লঞ্চের টিকিট বিক্রি শুরু ১৫ রমজানে

আগের সংবাদ

রমজানে স্যামসাংয়ের গ্র্যান্ড ইনভাইট

পরের সংবাদ

ভ্যাট নিয়ে জটিলতা কাটল

প্রকাশিত হয়েছে: মে ১৫, ২০১৯ , ১২:০৭ অপরাহ্ণ | আপডেট: মে ১৫, ২০১৯, ১২:০৭ অপরাহ্ণ

Avatar

দেনদরবার, আলোচনা, মতবিনিময়ের মাধ্যমে উভয়পক্ষের চাহিদার সমন্বয়ে অবশেষে ভ্যাট নিয়ে জটিলতা কাটল। নতুন আইনে ভ্যাটের হার হারবে না বলে অর্থমন্ত্রীর আশ্বাসের পর ব্যবসায়ীরাও নতুন আইন মেনে নিয়েছেন। তবে বাস্তবায়ন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
গতকাল ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সঙ্গে এক বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল দাবি করেছেন, নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে চলা মতবিরোধ কেটেছে। ব্যবসায়ীদের মূল দাবির মধ্যে অন্যতম ছিল নতুন ভ্যাট আইনে ভ্যাটের হার এবং কোন পণ্যে কী পরিমাণ ভ্যাট বসছে সেটি আগে থেকেই জানিয়ে দেয়া। আইনে কিছু বাধ্যবাধকতা থাকায় বাজেট পেশের আগে সেটি জানানো সম্ভব নয়। তবে তিনি আস্বস্ত করেছেন, ভ্যাটের হার বাড়বে না। বরং কিছু ক্ষেত্রে কমবে।
নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং এফবিসিসিআইয়ের মধ্যে চিঠি চালাচালি হচ্ছিল। এফবিসিসিআই অভিযোগ করেছিল, তাদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় আলোচনা ছাড়াই ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনবিআর। এ ছাড়া আইনটি বাস্তবায়নে এনবিআরের পর্যাপ্ত প্রস্তুতিও নেই। ফলে নতুন ভ্যাট আইনে মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি হবে, যা সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে এনবিআর এক চিঠিতে বলেছে, ভ্যাট আইন বাস্তবায়নে ব্যবসায়ীরা বাধার সৃষ্টি করছে।
এদিকে গতকালের বৈঠকের পর দাবি থেকে সরে এসে এফবিসিসিআই বলছে, তারা অর্থমন্ত্রীর কথায় আশ্বস্ত হয়েছেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন ভ্যাট আইন যেভাবে গণমাধ্যমে আসছে, বিষয়টা সে রকম না। ফেডারেশনের সঙ্গে আমরা বসেছি, কথা বলছি, বুঝতে পারলাম কোথাও একটা মিস আন্ডারস্ট্যান্ডিং হয়েছিল। তার সমাধান হয়েছে। আমরা যেভাবে শুরু করেছিলাম, সেভাবেই বাস্তবায়ন করব।
এফবিসিসিআই সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম মহিউদ্দীন বলেন, আমরা মন্ত্রীর আশ্বাসের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে চাই। আমাদের কথা হচ্ছে, কোনো অবস্থাতেই যিনি ট্যাক্স দিচ্ছেন উনি ব্যথা পাবেন না, কিন্তু ট্যাক্স দেবেন। আমরা সিস্টেমটাই ওভাবে ডেভেলপ করছি। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ট্যাক্স বাড়বে না। বরং কিছু কিছু ক্ষেত্রে কমবে। সুতরাং এটাই আমাদের জন্য যথেষ্ট। কিন্তু ট্যাক্স নেট (এলাকা) উনি বাড়াবেন। এটার জন্য যা যা করণীয় তা বাস্তবায়নে আমরা সহযোগিতা করব।
নতুন ভ্যাট আইনের বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, আগামী বাজেটে ভ্যাট আদায়ে জোর দেয়া হবে। নতুন আইনে তিন স্তরে ভ্যাট বাস্তবায়ন করা হবে। তবে কোন পণ্য বা সেবা কোন স্তরে যাবে তা এখনই পরিষ্কার করা যাবে না। প্যাকেজ ভ্যাট থাকছে। এখনই সব পরিষ্কার করা সম্ভব নয়। নতুন ভ্যাট আইন সম্পর্কে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, একাধিক হারে নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন করার চিন্তাভাবনা চলছে। এতে আইনটির বিচ্যুতি হওয়ার আশঙ্কা বেশি। এতে লাভের চেয়ে ক্ষতি হবে। দুবার ভ্যাট দেয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। যেমন, বলা হচ্ছে যারা ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দেবেন, তারা মূসক রেয়াত সুবিধা নিতে পারবেন না। কিন্তু ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আগের পর্যায়ে যে ভ্যাট দিয়ে এসেছে, তা যোগ করলে তো ১৫-২০ শতাংশ ভ্যাট হয়ে যাবে। তিনি আরো বলেন, আগে সরকারকে সিদ্ধান্ত নিয়ে জানাতে হবে, নতুন আইনে কোন পণ্যে কত ভ্যাট হবে। তারপর প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সফটওয়্যার সেভাবে সাজাবে। কিন্তু এসব বিষয়ে এনবিআরের তেমন প্রস্তুতি নেই। তাই হঠাৎ করে বাজেটে নতুন আইনটি বাস্তবায়নের কথা বললে ব্যবসায়ী কিংবা এনবিআরের কোনো পক্ষেরই যথেষ্ট প্রস্তুতি থাকবে না। এতে জগাখিচুড়ি পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্ট্রাল ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, নতুন সরকারের প্রথম বাজেট এটি। এই বাজেট সবচেয়ে গুরুত্ব হলো ভ্যাট আইন। অন্যান্য বছর রাজনৈতিক চাপ থাকে। কিন্তু এ বছর তা থাকবে না। ফলে এখনই সুযোগ নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন করা। আগামী ২-৩ বছরের ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন করতে না পারলে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হবে এনবিআরকে। ভ্যাট আইন মূলত প্রণয়ন করা হয়েছিল অটোমেশনের ওপর ভর করে। তাই অটোমেশনে দীর্ঘমেয়াদি ছাড় দিলে ভ্যাট আইন বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হবে।