উত্তর প্রদেশেই মিলবে সব প্রশ্নের উত্তর?

আগের সংবাদ

চামড়া শিল্পকে রক্ষায় দরকার বিশেষ যত্ন : শাহীন আহমেদ

পরের সংবাদ

চামড়া শিল্পের দুঃসময়

প্রকাশিত হয়েছে: মে ১৪, ২০১৯ , ১:২৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: মে ১৪, ২০১৯, ১:২৮ অপরাহ্ণ

Avatar

বহুমুখী সংকটের মধ্যে দিন পার করছে দেশের চামড়া শিল্প। হাজারীবাগ থেকে সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে স্থানান্তরের পর এই সংকট আরো প্রকট আকার ধারণ করে। অসমাপ্ত সিইটিপি, শিল্পনগরীর অভ্যন্তরীণ নোংরা ও অসাস্থ্যকর পরিবেশ, বিদেশি ক্রেতাদের প্রতারণাসহ নানা কারণে এই সংকট দিন দিন বাড়ছে। আর সে কারণেই আগামী বাজেটে এই খাতকে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করে এমন কিছু পদক্ষেপ আশা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি চামড়ার ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্তে¡ও শুধুমাত্র কমপ্লায়েন্স ইস্যুতে বাংলাদেশি চামড়া নিচ্ছে না অধিকাংশ আমদানিকারক দেশ। আবার অনেকে বিদেশি ক্রেতা প্রতারণা করছে রপ্তানিকারকদের সঙ্গে। কোনো কোনো ক্রেতা এসে একশ টাকার পণ্যের দাম ৫০ টাকা বলে চলে যাচ্ছে। সে-ই আবার আরেক দলকে পাঠিয়ে কম দামে পণ্য কিনে নিয়ে যাচ্ছে।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চামড়া শিল্প এখন ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। সাভারে হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করার পর কারখানা মালিকরা এখনো লাভের মুখ দেখেনি। দুর্বল অবকাঠামো আর নোংরা পারিবেশের কারণে ক্রেতারা ওই জায়গায় যেতে চান না। সরকারের প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও দশকের পর দশক পার হচ্ছে। কিন্তু সিইটিপি কার্যকর হচ্ছে না। রয়েছে জমির লিজ জটিলতা। যার কারণে অনেক কারখানা মালিক জমি বন্ধক রেখে ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারছে না। এই সংকট থেকে উত্তরণে কর হার কমানো, রপ্তানিতে প্রণোদার হার বাড়ানোসহ বেশ কিছু সুবিধা চান এই খাতের ব্যবসায়ীরা।
সাভার চামড়া শিল্পনগরীতে সিইটিপি কার্যকর না হওয়ায় অনেক ট্যানারি নিজস্ব ইটিপি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে এই উদ্যোগকে ভালো চোখে দেখছেন না অনেক ট্যানারি মালিক। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ট্যানার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত উল্যাহ বলেন, কেউ পৃথক ইটিপি করলে সিইটিপির কি হবে। সিইটিপির কথাও তো সরকারের সঙ্গে চুক্তিরই একটা অংশ। তাই সিইটিপি কিভাবে উন্নত করা যায় সে বিষয়ে বিসিককে চাপ দিতে হবে।
এদিকে রপ্তানিমুখী এই শিল্পের রপ্তানির পরিমাণ দিন দিন কমছে। চলতি অর্থবছরের ১০ মাস পার হলেও ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধির ধারা থেকে বের হতে পারেনি চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের এই খাত। জুলাই-এপ্রিল সময়ে এ খাতের রপ্তানি আয় কমেছে ৮ দশমিক ৬৯ শতাংশ। লক্ষ্যের চেয়ে আয় কমেছে ৯ শতাংশ। এ সময়ে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করে ৮৩ কোটি ৭১ লাখ ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই খাত থেকে আয় হয়েছিল ৯১ কোটি ৬৭ লাখ ডলার। লক্ষ্য ধরা ছিল ৯১ কোটি ৯৬ লাখ ডলার।
রপ্তানি কমার পেছনে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য যুদ্ধকেও দায়ী করছেন অনেকে। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চীন বাংলাদেশে থেকে ফিনিশড লেদার আমদানি করে তৈরি পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করে। তবে দুই দেশের বাণিজ্য যুদ্ধের কারণে চীনের চামড়াজাত পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি কম হচ্ছে। যার ফলে চীন বাংলাদেশে থেকে ফিনিশড লেদার আমদানি কমিয়ে দিয়েছে। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ে।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা