খাগড়াছড়িতে বজ্রপাতে মা-ছেলে নিহত

আগের সংবাদ

নেপালে যাত্রীবাহী বাস নদীতে, নিহত ৫

পরের সংবাদ

প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিল টাইগাররা

প্রকাশিত হয়েছে: মে ১৯, ২০১৯ , ১২:৩৫ অপরাহ্ণ | আপডেট: মে ১৯, ২০১৯, ১২:৩৫ অপরাহ্ণ

Avatar

বিশ্বকাপের পর্দা ওঠার আগে আয়ারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে সমর্থকদের প্রত্যাশা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে টাইগাররা। ২০১৭ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিল মাশরাফিবাহিনী। এর আগে ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে হেরেছিল টাইহাররা। গত চার বছর ধরে তামিম-সাকিবরা যেভাবে খেলছে বিশ্বকাপে মিরাকল কিছু ঘটানো ক্ষমতা স্টিভ রোডসের শিষ্যদের রয়েছে। এমন স্বপ্ন দেখছেন অনেকে। যারা নিজেদের দিনে যে কোনো ক্রিকেট পরাশক্তিকে মাটিতে নামিয়ে আনতে পারে তারা বিশ্বকাপ জিতলে অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না। শুক্রবার ডাবলিনের দ্য ভিলেজ স্টেডিয়ামে উইন্ডিজের ২১০ রানের চ্যালেঞ্জের জবাবে ৭ বল হাতে রেখেই ৫ উইকেটে শিরোপা জিতেছে টাইগাররা। দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ওই টুর্নামেন্টে গুনে গুনে টানা তিন ম্যাচে হারিয়ে সৌম্য-মোসাদ্দেকরা জানিয়ে দিয়েছে সামনে আসছে শুভদিন বিশ্বকাপ জিতবে বাংলাদেশ। আসন্ন বিশ্বকাপে মাশরাফিবাহিনী শিরোপা জিততে পারলে রেকর্ড চার মিলিয়ন ৪০ লাখ ডলার বা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩৪ কোটি টাকা অর্থ পুরস্কার পাবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এই ঘোষণা দিয়েছে। ৩০ মে শুরু হওয়া বিশ্বকাপ, চলবে ৪৬ দিন। এই টুর্নামেন্টে মোট ১০ মিলিয়ন ডলার প্রাইজমানি দেয়া হবে। আসরে রানার্সআপ দল পাবে ১৭ কোটি টাকা। মুশফিক-লিটনরা বিশ্বকাপ জিততে পারলে যে অর্থে ভাসবে এটা দিবালোকের মতো স্পষ্ট। শিরোপা জিতলে তাদের সংবর্ধনা এবং উপহার প্রদানের দীর্ঘ লাইন তো থাকবেই। আশার কথা হচ্ছে টাইগাররা এখন ম্যাচের যে কোনো মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইংল্যান্ডে এবার বিশ্বকাপে রান উৎসবই হবে। সে ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষ আগে ব্যাট করে তিন শ’ ছুঁই ছুঁই কিংবা তিন শ’র বেশি সংগ্রহ পেয়ে গেলে বাংলাদেশের জন্য তাড়া করা কতটা কঠিন হবে? টাইগারদের জন্য রান তাড়া যে কস্টকর হবে না সেই পূর্বাভাস ত্রিদেশীয় সিরিজে দিয়েছে মাশরাফিবাহিনী।
ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশ অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন। আর এই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে ব্যাটিংয়ে কঠিনতম কাজটাই বারবার করে দেখিয়েছে মাশরাফির দল। সেটি রান তাড়া করে জয়। একবার-দুবার নয়, টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ যে চার ম্যাচ খেলেছে, সব কটিই জিতেছে রান তাড়া করে।
বাংলাদেশ দল নিয়ে প্রচলিত ধারণা হলো, চাপে ভেঙে পড়ে। রান তাড়া করায় এমনিতেই চাপ থাকে। আড়াই শ’ ছুঁই ছুঁই কিংবা তার ওপাশে রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডার বহুবার ‘তাসের ঘর’-এর মতো ভেঙে পড়েছে। কিন্তু ত্রিদেশীয় সিরিজে দেখা গেল নতুন কিছু, আড়াই শর এপাশে কিংবা ওপাশের রান তাড়া করতে দলকে তেমন একটা বেগ পেতে হচ্ছে না।
গত পাঁচ বছর বিশেষ করে ২০১৫ সালের বিশ্বকাপের আগে থেকে এই আয়ারল্যান্ডের তিন জাতি আসরের ফাইনালের আগে পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রায় সব ওয়ানডে জয়ের পিছনে মাশরাফি, সাকিব, তামিম, মুশফিক আর মাহমুদউল্লাহর অবদান সর্বোচ্চ। প্রায় ৯৫ ভাগ ক্ষেত্রে তারাই সাফল্যের রূপকার, স্থপতি এবং জয়ের নায়ক। প্রতিপক্ষর সঙ্গে লড়াই করে ব্যাট ও বল হাতে সাফল্যের ভিত রচনা এবং সাফল্যের বন্দরে পৌঁছে দেয়া- সব কাজেই পঞ্চপাণ্ডব অগ্রণী ভ‚মিকায়।
এবার ডাবলিনের মালহিডের ‘দ্যা ভিলেজ’ মাঠে শুক্রবার ঘটেছে ব্যতিক্রম। এই ম্যাচে টাইগারদের জয়ের দুই মূল রূপকার ও প্রধান নায়ক পঞ্চপাণ্ডবের কেউ নন। দুই তরুণ তুর্কি সৌম্য সরকার আর মোসাদ্দেক হোসেন।
এমন নয়, আর কারো কোনো অবদান নেই। শুধু বাঁহাতি ওপেনার সৌম্য আর লেট মিডলঅর্ডার মোসাদ্দেকই দল জিতিয়েছেন। আর কেউ কোনো ভ‚মিকা রাখেননি, তা বলা যাবে না। ২৪ ওভারে ২১০ রানের কঠিন লক্ষ্যে পৌঁছাতে পঞ্চপাণ্ডবের দুজন তামিম আর মুশফিকও অবদান রেখেছেন।
লক্ষ্যটা সহজ ছিল না মোটেই। ওভারপ্রতি লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮.৭৫ রান। সবার আগে প্রয়োজন ছিল উড়ন্ত সূচনার। সৌম্যর ঝড়ো উইলোবাজির সঙ্গে তামিম (১৩ বলে ১৮) রানের সাপোর্ট দিলে প্রথম ৫.৩ ওভারে উদ্বোধনী জুটিতে সেই শুরু (৫৯ রান) পায় বাংলাদেশ।
আর শেষ দিকে সৌম্য, মুশফিক, সাব্বির আর মিঠুন আউট হবার পর একদিক আগলে রাখাটাও ছিল জরুরি। অভিজ্ঞ আর পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম সদস্য মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (২১ বলে ১৯) সে দরকারি কাজটিও করেছেন।
তবে শুরুর ঝড় বইয়ে ক্যারিবীয় বোলিংকে লণ্ডভণ্ড করার কাজটি সেরেছেন সৌম্য। তার ১৬০.৯৭ স্ট্রাইকরেটে ৪১ বলে ৬৬ রানের ঝড়ো ইনিংসটি তাই বাংলাদেশকে আশা জাগিয়েছে। জয়ের পথে অনেকদূর এগিয়েও দিয়েছে।
আর শেষ দিকে ২১৬.৬৬ স্ট্রাইকরেটে মাত্র ২৪ বলে ৫২ রানের উত্তাল ইনিংস (পাঁচটি ছক্কা ও দুটি বাউন্ডারি) খেলে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে রাজ্যজয়ী নাবিকের মতো শেষ হাসি হেসেছেন তরুণ মোসাদ্দেক। এ ঘটনা প্রমাণ করে দলের প্রয়োজনে যে কেউ হাল ধরতে জানে।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা