যুক্তরাষ্ট্রে সাইবার নিরাপত্তায় জরুরি অবস্থা জারি

আগের সংবাদ

কলসিন্দুর স্কুলের আগুনের ঘটনায় মামলা

পরের সংবাদ

ইয়াবা উদ্ধারে বিজিবি ও পুলিশের যৌথ অভিযান

টেকনাফে আটকের পর ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ইয়াবা কারবারি নিহত

প্রকাশিত হয়েছে: মে ১৬, ২০১৯ , ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: মে ১৬, ২০১৯, ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ

Avatar

কক্সবাজারের টেকনাফে আটকের পর ইয়াবা কারবারিকে নিয়ে ইয়াবার চালান উদ্ধার করতে গিয়ে বিজিবি ও পুলিশের যৌথ অভিযানে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ কারবারি নিহত হয়েছে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে অর্ধলাখ পিস ইয়াবা ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে অভিযানকারি দল।

বুধবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের নাফ নদী সংলগ্ন বেড়ীবাঁধের ৪ নম্বর সুইচ গেইট এলাকার আচারবনিয়া লবণ মাঠে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্ণেল মো. ফয়সাল খান ও থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ।

নিহত সিরাজ মিয়া (২৭) টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের আচারবনিয়া এলাকার ফজল আহমদের ছেলে।

টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক জানান, ১৪ মে রাতে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ওই সিরাজকে আটক করা হয়। স্বীকারোক্তিকে সিরাজ জানায়, বুধবার রাতে নাফ নদ হয়ে লবণের মাঠ দিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা প্রবেশ করবে। এ তথ্যের ভিত্তিতে রাত নয়টার দিকে ওই এলাকায় ইয়াবা উদ্ধারে গেলে উৎপেতে থাকা চোরাকারবারীরা বিজিবি ও পুলিশের উপর এলোপাতারি গুলি বর্ষণ করে। এ সময় পুলিশ ও বিজিবির দুই জন করে মোট চার সদস্য আহত হন। আত্মরক্ষার্থে বিজিবি ও পুলিশ পাল্টা গুলিবর্ষণ চালায়। অস্ত্রধারীদের সাথে ৫ থেকে ৭ মিনিট গুলি বিনিময় হয়। এক সময় চোরাকারবারীরা পিছু হটলে ঘটনাস্থল থেকে সিরাজকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এসময় ৫০ হাজার পিস ইয়াবা দুইটি এলজি, বার রাউন্ড তাঁজা কার্তূজ ও আট রাউন্ড খালি খোসা জব্দ করা হয়। গুলিবিদ্ধ সিরাজকে টেকনাফ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে।

সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থা তার মৃত্যু হয় বলে জানান লে. কর্ণেল মো. ফয়সাল খান। এ ঘটনায় আহত দুই বিজিবির সদস্য মো. জহিরুল ইসলাম ও মোহাম্মদ রানা মিয়াসহ পুলিশের অপর দুই সদস্যকে টেকনাফ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়েছে।

কিন্তু ওসি প্রদীপ জানান, বুধবার রাতে মিয়ানমার থেকে ইয়াবার একটি বড় চালান আসার খবরে পুলিশের একটি দল টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের নাফ নদী সংলগ্ন বেড়ীবাঁধ সংলগ্ন ৪ নম্বর সুইচ গেইটে অবস্থান নেয়। পরে বিজিবির একটি টহলদলও ঘটনাস্থলে পৌঁছে। এসময় মিয়ানমার দিক থেকে আসা একটি ট্রলার থেকে নেমে আসা কয়েকজন লোককে দেখতে পেয়ে থামার জন্য বলে। কিন্তু তারা না থেমে পুলিশ ও বিজিবির সদস্যদের দিকে গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে পালানোর চেষ্টা করে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা পাল্টা গুলি ছুঁড়ে। এক পর্যায়ে গোলাগুলি থেমে গেলে ঘটনাস্থলে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে তাকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ওসি প্রদীপ আরো বলেন, অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে তল্লাশী করে একটি চাইনিজ পিস্তল, ১ দেশিয় তৈরী বন্দুক, ৬৫টি গুলি ও ৫০ হাজার ইয়াবা পাওয়া যায়।

ওসির জানান, সিরাজ মিয়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভূক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ি। তার একটি সংঘবদ্ধ ইয়াবা পাচার চক্র রয়েছে। ইয়াবার গডফাদার হিসেবে চক্রটিকে নিয়ন্ত্রণ করতো সিরাজ। মাদক ব্যবসায় জড়িত অভিযোগে টেকনাফ থানায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানান ওসি।

এদিকে, ১৪ মে রাতে সাবরাং মাদক প্রতিরোধ কমিটি ওই সিরাজকে ৫০ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটকের পর প্রশাসনকে সোপর্দ করে বলে সাবরাং ইউপির চেয়ারম্যানের ফেসবুকের লাইক পেইজে প্রচার করা হয়েছে।