গা ঢাকা দিয়েছে দালাল জামায়াত নেতা এনাম

আগের সংবাদ

উত্তর প্রদেশেই মিলবে সব প্রশ্নের উত্তর?

পরের সংবাদ

বিনিয়োগ বাড়াতে নানা উদ্যোগ, তবুও কাটছে না স্থবিরতা

প্রকাশিত হয়েছে: মে ১৪, ২০১৯ , ১২:৪৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: মে ১৪, ২০১৯, ১২:৪৮ অপরাহ্ণ

Avatar

দীর্ঘদিন ধরে দেশে বিনিয়োগ স্থবিরতা চলছে। বেশকিছু বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালা গ্রহণের পরও কাক্সিক্ষত বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান হয়নি। ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান ও জীবনমান উন্নয়নে নতুন নতুন বিনিয়োগের কোনো বিকল্প নেই। বিনিয়োগ না হলে রপ্তানি বাণিজ্যে কাক্সিক্ষত প্রবৃদ্ধি অর্জন অসম্ভব। আর তাই বর্তমান সরকার দেশের বিনিয়োগ বাড়াতে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। কাক্সিক্ষত প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগের পাশাপাশি বিনিয়োগ আকৃষ্টের জন্য নানা কার্যক্রম চলছে। এ লক্ষ্যে দেশে রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট, ছোট-বড় নদীতে সেতু নির্মাণের ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি করা হয়েছে। কিন্তু গ্যাস সংকট এবং বিনিয়োগ বোর্ড, বেজা, বিডাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান উদ্যোগের অভাবে বিনিয়োগের স্থবিরতা কাটছে না।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের লক্ষ্যে সরকার প্রতিষ্ঠিত অর্থনৈতিক অঞ্চল চালু হতে সময় লাগবে। এজন্য অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো চালুর আগেই বিনিয়োগ বাড়াতে দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখতে চান ব্যবসায়ীরা। অবশ্য অনেকে মনে করছেন, বিনিয়োগে খড়া কাটাতে দ্রুত কিছু করার সুযোগ নেই। বিনিয়োগের লক্ষ্যে অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি ঠিকই আছে। তবে এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলের কার্যক্রমে যেন স্থবিরতা না আসে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহীম খালেদ বলেন, দেশে বিনিয়োগ নেই বললেই চলে। অর্থাৎ নতুন বিনিয়োগ আসছে না। ফলে থমকে আছে দেশের অর্থনীতির চাকা। এখন প্রয়োজন ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করা। এজন্য বিনিয়োগ বোর্ড, বেজা, বিডাসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। বিনিয়োগে আগ্রহীরা যেন বিড়ম্বনার স্বীকার না হন সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
তিনি বলেন, মূলত অবকাঠামোগত সমস্যা, টেকসই গণতন্ত্রের সংকটের কারণে বিনিয়োগ পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। যেমন শিল্প স্থাপনে জমির অভাব কিংবা উচ্চমূল্য, বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হলেও গ্যাস সংকট দিন দিন তীব্র হচ্ছে। ফলে উদ্যোক্তারা চাইলেও বিনিয়োগ করতে পারছেন না। আবার কেউ কেউ দেশে উপার্জিত অর্থ বিদেশে পাচার করছে।
ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, অনেক দিক থেকে বাংলাদেশ এগিয়ে গেলেও বিনিয়োগ পরিস্থিতি ভালো নয়। ব্যাংক ঋণের সুদহার সরকার এক অঙ্কে আনার চেষ্টা করলেও এখনো এ হার ১৩-১৪ শতাংশ। স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার প্রাথমিক মান অর্জনের পর অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি পুরনো প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করা জরুরি।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক জায়েদ বখত বলেন, দেশে রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট, ছোট-বড় নদীতে সেতু নির্মাণের ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে। এখন বিনিয়োগ না বাড়ার যৌক্তিক কোনো কারণ নেই। অবশ্য বিনিয়োগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে সরকারের বিনিয়োগবান্ধব কর্মপরিকল্পনা থাকতে হবে। যদি মুদ্রানীতি ঘোষণা করে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমিয়ে দেয়া হয়, তাহলে বিনিয়োগ বাড়বে কী করে।
এ পরিস্থিতিতে বিনিয়োগ বাড়াতে ইতোমধ্যে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ ১০০টি অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছে। ব্যক্তি খাতেও অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার অনুমতি দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন ও ভারত বাংলাদেশে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম শুরু করেছে। এসব অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় এক কোটি লোকের কর্মসংস্থান হবে। পাশাপাশি বছরে অতিরিক্ত প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি সম্ভব হবে। ইতোমধ্যে ৮৮টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য স্থান নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে।
কাক্সিক্ষত বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে জানিয়েছেন, ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজ করছে। ইতোমধ্যে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর (মিরসরাই, সোনাগাজী ও সীতাকুন্ড উপজেলায় অবস্থিত), শ্রীহট্ট ও মহেশখালী অর্থনৈতিক অঞ্চল-৩ (ধলঘাটা) এ দেশি-বিদেশি ৬৯ জন বিনিয়োগকারী ১৭ দশমিক শূন্য ১৭ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব দিয়েছেন। এ প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৫ লাখ ৬০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে। এ ছাড়া অর্থনৈতিক জোনে বিনিয়োগে আগ্রহ বাড়াতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটি (পিপিপি) বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, উন্নত টেলিযোগাযোগ, রাস্তাঘাট, রেল, জল ও স্থল বন্দর এবং এয়াপোর্টসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করছে।