালীনও দফায় দফায় দেশের একাধিক নেতা-নেত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন চন্দ্রবাবু নাইডু। এবার তাকে সূত্রধরের ভ‚মিকায় রেখেই মহাজোটের কাণ্ডারিদের এক সুতোয় বাঁধার প্রয়াস নিচ্ছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। চন্দ্রবাবু গত কয়েক দিনে দেখা করেছেন এনসিপি নেতা শরদ পওয়ার থেকে শুরু করে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরির মতো নেতাদের সঙ্গে। দিল্লিতে গিয়ে কথা বলেছেন রাহুল গান্ধীর সঙ্গে, লখনৌতে দেখা করেছেন মায়াবতী ও অখিলেশ যাদবের সঙ্গে। এনডিএ সরকারকে ঠেকাতে এবং মহাজোটের স্বার্থে তিনি যে তার রাজনৈতিক প্রতিদ্ব›দ্বী তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাওয়ের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী সে বার্তাও দিয়েছেন। তবে সমীক্ষার ফল দেখার পর চন্দ্রবাবুর এই উদ্যোগকে কটাক্ষ করে মহারাষ্ট্রে বিজেপির শরিক দল শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে বলেন, অকারণে নিজেকে কাহিল করছেন কেন চন্দ্রবাবু? আশা করি আগামী ২৩ মে পর্যন্ত তার এ উৎসাহ বজায় থাকবে! আমাদের শুভেচ্ছা রইল।
এ ছাড়া বুথ ফেরত জরিপ প্রত্যাখ্যানের পক্ষে বিরোধী নেতারা বলছেন, অতীতে বিভিন্ন সময়ে বুথ ফেরত জরিপে যে ধরনের ফল প্রথমে জানা যায়, পরবর্তী বাস্তবে তার সঙ্গে তেমন মিল পাওয়া যায়নি। কংগ্রেস নেতা শশী থারুর বলেন, জরিপের অনুমান ভুল প্রমাণ হবে। নাইডু বলেন, এই জরিপ মানুষের ‘হৃৎস্পন্দন’ ধারণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। জরিপকে বিজেপির মদদপুষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ‘অপকৌশল’ বলে অভিহিত করেন রাষ্ট্রীয় জনতা দল নেতা তেজস্বী যাদব। জরিপের রায়কে সরাসরি ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি। একে তিনি ‘হাজার হাজার ইভিএমে নথিভুক্ত ভোটের ফলাফল বিকৃত কিংবা বদলে দেয়ার ষড়যন্ত্রের অংশ’ হিসেবে অভিহিত করে বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ ও সাহসী থাকার আহ্বান জানান।
ভারতের লোকসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ২৭২ আসন। জরিপের জনমত অনুসারে সহজেই এ ম্যাজিক ফিগার টপকে যাচ্ছে গেরুয়া শিবির। কিন্তু বিরোধী পক্ষের হিসেবে, শেষ মুহূর্তে নিয়ামক হয়ে দাঁড়াবে উত্তর প্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও উড়িষ্যা এ তিন রাজ্যের ফল। এ তিন রাজ্যের মোট আসন সংখ্যা ১৪৩। অথচ এখানে বিভিন্ন ধরনের ফলাফলের আভাস দিয়েছে একাধিক জরিপ সংস্থা। সিভোটারের জরিপে ৮০ আসনের উত্তর প্রদেশে কংগ্রেস জোট পাবে ৪০ আসন, বিজেপি ৩৮। ২০১৪ সালে এ প্রদেশে ৭৩ আসন জিতেছিল বিজেপি। অথচ টাইমস নাউ-ভিএমআরের জরিপ অনুসারে এখানে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট পাবে ৫৮ এবং ইউপিএ পাবে ২০ আসন। পশ্চিমবঙ্গে জরিপে আজতক বলছে, ৪২টি আসনের মধ্যে বিজেপি ও তৃণমূল প্রায় সমান সংখ্যক আসন পেতে পারে। তারা জানায়, তৃণমূল পাবে ১৯-২২ এবং বিজেপি ১৯-২৩ আসন। গত নির্বাচনে এখানে ৩৪ আসন পায় তৃণমূল। উপক‚লীয় উড়িষ্যা রাজ্যে আজতকের সমীক্ষায় ২১ আসনের মধ্যে বিজেপি পেতে পারে ১৫-১৯ আসন।
বিশে^র বৃহত্তম গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ভারতে সাত দফার লোকসভা নির্বাচন শুরু হয় গত ১১ এপ্রিল এবং শেষ হয় গত ১৯ মে। ওই দিনই বুথ ফেরত জরিপের গড় হিসাবে লোকসভার ৫৪৩ আসনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ ৩৩৯-৩৬৫ আসন, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ ৭০-১০৮ আসন পেতে পারে বলে আভাস দেয়া হয়। প্রায় দেড় মাসব্যাপী এ ভোটাভুটির আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা হবে আগামী ২৩ মে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়।