কক্সবাজারে সাগরপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে ২৮ রোহিঙ্গা আটক

আগের সংবাদ

অতিরিক্ত ফি নিলে স্বীকৃতি বাতিল

পরের সংবাদ

আগুন ছোড়া দুই জন কারা ?

আইনজীবী পলাশ হত্যাকাণ্ড ভিন্ন খাতে নেয়ার চেষ্টা

প্রকাশিত হয়েছে: মে ১৫, ২০১৯ , ১১:২৪ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: মে ১৫, ২০১৯, ১১:২৪ পূর্বাহ্ণ

Avatar

পঞ্চগড়ের কারাগারে অগ্নিদগ্ধ আইনজীবী পলাশ কুমার রায়ের মৃত্যুর ১৮ দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আর এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তার পরিবার। তাদের দাবি পলাশকে কারাভ্যন্তরে শরীরে আগুন দিয়ে পোড়ানো হয়েছে। এদিকে, এ মৃত্যুর ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি কারাগারের ভেতর মৃত্যুর ঘটনায় কারা কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।

পলাশের পরিবারের অভিযোগ, কারাগার একটি নিরাপদ জায়গা। বাইরের কারো প্রবেশ করার সুযোগ নেই। সে কারণে কারাভ্যন্তরে যা কিছু ঘটুক তার দায়দায়িত্ব কারাকর্তৃপক্ষ ও সরকারের। ২৬ এপ্রিল কারাভ্যন্তরে পলাশ রায়ের শরীরে আগুন দিয়ে পোড়ানো হলো, অথচ ১৮ দিন পার হলেও কাউকে গ্রেপ্তার করা হলো না, জিজ্ঞাসাবাদ করা হলো না।
দগ্ধ অবস্থায় মৃত্যুর আগে আইনজীবী পলাশ বলেন, ২৬ এপ্রিল শুক্রবার দুপুর আনুমানিক ১০টার দিকে দুই জন লোক টাইগার বোতল থেকে কি যেন আমার দিকে ছুড়ে দিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। যার ফলে আমি মৃত্যুর মুখোমুখি। এই অপরাধীদের বিচার চাই।
পলাশ রায়কে আগুনে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ করে তার মা মীরা রানী বলেন, আমার ছেলের কোনো দোষ নেই, তারা জেলের মধ্যে ষড়যন্ত্র করে আমার ছেলেকে আগুনে পুড়িয়ে মেরেছে। জেলখানার মতো নিরাপদ জায়গায় যদি কয়েদির মৃত্যু হয় তাহলে মানুষ নিরাপদ কোথায়? আমি এই হত্যার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে এর বিচার চাই।
আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বলেন, মৃত্যুর আগে পলাশ রায় নিজেই বলেছেন, দুই জন লোক তার গায়ে টাইগারের বোতলে কিছু একটা ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। যদি আত্মহত্যা করে থাকেন, তাহলে সেটিও বের হয়ে আসা দরকার। তিনি বলেন, কারাগারের মধ্যে গায়ে আগুন দেয়ার মতো পদার্থ সে কোথায় পেল? সেটি বের করা উচিত। সুমন আরো বলেন, পলাশের দেয়া বক্তব্য অনুযায়ী, দুই জন লোক তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুন ধরিয়ে দেয়া দুই জন কারা? আজও কেন তারা গ্রেপ্তার হলো না।
পঞ্চগড় কারাগারের জেলার মো. মুসফিকুর রহমান জানান, ২৬ এপ্রিল পলাশকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। এমন সময় পলাশের চিৎকার শুনে আমার এক কারারক্ষী মো. ইকবাল দৌড়ে গিয়ে তাকে আগুনের হাত থেকে রক্ষার জন্য তার কাপড় খুলতে গিয়ে নিজের হাত পুড়ে ফেলেছিল।
প্রসঙ্গত, কোহিনুর কেমিক্যাল কোম্পানি নামে একটি প্রতিষ্ঠানের করা মামলা প্রত্যাহার দাবিতে গত ২৫ মার্চ দুপুরে পরিবারের লোকজন নিয়ে অনশন শুরু করেন পলাশ কুমার রায়। এরপর মানববন্ধন শুরু করেন। পলাশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কট‚ক্তি করেছেন এমন অভিযোগে স্থানীয়রা তাকে পুলিশের কাছে তুলে দেয়। প্রধানমন্ত্রীকে কট‚ক্তির অভিযোগে স্থানীয় রাজিব রানা নামের এক যুবক তার বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা করেন। ওই দিনই তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। পলাশকে ২৬ এপ্রিল বিকেলে ঢাকা পাঠানোর কথা ছিল। তবে সকালে কারাগারের বাইরে থাকা একটি টয়লেট থেকে তিনি অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় দৌড়ে বের হন। এ সময় কারারক্ষীরা তাকে উদ্ধার করে এবং আগুন নেভায়। আগুনে তার শরীরের ৪৭ শতাংশ পুড়ে যায়। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরদিনই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। ৩০ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।