ধামরাইয়ে শ্রমিক মৃত্যুর গুজবে মহাসড়ক অবরোধ

আগের সংবাদ

বন্ধ হচ্ছে ইনস্টাগ্রামের নিজস্ব ম্যাসেজিং অ্যাপ

পরের সংবাদ

লেট মি আউট ও জননী সাহসিকা

প্রকাশিত হয়েছে: মে ১৯, ২০১৯ , ১:৩৫ অপরাহ্ণ | আপডেট: মে ১৯, ২০১৯, ১:৩৫ অপরাহ্ণ

Avatar

রাজধানীর নাটক সরণীর (বেইলি রোড) মহিলা সমিতির নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মঞ্চায়িত হয় তাড়–য়া নাট্যদলের নতুন নাটক ‘লেট মি আউট’। রুনা কাঞ্চনের লেখা নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন বাকার বকুল। ১৯২৮ সালের লস এঞ্জেলস পুলিশ ডিপার্টমেন্ট, যাদের রয়েছে স্পেশাল ফোর্স ‘গান স্কোয়াড’। এমন এক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের বিরুদ্ধে ক্রিস্টিন কলিন্স নামে এক মায়ের অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে নাটকের গল্প। নয় বছরের ছেলে ওয়াল্টার কলিন্সকে হারিয়ে ক্রিস্টিন পুলিশ ডিপার্টমেন্টের দারস্থ হয়। ক্রিস্টিন কলিন্স ফিরে পেতে চায় তার প্রকৃত সন্তান। কিন্তু প্রসাশনিক সিস্টেমের জটিলতায় অসহায় হয়ে পড়ে ক্রিস্টিন। এদিকে বিচারবহিভর্‚ত হত্যার ভয়াবহতায় মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে যেতে থাকা এক পুলিশ অফিসার আত্মদ্বন্দ্বে ভোগে। লস এঞ্জেলেসের নাগরিক জীবন ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে ওঠে। শহরের শান্তি ফিরিয়ে আনতে প্রোটেস্ট্যান্ট গির্জার ফাদার মিসেস ক্রিস্টিন কলিন্সের পাশে দাঁড়ায়। এভাবেই এগিয়ে চলে গল্প। নাটকটির মঞ্চ ও আলোক পরিকল্পনা করেছেন আসলাম অরণ্য, সঙ্গীত পরিকল্পনা করেছেন রবিউল ইসলাম শশি ও ইসমাইল পাটোয়ারী। পোশাক পরিকল্পনা করেছেন শাহনাজ জাহান। কোরিওগ্রাফি করেছেন ফরহাদ শামীম। দ্রব্যসামগ্রী নির্মাণ করেছেন মো. শামিম শেখ। এ ছাড়া সহকারী নির্দেশনা ও প্রযোজনাটির সার্বিক সমন্বয় করছেন ইসতিয়াক হোসাইন। গত ১৯ এপ্রিল নাটকটির প্রথম মঞ্চায়ন হয়।
নাট্যনির্দেশক বাকার বকুল বলেন, সময়কে আততায়ী করে তোলা সিস্টেমের ছাঁচে গড়ে উঠি আমরা। নির্বোধ ঝুঁকিহীন জীবনযাপনের প্রয়োজনে হাজারো সরল যুক্তি আমাদের সচেতন চর্চা। ‘লেট মি আউট’ এক আর্তচিৎকার। সে চিৎকার সমাজ বাস্তবতার কংক্রিট দেয়ালে আঘাত করে কিনা জানা নেই, তবে সন্তান হারানো এক মায়ের স্বর-নালীর শিরাতে রক্ত জমে। রাষ্ট্রীয় বিচারিক কিংবা প্রশাসনিক কাঠামো জনবান্ধব না হয়ে যখন হয়ে ওঠে ক্ষমতাবানের অনৈতিক স্বার্থ উদ্ধারে ব্যবহার্য শক্তি তখন নির্দেশক হিসেবে ‘লেট মি আউট’ নাটকটি আমাকে ভাবিত করে। ১৯২৮ সালে লস এঞ্জেলেসে ঘটে যাওয়া সত্য ঘটনাটি ইতিহাস হলেও অতীত হতে পারেনি। বর্তমানে দাঁড়ানো পায়ের নিচের মাটিতে একই কম্পন অনুভ‚ত হয়। উপর্যুক্ত ভাবনাগুলোই নাট্য নির্মাণ বা নির্দেশনার প্রধান প্রণোদনা।

অন্যদিকে যুদ্ধের উন্মাতাল সময়ের এক সাহসী নারী ‘জননী সাহসিকা’। বিশ্বখ্যাত নাট্যকার বার্টোল্ট ব্রেখটের লেখা ‘মাদার কারেজ’-এর বাংলা অনুবাদ এটি। অনুবাদ করেছেন কবীর চৌধুরী। জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগ সম্প্রতি মঞ্চে এনেছে এই নাটকটি। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাতীয় নাট্যশালার পরীক্ষণ থিয়েটার হলে নাটকটির প্রদর্শনী হয়। পরদিন শুক্রবারও একই সময়ে নাটকটির আরেকটি প্রদর্শনী হয়। নির্দেশনা দিয়েছেন সঞ্জীব কুমার দে। এতে অভিনয় করছেন নাট্যকলা বিভাগের দ্বিতীয় আবর্তনের শিক্ষার্থীরা। নাট্যকলা বিভাগের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন কবির বলেন, নাটকটি বিশ^বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে গত ৪-৬ মে টানা তিন দিন মঞ্চায়িত হয়েছে। প্রথমবার জাতীয় নাট্যশালার পরীক্ষণ হলে মঞ্চায়িত হলো। এর মধ্যে দিয়ে জবি নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে জাতীয় নাট্যশালার সংযোগ তৈরি হচ্ছে। যার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে গ্রুপ থিয়েটার চর্চার সঙ্গে যুক্ত হতে অনুপ্রাণিত হবে। এই নাটকটি শিক্ষার্থীরা তাদের পরীক্ষা প্রযোজনা হিসেবে মঞ্চে এনেছে জবি নাট্যকলা বিভাগ।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা