বাড়ল মোবাইল ব্যাংকিংয়ে লেনদেন সীমা

আগের সংবাদ

অভিনেত্রী মায়া ঘোষের শেষকৃত্য সম্পন্ন

পরের সংবাদ

বেপরোয়া অজ্ঞান পার্টি

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জোর তৎপরতা দরকার

প্রকাশিত হয়েছে: মে ১৯, ২০১৯ , ৯:০৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: মে ১৯, ২০১৯, ৯:০৮ অপরাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক

ঈদসহ কোনো বড় উৎসবকে সামনে রেখে অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি, ছিনতাইকারীসহ বিভিন্ন অপরাধী চক্রের দৌরাত্ম্য বেড়ে যায়। এবার তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। শুক্রবার সকাল থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে অজ্ঞান পার্টির ৬২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র, নিক্স, ওষুধ মিশ্রিত জুস, খেজুর, মোবাইল ফোন ও একটি প্রাইভেটকার উদ্ধার করা হয়েছে।

সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জননিরাপত্তার স্বার্থে অজ্ঞান পার্টির দৌরাত্ম্য বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরি। আমরা লক্ষ করি, ঈদ বা এরকম কোনো বড় পার্বণের সময় যখন দেশে অর্থনৈতিক লেনদেন বেড়ে যায়, তখনই দৌরাত্ম্য বাড়ে এসব অপরাধী চক্রের। এখন শপিংমলগুলো অবশ্যই এদের জন্য বড় মওকা।

এই চক্রের সদস্যরা রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট, শপিংমল, বাসস্ট্যান্ড, সদরঘাট, রেলস্টেশন এলাকায় আগত ব্যক্তিদের টার্গেট করে সখ্য স্থাপন করেন। এরপর তাদের অপর সদস্যরা ট্যাবলেট মিশ্রিত খাদ্যদ্রব্যের আমন্ত্রণ জানায়। টার্গেট করা ব্যক্তি রাজি হলে, ট্যাবলেট মিশ্রিত সেই খাদ্যদ্রব্য তাকে খাওয়ানো হয়। খাদ্য গ্রহণের পর অচেতন হলে তার মূল্যবান দ্রব্যাদি নিয়ে সটকে পড়ে।

এমনও দেখা গেছে খাবারে অতিরিক্ত বিষক্রিয়ায় মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে। এমন ঘটনা আর দেখতে চাই না। শপিংমলগুলোর আশপাশে সার্বক্ষণিক পুলিশি পাহারা রাখা, সিসি ক্যামেরার নজরদারি রাখা ইত্যাদি নিরাপত্তা উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। আমরা আশা করব প্রতিশ্রুতি মোতাবেক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেবেন কর্তৃপক্ষ।

মার্কেট, শপিংমলে ইতোমধ্যে কেনাকেটা শুরু হয়েছে। এখন থেকে নজরদারি দরকার। রাজধানীসহ দেশের নানা জায়গায় নানা স্পটে অজ্ঞান পার্টির বিভিন্ন গ্রুপের সক্রিয় থাকার তথ্য আমরা মাঝে মাঝেই জানতে পাই স্থানীয় পুুলিশের বরাতে। থানা-পুলিশের কাছে রয়েছে এদের কাজের ধরন সম্পর্কে নানা তথ্যও। প্রায়ই দেখা যায় এসব অজ্ঞান পার্টির সদস্যদের কেউ কেউ ধরা পড়ছে।

কিন্তু এতে কমছে না এদের অপরাধের দৌরাত্ম্য। অভিযোগ রয়েছে, ধরা পড়া অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা আইনি দুর্বলতার কারণে সহজে জামিন নিয়ে বেরিয়ে আসতে পারে। বেরিয়ে এসে আবার পূর্ণোদ্যমে তারা তাদের অশুভ কর্মে নিয়োজিত হয়। ফলে এদের তৎপরতার ভয়াবহ বিস্তারই ঘটছে ক্রমশ। নতুন নতুন কৌশল উদ্ভাবন করে এরা কর্মতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

কাজেই এদের কৌশলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও আরো কৌশলী হয়ে তৎপর হতে হবে। এসব অপরাধীরা যাতে সহজে জামিনে বেরিয়ে আসতে না পারে তার জন্য আইনি ব্যবস্থা নিশ্ছিদ্র করতে হবে।

ঈদের এই সময় শুধু মার্কেট নয় যানবাহনে, চলার পথে, লঞ্চঘাট, রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড, কর্মব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় বিভিন্ন খাবার দোকান, চা স্টল এবং পানীয় বিক্রির দোকান সবখানেই থাকে অজ্ঞান পার্টির ফাঁদ। কাজেই পুলিশ প্রশাসনকে সর্বত্রই সতর্কতার সঙ্গে দেখতে হবে।